সেরা ফিজিক্যাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ - কুষ্টিয়া

সেলাই করতে করতে ঘাড়টা কবে শক্ত হয়ে গেল, টেরই পাইনি

আমার বয়স পঁয়ত্রিশ। বাড়িতে বসে সেলাই আর হাতের কাজের অর্ডার নিয়ে সংসার চালাই। কাজটা শান্ত, রোজগারও হয়। অনেকদিন ভেবেছি, এই কাজে সময় ছাড়া আমার আর কিছু খরচ হয় না। ভুল ভেবেছি। খরচটা জমছিল আমার ঘাড়ে, প্রতি ঋতুতে একটু একটু করে।

এখন ঘাড় পুরোপুরি ঘোরে না। পেছনে তাকাতে হলে পুরো শরীরটাই ঘোরাতে হয়, বয়স্ক মানুষের মতো। একটা কাঁধও এখন সঙ্গ দিচ্ছে সমস্যার। কাজের দিন যত এগোয়, কাঁধ তত শক্ত হতে থাকে। ধোয়া কাপড় তারে মেলতে হাত ওপরে তোলাটা এখন ধাপে করা কাজ। কয়েকটা কাপড় মেলি, হাত নামিয়ে একটু জিরিয়ে নিই, তারপর বাকিগুলো।

কোনো একটা ঘটনা থেকে এটা হয়নি, তাই কোনো এক দফা চিকিৎসায় এদিকে নজরও পড়েনি। আমার দরকার কুষ্টিয়ায় একজন ফিজিক্যাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, যাঁর কাজই হলো বছরের পর বছর ধরে সংকুচিত হয়ে আসা চলাফেরা আবার খুলে দেওয়া। DoctorBD24-এর কুষ্টিয়ার ডাক্তারদের তালিকা বিষয় আর এলাকা অনুযায়ী সাজানো। সেটা ঘাঁটতে ঘাঁটতেই বুঝলাম, আমার আসলে কোন ধরনের বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়া উচিত।

1 available specialists found

ডাঃ তাপস কুমার ঘোষ

Qualifications এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য), এফসিপিএস (ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহ্যাবিলিটেশন), ইউলার ফেলো - রিউমাটোলজি (সুইজারল্যান্ড), সিসিডি (ডায়াবেটিস) (বারডেম)।
অবস্থান Coart Para, কুষ্টিয়া

সেলাই করতে করতে ঘাড়টা কবে শক্ত হয়ে গেল, টেরই পাইনি

জমেছে ঠিক আমার কাজের মতোই, নিঃশব্দে

এমন কোনো দিন ছিল না, যেদিন ঘাড়টা হঠাৎ ভেঙে পড়ল। ছিল হাজার হাজার দিনের ঝুঁকে বসে থাকা। মাথা নিচু, এক কাঁধে অন্য কাঁধের চেয়ে বেশি ভার। শক্ত ভাবটা এসেছে ছোট ছোট কিস্তিতে। প্রথমে ঘাড় পুরো ঘোরানো বন্ধ হলো। তারপর দুপুর গড়ালেই কাঁধে টান ধরতে শুরু করল।

আমি নিজে মানার আগেই বাড়ির লোকেরা টের পেয়েছে। মেয়ে একদিন জিজ্ঞেস করল, পেছন থেকে কেউ ডাকলে আমি পুরো শরীর ঘুরিয়ে তাকাই কেন। ওই প্রশ্নটাই আমাকে সাহায্য খুঁজতে পাঠাল।

পরিকল্পনার আগে তিনি আমার পুরনো রিপোর্টগুলো পড়বেন

এই টান নিয়ে আগেও ডাক্তার দেখিয়েছি, সেই দেখানোর রিপোর্ট আমার কাছে আছে। ফিজিক্যাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ প্রথমে সেই কাগজগুলো টেবিলে চান। তখন কী পাওয়া গিয়েছিল, কী চেষ্টা হয়েছে, তা তিনি পড়ে দেখেন। তারপরই নিজে ঘাড় পরীক্ষা করেন। দুই দিকে কতটা ঘোরে, চলা কোথায় গিয়ে থামে।

পরীক্ষার আগে প্রথম আলাপেই কিছু ঠিক হয়ে যায় না। আন্দাজে বানানো পরিকল্পনা হলে সেটা হতো আরও একটা আন্দাজ মাত্র।

সেলাইয়ের অর্ডারের ফাঁকে ফাঁকে অনুশীলন

তিনি যে পরিকল্পনার কথা বললেন, তা শেখানো ব্যায়ামের ছোট ছোট ভাগে সাজানো, দিনের ভেতরে গুজে দেওয়া। কয়েক মিনিট অনুশীলন, তারপর কাজ। দুপুরের দিকে, যখন শক্ত ভাবটা বাড়ে, তখন আরেক ভাগ। প্রতিটা ধাপ ঘাড় আর কাঁধের কাছে আগের ধাপের চেয়ে একটু বেশি চায়।

