সেরা ফিজিক্যাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ - রাজশাহী
উঁচু খাটে ওঠাটাই এখন আমার দিনের প্রথম লড়াই
আমার বয়স পঞ্চান্ন, রাজশাহীতে ছেলের সংসারে থাকি। গত বছর লম্বা এক অসুখে প্রায় দুই মাস বিছানায় পড়ে ছিলাম। জ্বর সেরে গেল, খাওয়ার রুচিও ফিরল। কিন্তু যে দুর্বলতাটা রয়ে গেল, সেটা বসল আমার বাম দিকের কোমর আর হাঁটুতে। সংসারের কাজে হাত দেওয়া তো দূরের কথা, নিজের চলাটাই এখন হিসাব করে সারতে হয়।
আমাদের খাটটা উঁচু কাঠের, এই এলাকার বেশিরভাগ বাড়িতেই এমন। খাটে উঠতে গেলে হাঁটুর নিচে দুই হাতে ধরে শক্ত পাটা তুলতে হয়। মাটিতে বসা তো এখন ভাবতেই পারি না। রিকশা আরও কঠিন। ভালো পা'টা আগে পাদানিতে ওঠে, তারপর ড্রাইভার দাঁড়িয়ে থাকে, আমি অন্য পাটা টেনে তুলি।
অসুখের চিকিৎসা যাঁরা করেছিলেন, তাঁদের কাজ শেষ। কিন্তু হারানো চলাফেরাটা ফেরানো নিয়ে কেউ কাজ করেনি। তাই রাজশাহীতে একজন ফিজিক্যাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ খুঁজছি, যাঁর রোজকার কাজ ধাপে ধাপে চলাফেরা ফিরিয়ে আনা। খোঁজ শুরু করেছি DoctorBD24-এর রাজশাহীর ডাক্তারদের তালিকা থেকে, যেখানে বিষয় আর এলাকা অনুযায়ী ডাক্তারদের ভাগ করা আছে। কে এই ধরনের কাজ করেন, সেটা জেনে নেওয়াই আমার প্রথম কাজ।
0 available specialists found
No Specialists Found
We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.
উঁচু খাটে ওঠাটাই এখন আমার দিনের প্রথম লড়াই
সকালে একবার, রাতে আরেকবার, রোজ দুইবার ওঠার ঝামেলা
চায়ের আগেই খাটের সঙ্গে প্রথম বোঝাপড়া। ধারে বসে ভালো পাটা আগে তুলি, তারপর হাঁটুর নিচে দুই হাত দিয়ে শক্ত পাটা টেনে আনি। পাশ ফিরে শুতেও আগে থেকে ভেবে নিতে হয়।
বাইরে বেরোলে রিকশাই ঠিক করে দেয় আমি কোথায় যেতে পারব। পাদানি উঁচু নয়, কিন্তু আমার হাঁটু নিজে থেকে অতটা ভাঁজ হয় না। আগে প্রতি সপ্তাহে বোনের বাড়ি যেতাম। এখন যাওয়ার চেয়ে ওঠার ধাপটার কথাই আগে ভাবি।
পা দেখার আগে তিনি কাগজগুলো পড়ে নিলেন
বিশেষজ্ঞ শুরু করলেন কাগজ দিয়ে, ব্যায়াম দিয়ে নয়। অসুখের মাসগুলোর রিপোর্ট তিনি পড়লেন, কতদিন বিছানায় ছিলাম জিজ্ঞেস করলেন। এখনো প্রতিদিন কোন কোন ওষুধ খাই, তাও জেনে নিলেন। তারপর এল পায়ের পালা। হাঁটু কতটা ভাঁজ হয়, কোমর কতটা ঘোরে, তিনি মেপে দেখলেন। এসব দেখা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত হলো না।
মাপটা পরীক্ষার ঘরে নয়, আমার নিজের ঘরে
