সেরা ফিজিক্যাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ - রংপুর

নিজের দোকানের কাউন্টারেই আমার হাত সবচেয়ে ধীর

আমার বয়স সাতান্ন, রংপুরে ছোট একটা মুদি দোকান চালাই। বছরের পর বছর হাত দুটো দোকানের সব কাজ করেছে, আমি আলাদা করে ভাবতেও যাইনি। টাকা গোনা আর রাতে শাটারের তালায় চাবি ঘোরানো ছিল চিন্তাহীন কাজ। ধীরে ধীরে, নাম করে বলার মতো কোনো অসুখ ছাড়াই, দুই হাত শক্ত আর ধীর হয়ে গেছে। খদ্দেরের ভিড়ের সময়টাতেই হাত দুটো সবচেয়ে বেশি ধরা দেয়।

শীতের সকালগুলোতেই সবচেয়ে বেশি টের পাই। খদ্দের দাঁড়িয়ে থাকে, আর কয়েন হাত থেকে পিছলে যায়। খুচরো টাকা ঠিক করতে দুইবার করে গুনতে হয়। তালা খুলতে গিয়ে চাবি এই শীতেই দুইবার হাত থেকে পড়ে গেছে। নিজের জামার বোতাম লাগাতেই দোকান খোলার চেয়ে বেশি সময় লাগে। দুপুরের দিকে হাত একটু ছাড়ে, সন্ধ্যা হলে আবার ক্লান্ত আর ধীর হয়ে পড়ে।

বিশ্রামে কিছু হয়নি, হাত গরম করলে ঘণ্টাখানেকের বেশি সুবিধা থাকে না। আমার দরকার চলাফেরা নিয়েই কাজ করা একজন ডাক্তার। তাই রংপুরে একজন ফিজিক্যাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ খুঁজছি। শুরু করেছি DoctorBD24-এর রংপুরের ডাক্তারদের তালিকা দিয়ে, যেখানে বিষয় আর এলাকা অনুযায়ী ডাক্তার সাজানো আছে। সেখান থেকেই বুঝে নিতে চেয়েছি, কে এই ধরনের কাজ করেন।

1 available specialists found

সহকারী অধ্যাপক ডাঃ ফজলুল করিম

Qualifications এমবিবিএস, এফসিপিএস (ফিজিক্যাল মেডিসিন)।
অবস্থান রংপুর সিটি, রংপুর

নিজের দোকানের কাউন্টারেই আমার হাত সবচেয়ে ধীর

দোকানদারের হাত ধীর হলে দিনটা যেভাবে আটকে যায়

দোকান চলে ছোট ছোট কাজ দ্রুত সারার ওপর। আমার কাজগুলো এখন ছোটও নয়, দ্রুতও নয়। খদ্দের টাকা বাড়িয়ে দেয়, আর খুচরো মেলাতে আমার দুইবার লাগে, পেছনের লাইন তাকিয়ে থাকে। শাটারের চাবি ঘোরে তখনই, যখন দুই হাতে ধরে গায়ের জোর দিই। ছেলে আজকাল ঠান্ডার সকালে দোকান খুলে দেয়, আর ভাব দেখায় যেন নিজের জন্যই করছে।

তিনি কাউন্টারের কাজগুলোই আমার সামনে রাখলেন

এই হাতের ব্যথা নিয়ে আগেও একবার ডাক্তার দেখিয়েছিলাম। ফিজিক্যাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ প্রথমে সেই রিপোর্টগুলোই চাইলেন। তখন কী পাওয়া গিয়েছিল, কী চেষ্টা হয়েছিল, তিনি পড়ে দেখলেন। তারপর আমার নিজের পরীক্ষাগুলো সামনে রাখলেন: এক মুঠো কয়েন গুনতে দিলেন, একটা চাবি ঘোরাতে দিলেন, জামার একটা বোতাম লাগাতে বললেন। সময় মাপলেন না, তাড়াও দিলেন না। চলা কোথায় গিয়ে সংকীর্ণ হয়, আঙুল কোথায় হাল ছেড়ে দেয়, তিনি সেটাই দেখলেন।

