সেরা ফিজিওথেরাপিস্ট - জামালপুর
দিনের শেষ যাত্রাটাই আমার পিঠের কাছে সবচেয়ে ভারী
আমার বয়স ঊনত্রিশ, জামালপুরে ভ্যান চালাই। দিন শুরু হয় ভালোভাবেই। দুপুর গড়ালে পিঠ টান টান লাগে। শেষ যাত্রার সময় পিঠ একদম শক্ত হয়ে যায়, সোজা হতে খানিক দাঁড়াতে হয়। আমার ডাক্তার সব শুনলেন, আগের রিপোর্ট দেখলেন, পরীক্ষা করলেন। তিনি বললেন, কয়েক সপ্তাহ ধরে ফিজিওথেরাপিস্টের কাছে গাইডেড ব্যায়াম থেরাপি নিতে হবে। সন্ধ্যায় ঘরে ফিরে সোজা হয়ে বসতেও খানিক সময় লাগে আমার।
প্রতিদিন তিনটা মুহূর্ত আমাকে আসল অবস্থা বুঝিয়ে দেয়। বেলা বাড়লে ভ্যানে ওঠা ধীর হয়ে যায়। মাটি থেকে বস্তা তুলতে সকালে সুবিধা, বিকেলে কষ্ট। বাড়ি ফেরার শেষ যাত্রাটা সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। টানতে পারি, কিন্তু রাস্তার প্রতিটা ঝাঁকুনি পিঠে এসে লাগে। মাঝে মাঝে যাত্রীরা খেয়াল করে, আমি নামার সময় ধীর হয়ে যাই।
খোঁজটা কোথা থেকে শুরু হবে, সেটা প্রথমে মাথায় আসছিল না। এক খালাতো ভাই দেখাল, সে তার বাবার জন্য কীভাবে ডাক্তার খুঁজেছিল। আমি DoctorBD24-এ জামালপুরের ডাক্তারদের তালিকা থেকে শুরু করলাম, একটা একটা করে প্রোফাইল পড়লাম। এই ধরনের তত্ত্বাবধানে ব্যায়ামের কাজ কে করেন, সেটা পরিষ্কার করে জানতে চাইছিলাম। ওই খোঁজ থেকেই প্রশ্ন করার একটা জায়গা পেলাম। প্রথমে ভেবেছিলাম, শুধু বিশ্রাম নিলেই হয়তো এই শক্ত ভাব কেটে যাবে ধীরে।
0 available specialists found
No Specialists Found
We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.
দিনের শেষ যাত্রাটাই আমার পিঠের কাছে সবচেয়ে ভারী
প্রথম সেশনটা যেমন ছিল
ফিজিওথেরাপিস্ট আমাকে ছোট একটা ধাপে উঠতে বললেন। ধীরে সামনে ঝুঁকতে বললেন, হালকা একটা বাক্স তুলতেও বললেন। ভারী কিছু নয়। শক্ত হয়ে যাওয়া শুরু হয় কোন জায়গা থেকে, তিনি সেটা খেয়াল করলেন। আমার শক্তি, নড়াচড়ার পরিধি আর হাঁটার ধরন তিনি লিখে রাখলেন। তারপর ধাপে ধাপে ছোট একটা অনুশীলনের পরিকল্পনা বুঝিয়ে দিলেন। কোনো প্রতিশ্রুতি নয়, শুধু প্রতি সপ্তাহে দেখে ঠিক করা অনুশীলন।
ঝুঁকতে আর তুলতে শেখা নতুন করে
বস্তার কাছে কীভাবে নামি আর কীভাবে উঠি, সেটা নিয়েই আমরা কাজ করলাম। ছোট ছোট বদল। পা রাখার ধরন আলাদা। তোলার আগে একটু থামা। বাইরে থেকে ব্যায়ামগুলো সহজ লাগে। ধীরে ধীরে, কেউ অবস্থান ঠিক করে দিলে করা অনেক কঠিন। প্রতি সাক্ষাতে তিনি একটা দুটো নড়াচড়া বদলে দেন, ওই সপ্তাহে পিঠ কতটা সয়েছে দেখে।
যাত্রার ফাঁকে ফাঁকে অনুশীলন
