সেরা ফিজিওথেরাপিস্ট - ফেনী

আবার কবে দৌড়াব, ঠিক করবে আমার গোড়ালিটাই

আমার বয়স ছাব্বিশ। ফেনীর একটা স্থানীয় দলে ফুটবল খেলি। গত মৌসুমে এক ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে ঢিলে একটা বলের দিকে পা বাড়াতে গিয়ে গোড়ালিটা মুড়ে গেল। পায়ে ভর দিতে পারছিলাম না, মাঠ থেকে উঠে আসতে হলো। আমার ডাক্তার দেখে বললেন, মাঠ থেকে দূরে থাকতে হবে। তিনি আমাকে একজন ফিজিওথেরাপিস্টের কাছে পাঠালেন। তাঁর কথা, দৌড়ের প্রশ্ন ওঠার আগে দেখিয়ে দেওয়া ব্যায়ামে গোড়ালিটাকে আবার গড়ে তুলতে হবে।

আমার পরীক্ষাগুলো ছোট ছোট, আর সেগুলোতেই লজ্জা পাই। গলির মুখের চায়ের দোকান পর্যন্ত হেঁটে যাই। মনে মনে গুনি কতটা খুঁড়িয়ে চলছি। অনুশীলনের সময় পাশে দাঁড়িয়ে দেখি অন্যরা দৌড়ঝাঁপ করছে। একসময় সেই কাজে আমিই এগিয়ে থাকতাম। ছাদের সিঁড়ি বেয়ে উঠতে গেলে এখনো ভালো পায়ের ওপরই ভর বেশি রাখি। নিজের ঘরে এক পায়ে দাঁড়ানোটাও কোনো কোনো সকালে হেরে যাওয়া এক লড়াই।

ঠিক মানুষটাকে খুঁজে পেতে বেশ খোঁজ করতে হয়েছে। চোট পেয়ে সেরে ওঠা দুই সতীর্থ নাম বলল। এক সন্ধ্যায় আমি ফেনীর ডাক্তারদের DoctorBD24 তালিকা ঘেঁটে শোনা নামগুলোর সঙ্গে মিলিয়ে দেখলাম। এভাবেই প্রথম সেশনের দিন ঠিক হলো।

0 available specialists found

🏜️

No Specialists Found

We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.

আবার কবে দৌড়াব, ঠিক করবে আমার গোড়ালিটাই

প্রথমে তিনি সরল রেখায় হাঁটিয়ে দেখলেন

প্রথম সেশনে তিনি জানতে চাইলেন চোটটা কীভাবে লাগল, ডাক্তার কী বলেছেন। তারপর তিনি গোড়ালির কাজ দেখলেন। আমাকে সরল রেখা ধরে হাঁটতে হলো, এক পায়ের গোড়ালি আরেক পায়ের আঙুলের কাছে রেখে। খারাপ পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়ালাম, তিনি ঘড়ি দেখে সময় মাপলেন। হাত দিয়ে আলতো করে গোড়ালি নাড়িয়ে দেখলেন কতদূর যায়। দৌড় নয়, বল নয়, বাহাদুরি কিছু নয়। তিনি একটা পরিকল্পনা সাজিয়ে বললেন, আমরা ধাপে ধাপে এগোব।

বাড়ির জন্য তাঁর বেঁধে দেওয়া নিয়ম

দুই সেশনের মাঝে বাড়িতে আমি ছোট একটা ব্যায়ামের ধারা মেনে চলি। তিনি যেভাবে দেখিয়েছেন ঠিক সেভাবে, নিজে কিছু যোগ করি না। সকালে আমাদের ছাদে করি। সবচেয়ে কঠিন নিয়মটা ব্যায়াম নয়। বন্ধুরা প্রতিদিন সন্ধ্যায় খেলে, আর আমার ওতে যোগ দেওয়া চলবে না। মাত্র পাঁচ মিনিটের জন্যও না। বাড়ির অনুশীলনের পর গোড়ালি ফুললে আমি লিখে রাখি। পরের সেশনে তাঁকে জানাই। অনুমানের চেয়ে খারাপ খবর শোনাই তাঁর পছন্দ।

হাঁটা আগে, বল অনেক পরে

সেশনগুলো ধাপে ধাপে বাড়ে, কোনো ধাপ লাফানো হয় না। শুরু হয়েছিল সমান জমিতে হাঁটার রেখা আর ভারসাম্যের কাজ দিয়ে। তারপর এল নিয়ন্ত্রণে পা ফেলার অনুশীলন। গোড়ালি এসব ধাপ স্থিরভাবে সামলানোর পরই সোজা পথে হালকা দৌড় শুরু হলো। নরম জমিতে, অল্প দূরত্বে। দিক বদলের কথা উঠবে তিনি যখন বলবেন গোড়ালি তৈরি। নতুন ধাপের পর তিনি দেখেন পরের সকালে গোড়ালির সাড়া। সাড়া খারাপ হলে তর্ক ছাড়াই আমরা এক ধাপ পিছিয়ে যাই।

