সেরা ফিজিওথেরাপিস্ট - বাগেরহাট

ক্লিনিকের সিঁড়িই এখন আমার আসল পরীক্ষা

আমার বয়স সাতচল্লিশ। কয়েক মাস আগে আমার হাঁটুতে অপারেশন হয়েছে। সার্জন কাজটা ভালোভাবেই করেছেন, কিন্তু তিনি পরিষ্কার বলেছিলেন, অপারেশনটা মাত্র অর্ধেক কাজ। যে হাঁটু একবার কাটা হয়েছে আর এতদিন বিশ্রামে ছিল, তার বাঁক আর জোর ধীরে ধীরে আবার গড়ে তুলতে হয়। হাঁটুর বাঁক ফেরানো আর হাঁটা ঠিক করা, এই দুটোই এখন আমার কাজ। তাই তিনি আমাকে বাগেরহাটের একজন ফিজিওথেরাপিস্টের কাছে পাঠালেন।

বাড়িতে আমার দিন এখন দুটো ছোট পরীক্ষায় আটকে থাকে। একটা হলো উঠোনের নিচু কাঠের চেয়ার। বসতে কষ্ট নেই, কিন্তু উঠতে গেলে হাতল ধরে পুরো শরীরের জোর খাটাতে হয়। আরেকটা হলো সিঁড়ি। একটা একটা করে ধাপ উঠি, ভালো পাটা আগে বাড়িয়ে, রেলিং শক্ত করে ধরে।

ঠিক মানুষটাকে খুঁজে পেতে চারদিকে জিজ্ঞেস করতে হয়েছে। আমার দরকার ছিল এমন একজন, যিনি দেখিয়ে দেওয়া ব্যায়ামের কাজে প্রশিক্ষিত, আর যাঁর কাছে আমি সপ্তাহের পর সপ্তাহ সত্যিই যেতে পারব। শুরু করেছিলাম DoctorBD24-এ বাগেরহাটের ডাক্তারদের তালিকা দেখে। সেখান থেকেই খোঁজ শুরু করলাম, এই ধরনের দেখানো ব্যায়ামের কাজ বাড়ির কাছাকাছি কারা করেন।

0 available specialists found

🏜️

No Specialists Found

We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.

ক্লিনিকের সিঁড়িই এখন আমার আসল পরীক্ষা

প্রথম সেশনে শুধু মাপজোখই হলো

ভেবেছিলাম, প্রথম দিনই বুঝি ব্যায়াম শুরু হবে। হলো উল্টোটা। ফিজিওথেরাপিস্ট পুরো সেশন ধরে শুধু মাপলেন। আমার হাঁটু কতটা ভাঁজ হয়, পায়ে কতটা জোর অবশিষ্ট আছে, সব দেখলেন। ঘরের এক মাথা থেকে অন্য মাথা পর্যন্ত আমাকে হাঁটিয়ে দেখলেন। চেয়ারে বসিয়ে আবার উঠিয়ে দেখলেন। তারপরই তিনি বললেন, আমরা কী করব, কোন ধাপে করব।

ঘরের অনুশীলনই কাজের বড় অংশ

সপ্তাহে তিনি আমাকে যতটা সময় দেন, তার চেয়ে বেশি সময় কাজটা চলে আমার ঘরে। প্রতিটা সেশনে তিনি ছোট একটা অনুশীলনের তালিকা দেন, সকাল আর সন্ধ্যায় করার। পরের সেশনে গিয়ে প্রথম প্রশ্নটাই থাকে, ঘরের অনুশীলন ঠিকমতো হয়েছে তো। ঘরে একা করার চলাগুলো তিনি আগে নিজে দেখিয়ে দেন, হাতে-কলমে ঠিক করে দেন।

সেশনের ঘরে তাঁর হাতের কাজ

সেশনে তিনি আমার হাঁটু ধরে নিজের হাতে চলাগুলো করান। কতটা ভাঁজ করব, কোথায় থামব, তিনি হাতে ধরেই বুঝিয়ে দেন। উন্নতি হলে তালিকাটা পাল্টে যায়। যে চলাটা গত সপ্তাহে পুরো সেশন নিয়ে নিত, এই সপ্তাহে সেটা শুধু শুরুর গরম-হওয়া। নতুন চলা যোগ হয় আগেরটা সহজ হয়ে গেলেই।

উন্নতি ধরা পড়ে ঘরের আসবাবে

প্রতিটা সেশনে আমি কতটা পারলাম, তিনি খাতায় লিখে রাখেন। হাঁটুর ভাঁজ মেপে দেখা হয়। সিঁড়ির ধাপ গুনে দেখা হয়, বিশ্রাম নেওয়ার আগে কয়টা উঠতে পারি। গত সপ্তাহে নিচু আসন থেকে আমি নিজের অজান্তেই উঠে দাঁড়িয়েছিলাম। অপারেশনের পর এমনটা আর ঘটেনি।

