সেরা ফিজিওথেরাপিস্ট - গাজীপুর

উপরের তাকে এখন আর হাত পৌঁছায় না

আমার বয়স ঊনচল্লিশ। গাজীপুরে একটা পোশাক কারখানায় আমি ফ্লোরের সুপারভাইজার হিসেবে কাজ করি। মাস দুয়েক আগে লোডিং প্ল্যাটফর্ম থেকে পা পিছলে ডানদিকে পড়ে যাই। ব্যথা বিশ্রামে কমে গেছে। কিন্তু কাঁধের জড়তা কমেনি। কাঁধটা মাঝপথে আটকে যায়। আর এই হাতে ভর দিয়ে কিছু তুলতে গেলে দুর্বল লাগে। প্রথম সপ্তাহগুলোতে ডান হাতে তোয়ালে চেপা, দরজার হাতল ঘোরানো, এসব ছোট কাজেও কাঁধ টেনে ধরত। রাতে পাশ ফিরতে গেলেও ওই কাঁধটায় ভর দিতে ভয় লাগত।

কারখানায় সমস্যাটা ধরা পড়ে ছোট ছোট কাজে। টুলে না উঠলে উপরের তাকের কার্টন নামাতে পারি না। নমুনার বাক্স আগে এক হাতে তুলতাম, এখন দুই হাত লাগে। ফ্লোরের ওপাশে কাউকে ডাকতে হাত তুললেও হাত পুরো ওঠে না। তখন চিৎকার করে ডাকতে হয়। লাইন সুপারভাইজারকে ডেকে কাজ বুঝিয়ে দেওয়ার বদলে এখন নিজেই হেঁটে যেতে হয় বলে সময়ও নষ্ট হয়।

যে চিকিৎসক আমার চিকিৎসা করেছেন, তিনি বললেন, এই জয়েন্টে এখন তত্ত্বাবধানে ব্যায়াম করাতে হবে। নিজে নিজে এলোমেলো নাড়াচাড়া চলবে না। তিনি একজন ফিজিওথেরাপিস্টের কাছে যেতে বললেন। কোথা থেকে খুঁজব, প্রথমে বুঝতে পারছিলাম না। এক সহকর্মী DoctorBD24-তে গাজীপুরের চিকিৎসকদের তালিকা দেখতে বললেন। সেখান থেকেই আমার খোঁজ শুরু হয়।

0 available specialists found

🏜️

No Specialists Found

We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.

উপরের তাকে এখন আর হাত পৌঁছায় না

প্রথম দিনে শুধু মেপে দেখলেন কতটা নড়ে

ভেবেছিলাম প্রথম দিন থেকেই ব্যায়াম শুরু হবে। তা হয়নি। ফিজিওথেরাপিস্ট আগে দেখলেন, হাতটা কোন দিকে কতদূর যায়। কোথায় আটকায়, সেটা তিনি লিখে রাখলেন। অন্য হাত কতটা সাহায্য করতে চায়, সেটাও দেখলেন। তারপর জিজ্ঞেস করলেন, আমার কাজে আসলে কোন কোন নাড়াচাড়া বেশি লাগে।

এরপর তিনি সপ্তাহের জন্য অল্প কয়েকটা নড়াচড়া ঠিক করে দিলেন। কতদূর যেতে হবে, কোথায় থামতে হবে, সব পরিষ্কার করে বুঝিয়ে দিলেন।

সপ্তাহের পর সপ্তাহ যেভাবে এগোচ্ছে

প্রতিটা সেশনে তিনি পাশে থেকে হাতে ধরে কাজ করান। আমার ভঙ্গি ঠিক আছে কিনা, খেয়াল রাখেন। কাঁধ যেদিন একটু ছাড় দেয়, সেদিন কোনো নড়াচড়ার পরিসর সামান্য বাড়ে। কোনোটা আবার আগের জায়গাতেই থাকে। ছাপানো কাগজ দেখে নয়, সেদিনের অবস্থা দেখেই তিনি বদলান।

বাসায় সকালে আর সন্ধ্যায় আমি ছোট একটা রুটিন করি। তিনি শিখিয়ে দিয়েছেন, হাত ঝাঁকিয়ে নয়, ধীরে ধীরে করতে হয়। তাড়াহুড়ো করলে কাঁধ ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভারী থাকে। ধৈর্যটাও যে কাজের অংশ, সেটা এখন বুঝি।