তাঁর পরিকল্পনা দিনের মধ্যে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করা দেখানো ব্যায়াম। প্রতি সপ্তাহে হাঁটুটা আরেকটু বেশি ভাঁজ করা। চেয়ার থেকে বসা আর ওঠার চলাটা অনুশীলন করা। আসল মাপ দুইটা ওঠা দিয়ে: রাতে খাটে ওঠা, আর বাইরে গেলে রিকশার পাদানিতে পা তোলা। প্রতিবার দেখায় তিনি ওই চলা দুটোই আবার দেখেন, পা তৈরি দেখলেই পরের ধাপ।
গতি নিয়ে তিনি কোনো সাজানো কথা বলেননি। মাসের পর মাস শুয়ে থেকে শক্ত হওয়া কোমর আর হাঁটু ধীরে ধীরেই ছাড়বে। কোনো সপ্তাহে বদল এত কম যে না মাপলে ধরা পড়ে না।
আমার ওষুধের হিসাব আগের মতোই থাকবে
প্রতিদিনের ওষুধ চলবে হুবহু আগের নিয়মে, একই সময়ে। তিনি পরিষ্কার বলেছেন, তাঁর ব্যায়ামের পরিকল্পনা ওষুধের পাশে থাকবে, ওষুধের জায়গায় বসবে না। যেই ওষুধ দেওয়াই হয়নি, তা শুরু করার কারণও এই পরিকল্পনা নয়। সকালে পা একটু ভালো লাগল বলে কোনো ওষুধ ছেড়ে দেওয়ার কারণও নয়। কোনো ওষুধে বদল দরকার হলে সিদ্ধান্ত নেবেন যিনি তা প্রথম দিয়েছিলেন।
যে কষ্ট তাঁর বিষয়ের বাইরে, তা তিনি ধরিয়ে দেবেন
তিনি আমার অসুখের চিকিৎসা করা ডাক্তারদের বদলি হয়ে আসেননি, তাঁদের পাশাপাশি কাজ করেন। পরীক্ষায় যদি এমন কিছু ধরা পড়ে যা ব্যায়ামে সারার নয়, তিনি আগেভাগেই তা মুখে বলবেন। ওই ধরনের সমস্যার জন্য একই তালিকায় নিজস্ব ভাগে আছেন রাজশাহীর জেনারেল সার্জনরা।
তাঁকে যা যা জিজ্ঞেস করেছিলাম
এতটা শক্ত হয়ে যাওয়া হাঁটু আর কোমর কি সত্যিই ছাড়তে পারে?
অনেক ক্ষেত্রেই ধাপে ধাপে পারে। পরীক্ষায় বোঝা যাবে কতটা চলাফেরা ফেরার মতো বাকি আছে। আগাম কথা না দিয়ে তিনি প্রতিবার ভাঁজগুলো মেপে দেখেন।
এর জন্য কি প্রতিদিনই চেম্বারে যেতে হবে?
না। অনুশীলনের বেশিরভাগটাই বাড়িতে, সংসারের কাজের ফাঁকে ছোট ছোট ভাগে। যাওয়া লাগে চলা দেখানো আর পরের ধাপ ঠিক করে নেওয়ার জন্য।
পা ভালো না হওয়া পর্যন্ত খাটে ওঠাই বন্ধ রাখব?
নিজে থেকে এমন সিদ্ধান্ত নেবেন না, আগে তাঁকে জিজ্ঞেস করুন। তিনি হয়তো ওঠার ভঙ্গিটা বদলে দেবেন। অথবা ওঠাটাকেই অনুশীলনের চলা বানিয়ে দেবেন।
পরের বার গেলে তিনি আবার কী দেখবেন?
প্রথম বারের চলাগুলোই। হাঁটু কতটা ভাঁজ হয়, কোমর কতটা ঘোরে। আর খাটে ওঠা আর রিকশায় ওঠা আপনি কীভাবে সারেন।
ভালো পাটার ওপর বেশি চাপ পড়ে সেটা ব্যথা করছে, কী করব?
পরের দেখায় কথাটা তুলুন। দুশ্চিন্তা বাড়লে আগেই জানিয়ে রাখুন। এক পায়ের ওপর পুরো ভার যাতে না পড়ে, সেভাবে পরিকল্পনা হালকা করা যায়।
হঠাৎ কোন বদল দেখলে সেদিনই হাসপাতালে যেতে হবে?
শরীরের একপাশ হঠাৎ জোর হারালে ওই দিনই হাসপাতালে যান। প্রস্রাব-পায়খানা ধরে রাখতে না পারলেও অপেক্ষা করা চলবে না। পড়ে যাওয়ার পর হাত বা পা নাড়াতে না পারাটাও হাসপাতালের বিষয়। জ্বরের সঙ্গে প্রচণ্ড ব্যথা উঠলেও তাই।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.