সেরা ফিজিওথেরাপিস্ট - বগুড়া

আবার নিজের পায়ে করিডোর হেঁটে পার হতে শিখছি

আমার বয়স ষাট। বগুড়ায় ছেলের সংসারে থাকি। কোমরে অপারেশনের পর থেকে যে কাজটা সারাজীবন না ভেবেই করেছি, সেটাই নতুন করে শিখতে হচ্ছে। হাঁটা। প্রথম দিকে দুই পা এগোলেই বসে পড়তে হতো। ডাক্তার আমাকে পরিষ্কার করে বলেছেন, অপারেশন ছিল কাজের অর্ধেক। বাকি অর্ধেক হলো ফিজিওথেরাপিস্টের দেখিয়ে দেওয়া ব্যায়াম, আর এখন আমার সপ্তাহগুলো কাটে সেই কাজেই।

আমার দিন এখন ছোট ছোট পরীক্ষায় মাপা। প্রথমটা ক্লিনিকের করিডোর। ফিজিওথেরাপিস্ট পাশে পাশে হাঁটেন, প্রতিটা পা ফেলা তিনি খেয়াল করেন। করিডোরের শেষে ঘুরে দাঁড়ানোটা এখনো আমাকে ভয় পাইয়ে দেয়। বাড়িতে চেয়ারে বসা আর সেখান থেকে উঠে দাঁড়ানো, প্রতিবারই আমার পুরো সাহস লেগে যায়। ছাদের সিঁড়ির দিকে এখনো তাকাই না, ওটা অনেক পরের হিসাব।

এই ধরনের সাহায্য কোথা থেকে শুরু করব, প্রথমে বুঝতেই পারিনি। এক প্রতিবেশী আমাকে বগুড়ার ডাক্তারদের DoctorBD24 তালিকার কথা বললেন। সেখান থেকে বুঝে নিলাম, এই ধরনের সাহায্য মানুষ সাধারণত কীভাবে খুঁজে পায়। ফোন করার কাজটা ছেলেই করেছে। আমি শুধু চেয়ার আঁকড়ে ধরে অপেক্ষা করেছি।

0 available specialists found

🏜️

No Specialists Found

We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.

আবার নিজের পায়ে করিডোর হেঁটে পার হতে শিখছি

করিডোরটাই এখন আমার মাপকাঠি

প্রতিটা সেশন শুরু হয় ওই একই করিডোরে। ফিজিওথেরাপিস্ট আমার পাশেই হাঁটেন, ধরতে পারার মতো কাছে, আবার এতটা দূরে যাতে কাজটা আমাকেই করতে হয়। কোনো দিন পা গুনে এগোই। কোনো দিন কাজ শুধু দেয়ালে হাত না দিয়ে ঘুরে দাঁড়ানো। যেদিন কোনো চলা সহজ হয়ে আসে, সেদিনই ঘরের ভেতরেই তিনি অনুশীলন বদলে দেন। তিনি লিখে রাখেন আজ আমি কতটা পারলাম। পরের সেশন শুরু হয় সেই লেখা থেকেই।

প্রথম দিনে কোনো ব্যায়াম হয়নি

আমি ভেবেছিলাম গিয়েই ব্যায়াম শুরু হবে। তা হয়নি। তিনি শুধু দেখলেন। অল্প একটু হাঁটতে বললেন, চেয়ারে বসতে বললেন, উঠে দাঁড়াতে বললেন, জায়গায় দাঁড়িয়ে ঘুরতে বললেন। আমার গায়ে কতটা জোর আছে, ভর রাখতে পারি কিনা, পা কতটা নড়ে, সব তিনি খেয়াল করে দেখলেন। এগুলো দেখার পরেই তিনি ঠিক করলেন, আমার অনুশীলন শুরু হবে কোন ধাপ থেকে।

যেদিন ক্লিনিকে যাই না, সেদিনের কাজ

ক্লিনিকের দিনগুলোই সব নয়। বাড়িতে করার জন্য তিনি আমাকে ছোট একটা অনুশীলনের ধারা শিখিয়ে দিয়েছেন। পাশে আমার হাঁটার সাপোর্টটা রেখে সকালে ধীরে ধীরে করি। সেই সময় ছেলের বউ ঘরেই থাকে। পরের সেশনে গিয়ে আমি খোলামেলা বলি, কোনটা পেরেছি আর কোনটা বাদ গেছে। লুকানোর কিছু নেই, মিথ্যে বললে ক্ষতি আমারই।

