সেরা ফিজিওথেরাপিস্ট - কুষ্টিয়া

ফুটবোর্ডে দাঁড়ালেই গোড়ালিটা জানান দেয়

আমার বয়স একচল্লিশ। কুষ্টিয়া থেকে ছাড়ে এমন একটা লোকাল বাসে আমি হেলপারের কাজ করি। আমার কাজের জায়গা বাসের দরজা। স্টপেজ ডাকি, ভাড়া তুলি, ফুটবোর্ডে দাঁড়িয়ে সারা পথ যাই। তিন সপ্তাহ আগে একটা ভিড়ের স্টপেজের কাছে বাস ধীর হতেই আমি তাড়াতাড়ি নামতে গেলাম। এই কাজ করছি প্রায় নয় বছর ধরে। পা পড়ল রাস্তার কিনারায় বেকায়দায়। সবার চোখের সামনে গোড়ালিটা মুড়ে গেল আমার।

সেদিনের পর থেকে কাজের কোনো অংশই আর সহজে হয় না। প্রতি স্টপেজে দুই হাতে দরজার কাঠামো ধরে নামি। মাঝে মাঝে যাত্রীরাই হাত বাড়িয়ে আমাকে ধরে ফেলেন। বাস থামার আগেই পা নামানোর তাড়া থাকে সবসময়। হেলপার পায়ের জায়গা খুঁজে পাওয়া পর্যন্ত যাত্রীরা দাঁড়িয়ে থাকে। পুরো পথ দাঁড়িয়ে গেলে তৃতীয় গ্রাম পেরোতেই গোড়ালি টনটন করে। শেষ পরীক্ষাটা আসে অন্ধকারের পর। স্ট্যান্ড থেকে বাড়ি হাঁটার পথ ছোট, কিন্তু এই গোড়ালি নিয়ে সেটা মনে হয় আরেক দফা কাজ।

আমার ডাক্তার গোড়ালিটা দেখে বললেন, শুধু বিশ্রামে এর জোর ফিরবে না। তিনি বললেন, একজন ফিজিওথেরাপিস্টের কাছে গিয়ে দেখিয়ে দেওয়া ব্যায়াম করতে। আমাদের রুটের এক ড্রাইভার তাঁর বিশ্বাসের একটা নাম দিলেন। আমি কুষ্টিয়ার ডাক্তারদের DoctorBD24 তালিকায় নামটা মিলিয়ে দেখলাম। প্রোফাইলগুলো পড়ে তারপর প্রথম দেখা করার দিন ঠিক করলাম। দিন ঠিক করার আগে দুইবার ফোনে কথা হলো।

0 available specialists found

🏜️

No Specialists Found

We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.

ফুটবোর্ডে দাঁড়ালেই গোড়ালিটা জানান দেয়

কিছু করাতে যাওয়ার আগে তিনি শুধু দাঁড়ানো দেখলেন

প্রথম দিন তিনি জানতে চাইলেন নামার সময় ঘটনাটা ঠিক কীভাবে ঘটেছিল। তারপর তিনি শুধু দেখলেন, হাতে কিছু করালেন না। খালি পায়ে দাঁড়িয়ে আমি দেখালাম পা কীভাবে পড়ে থাকে। ঘরের এ মাথা থেকে ও মাথা দুইবার হাঁটলাম। তিনি আঙুলে ভর দিয়ে উঁচু হতে বললেন, তারপর খারাপ দিকে এক পায়ে দাঁড়াতে বললেন। আমার ভারসাম্য টিকল মাত্র তিন সেকেন্ড। তিনি যা দেখলেন লিখে রাখলেন। পরিকল্পনাটা তৈরি হলো সেই দেখা থেকে, আমার আশা থেকে নয়।

মাটিতে দাঁড়িয়েই ওঠানামার মহড়া

শুরুর সেশনগুলো মাটির কাছাকাছিই থাকল। নিচু একটা ব্লকের ওপর পা তুলে ধীরে ধীরে নামলাম, বারবার। তিনি পাশে দাঁড়িয়ে দেখিয়ে দিলেন হাঁটু কোন দিকে যাচ্ছে। পরে এল পায়ের তলার জমি বদলে গেলেও স্থির দাঁড়িয়ে থাকার কাজ। তিনি বললেন, ফুটবোর্ড চলন্ত বাসের জিনিস। তার আগে গোড়ালিকে স্থির দাঁড়ানো সামলাতে শিখতে হবে।

