সেরা ফিজিওথেরাপিস্ট - চাঁদপুর

ভোরের ঘাটে ঝুড়ি তুলতে গেলেই পিঠ শক্ত হয়ে যায়

আমার বয়স পঁয়তাল্লিশ। চাঁদপুরের ঘাটে মাছের কাজ করি। আমার সকাল শুরু হয় অন্ধকার থাকতেই, নৌকা ভিড়লেই ঝুড়ি নামানো শুরু। কয়েক মাস ধরে সকাল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আমার পিঠ শক্ত হতে থাকে। তৃতীয় ঘণ্টায় গিয়ে আমি বুড়ো মানুষের মতো করে ঝুড়ি তুলি। ডাক্তার সব শুনে আমাকে ফিজিওথেরাপিস্টের কাছে পাঠালেন। এখন হাটের দিনের ফাঁকে ফাঁকে সেশনে যাই।

কাজটাই প্রতিদিন আমার পরীক্ষা নেয়। ভরা ঝুড়িটা মাটি থেকে তুলে দাঁড়িপাল্লার চাতালে রাখতে হয়, বারবার। ওজন করার পাল্লার দিকে ঝুঁকতে হয়, ভার নিয়ে সোজা হতে হয়, পেছনে ঝুড়ি সাজাতে ঘুরতে হয়। প্রতিটা চলাই যায় আমার পিঠের ওপর দিয়ে। ওজনটা কাঁধে নয়, পিঠেই ওঠে। কোনো সকালে কাজটা আমি শেষ করি। কোনো সকালে কাজটাই আমাকে শেষ করে দেয়।

সত্যি বলতে, ডাক্তার বলার আগে ফিজিওথেরাপি শব্দটাই আমি শুনিনি। খোঁজখবর করে আর চাঁদপুরের ডাক্তারদের DoctorBD24 তালিকা ঘেঁটে সেখান থেকেই প্রথম সেশনের পথটা খুঁজে পেলাম। প্রথম সেশনে আমাকে রিকশায় করে পৌঁছে দিয়েছিল আমার এক চাচাতো ভাই।

0 available specialists found

🏜️

No Specialists Found

We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.

ভোরের ঘাটে ঝুড়ি তুলতে গেলেই পিঠ শক্ত হয়ে যায়

ডাক্তার আমাকে যা করতে বললেন

ডাক্তার আমার সকালের গল্প শুনলেন, কিন্তু নিজে ব্যায়াম ধরিয়ে দিলেন না। তিনি বললেন, চলার দিকটা দেখার জন্য আলাদা একজোড়া চোখ দরকার। ফিজিওথেরাপিস্ট দেখবেন আমি কীভাবে ঝুড়ি তুলি, তারপর ধাপে ধাপে সেই ভঙ্গিটাই আমার সঙ্গে আবার গড়ে তুলবেন। পুরো চিকিৎসার দায়িত্ব ডাক্তারের কাছেই থাকে।

শেখানোর আগে তিনি শুধু আমার তোলা দেখলেন

প্রথম সেশনে তিনি মেঝেতে একটা খালি ঝুড়ি রাখলেন। ঘাটে যেভাবে তুলি, সেভাবেই তুলতে বললেন। নিজে কিছু বললেন না, শুধু দেখলেন। আমার হাঁটু কোথায় যায়। পিঠ কতটা গোল হয়ে আসে। কোথায় গিয়ে আমি তাড়াহুড়া করি। তারপর তিনি নিজে ধীরে ধীরে তুলে দেখালেন, পার্থক্যটা দেখে আমি নিজেই লজ্জা পেলাম। শেখানো শুরুর আগে তিনি মেপে দেখলেন, আমার পিঠ কতটা ঝোঁকে আর পা কতটা ভার নিতে পারে।

সেশনের ছন্দ আর বাড়ির উঠোন

এখন সেশনগুলো একটা ছন্দে চলে। তিনি আমার পিঠ আর পা চলার ভেতর দিয়ে নিয়ে যান, হাতে ধরে ভুল ধরিয়ে দেন। ঘরের ঝুড়িটা সপ্তাহে সপ্তাহে একটু একটু করে ভারী হয়। ঘরে তিনি যা শেখান, মাঝের দিনগুলোতে আমি উঠোনে সেটাই আবার করি। আমার তোলার ভঙ্গি টিকে গেলে তিনি সামনে দাঁড়িয়েই ধারাটা বদলে দেন, কেন বদলালেন তাও বলেন। আসল খবর মেলে ঘাটে। ঝুড়িটা আগের ঝাঁকুনি ছাড়া উঠলে আর পাল্লার দিকে ঝুঁকে প্রথম চেষ্টাতেই সোজা হতে পারলে, সেটাই খবর।

