সেরা ফিজিওথেরাপিস্ট - ময়মনসিংহ

মেঝে থেকে উঠে দাঁড়ানোই এখন সবচেয়ে কঠিন কাজ

আমার বয়স বায়ান্ন। ময়মনসিংহে একটা শিশু ডে-কেয়ারে কাজ করি। সারাদিন কাটে বাচ্চাদের উচ্চতায়। গল্পের সময় মেঝেতে বসি, জুতোর ফিতা বাঁধতে হাঁটু গেড়ে বসি, দুপুরের আগেই কতবার যে ওঠাবসা করি তার হিসাব নেই। কয়েক মাস আগে আমার হাঁটুতে অপারেশন হয়েছে। হাঁটুটা এখনও শক্ত হয়ে ভাঁজ হয়। বসা থেকে উঠে দাঁড়ানোটাই আমার কাছে সবচেয়ে কঠিন। আমার ডাক্তার এখন আমাকে একজন ফিজিওথেরাপিস্টের কাছে পাঠিয়েছেন, দেখিয়ে দেওয়া ব্যায়াম করার জন্য।

বাচ্চারা কিছুই টের পায় না। কিন্তু আমার শরীর হিসাবটা ঠিকই রাখে। পা ভাঁজ করে মাদুরে বসতে কোনো অসুবিধা হয় না। আবার উঠতে গেলে চেয়ার, নিচু টেবিল, আর নিজের জন্য একটু সময়, সবই লাগে। ডে-কেয়ারের সিঁড়ি দিয়ে একসময় ঘুমন্ত বাচ্চা কোলে নিয়ে উঠতাম। এখন রেলিং ধরা আর পুরো মনোযোগ, দুটোই লাগে। বাচ্চাদের মাঠে নিয়ে যাওয়ার সময় গেট পেরিয়ে সবার শেষে ঢুকি আমিই। সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে থাকলেও হাঁটুটা ভারী লাগে।

আমার ছোট বোন গত বছর তার স্বামীর জন্য একজন বিশেষজ্ঞ খুঁজেছিলেন। তাঁকেই জিজ্ঞেস করলাম, শুরু করলেন কীভাবে। তিনি আমাকে DoctorBD24-তে ময়মনসিংহের ডাক্তারদের তালিকা দেখালেন, যেখান থেকে তাঁর নিজের খোঁজ শুরু হয়েছিল। সেদিন রাতে বাড়িতে বসে তালিকাটা ধীরে ধীরে দেখলাম। আমার ডাক্তার যে ধরনের ব্যায়ামভিত্তিক চিকিৎসার কথা বলেছিলেন, ঠিক তেমনটাই খুঁজছিলাম।

0 available specialists found

🏜️

No Specialists Found

We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.

মেঝে থেকে উঠে দাঁড়ানোই এখন সবচেয়ে কঠিন কাজ

তিনি হাঁটু মাপলেন মেঝেতে বসিয়ে

প্রথম সেশনে তিনি ব্যায়াম দিয়ে শুরু করেননি। বাচ্চাদের সঙ্গে যেভাবে বসি, ঠিক সেভাবে মাদুরে বসতে বললেন। তারপর যেভাবে পারি উঠে দাঁড়াতে বললেন। কোন হাত কোথায় ভর দিল, হাঁটুটা মাঝপথে কোথায় থেমে গেল, সব তিনি খেয়াল করলেন। জোড়ার ভাঁজ আর ওই পায়ে আমার স্থিরতাও মেপে দেখলেন। এরপর তিনি পরিকল্পনার কথা বললেন।

ওঠাবসাটাকে তিনি ছোট ছোট অংশে ভাগ করেছেন

মেঝে থেকে ওঠা শুনতে একটা কাজ মনে হয়। তিনি সেটাকে ভেঙে ভেঙে শেখান। আগে শরীরের ওজন সামনে আনা। তারপর এক পা ঠিক জায়গায় রেখে পায়ের জোরে ওঠা, ভর নেওয়া শুধু যতটা সত্যিই দরকার। নিচু ধাপেও অনুশীলন করি আমরা, কারণ ডে-কেয়ারের সিঁড়ি রোজ সকালে অপেক্ষা করে। তিনি ধাপের উচ্চতা আর ভর সপ্তাহে সপ্তাহে বদলান, হাঁটুর অবস্থা দেখে।

সেশনের ফাঁকে বাড়িতেই অনুশীলন করি, ঘুম থেকে উঠে আর রাতে শোয়ার আগে। বিছানার পাশে আর রান্নাঘরের দরজায় দাঁড়িয়ে ছোট একটা সেট, যেখানে দরজার কাঠামো ধরা যায়। অল্প ভাঁজ, ধীরে ওঠাবসা, কোনো তাড়া নেই। সিঁড়ি সহজ লাগার দিনগুলো খাতায় লিখি। কিছু বদলানোর আগে তিনি সেগুলো পড়েন।