বাড়ি ফেরার হাঁটাটাই হয়ে গেল বাড়ির কাজ

তিনি প্রতিদিন সকালে বাড়িতে করার জন্য ছোট একটা ধারা দিলেন। দুই পায়ে ভর দিয়ে ধীরে উঁচু হওয়া। গোড়ালি আস্তে আস্তে ঘোরানো। বিছানার পাশে এক পায়ে দাঁড়িয়ে সংখ্যা গোনা। তিনি বললেন, প্রতিদিন সন্ধ্যায় স্ট্যান্ড থেকে বাড়ি হাঁটাটা খেয়াল করতে। আগের সপ্তাহের চেয়ে খোঁড়ানি কমলে বুঝব বাড়ির কাজটা কাজে লাগছে। দরজায় পৌঁছে ফোলা দেখলে পরের সেশনে সেটা বলতে হবে।

আমার ওষুধের পাতাটা তাঁর এখতিয়ারের বাইরে

আমার ডাক্তার প্রথম দেখার দিন ওষুধগুলো যেভাবে ঠিক করে দিয়েছিলেন, আজও সেগুলো চলছে ঠিক সেভাবেই। ফিজিওথেরাপিস্ট এর একটাও যোগ করেননি, বাদও দেননি, সময়ও বদলাননি। এই দিকটা তাঁর জন্য বন্ধ, তিনি নিজেই তা বলেন। তাঁর কাজ শুরু হয় ব্যায়ামের জায়গা থেকে।

যে সকালে তিনি সেশন থামিয়ে ফেরত পাঠালেন

এক সকালে গোড়ালিটা আগের দিনের চেয়ে বেশি ফোলা দেখাল, ছুঁলেই গরম লাগল। তিনি ব্যায়াম শুরুই করলেন না। আমাকে বসিয়ে বললেন, সেদিনই আমার ডাক্তারের কাছে ফিরে যেতে। তিনি বললেন, গরম আর ফোলা গাঁটের বিচার ব্যায়ামের কাজের বাইরে। আমার ডাক্তার দেখে আবার চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিলেন। ডাক্তার যদি গাঁটের ভেতরে অপারেশন লাগার মতো কিছু সন্দেহ করতেন, আমার খোঁজ শুরু হতো কুষ্টিয়ার জেনারেল সার্জনদের তালিকা থেকে। সেই অনুমতির পরেই পরিকল্পনা আবার শুরু হয়েছে।

স্ট্যান্ডের অন্য হেলপাররা আমাকে যা জিজ্ঞেস করে

সেশনের ফাঁকে তুমি কি পুরো দায়িত্বে ফিরেছ?

এখনো না। আমি ছোট দূরত্বে যাই, ভিড়ের স্টপেজগুলো কন্ডাক্টর সামলান। পুরো দায়িত্বের জন্য তাঁর কথা পর্যন্ত অপেক্ষা।

ঘরের ভেতরে আসলে তুমি কী করো?

বেশিরভাগই দাঁড়িয়ে করা কাজ। নিচু ব্লকে পা তোলা, ধীরে নামা, তিনি হাঁটু আর পা দেখতে দেখতে ভারসাম্য ধরা। ভুল হলে তিনি তখনই ধরিয়ে দেন।

বাড়ির ধারাটা কি সেশনের বদলি হতে পারে?

না। বাড়ির অনুশীলন সপ্তাহটা এগিয়ে রাখে। সেশনে তিনি আমার ভঙ্গি দেখেন আর ঠিক করেন এরপর কী বদলাবে।

রাতে গোড়ালি ব্যথা করলে তিনি কি ওষুধ বদলে দেবেন?

তিনি ওষুধে হাতই দেবেন না। রাতের ব্যথার খবরটা আমার ডাক্তারের জন্য। তিনি শুধু ব্যায়াম বদলাতে পারেন।

বুঝবে কী করে গোড়ালি ফুটবোর্ডের জন্য তৈরি?

যখন পুরো সেশন এক পায়ে না টলমল করে দাঁড়াতে পারব। আর যখন বাড়ি হাঁটাটা আর কাজের মতো লাগবে না।

কোন লক্ষণ দেখলে আজই হাসপাতাল, কাল নয়?

শরীরের এক পাশের জোর হঠাৎ চলে গেলে আজই হাসপাতাল। প্রস্রাব বা পায়খানা আটকে রাখতে না পারলেও দেরি নয়। আবার পড়ে যাওয়ার পর কোনো হাত বা পা নড়তে না চাইলেও তাই। জ্বরসহ প্রচণ্ড ব্যথা উঠলে, কিংবা বুকে ব্যথার সঙ্গে শ্বাস নিতে কষ্ট হলেও আজই হাসপাতাল।

Ad

Sponsor Space Available

Place your banner here to reach thousands of patients daily.

Sponsored

Grow Your Practice

Premium placement for hospitals & doctors.