ওষুধের ব্যাপারে এই ঘরের কোনো হাত নেই

অপারেশনের পর আমার ডাক্তার যেসব ওষুধ ঠিক করে দিয়েছেন, সেগুলো চলছে হুবহু সেই নিয়মেই। ফিজিওথেরাপিস্ট কোনো দিন একটা ওষুধও ছুঁয়ে দেখেননি। তিনি কিছু যোগ করেন না, বাদও দেন না। ব্যায়াম চলে ওষুধের পাশাপাশি, এর বেশি কিছু নয়। ওষুধ নিয়ে কোনো প্রশ্ন উঠলে আমি তা নিয়ে যাই আমার ডাক্তারের কাছেই।

যে সমস্যা ব্যায়ামের ঘরে আসে না

একদিন আমার ক্ষতের পাশের চামড়া গরম লাগল, সঙ্গে হালকা জ্বর। ফিজিওথেরাপিস্ট সেদিনের সেশন থামিয়ে দিলেন। তিনি বললেন, এটা ব্যায়াম দিয়ে বোঝার বিষয় নয়। আমাকে সেদিনই আমার ডাক্তারের কাছে পাঠিয়ে দিলেন। অপারেশনের পর ক্ষত নিয়ে সমস্যা হলে তা অন্য ধরনের ডাক্তারের বিষয়। অস্ত্রোপচার নিয়ে নতুন করে দেখার দরকার হলে এই জেলার পরিবারগুলো একই তালিকা থেকে বগুড়ার জেনারেল সার্জনদের খোঁজ করেন। তিনি নিজের কাজের সীমানা জানেন, সেজন্যই তাঁর ওপর ভরসা বাড়ে।

শুরুর সপ্তাহগুলোতে আমার মনে ঘোরা প্রশ্ন

আমার চিকিৎসার মূল দায়িত্বে কে, আপনি নাকি আমার ডাক্তার?

পুরো চিকিৎসার দায়িত্ব আপনার ডাক্তারেরই। ফিজিওথেরাপিস্ট ব্যায়ামের দিকটা সামলান, আর আপনার হাঁটা কতটা এগোলো তা ডাক্তারকে জানিয়ে রাখেন।

একটা সেশনের ভেতরে আসলে কী হয়?

প্রথমে তিনি দেখেন সেদিন আপনার চলা কেমন। তারপর দেখিয়ে দেওয়া ব্যায়ামগুলো তাঁর সঙ্গে করতে হয়। চলা সহজ হতে থাকলে ধারাটাও বদলায়।

বুঝব কী করে যে আমার উন্নতি হচ্ছে?

একই ছোট পরীক্ষা বারবার করে। বিশ্রাম না নিয়ে বেশি পা এগোনো, দেয়াল না ধরে ঘোরা, কম ভয় নিয়ে চেয়ারে বসা।

কোনো দিন শরীর আগের চেয়ে খারাপ লাগলে কী করব?

সেশনের শুরুতেই বলে ফেলুন। সেদিন তিনি ধারাটা সহজ করে দেবেন, জোর খাটাবেন না।

হাঁটতে গিয়ে ব্যথা বাড়লে ফিজিওথেরাপিস্ট কি আমার ওষুধ বদলে দিতে পারবেন?

না। তিনি ওষুধে হাত দেন না। ব্যথা বিব্রত করলে সেটা আপনার ডাক্তারের বিচারের বিষয়।

হঠাৎ কোন সমস্যা দেখলে সেশনের অপেক্ষা না করে সেদিনই হাসপাতালে যাব?

শরীরের একদিকে হঠাৎ নতুন করে জোর চলে যাওয়া তার একটা। প্রস্রাব বা পায়খানা ধরে রাখতে না পারাও তাই। পড়ে যাওয়ার পর হাত বা পা একদম না নড়লেও অপেক্ষা করা চলবে না। জ্বরের সঙ্গে প্রচণ্ড ব্যথা উঠলেও সেদিনই যেতে হবে। বুকে ব্যথা বা শ্বাসকষ্ট হলেও তাই। এগুলো হাসপাতালের বিষয়, পরের সেশনের জন্য ফেলে রাখার নয়।

Ad

Sponsor Space Available

Place your banner here to reach thousands of patients daily.

Sponsored

Grow Your Practice

Premium placement for hospitals & doctors.