প্রতিটা রিভিউতে তিনি ঘোরানোটা আবার মাপেন, ধাপগুলো সেভাবে বদলে দেন। চলাফেরা ফেরানো যে সময়ের কাজ, সে কথা তিনি স্পষ্ট করে বলেন। অন্য ডাক্তারদের পাশাপাশিই তিনি কাজ করেন।

সমস্যাটা তাঁর বিষয় না হলে যা হবে

তিনি এমন একটা কথাও বললেন, যা আমি আশা করিনি। পরীক্ষায় যদি দেখা যায়, সমস্যাটা অন্য ধরনের বিশেষজ্ঞের বিষয়, তাহলে ভুল পথে অনুশীলন চালিয়ে না রেখে তিনি আগেভাগেই তা বলে দেবেন। একদম অন্য ধরনের সমস্যার জন্য একই তালিকায় জেলার অন্য ডাক্তারদের মধ্যে কুষ্টিয়ার জেনারেল সার্জনরাও আছেন।

আমার ওষুধ চলবে নিজের নিয়মেই

আমি নিয়মিত দু-একটা ওষুধ খাই, এই পরিকল্পনা সেগুলোতে হাত দেয় না। ওষুধ চলবে ঠিক যেভাবে দেওয়া হয়েছে, একই মাত্রায়, একই সময়ে। শেখানো ব্যায়াম ওষুধের পাশে যোগ হয়, কখনো ওষুধের বদলে বসে না। কখনো বদল দরকার হলে সিদ্ধান্ত নেবেন শুধু যিনি ওষুধটা দিয়েছিলেন, তিনিই।

প্রথমে যা যা জানতে চেয়েছিলাম

বছরের পর বছর সেলাই করেই কি ঘাড়ের এই হাল?

একই ভঙ্গিতে ঝুঁকে দীর্ঘ সময় কাজ, ঋতুর পর ঋতু, চলাফেরা একটু একটু করে সংকুচিত করে ফেলতে পারে। পরীক্ষাতেই বোঝা যাবে, কতটা নিয়ে কাজ করা যাবে।

এক মাস পুরো বিশ্রাম নিলে নিজে নিজেই ঠিক হবে না?

বিশ্রামে টানটা কমে, কিন্তু বছরের পর বছর ধরে জমা শক্ত ভাব সাধারণত নিজে নিজে খোলে না। শেখানো চলাচলেই ধীরে ধীরে পরিসরটা আবার বাড়ে।

অনুশীলনের পাশাপাশি সেলাইয়ের অর্ডার নেওয়া চলবে?

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে চলবে। পরিকল্পনাটা আপনার কাজের দিন ঘিরেই সাজানো, অর্ডারের ফাঁকে ফাঁকে ছোট অনুশীলন। বসার ভঙ্গি বদলের পরামর্শ তিনি দিতে পারেন।

ঘাড় সত্যিই ছাড়ছে, বুঝব কীভাবে?

প্রতিটা রিভিউতে ঘোরানোটা মেপে আগের বারের সঙ্গে মেলানো হয়।

কাঁধ ভালো হলো, কিন্তু ঘাড় না ছাড়লে কী হবে?

রিভিউতে কথাটা বলুন। ধাপগুলো ঘাড়ের দিকে ঝুঁকিয়ে আবার সাজানো যেতে পারে, কিংবা তিনি মনে করতে পারেন, অন্য বিশেষজ্ঞের দেখা দরকার। ফল না এগোনোটাও একটা তথ্য, ব্যর্থতা নয়।

হঠাৎ কোন বিপদে দেরি না করে হাসপাতালে যাওয়া জরুরি?

কিছু লক্ষণ পরের দেখা পর্যন্ত তুলে রাখার নয়। কোনো সংকেত ছাড়াই শরীরের একপাশ হঠাৎ দুর্বল হয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান। প্রস্রাব বা পায়খানার ওপর কর্তৃত্ব হারালেও তাই করুন। পড়ে যাওয়ার পর কোনো হাত বা পা নাড়ানো না গেলে, কিংবা জ্বরের সঙ্গে প্রচণ্ড ব্যথা উঠলেও একই কথা। এর যেকোনো একটা মানেই এখনই হাসপাতাল।

Ad

Sponsor Space Available

Place your banner here to reach thousands of patients daily.

Sponsored

Grow Your Practice

Premium placement for hospitals & doctors.