ওষুধের বিষয়ে সিদ্ধান্ত শুধু আমার ডাক্তারের

এই জায়গাটা আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই। ফিজিওথেরাপিস্ট আমার ওষুধে কখনো হাত দেন না। অপারেশনের পর আমার ডাক্তার যা যা লিখে দিয়েছেন, আমি তাঁর ঠিক করা সময় ধরেই খাই, কোনো বদল ছাড়া। একটি ওষুধ নিয়েও তিনি কখনো মন্তব্য করেননি। ওষুধ বদলের আলোচনা হলে তা হবে আমার ডাক্তারের ঘরে, ব্যায়ামের ঘরে নয়। এই সীমাটায় আমি স্বস্তি পাই।

অগ্রগতির খবর পৌঁছায় যিনি অপারেশন করেছেন তাঁর কাছে

কয়েক সপ্তাহ পরপর তিনি লিখে রাখেন, আমার ভাঁজ আর ওঠাবসা কতটা বদলাল। সেই সারসংক্ষেপ যায় সেই ডাক্তারের কাছে, যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন। আমার হাঁটুর দায়িত্বে আছেন তিনিই। ব্যায়াম দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না এমন কিছু তাঁর চোখে পড়লে তিনি সোজা সেই ডাক্তারের কাছে ফেরত পাঠাবেন। অন্য ধরনের চিকিৎসার জন্য DoctorBD24-তে ময়মনসিংহের জেনারেল সার্জনদের তালিকাও আলাদা করে আছে, শুধু তালিকা হিসেবেই দেখেছি।

ব্যায়ামে কি হাঁটুতে ব্যথা লাগে?

টান লাগার অনুভূতি হওয়া স্বাভাবিক, তিনি বলেছেন। কিন্তু ধারালো ব্যথা হলে থেমে সঙ্গে সঙ্গে জানাতে হবে। চুপচাপ জোর করে চালিয়ে যাওয়ার বদলে আগেভাগে বলাটাই এখন শিখেছি।

এই অনুশীলন চলার মধ্যে ডে-কেয়ারের কাজ চালিয়ে যেতে পারব তো?

এখন পর্যন্ত পারছি। বাচ্চাদের সঙ্গে বসি, গল্পও চালাই। আপাতত সিঁড়িতে বাচ্চা কোলে নেওয়া এড়িয়ে চলি। ঘুমের সময় তোলার কাজটা সহকর্মী সামলান। আপনার কাজে আসলে কী কী করতে হয়, ফিজিওথেরাপিস্টকে খুলে বলুন।

মেঝে থেকে ওঠা সহজ হতে কয়টা সেশন লাগবে?

তিনি কোনো সংখ্যা বেঁধে দেননি। হাঁটুর ভাঁজ আর আমার ওঠাবসার স্থিরতাই ঠিক করবে, সপ্তাহে সপ্তাহে। আমরা ছোট ছোট জিনিস একসঙ্গে মাপি। পরিকল্পনা চলে সেই মাপের পেছনে, তারিখ গুনে নয়।

প্রথম সেশনে ঠিক কী কী হলো?

বেশির ভাগটাই দেখা আর মাপা। বসা, ওঠা, হাঁটা আর ধাপ ব্যবহার, সব দেখলেন। তার আগে অপারেশনের রিপোর্টগুলো পড়লেন। হাঁটু কতটা পারে জানার পরই ব্যায়াম শুরু হলো।

ব্যস্ত দিনের পর সন্ধ্যায় হাঁটু ফুলে গেলে তখনও অনুশীলন করব?

সেদিনগুলোতে হালকা অংশটুকু করি আর খাতায় লিখে রাখি। ফোলা হাঁটুকে জোর করা আমার কখনো কাজে আসেনি। ফোলাটা বারবার ফিরে এলে সেটা ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ার প্রশ্ন, তিনি বলেন।

কোন হঠাৎ সমস্যায় পরের সেশনের বদলে আজই হাসপাতালে যাব?

শরীরের একপাশের জোর হঠাৎ চলে গেলে আগে হাসপাতাল, সেদিনই। প্রস্রাব বা পায়খানা ধরে রাখতে না পারলেও একই কথা। পড়ে যাওয়ার পর হাত বা পা নাড়ানো না গেলে অপেক্ষা নয়, হাসপাতাল। জ্বরসহ প্রচণ্ড ব্যথা, বুকে ব্যথা, কিংবা শ্বাস নিতে কষ্ট হলেও সেদিনই হাসপাতাল।

Ad

Sponsor Space Available

Place your banner here to reach thousands of patients daily.

Sponsored

Grow Your Practice

Premium placement for hospitals & doctors.