খদ্দেরের ফাঁকে গুজে দেওয়া অনুশীলন

তিনি যে পরিকল্পনার কথা বললেন, তা কাজের দিনের সঙ্গে মেলানো ছোট ছোট ভাগের দেখানো ব্যায়াম। শাটার তোলার আগে কয়েক মিনিট। দুপুরের খাওয়ার পরের শান্ত ঘণ্টাটায় আরেক ভাগ। প্রতিটা ধাপ আগের ধাপের চেয়ে আঙুলের কাছে একটু বেশি ভাঁজ আর একটু বেশি মুঠোর জোর চায়। রিভিউতে গেলে তিনি আবার একই কয়েন আর একই চাবি সামনে রাখেন, দুজনে মিলে দেখি কতটা এগোল। বছরের পর বছর ধরে শক্ত হওয়া হাত পনেরো দিনে ছাড়বে না, এ কথা তিনি গোপন করেননি।

আমার রোজকার ওষুধ এই পরিকল্পনার বাইরের হিসাব

অন্য সমস্যার জন্য আমি নিয়মিত কয়েকটা ওষুধ খাই, এই পরিকল্পনা কোনোটাতেই হাত দেয় না। প্রতিটা চলবে আগের সময়ে, আগের নিয়মে, আগের পরিমাণে। ব্যায়াম ওষুধের পাশে যোগ হয়, ওষুধের সঙ্গে বদলাবদলি হয় না। কোনো ওষুধ কখনো বদলাতে হলে সিদ্ধান্ত নেবেন যিনি তা দিয়েছিলেন, শুধু তিনিই।

শক্ত ভাবের পেছনে অন্য কোনো গল্প থাকলে

তিনি এটাও বলেছেন, পরীক্ষায় যদি বোঝা যায় সমস্যাটা অন্য ধরনের বিশেষজ্ঞের বিষয়, তাহলে তিনি আগেভাগেই জানিয়ে দেবেন। একদম অন্য ধরনের সমস্যার জন্য একই তালিকায় জেলার বাকি ডাক্তারদের মধ্যে রংপুরের জেনারেল সার্জনরাও আছেন।

আগে থেকে যেসব কথা জেনে নিলাম

এই হাতে কোনো আঘাত লাগেনি। তবুও কি কিছু করা যাবে?

যাবে। এই ধীরে ধীরে শক্ত হওয়া হাতও মাপা যায়, আর তা নিয়ে কাজ করার জায়গাও থাকে। পরীক্ষাতেই বোঝা যাবে কতটা চলাফেরা ফেরানোর জায়গা আছে।

অনুশীলন কি আমার দোকানের সময় খেয়ে নেবে?

খুব কম। ভাগগুলো ছোট, দিনের শান্ত ফাঁকগুলোতে বসে। বেশিরভাগ কাজ খদ্দেরের ফাঁকে হয়, খদ্দেরের বদলে নয়।

হাত ভালো না হওয়া পর্যন্ত কাউন্টারটা কি ছেলের হাতে ছেড়ে দেব?

ডাক্তার না বললে ছাড়তে হবে না। কাউন্টারের রোজকার কাজ, তাঁর দেখানো নিয়মে করলে, অনেক সময় অনুশীলনেরই অংশ হয়ে যায়।

হাত সত্যিই ছাড়ছে কিনা, বুঝব কী করে?

প্রতিটা রিভিউতে তিনি আপনার নিজের পরীক্ষাগুলো আবার নেন: কয়েন, চাবি, বোতাম। কয়েন গোনা আর চাবি ঘোরানো আগের চেয়ে সহজ হলেই বুঝবেন, পরিকল্পনা ফল দিচ্ছে।

একটা হাত অন্যটার চেয়ে খারাপ। দুটোর ব্যায়াম কি একই হবে?

সবসময় না। পিছিয়ে থাকা হাতে কাজ বেশি দেওয়া যায়, অন্য হাতটা নিজের অগ্রগতি ধরে রাখে।

হঠাৎ কোন বিপদ দেখলে সোজা হাসপাতালে যাব?

কিছু লক্ষণ রিভিউর দিন পর্যন্ত ফেলে রাখার নয়। হঠাৎ শরীরের একদিকে জোর চলে যাওয়া তার একটা। প্রস্রাব বা পায়খানার ওপর নিয়ন্ত্রণ হারানোও তাই। পড়ে যাওয়ার পর হাত বা পা না নড়লেও সেদিনই পৌঁছাতে হবে। জ্বরসহ তীব্র ব্যথা উঠলেও একই কথা খাটে।

Ad

Sponsor Space Available

Place your banner here to reach thousands of patients daily.

Sponsored

Grow Your Practice

Premium placement for hospitals & doctors.