ওষুধের টেবিলে তাঁর কোনো জায়গা নেই

অন্য সমস্যার জন্য আমি ডাক্তারের দেওয়া ওষুধ খাই, সেগুলো চলছে তাঁর ঠিক করা নিয়মেই। ফিজিওথেরাপিস্ট কোনো দিন ওষুধের পাতাটা দেখতেও চাননি, বদলানোর কথা তো দূরের। ওষুধ ডাক্তারের দিকের বিষয়। তাঁর দিক হলো চলা। ব্যায়াম চলে ওষুধের পাশাপাশি। কোনো ওষুধ নিয়ে মন খুঁতখুঁত করলে সেই প্রশ্ন আমার ডাক্তারের কাছেই ফিরে যায়।

যেদিন তিনি আমাকে ফেরত পাঠালেন

এক সকালে আমি বললাম, আগের দিন আমার একটা পা অদ্ভুত রকম ভারী লেগেছিল, আগে এমন হয়নি। তিনি সব থামিয়ে দিলেন। বললেন, এমন নতুন লক্ষণ ব্যায়ামের ঘরে বিচার করার বিষয় নয়। আর একটা ঝুড়ি তোলার আগেই তিনি আমাকে ডাক্তারের কাছে ফেরত পাঠালেন। কোনো সমস্যা যদি অপারেশনের দিকে ইঙ্গিত করে, তা সম্পূর্ণ অন্য ধরনের ডাক্তারের বিষয়। এমন সমস্যায় এখানকার পরিবারগুলো চাঁদপুরের জেনারেল সার্জনদের মধ্যে খোঁজ করেন।

যাওয়ার আগে আমার মনের প্রশ্নগুলো

ফিজিওথেরাপিস্ট কি আমাকে বলেছেন আমার পিঠে কী হয়েছে?

না, তিনি কখনো সেই দাবিও করেননি। তিনি দেখেন আপনি কীভাবে চলেন, আর সেই চলা নিয়েই কাজ করেন। কী হয়েছে তার নাম বলা আপনার ডাক্তারের বিষয়।

সেশনের দিনেও কি আমি ঘাটে যাই?

আমার ক্ষেত্রে যাই, কারণ সেশনগুলো বসে সকালের ভিড় শেষ হওয়ার পর। তিনি সময়টা আমার কাজের সঙ্গে মিলিয়ে দিয়েছেন, কাজের বিরুদ্ধে নয়।

সেশনে তিনি হাত দিয়ে আসলে কী করেন?

আপনি চলাটা করার সময় তিনি তা ধরে পথ দেখান, ভর দিয়ে সামলে রাখেন, তোলা আর ঝোঁকার ভঙ্গি শুধরে দেন। কাজটা আপনার, হাত দিয়ে শেখানোটা তাঁর।

শক্ত ভাবটার জন্য তিনি কি আমাকে কিছু খেতে দেবেন?

না। তিনি দেন চলা, ধারা আর ভঙ্গির শুধরানি, গেলার মতো কিছু নয়। ওষুধের যা কিছু, তা আসে শুধু আপনার নিজের ডাক্তারের কাছ থেকে।

সেশনগুলো সত্যিই কিছু বদলাচ্ছে কিনা বুঝব কী করে?

ঝুড়ি আর দাঁড়িপাল্লার দিকে তাকান। তোলার সময় ঝাঁকুনিটা থেমে গেলে আর ঝোঁকাটা সহজে ফিরে এলে, সেটাই তাঁরও ভরসার মাপ।

হঠাৎ কোন লক্ষণ দেখলে সেশনে না গিয়ে সেদিনই হাসপাতালে যাব?

শরীরের একদিকে হঠাৎ নতুন করে জোর চলে যাওয়া। প্রস্রাব বা পায়খানা ধরে রাখতে না পারা। পড়ে যাওয়ার পর হাত বা পা একদম না নড়া। জ্বরসহ প্রচণ্ড ব্যথা ওঠা, আর বুকে ব্যথা বা শ্বাসকষ্ট। এর প্রতিটাই মানে সেদিনই হাসপাতাল। পরের সেশনের জন্য খবর রেখে দেওয়ার বিষয় এগুলো নয়।

Ad

Sponsor Space Available

Place your banner here to reach thousands of patients daily.

Sponsored

Grow Your Practice

Premium placement for hospitals & doctors.