সেরা ফিজিক্যাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ - সাভার
চায়ের দোকানের একটা ধাপই এখন পাহাড়ের মতো লাগে
আমার বয়স একান্ন। সাভারে হাইওয়ের পাশে ছোট একটা চায়ের দোকান চালাই। গত বছর লম্বা এক অসুখে টানা কয়েক সপ্তাহ বিছানায় পড়ে ছিলাম। জ্বরটা সেরে গেল। কিন্তু বাম পায়ের দুর্বলতাটা রয়েই গেল। পা এখন শক্ত, ভর দিয়ে দাঁড়াতে গেলেও ভরসা পাই না। অসুখের চিকিৎসা যাঁরা করেছিলেন, তাঁদের কাজ সেখানেই শেষ। পা যে জোরটা হারাল, তা ফেরানো নিয়ে কেউ আর খেয়াল করেননি।
আমার সারাদিনের কাজ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে। চুলা বসানো উঁচু মাচায় উঠতে একটা ধাপ পেরোতে হয়। প্রতিদিন সকালে ওই ধাপটাই আমার প্রথম পরীক্ষা। সকালের দিকেই পা সবচেয়ে বেশি জড়তা দেখায়। রেলিংয়ে হাত রেখে জোরে ঠেলা না দিলে পা বাঁকতেই চায় না। তারপর টানা ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকা। কেটলি তোলা, কাপ ধোয়া, পানির ড্রামের দিকে নিচু হওয়া, সবই এই এক পায়ের ওপর ভর করে।
তাই এমন একজন ডাক্তার খুঁজছি, যাঁর কাজ শুরু হয় অসুখের চিকিৎসা শেষ হওয়ার পর থেকে। যাঁর বিষয় হলো হারানো চলাফেরা আবার ফিরিয়ে আনা। ফিজিক্যাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ আগের রিপোর্ট পড়েন, পা আসলে কতটা নড়ে তা নিজে পরীক্ষা করেন, তারপর ধাপে ধাপে জোর ফেরানোর পথ সাজান। খোঁজ শুরু করেছি DoctorBD24-এর সাভারের ডাক্তারদের তালিকা থেকে, যেখানে এলাকা ধরে নানা বিষয়ের চিকিৎসকের তথ্য গোছানো আছে।
2 available specialists found
সহকারী অধ্যাপক ডাঃ মো. মাসুদ করিম
সহকারী অধ্যাপক ডাঃ মো. আশিকুল ইসলাম
চায়ের দোকানের একটা ধাপই এখন পাহাড়ের মতো লাগে
দিনের হিসাবটা শুরু হয় ওই এক ধাপ দিয়ে
দোকানে যাঁরা চা খেতে আসেন, তাঁরা দেখেন একটা মানুষ দাঁড়িয়ে আছে। ভেতরের কষ্টটা তাঁদের চোখে পড়ে না। চুলা জ্বালানোর আগেই মাচার ধাপটা পেরোতে হয়। তারপর ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকা, এক পা থেকে আরেক পায়ে ভর বদলে বদলে। চুলা ধরাতে নিচু হয়ে বসলে উঠতে কাউন্টারের কিনারা ধরতে হয়। এই বয়সে এসব করতে গিয়ে নিজের কাছেই ছোট লাগে।
পরামর্শের আগে টেবিলে উঠল হাসপাতালের কাগজ
বিশেষজ্ঞ প্রথমেই আমার হাসপাতালের রিপোর্টগুলো চাইলেন। কী অসুখ হয়েছিল, কতদিন বিছানায় ছিলাম, কী চিকিৎসা চলেছিল, সব তিনি পড়ে দেখলেন। তারপর এল পায়ের পরীক্ষা। তাঁর ঘরেই একটা ধাপ বেয়ে উঠতে বললেন আমাকে। হাঁটু কতটা বাঁকে, পায়ে ঠেলার জোর কতটা বাকি, তিনি মেপে নিলেন। সমান জমিতে হাঁটাটাও দেখলেন। এতকিছু দেখা শেষ হওয়ার পরই পরিকল্পনার কথা উঠল।
অনুশীলন বসানো হয়েছে দোকানের ফাঁকেই