ওষুধের বিষয়ে তিনি কিছুই বদলান না

পড়ে যাওয়ার পর চিকিৎসক যেসব ওষুধ যেভাবে দিয়েছিলেন, আমি ঠিক সেভাবেই খাচ্ছি। ফিজিওথেরাপিস্ট কখনো বলেননি, কোনো ওষুধ কমাতে বা বন্ধ করতে। সেই দিকটা তাঁর হাতে নয়। তাঁর কাজ শুধু নড়াচড়া নিয়ে। ওষুধের কাগজটা পুরোপুরি আমার চিকিৎসকের কাছেই থাকে, প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত।

যা তাঁর কাজের বাইরে, সেখানে তিনি ফেরত পাঠান

তৃতীয় সেশনে আমি হাতে অদ্ভুত ঝিনঝিন ভাবের কথা বললাম। তিনি ব্যায়াম দিয়ে সেটা সারাতে যাননি। কথাটা লিখে নিলেন, আর বললেন আগে চিকিৎসককে দেখাতে। আমার অগ্রগতির খবরও তিনি চিকিৎসকের জন্য লিখে রাখেন। সমস্যা ব্যায়ামের বাইরে হলে আমাকে ফেরত পাঠানোই তাঁর কাজ। এই দিকটা পড়তে গিয়ে DoctorBD24-তে গাজীপুরের জেনারেল সার্জনদের তালিকাও চোখে পড়েছে। চিকিৎসক কখনো সেদিকে যেতে বললে তালিকাটা কাজে লাগতে পারে।

সেশন চলাকালে আমার করা প্রশ্নগুলো

মোট কয়টা সেশন লাগবে আমার?

শুরুতেই তিনি সংখ্যা বেঁধে দেননি। তিনি বললেন, কাঁধ কতটা ছাড় দিচ্ছে, সেটাই ঠিক করবে। আমরা মাপগুলো একসঙ্গে দেখি। সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা বদলায়।

স্বাভাবিক শিফটে কাজ চালিয়ে যেতে পারব তো?

এখন পর্যন্ত পারছি, তবে ছোট বদল মেনে। উঁচু তাকের জন্য টুল ব্যবহার করি। ভারী বাক্সে সাহায্য নিই। তিনি বললেন, কাজে সীমা মেনে চললে সেশনের অগ্রগতি টেকে।

ব্যায়ামে ব্যথা লাগা কি ঠিক আছে?

টান লাগার অনুভূতি হতে পারে, তিনি বলেছেন। কিন্তু তীব্র ব্যথা হলে থেমে জানাতে হবে। চুপচাপ জোর করে চালিয়ে যাওয়া ঠিক নয়, সেটা এখন শিখেছি।

একদিন বাসার অনুশীলন বাদ পড়লে কী হবে?

পরের দিন দ্বিগুণ করতে তিনি মানা করেছেন। স্বাভাবিক রুটিনেই ফিরতে বলেছেন। একদিন বাদ পড়ার চেয়ে তাড়াহুড়ো করে কাঁধ পিছিয়ে দেওয়া বেশি ক্ষতিকর।

হাতটা কি আগের মতো পুরোপুরি ফিরে আসবে?

এমন কোনো প্রতিশ্রুতি তিনি দেননি। তিনি বললেন, নিয়মিত কাজে সাধারণত নাগাল আর শক্তি ধীরে ধীরে বাড়ে। আমরা মাপের ফল দেখে বিচার করি, অনুমানে নয়।

কোন লক্ষণ দেখলে সেশনের অপেক্ষা না করে সেদিনই হাসপাতালে যাব?

শরীরের একপাশ হঠাৎ দুর্বল হয়ে গেলে সেদিনই যেতে হবে। প্রস্রাব বা পায়খানা ধরে রাখতে না পারলে সেটাও জরুরি লক্ষণ। পড়ে যাওয়ার পর হাত বা পা নাড়াতে না পারলে তখনই হাসপাতাল দরকার। প্রচণ্ড ব্যথার সঙ্গে জ্বর থাকলে, কিংবা বুকে ব্যথা আর শ্বাসকষ্ট হলে ফিজিওথেরাপির দিনের জন্য অপেক্ষা করা যাবে না।

Ad

Sponsor Space Available

Place your banner here to reach thousands of patients daily.

Sponsored

Grow Your Practice

Premium placement for hospitals & doctors.