যে সিদ্ধান্তটা তাঁর হাতে নেই

তিনি চলাফেরা গড়েন, জোড়ের ভেতরে কী চলছে তা নিয়ে রায় দেন না। এক সপ্তাহ বেশি চাপ পড়ে হাঁটুটা ফুলে গেলে তিনি অনুমান করে এগিয়ে যাননি। অনুশীলন থামিয়ে আমাকে আগে আমার ডাক্তারের কাছে পাঠালেন। জোড়ের ভেতরের সমস্যা ডাক্তারের বিষয়। অস্ত্রোপচারের দিকটা দেখেন আরেক ধরনের বিশেষজ্ঞ। এই এলাকার মানুষ সেজন্য বাগেরহাটের জেনারেল সার্জনদের কাছেও যান।

ওষুধ নিয়ে তিনি কখনো কথা বলেননি

অপারেশনের পর আমার ডাক্তার যে ওষুধগুলো দিয়েছেন, আমি সেগুলো খেয়ে যাচ্ছি। ফিজিওথেরাপিস্ট এই বিষয়ে একটা কথাও বলেননি। কিছু যোগ করেননি, কিছু বন্ধও করেননি, পরিমাণ নিয়েও কিছু বলেননি। তাঁর কাজ ব্যায়াম। ওষুধ চলছে ডাক্তার যেভাবে সাজিয়ে দিয়েছেন ঠিক সেভাবেই, পাশাপাশি। ওষুধ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তা ডাক্তারের কাছেই যাবে, তাঁর কাছে নয়।

প্রথম দিকের সেশনগুলোয় যা জানতে চেয়েছিলাম

আমার হাঁটু কি আবার পুরোপুরি ভাঁজ হবে?

তিনি কোনো সংখ্যা বলে দেননি। জোর ফিরলে ভাঁজও বাড়ে, তিনি বলেন। আর প্রতিটা সেশনের মাপই বলে দেবে, আমার হাঁটু কতটা পর্যন্ত যেতে পারে।

সপ্তাহে কয়টা সেশনে আসতে হবে?

প্রথম সেশনের মাপের ওপরই সেটা ঠিক হয়েছে। আমার ক্ষেত্রে নিয়মিত সেশন, আর মাঝের দিনগুলোতে ঘরে ছোট অনুশীলন।

অনুশীলনের পর হাঁটুতে টান লাগা কি স্বাভাবিক?

কাজের পর হালকা টান লাগাটা অস্বাভাবিক নয়। তিনি আমাকে বুঝিয়ে দিয়েছেন, কোন টানটা পরিশ্রমের, আর কোন ব্যথা দেখলে থামতে হবে। তীব্র ব্যথা বা নতুন করে ফোলা দেখলে তাঁকে জানাতে হবে, না কমলে ডাক্তারকেও।

ভালো লাগলে নিজে থেকে অনুশীলন বাড়িয়ে দেব?

তিনি মানা করেছেন। তালিকাটা হাঁটু নিরাপদে যতটা নিতে পারে, সেই মাপে সাজানো। ভালো দিনে দ্বিগুণ করে ফেললে পরের তিন দিন নষ্ট হতে পারে।

এক সপ্তাহ সেশনে যেতে না পারলে কী হবে?

তিনি এটাকে জীবনের স্বাভাবিক ছেদ হিসেবেই দেখেন। হাঁটু কতটা ধরে রাখতে পেরেছে আর কতটা হারিয়েছে, মেপে সেখান থেকেই আবার শুরু হয়।

কোন লক্ষণ দেখলে সেশন বাদ দিয়ে সেদিনই হাসপাতালে ছুটতে হবে?

শরীরের একদিক হঠাৎ জোর হারিয়ে ফেলা। প্রস্রাব বা পায়খানার ওপর নিয়ন্ত্রণ চলে যাওয়া। পড়ে যাওয়ার পর হাত বা পা নাড়াতে না পারা। জ্বরের সঙ্গে তীব্র ব্যথা। বুকে ব্যথা বা শ্বাস নিতে কষ্ট। তিনি বলেছেন, এগুলোর কোনোটাই সেশনে বসে দেখার বিষয় নয়। এগুলো মানেই সেদিনই হাসপাতাল।

Ad

Sponsor Space Available

Place your banner here to reach thousands of patients daily.

Sponsored

Grow Your Practice

Premium placement for hospitals & doctors.