সেরা ফিজিক্যাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ - গাজীপুর
দিনের শেষ পাঠে এসে পিঠটা আর সোজা হতে চায় না
আমার বয়স সাতচল্লিশ, আমি গাজীপুরের একটি স্কুলে পড়াই। সকালের শুরুটা বেশ ভালোই যায়। প্রথম কয়েকটা পাঠে দাঁড়িয়ে থাকতে পিঠের কথা মনেই হয় না। দুপুরের পর থেকে একটু একটু করে পিঠ শক্ত হতে থাকে। শেষ পাঠে এসে ক্লাসের সামনে সোজা দাঁড়ানোই কঠিন হয়ে পড়ে।
সন্ধ্যাবেলা অবস্থা আরও খারাপ। বাড়িতে সবাই মেঝেতে বসে একসঙ্গে সময় কাটায়। আমি ধীরে ধীরে বসি, এক হাত মাটিতে ভর দিয়ে। আবার উঠতে গেলেই আসল কষ্টটা টের পাই। কেউ একটা নির্দিষ্ট আঘাতের কথা বলতে পারবে না। পড়েও যাইনি, খারাপ কোনো দিনও আসেনি। এই শক্ত ভাবটা বছরের পর বছর ধীরে ধীরে জমেছে।
আগের চিকিৎসায় ব্যথাটা কিছুদিনের জন্য কমেছিল, তাতে আমি খুশিই ছিলাম। কিন্তু শক্ত ভাবটা রয়ে গেছে, হারানো চলাফেরাও ফেরেনি। তাই এখন গাজীপুরে একজন ফিজিক্যাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ খুঁজছি, যাঁর কাজ ধাপে ধাপে চলাফেরা ফেরানো, আর পরিকল্পনাটা হবে আমার স্কুলের দিনের সঙ্গে মিলিয়ে। আপনিও খুঁজলে DoctorBD24-এর গাজীপুরের ডাক্তার তালিকা থেকে শুরু করতে পারেন।
1 available specialists found
সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. আহমেদুর রেজা
দিনের শেষ পাঠে এসে পিঠটা আর সোজা হতে চায় না
তিনি শুরু করলেন আমার স্কুলের দিনটা দিয়ে
প্রথম দেখায় বিশেষজ্ঞ জানতে চাইলেন, আমার সাধারণ দিনটা কেমন যায়। শক্ত ভাব কখন শুরু হয়, কিসে বাড়ে, কিসে একটু ছাড়ে। তারপর তিনি আমাকে দাঁড়াতে বললেন, নিচু চেয়ারে বসতে বললেন, আবার উঠতে বললেন। পিঠ দুই দিকে কতটা বাঁকে, তিনি খেয়াল করে দেখলেন।
আগের রিপোর্টগুলো না পড়ে তিনি কোনো পরামর্শ দেননি। তাঁর কথা সোজা। পুরো চিত্র না জানলে পরিকল্পনা হবে আন্দাজে। আর স্কুলের সময়ের সঙ্গে না মিললে সেই পরিকল্পনা আমি ধরে রাখতেই পারব না।
পরিকল্পনা বদলাবে আমার অভ্যাস, ওষুধ নয়
অন্য একজন চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধ আমি নিয়মিত খাই। সেগুলো ঠিক যেভাবে দেওয়া হয়েছে, সেভাবেই চলবে। এই পরিকল্পনা কোনো ওষুধের জায়গা নেয় না। নতুন ওষুধ যোগও করে না, পুরনো ওষুধ চুপচাপ বাদও দেয় না। ব্যায়াম চলবে ওষুধের পাশাপাশি, কখনো ওষুধের বদলে নয়। কোনো ওষুধ বদলাতে হলে সেই সিদ্ধান্ত শুধু যিনি ওষুধটা দিয়েছিলেন, তাঁরই।
