সেরা ফিজিওথেরাপিস্ট - লক্ষ্মীপুর

কাপড় নিংড়াতে এখন দুই হাত লাগে আমার

আমার বয়স পঞ্চাশ। লক্ষ্মীপুরে মাছ শুকানোর একটা আঙিনায় আমি কাজ করি। আমার সারাদিন চলে হাতের জোরে। মাচায় মাছ সাজাই, রোদে উল্টে দিই, আঙিনা ধোয়ার পানি বয়ে আনি। গত মাসে মাচার কাছের ভেজা মাটিতে পিছলে পড়ে গেলাম ডান হাতের ওপর ভর দিয়ে। হাতটা সেরে গেছিল, অন্তত আমি তাই ভেবেছিলাম। ডাক্তার বললেন, থেকে যাওয়া শক্তভাবটা ছাড়াতে ফিজিওথেরাপিস্টের কাছে দেখিয়ে দেওয়া ব্যায়াম দরকার। এই আঙিনায় কাজ করছি অনেক বছর হলো।

আঙিনা প্রতি ঘণ্টায় ক্ষতিটা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। পানিভরা কলস তুলি, ডান হাত মাঝপথে ছেড়ে দেয়। ধোয়া কাপড় নিংড়াতে দুই হাত লাগে, তাও ভেজা থেকে যায়। মাচায় ছোট মাছ একটা একটা করে সাজাতে গেলে আমার আঙুল অন্য নারীদের গতির পেছনে পড়ে। সন্ধ্যা নামলে কব্জি ব্যথা করে সেই কাজে, যা একসময় না ভেবেই হতো। সহকর্মীরা মাঝে মাঝে আমার ভাগের কাজটা টেনে নেন। রোদে মাছ উল্টানোর সময়টুকুই একটু স্বস্তি মেলে।

খোঁজটা কোন দিক থেকে শুরু করব, সেটাই প্রথমে ঠাওর করতে পারিনি। আমার মেয়ে লক্ষ্মীপুরের ডাক্তারদের DoctorBD24 তালিকা থেকে নামগুলো পড়ে শোনাল। আমি কোলে হাত রেখে শুনলাম। পাশের আঙিনার এক নারী একই রকম অবস্থা পেরিয়ে এসেছেন। তিনি একটা নাম মিলিয়ে দিলেন। সেখানেই আমার প্রথম সেশনের দিন ঠিক হলো। নাম শোনার পরও মন মানছিল না সহজে।

0 available specialists found

🏜️

No Specialists Found

We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.

কাপড় নিংড়াতে এখন দুই হাত লাগে আমার

তিনি শুরু করলেন এক কলস পানি দিয়ে

প্রথম সেশনে তিনি বললেন, আমার কাজের দিনটা তাঁকে দেখাতে। প্রথমে খালি কলস তুললাম, তারপর অল্প পানিভরা কলস। তিনি দেখলেন আঙুলগুলো হাতল জড়িয়ে ধরতে পারছে কিনা। কব্জি আলতো করে ঘুরিয়ে দেখলেন কোথায় গিয়ে থামে। সেদিন কোনো আশার কথা শোনাননি তিনি। তিনি বললেন, হাত নিজেই নিজের গতি ঠিক করবে।

সপ্তাহে সপ্তাহে একটু একটু করে বাড়ছে বাঁক

সেশনের হিসাব ছোট ছোট অগ্রগতিতে। ভাঁজ করা কাপড় চেপে ধরে রাখি। শুকনো মাছ একটা একটা তুলে ঝুড়িতে রাখি। তিনি নিজের হাতে ধীরে ধীরে কব্জি নাড়ান, তারপর একা একা একই নাড়া আমাকে করতে বলেন। কোনো সপ্তাহে বাঁক বাড়ে। কোনো সপ্তাহে শুধু ধরে থাকে। হাত তৈরি দেখালেই তিনি ধারাটা বদলান।

ওষুধ নিয়ে আমাদের কোনো কথাই হয়নি

পড়ে যাওয়ার পর আমার ডাক্তার যে ওষুধগুলো দিয়েছিলেন, সেগুলো চলছে তাঁর ঠিক করা সময় ধরে, কোনো নড়চড় ছাড়া। আমার ফিজিওথেরাপিস্ট কোনো ওষুধ নিয়ে কখনো মন্তব্য করেননি। সেই প্রশ্ন উঠলেই তিনি বলেন, ওটা ডাক্তারের বিষয়। তাঁর ঘরটা চলাফেরার জন্য। ব্যথা বাড়লে ওষুধ নিয়ে প্রশ্নটা আমি ডাক্তারের কাছেই নিয়ে যাই।