তাঁর পরিকল্পনা হলো শেখানো ব্যায়াম, ছোট ছোট ভাগে ভাগ করা। বেশিরভাগ অনুশীলন বাড়িতে, বাকিটা দোকানের ফাঁকা সময়ে। কোনো ভাগে উরুতে জোর আনার অনুশীলন থাকে। কোনো ভাগে থাকে চলাগুলোই: ধাপে ওঠা, নিচু হয়ে বসা, দাঁড়িয়ে থাকা। প্রতিটা দেখায় তিনি একই ধাপ আর একই বাঁক আবার মাপেন। যা বদলেছে, তার ওপর দাঁড়িয়েই অনুশীলন বদলে যায়। তিনি শুরুতেই বলে দিয়েছেন, সপ্তাহের পর সপ্তাহ শুয়ে থেকে দুর্বল হওয়া পা ধীরে ধীরেই জোর ফেরত পায়।
আমার রোজকার ওষুধ চলবে নিজের নিয়মেই
স্বাস্থ্যের জন্য আমি নিয়মিত কিছু ওষুধ খাই। এই পরিকল্পনা চললেও ওষুধ চলবে হুবহু আগের নিয়মে, একই সময়ে, একই পরিমাণে। ব্যায়াম ওষুধের পাশে যোগ হয়, কোনো ওষুধের জায়গা সে নেয় না। কোনো সকালে পা ভালো লাগছে বলেই ওষুধ বাদ দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। কোনো ওষুধে বদল দরকার হলে সিদ্ধান্ত নেবেন যিনি আমার অসুখের দেখাশোনা করছেন, আমাকে সামনে বসিয়ে দেখার পর। সেটা আমার সিদ্ধান্ত নয়, ব্যায়ামের পরিকল্পনারও নয়।
সমস্যাটা তাঁর বিষয়ের বাইরে হলে তিনি লুকাবেন না
তিনি আমার অসুখের চিকিৎসকের বদলি হয়ে আসেননি। দুজনে মিলেই কাজ করেন। পরীক্ষায় যদি এমন কিছু ধরা পড়ে যা ব্যায়ামে সারার নয়, তিনি তা প্রথম দিকেই মুখে বলে দেবেন। জোড়ের ভেতরের কোনো সমস্যায় সার্জনের হাত লাগলে সেটা সার্জনেরই কাজ। ওই ধরনের সমস্যার জন্য একই তালিকায় আছেন সাভারের জেনারেল সার্জনরা। তাঁদের কাজের ধরন তাঁর কাজের চেয়ে একদম আলাদা।
শুরু করার আগে নিজে যা জেনে নিলাম
লম্বা অসুখে দুর্বল হয়ে যাওয়া পা কি আবার জোর পেতে পারে?
অনেক ক্ষেত্রেই পারে, ধাপে ধাপে। পায়ে এখন কতটা জোর আর চলাফেরা বাকি আছে, তা বোঝা যাবে তিনি নিজে পরীক্ষা করে মাপলেই।
অনুশীলনের কতটা অংশ দোকানেই করা যাবে?
বেশ খানিকটা। ভাগগুলো ছোট, কাজের ফাঁকে ফাঁকে বসে। দেখা করতে যাওয়া লাগে শুধু মাপজোখের জন্য।
পা ঠিকমতো জোর না পাওয়া পর্যন্ত দোকান কি বন্ধ রাখব?
সাধারণত না। পরিকল্পনা সাজানো হয় আপনার কাজ ঘিরেই। দাঁড়ানোর মধ্যে কীভাবে ফাঁক নেবেন, তা তিনি দেখিয়ে দেবেন।
পরের বার দেখা করতে গেলে তিনি আবার কী মাপবেন?
একই জিনিসগুলো। ধাপে ওঠা, হাঁটুর বাঁক, দাঁড়িয়ে থাকা। আগের বারের সঙ্গে মিলিয়ে যা বদলেছে, তাই ঠিক করে দেবে পরের অনুশীলন কেমন হবে।
উন্নতিটা টের পেতে কতদিন লাগতে পারে?
কেউ নির্দিষ্ট দিনের কথা দিতে পারেন না। উন্নতি আসে ছোট ছোট মাপে, মাপজোখেই তার প্রমাণ মেলে।
হঠাৎ কোন বিপদ দেখলে দোকান ফেলে সোজা হাসপাতালে ছুটব?
শরীরের একপাশ হঠাৎ করে জোর হারিয়ে ফেললে সেদিনই হাসপাতালে যান। প্রস্রাব-পায়খানা আটকে রাখতে না পারলে সেটাও হাসপাতালে যাওয়ারই বিষয়। পড়ে যাওয়ার পর হাত বা পা যদি একদমই না নড়ে, তাহলে এক মুহূর্তও দেরি নয়। তীব্র জ্বরের সঙ্গে অসহ্য ব্যথা জুটলেও সেদিনই হাসপাতালে পৌঁছাতে হবে।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.