তিনি ব্যায়াম দেন, কখনো ওষুধ নয়

শুরুতে আমার ডাক্তার যা যা ওষুধ লিখে দিয়েছিলেন, সেসব চলছে ঠিক তাঁর লেখা নিয়মেই। ফিজিওথেরাপিস্ট আমাকে কখনো কোনো ওষুধ খেতে দেননি। কোনো ওষুধ বন্ধ করতেও বলেননি। এটা তাঁর কাজই নয়। তাঁর হাতিয়ার হলো চলাফেরা, অনুশীলন আর ধৈর্য। দুই সেশনের মাঝে ব্যথা বা ফোলা নিয়ে চিন্তা হলে তিনি বলেন, প্রশ্নটা আমার ডাক্তারের। পরের সেশনের জন্য অপেক্ষা করা ঠিক নয়।

যেদিন এগিয়ে না দিয়ে তিনি ফেরত পাঠালেন

এক সপ্তাহ সেশনের পর গোড়ালি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ফুলে গেল, পরের দিনও ফোলা রইল। ভেবেছিলাম তিনি পরিকল্পনা ধীর করে দেবেন। তার বদলে তিনি থামিয়ে দিলেন। আমাকে আমার ডাক্তারের কাছে পাঠালেন, গোড়ালিটা আবার দেখিয়ে নিতে। তিনি বললেন, এটা ব্যায়ামের কাজের বাইরে। আমার ডাক্তার সন্দেহ করলে যে গাঁটের ভেতরে অপারেশনের মতো কিছু আছে, খোঁজটা শুরু হবে ফেনীর জেনারেল সার্জনদের মধ্য থেকে। ডাক্তারের ছাড়পত্রের পরই পরিকল্পনা আবার চালু হয়েছে।

দলের ছেলেরা আমাকে যা জিজ্ঞেস করে

তিনি কি তোমার মাঠে ফেরার তারিখ বলে দিয়েছেন?

কোনো তারিখই না। তিনি বলেন, ক্যালেন্ডার দিয়ে গোড়ালির বিচার হয় না। বিচার হয় ধাপে ধাপে।

সেশনের ভেতরে আসলে কী করো?

হাঁটার রেখা ধরে চলা, ভারসাম্যের কাজ, পা ফেলার অনুশীলন। আর গোড়ালির জন্য দেখিয়ে দেওয়া চলাফেরা। তিনি কাছ থেকে দেখেন, ভুল ধরিয়ে দেন।

বাড়িতে বাড়তি অনুশীলন করলে কি তাড়াতাড়ি হবে?

তাঁর দেওয়া ধারাটাই শুধু অনুশীলন। বাড়তি চাপ দিয়েই খেলোয়াড়রা এক সপ্তাহের সাবধানের কাজ নষ্ট করে ফেলে।

ব্যথার জন্য তিনি কি কিছু দেন?

গেলার কিংবা মাখার কিছুই নয়। তিনি শুধু চলাফেরা নিয়ে কাজ করেন। ওষুধ থাকে আমার ডাক্তারের হাতে।

বুঝবে কী করে গোড়ালির জোর বাড়ছে?

প্রতিটা সপ্তাহে ভারসাম্য বেশিক্ষণ টেকে। হালকা দৌড়ের দূরত্ব বাড়ে। এখন বেশিরভাগ দিন চায়ের দোকান পর্যন্ত হাঁটায় খোঁড়ানি থাকে না।

হঠাৎ কোন সমস্যা দেখলে সেদিনই হাসপাতালে যেতে হবে?

শরীরের এক দিক হঠাৎ দুর্বল হয়ে যাওয়া সেদিনই হাসপাতালের বিষয়। প্রস্রাব বা পায়খানা ধরে রাখতে না পারলেও তাই। পড়ে যাওয়ার পর হাত বা পা নাড়াতে না পারলেও তাই। জ্বর নিয়ে তীব্র ব্যথা এলে, কিংবা বুকে ব্যথা বা শ্বাসকষ্ট হলেও সেদিনই হাসপাতাল।

Ad

Sponsor Space Available

Place your banner here to reach thousands of patients daily.

Sponsored

Grow Your Practice

Premium placement for hospitals & doctors.