সকালে প্রথম বোঝা তোলার আগে বাড়িতে করার মতো কয়েকটা নড়াচড়া তিনি দিয়েছেন। ঘণ্টা লাগে না, মিনিটেই হয়ে যায়। ব্যস্ত দিনে সবচেয়ে ছোট অংশটুকুই করি। শক্ত ভাবটা সাধারণত কোন সময়ে শুরু হয়, সেটা আমি খেয়াল করে রাখি। ওই খেয়ালটাই এখন আমাদের সেশনের দিক ঠিক করে দেয়।
আমার ওষুধ আমার ডাক্তারের কথাতেই চলবে
প্রথম দিন থেকেই একটা বিষয় পরিষ্কার। ফিজিওথেরাপিস্ট আমার ওষুধে হাত দেন না একদমই। যিনি ওষুধ দিয়েছেন, তিনি যেভাবে নিয়ম করে দিয়েছেন, আমি ঠিক সেভাবেই খাই। ওষুধ বদলানোর দরকার হলে সেই সিদ্ধান্ত একমাত্র ওই ডাক্তারের। ব্যায়ামের কাজ আর ওষুধের কাজ এখানে আলাদা, আর এটাই আমার কাছে ভালো লাগে।
আবার ডাক্তারের কাছে পাঠানো হলে
শেষ পর্যালোচনায় তিনি বললেন, আমার অগ্রগতির নোট যিনি পাঠিয়েছিলেন সেই ডাক্তারের কাছে যাবে। ব্যায়ামের আওতার বাইরের কিছু হলে এখানে রেখে না দিয়ে আমাকে ফেরত পাঠানো হবে। এই শহরে অন্য ধরনের চিকিৎসা নিয়ে যারা খুঁজছেন, তাদের জন্য জামালপুরের জেনারেল সার্জনদের তালিকা DoctorBD24-এ আলাদা তালিকা হিসেবে আছে। আমার পথটা সহজই থাকছে। এখানে ব্যায়ামের সেশন, ডাক্তারের কাছে চিকিৎসার সিদ্ধান্ত।
ফিজিওথেরাপিস্ট কি বলবেন আমার পিঠে কী সমস্যা হয়েছে?
না। আমার নড়াচড়া কোথায় আটকাচ্ছে আর আমরা কী অনুশীলন করব, সেটা তিনি বলেছেন। কারণ নিয়ে প্রশ্ন আমার ডাক্তারের জন্য, যার কাছে আমার রিপোর্ট আছে।
কত ঘন ঘন সেশনে যেতে হবে?
আমার পরিকল্পনায় কয়েক সপ্তাহ ধরে নিয়মিত সেশন আছে, মাঝে বাড়িতে অনুশীলন। আপনার সময়সূচি আলাদা হতে পারে। আপনি কীভাবে নড়াচড়া করেন দেখে ফিজিওথেরাপিস্ট সেটা ঠিক করেন।
এর মধ্যে কি ভ্যান চালানো চালিয়ে যেতে পারব?
আমি কাজ চালিয়ে যাচ্ছি, তোলার ধরনে ছোট বদল এনে। প্রথম সেশনেই নিজের কাজ নিয়ে জিজ্ঞেস করুন। ভারী কাজ নিয়ে খোলামেলা আলোচনা দরকার হতে পারে।
সেশনে কী পরে যাব, কী নিয়ে যাব?
আমি ঢিলেঢালা পোশাক পরি, যাতে ঝুঁকতে সুবিধা হয়। আগের রিপোর্টগুলো সঙ্গে নিই, যাতে আমার ডাক্তার আগে কী দেখেছেন তা ফিজিওথেরাপিস্ট দেখতে পান।
শক্ত ভাবটা একদম না কমলে কী হবে?
ফিজিওথেরাপিস্টকে সত্যি করে বলুন। তিনি পরিকল্পনা আবার দেখে বদলে দেবেন। অগ্রগতি একদম থেমে গেলে তিনি আপনাকে আবার ডাক্তারের কাছে পাঠাতে পারেন।
কোন লক্ষণ হঠাৎ দেখা দিলে সেশনের অপেক্ষা না করে আজই হাসপাতালে যাব?
শরীরের একদিকে হঠাৎ দুর্বলতা নেমে এলে সেদিনই যান। প্রস্রাব বা পায়খানা ধরে রাখতে না পারাও জরুরি লক্ষণ। পড়ে যাওয়ার পর হাত বা পা না নড়লে হাসপাতালের চিকিৎসা লাগবে। জ্বরসহ তীব্র ব্যথা, বুকে ব্যথা বা শ্বাসকষ্ট হলেও তাই।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.