সেরা ফিজিওথেরাপিস্ট - যশোর

বিকেল হলেই আমার হাত সেলাইয়ের পথ ভুলে যায়

আমার বয়স সাতচল্লিশ, যশোরে বাড়িতে বসে সেলাই করি। সকালটা আমার জন্য সহজ। ঘাড় ঢিলে থাকে, ডান হাত কাপড়ের সঙ্গে সহজে চলে। মেশিনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসলে ঘাড় শক্ত হয়ে যায়, আঙুল ধীর হয়ে আসে। আমার ডাক্তার পুরো কথা শুনলেন, আগের রিপোর্ট দেখলেন। তিনি বললেন, ফিজিওথেরাপিস্টের কাছে গাইডেড ব্যায়াম থেরাপি শুরু করা দরকার। অর্ডারের চাপ থাকলে মাঝখানে উঠে দাঁড়াতেও মন চায় না সবসময়।

আমার কাজ আমাকে ছোট ছোট নিখুঁত কাজে পরীক্ষা করে। কাপড় কাটতে স্থির হাত লাগে, নিচে তাকানোর মতো স্বস্তির ঘাড় লাগে। সেলাইয়ের লাইন সোজা রাখতে আঙুলের নিয়ন্ত্রণ লাগে। সুইয়ে সুতা পরানো আর হাতে কিনারা শেষ করা দিনের শেষে আসে। এই ছোট কাজগুলোতেই এখন সবচেয়ে বেশি সময় লাগে। কখনও সেলাই অর্ধেক রেখে হাত দুটো কোলে রেখে খানিক বসে থাকি।

এক প্রতিবেশী তার মায়ের জন্য চিকিৎসা খুঁজেছিলেন, তিনি সহজ একটা শুরু বললেন। এক সন্ধ্যায় কাজ শেষে আমি DoctorBD24-এ যশোরের ডাক্তারদের তালিকা খুললাম। ধীরে ধীরে প্রোফাইল মিলিয়ে পড়লাম। তত্ত্বাবধানে ব্যায়াম আর নড়াচড়া নিয়ে যার কাজ, তাকেই খুঁজছিলাম। কারও সঙ্গে যোগাযোগের আগে প্রতিশ্রুতি নয়, তথ্য জানতে চাইছিলাম। মোবাইলে পড়তে পড়তে নিজের মতো করে দুটো প্রশ্নও লিখে রাখলাম মনে মনে।

0 available specialists found

🏜️

No Specialists Found

We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.

বিকেল হলেই আমার হাত সেলাইয়ের পথ ভুলে যায়

টেবিলে হাত রেখেই তার শুরু

ফিজিওথেরাপিস্ট আমাকে একটা টেবিলে বসালেন, অনেকটা বাড়ির সেলাইয়ের টেবিলের মতো। মাথা ঘোরাতে বললেন, কাঁধ তুলতে বললেন, ছোট জিনিস তুলতে বললেন। আমার মুঠোর জোর আর ঘাড়ের নড়াচড়ার পরিধি তিনি দেখলেন। সহজ কাজে আঙুলের গতি মাপা হলো, জটিল কিছু নয়। সেখান থেকেই আমার প্রথম ব্যায়ামের সেট তৈরি হলো।

মেশিনের দিনের সঙ্গে মিলিয়ে নড়াচড়া

আমার অনুশীলন সেলাইয়ের দিনটাকে মেনে চলে। বসার আগে ছোট সেট। সুতা বদলানোর সময় একটা বিরতির সেট। রাতে মেশিন ঢেকে রাখার পর লম্বা সেট। কোন নড়াচড়ায় আঙুল সবচেয়ে তাড়াতাড়ি ক্লান্ত হয়, তিনি ঘরে বসে দেখে হাতের ব্যায়াম বদলে দেন। পরের সপ্তাহ শুরু হয় এই সপ্তাহের অভিজ্ঞতা থেকে।

কাজের দিনের ফাঁকে ফাঁকে চর্চা

আমাদের বাড়িতে কারও হাতে বাড়তি সময় নেই, তাই চর্চা ফাঁকের মধ্যেই ঢোকাতে হয়েছে। ভাত রান্নার সময়ে। কোনো ক্রেতা দেরি করলে সেই ফাঁকে। এখানে দুই মিনিট, ওখানে তিন মিনিট। তিনি লম্বা বা জটিল কিছু লিখে দেননি। কোনো দিন এলোমেলো হয়ে গেলে পরদিন সকাল থেকে আবার শুরু করি, তাকে সত্যি করে জানাই।

