সেরা ফিজিক্যাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ - হবিগঞ্জ

নিজের ঘরের সিঁড়িটাই এখন আমার কাছে সবচেয়ে কঠিন

আমার বয়স বায়ান্ন, হবিগঞ্জে সংসার চালাই। গত বছর লম্বা একটা অসুখে কয়েক সপ্তাহ বিছানায় পড়ে ছিলাম। জ্বর সেরে গেল, খাওয়ার রুচিও ফিরল, সবাই বলল আমি ভালো হয়ে গেছি। কিন্তু আমার একটা পা যেন সে কথা শোনেইনি। পাটা দুর্বল হয়েই রইল, এখনো তাই।

আমাদের ঘর উঠোন থেকে কয়েক ধাপ উঁচুতে, আর সেই ধাপগুলোই আমার রোজকার পরীক্ষা। দেয়াল ধরে ধরে একটা একটা করে উঠি। টিউবওয়েলের পাশে বসে কাপড় ধোয়াটা আরও কঠিন। বসতে সময় লাগে, উঠতে গেলে কাছের যেকোনো কিছু আঁকড়ে ধরতে হয়। মেয়েরা বাসায় থাকলে সাহায্য করে। না থাকলে সারাদিনের কাজ পায়ের অবস্থা বুঝে সাজাই।

যাঁরা আমার অসুখের চিকিৎসা করেছিলেন, তাঁদের কাজ শেষ। কিন্তু অসুখের পর যে শক্তিটা ফেরেনি, সেটা নিয়ে কেউ কাজ করেনি। তাই হবিগঞ্জে একজন ফিজিক্যাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ খুঁজছি, যাঁর কাজই ধাপে ধাপে চলাফেরা ফিরিয়ে আনা। DoctorBD24-এর হবিগঞ্জের ডাক্তারদের তালিকায় বিষয় আর এলাকা অনুযায়ী ডাক্তারদের সাজানো আছে, সেখান থেকেই খোঁজ শুরু করছি।

0 available specialists found

🏜️

No Specialists Found

We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.

নিজের ঘরের সিঁড়িটাই এখন আমার কাছে সবচেয়ে কঠিন

আগে রিপোর্ট, তারপর পরীক্ষা

ফিজিক্যাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ শুরু করেন পড়া দিয়ে, ব্যায়াম ধরিয়ে দিয়ে নয়। অসুখের সময়ের রিপোর্ট, তখন যেসব ওষুধ চলেছিল, কতদিন বিছানায় ছিলাম, সবই আগে তাঁর সামনে রাখতে হয়। তারপর তিনি পা'টা নিজে পরীক্ষা করেন। কতটা জোর বাকি আছে, হাঁটু আর কোমর কতটা নড়ে, আমি কীভাবে দাঁড়াই আর হাঁটি। এই পরীক্ষার আগে পরিকল্পনার কিছুই ঠিক হয় না।

দুর্বলতাটা রোজকার জীবনে যেভাবে ধরা পড়ে

পা'টা যে একেবারে নড়েই না, তা নয়। ক্লান্ত হয়ে পড়ে। সিঁড়ির মাঝপথে কাঁপতে শুরু করে, ওপরে উঠতে উঠতে হাঁপ ধরে যায়। সমতল জায়গায় প্রতিবেশীর বাড়ি পর্যন্ত হেঁটে যেতে পারি। কিন্তু অসমতল হলেই, বসতে বা নিজে উঠতে হলেই দুর্বলতাটা ধরা পড়ে। আজকাল কাজের সময় ভাগ করে নিয়েছি। ধোয়ার কাজ সকালে সকালে, যখন পায়ে জোর থাকে। দুপুরের পর ভারী কিছু নয়।

ধাপে ধাপে গড়ে ওঠা পরিকল্পনা

পরিকল্পনার বড় অংশটাই বাসায় অনুশীলন। দুর্বল পায়ের জন্য দেখিয়ে দেওয়া ব্যায়াম, দিনে ছোট ছোট ভাগে কয়েকবার। রোজকার চলাগুলোই অনুশীলনের মধ্যে ঢুকিয়ে নেওয়া হয়: সিঁড়ি ওঠা, টিউবওয়েলে বসা, চুলার পাশে দাঁড়ানো। প্রতিবার দেখায় তিনি একই চলাগুলো আবার দেখেন। পা তৈরি হলেই পরের ধাপে যাওয়া হয়। আমার আগের চিকিৎসকদের সঙ্গেও তিনি মিলে কাজ করেন। আর শুরুতেই বলে দিয়েছেন, এই ফেরানো ধীর কাজ, কোনো কোনো সপ্তাহে বদল চোখে পড়ার মতো হয় না।