আঙিনার কাজের ফাঁকে গোছানো অনুশীলন

তিনি আমার বাড়ির অনুশীলন সাজালেন আঙিনার কাজের সময় মিলিয়ে। দিনে দুইবার ছোট ধারা, সকালে আর সন্ধ্যায়। নরম কাপড়ের বলের বিপরীতে আঙুল খোলা। কব্জি আরাম পাওয়া পর্যন্ত ঘোরানো, তারপর বিশ্রাম। তিনি বললেন, আঙিনার কাজ নিজে অনুশীলন নয়। ক্লান্ত হাতে ভরা কলস তুলতে গেলে সতর্ক একটা সপ্তাহের কাজ নষ্ট হতে পারে। তাই সবচেয়ে ভারী বওয়াটা এখনো আমার বাম দিকেই যায়।

যে সকালে ব্যায়ামের আগে তিনি ডাক্তারের কাছে পাঠালেন

এক সকালে কব্জি ফোলা আর আঙুল আগের চেয়ে শক্ত নিয়ে আমি পৌঁছালাম। তিনি দেখলেন, কয়েকটা প্রশ্ন করলেন, তারপর খাতা বন্ধ করে দিলেন। তিনি বললেন, সেদিন প্রথম ধাপ ব্যায়াম নয়। আমাকে ডাক্তারের কাছে গিয়ে তাঁকে দিয়ে বিচার করাতে হবে। ডাক্তার বিষয়টা মিটিয়ে আমাকে আবার তাঁর কাছে পাঠালেন। তিনি যদি কব্জির ভেতরে অপারেশন লাগার মতো ক্ষতির আশঙ্কা করতেন, আমি প্রথমে লক্ষ্মীপুরের জেনারেল সার্জনদের তালিকা ঘেঁটে দেখতাম।

আঙিনার অন্য নারীরা আমাকে যা জানতে চায়

সেশন চলার মধ্যে তুমি কি পুরো কাজের সময়টা সামলাতে পারো?

বেশিরভাগটাই পারি। মাছ সাজানো আর উল্টানোর কাজ আগের মতোই চলছে। সবচেয়ে ভারী কলসগুলো এখনো বাম দিক দিয়ে যায়।

সেশনে তিনি তোমার হাত নিয়ে কী করেন?

তিনি নিজের হাতে আলতো করে কব্জি নাড়ান। তারপর আমাকে একা করতে বলে কাছ থেকে দেখেন। বাকি সময় যায় চেপে ধরা আর ছোট জিনিস তোলার কাজে।

আঙিনায় সারাদিন হাত চললে বাড়িতে আবার অনুশীলন কেন?

আঙিনার কাজ হাতকে খাটায় মোটামুটিভাবে। বাড়ির অনুশীলন হাত নাড়ায় ধীরে ধীরে, ঠিক তাঁর বেছে দেওয়া সীমার মধ্যে। দুটো এক জিনিস নয়।

তিনি কি কখনো তোমার ডাক্তারের দেওয়া ওষুধ বদলান?

একবারও না। তিনি বলেন, ওষুধ তাঁর কাজের পুরোপুরি বাইরে। কোনো বদল হলে তা আসবে আমার ডাক্তারের কাছ থেকেই।

হাতের উন্নতি বুঝবে কী করে?

পানির কলস এখন একবারে ধোয়ার জায়গা পর্যন্ত পৌঁছে যায়। আর নিংড়ানো কাপড় গত মাসের চেয়ে শুকনো বের হয়।

কোন হঠাৎ বদল দেখলে সোজা হাসপাতালে ছুটবে?

শরীরের এক দিক থেকে হঠাৎ শক্তি চলে যাওয়া মানেই আগে হাসপাতাল, সেদিনই। প্রস্রাব কিংবা পায়খানা নিজের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলেও একই কথা। পড়ে যাওয়ার পর হাত বা পা নড়তে না চাইলেও একই কথা খাটে। জ্বরের সঙ্গে ব্যথা প্রচণ্ড হয়ে উঠলে, অথবা বুক চেপে এসে শ্বাস ফেলতে কষ্ট হলেও সেদিনই হাসপাতাল।

Ad

Sponsor Space Available

Place your banner here to reach thousands of patients daily.

Sponsored

Grow Your Practice

Premium placement for hospitals & doctors.