ওষুধ নিয়ে তিনি প্রথমেই পরিষ্কার ছিলেন

তিনি পরিষ্কার করে বলেছেন, ওষুধ তার বিষয়ই নয়। আমার ডাক্তার যা দিয়েছেন, তা ঠিক তার নিয়মেই চলবে। তিনি কিছু যোগ করবেন না, বন্ধ করবেন না, বদলাবেনও না। ওষুধ বদলাতে হলে শুধু যিনি দিয়েছেন তিনিই পারবেন। তার কাজ নড়াচড়া আর চর্চা, এই সীমাটা তিনি শক্ত করে মানেন।

ফেরত জানানো আর প্রয়োজনে পাঠিয়ে দেওয়া

কয়েক সাক্ষাৎ পর পর তিনি লিখে রাখেন, মুঠো আর ঘাড়ের অবস্থা কতটা বদলাচ্ছে। সেই নোট যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন সেই ডাক্তারের কাছে যায়। ব্যায়ামের বাইরের কিছু মনে হলে সোজা ডাক্তারের কাছে পাঠানো হবে, তিনি বলেন। এই জেলায় অস্ত্রোপচারের চিকিৎসা নিয়ে যারা খুঁজছেন, তারা যশোরের জেনারেল সার্জনদের তালিকা DoctorBD24-এ আলাদা তালিকা হিসেবে দেখতে পারেন। আমার কাছে সেলাইয়ের কাজই নিজের মাপকাঠি হয়ে থাকছে।

এই অনুশীলন চলাকালে কি সেলাই বন্ধ রাখতে হবে?

আমি বন্ধ করিনি। ছোট ছোট ধাপে সেলাই করি, মাঝে বিরতি রেখে। নিজের কাজের চাপ নিয়ে আগেই আলোচনা করুন। যে কাজ ছাড়া যায় না, তার সঙ্গে মিলিয়েই ফিজিওথেরাপিস্ট চর্চা সাজাতে পারেন।

তিনি কি প্রতি সাক্ষাতে ঘাড় আর হাত পরীক্ষা করবেন?

বেশিরভাগ সাক্ষাতে তিনি মূল নড়াচড়াগুলো দেখেন, প্রতিবার সবকিছু নয়। আগের নোটের সঙ্গে মিলিয়ে দেখেন। পরিধি বা মুঠোর ছোট বদলই ঠিক করে, এরপর আমরা কী চর্চা করব।

বাড়িতে চর্চায় প্রতিদিন কত সময় লাগে?

আমারটা সারা দিনে ছোট ছোট সেটে ভাগ করা। প্রতিটা সেটে মাত্র কয়েক মিনিট লাগে। আপনার মোট সময় আলাদা হতে পারে, মূল্যায়নে যা আসে তার ওপর নির্ভর করে।

ব্যায়ামগুলো কি সেলাইয়ের টেবিলে বসেই করা যায়?

আমার কয়েকটা ব্যায়াম পরিকল্পনা করেই ওখানে বসে করার। কয়েকটার জন্য দাঁড়াতে বা শুতে হয়। কোনটা কোথায় করতে হবে, ফিজিওথেরাপিস্ট দেখিয়ে দেবেন।

কোনো কোনো দিন আঙুল বেশি ক্লান্ত হলে কী করব?

লম্বা অর্ডারের পর আমার এমন হয়। পরের সেশনে আমি সেটা জানাই। অন্ধভাবে জোর না দিয়ে তিনি ওই ব্যায়াম হালকা করেন বা বদলে দেন।

কোন সমস্যা হঠাৎ হলে পরের সাক্ষাতের বদলে আজই হাসপাতালে যাব?

শরীরের একদিকে নতুন দুর্বলতা হলে সেদিনই হাসপাতালের চিকিৎসা লাগবে। প্রস্রাব বা পায়খানা আটকাতে না পারাটাও একই রকম সতর্ক সংকেত। পড়ে যাওয়ার পর কোনো অঙ্গ না নড়লে তা জরুরি। জ্বরসহ তীব্র ব্যথা, বুকে ব্যথা বা শ্বাস নিতে কষ্ট হলেও অপেক্ষা করা যাবে না।

Ad

Sponsor Space Available

Place your banner here to reach thousands of patients daily.

Sponsored

Grow Your Practice

Premium placement for hospitals & doctors.