ওষুধগুলো চলবে হুবহু আগের নিয়মে

সাধারণ স্বাস্থ্যের জন্য আমি প্রতিদিন যেসব ওষুধ খাই, প্রতিটাই চলবে ঠিক যেভাবে দেওয়া হয়েছে। ব্যায়ামের এই পরিকল্পনা ওষুধের পাশাপাশি থাকবে। কোনো ওষুধের জায়গা সে নেয় না, নতুন কিছু যোগও করে না, আবার কোনো ওষুধ আগে বন্ধ করার কারণও হয় না। কোনো ওষুধ বদলাতে হলে সেই সিদ্ধান্ত নেবেন যিনি তা লিখে দিয়েছিলেন, আমাকে দেখার পর।

যে সমস্যা তাঁর নয়, তা তিনি বলেই দেবেন

তিনি এটাও বলেছেন, পরীক্ষায় অন্য ধরনের ডাক্তারের বিষয় মনে হলে তিনি তা গোপন করবেন না, ঠিক পথটা দেখিয়ে দেবেন। অন্য রকম চিকিৎসা লাগে এমন সমস্যা তিনি নিজের কাছে আটকে রাখবেন না। ওই ধরনের সমস্যার জন্য একই তালিকায় হবিগঞ্জের জেনারেল সার্জনরাও আছেন, তাঁদের কাজ তাঁর কাজ থেকে আলাদা।

যাওয়ার আগে যেসব কথা জেনে নিলাম

অসুখের এতদিন পরেও কি পায়ে আবার জোর আসতে পারে?

অনেক ক্ষেত্রেই ধাপে ধাপে আসে। পরীক্ষায় বোঝা যাবে কতটা জোর বাকি আছে। অগ্রগতি প্রতিটা দেখায় মেপে দেখা হয়, আগে থেকে কথা দেওয়া হয় না।

ব্যায়ামের জন্য কি প্রতিদিনই যেতে হবে?

না। বেশিরভাগ অনুশীলন বাসায়, ছোট ছোট ভাগে। যাওয়া লাগে চলাফেরা দেখানো, ভুল শুধরানো আর পরের ধাপ ঠিক করার জন্য।

পরের বার গেলে তিনি কী কী আবার দেখবেন?

প্রথমবার যা যা দেখেছিলেন, সেগুলোই। পায়ের জোর, হাঁটু আর কোমর কতটা নড়ে, আমি কীভাবে উঠি আর বসি। এই মিলিয়ে দেখা থেকেই পরিকল্পনা বদলায়।

পা ভালো না হওয়া পর্যন্ত টিউবওয়েলে বসে কাজ বন্ধ রাখব?

নিজে থেকে বন্ধ করবেন না, তাঁকে জিজ্ঞেস করুন। তিনি হয়তো বসার ভঙ্গি বদলে দেবেন, অথবা পাশে ভর দেওয়ার ব্যবস্থা রেখে ধাপে ধাপে এই চলাটাকেই অনুশীলনে নেবেন।

ভালো পাটার ওপর বেশি ভর পড়ে সেটা ব্যথা করতে শুরু করলে কী করব?

পরের দেখায় বলুন, দুশ্চিন্তা হলে তার আগেও জানান। এক পায়ের ওপর যাতে পুরো ভার না পড়ে, সেভাবে পরিকল্পনা নতুন করে সাজানো যায়।

হঠাৎ কোন বদল দেখলে পরের দেখার অপেক্ষা না করে হাসপাতালে যাব?

শরীরের একপাশ হঠাৎ করে দুর্বল হয়ে গেলে সেদিনই হাসপাতালে পৌঁছাতে হবে। প্রস্রাব-পায়খানা আটকে রাখতে না পারলেও দেরি করা যাবে না। পড়ে যাওয়ার পর হাত বা পা একেবারে না নাড়াতে পারলেও তাই। জ্বরসহ প্রচণ্ড ব্যথা উঠলেও সেদিনই যাওয়া দরকার। এগুলো রিভিউর দিন পর্যন্ত ফেলে রাখার বিষয় নয়।

Ad

Sponsor Space Available

Place your banner here to reach thousands of patients daily.

Sponsored

Grow Your Practice

Premium placement for hospitals & doctors.