পাঠের ফাঁকে ফাঁকে ছোট ছোট অনুশীলন
পরিকল্পনাটা শেখানো ব্যায়ামের ছোট ছোট ভাগে সাজানো। স্কুলে যাওয়ার আগে কয়েক মিনিট। পাঠের ফাঁকের সময়ে এক ভাগ। সন্ধ্যায় মেঝেতে বসা আর ওঠার অনুশীলন, প্রতি সপ্তাহে আগের চেয়ে একটু কম কষ্টে। প্রতিটি ভাগ ছোট রাখা হয়েছে ইচ্ছে করেই, যাতে ব্যস্ত দিনেও বাদ না পড়ে।
কয়েক সপ্তাহ পরপর তিনি আমার চলাফেরা আবার দেখেন। যেই অংশটা সহজ হয়ে গেছে, সেটা একটু কঠিন হয়। যেই চলাটা এখনো আটকে আছে, সেখানে অন্যরকম চেষ্টা আসে। অগ্রগতি ধীরে হয়, তিনি সেটা লুকান না। ধীর হলেও অগ্রগতি থামে না, যদি নিয়ম ধরে রাখা যায়।
আমার অন্য চিকিৎসকদেরও তিনি হিসাবের মধ্যে রাখেন
এই বিশেষজ্ঞ আমার আগের চিকিৎসকদের বদলে আসেননি। তিনি তাঁদের পাশাপাশি কাজ করেন। কোনো বিষয় অন্য ধরনের চিকিৎসকের হলে তিনি তা পরিষ্কার করে বলে দেন, কোথায় যেতে হবে তাও জানান। যেই তালিকা থেকে তাঁকে পেয়েছি, একই তালিকায় গাজীপুরের জেনারেল সার্জনদের নামও আছে, ভিন্ন ধরনের সমস্যার জন্য।
শিক্ষকের চোখে নিজের প্রশ্নগুলো
এই শক্ত ভাব কি এখন মেনে নিতেই হবে?
পরীক্ষা না করে তা বলা যায় না। বছরের পর বছর জমে আসা শক্ত ভাবও মেপে দেখা যায়। ধাপে ধাপে সাজানো পরিকল্পনায় চলাফেরা ধীরে ধীরে ফিরতে পারে। কতটা ফিরবে, সৎ কোনো চিকিৎসক আগে থেকে বলে দেন না।
আগের চিকিৎসার সঙ্গে এর পার্থক্য কোথায়?
আগের চিকিৎসার লক্ষ্য ছিল ব্যথা কমানো। এই কাজের লক্ষ্য চলাফেরা নিজে: পিঠ কতটা বাঁকে, আমি কীভাবে দাঁড়াই, বসি আর উঠি।
স্কুলের সময়ের সঙ্গে পরিকল্পনা সত্যিই মেলানো যাবে?
আমার পরিকল্পনা সেভাবেই সাজানো হয়েছে। ছোট ছোট ভাগ পাঠের দিনের ফাঁকে ফাঁকে রাখা, যাতে ব্যস্ত সপ্তাহেও নিয়মটা টিকে থাকে।
বাড়িতে মেঝেতে বসা কি ছেড়ে দিতে হবে?
না। মেঝেতে বসা আর ওঠা নিজেই অনুশীলনের অংশ হয়ে যাবে, ধাপে ধাপে। প্রথম দিকে আমি ভর দিয়ে উঠতাম। লক্ষ্য হলো পরিবারের সঙ্গে আরাম করে বসতে পারা।
কোনো সপ্তাহ আগের চেয়ে খারাপ লাগলে কী করব?
পর্যালোচনার সময় তাঁকে বলুন। বেশি দুশ্চিন্তা হলে আগেও জানাতে পারেন। খারাপ সপ্তাহও তাঁর পরিকল্পনার তথ্য। সেই অনুযায়ী ব্যায়াম বদলানো যায়।
হঠাৎ কোন লক্ষণ দেখলে সেদিনই হাসপাতালে যাওয়া দরকার?
শরীরের একদিক হঠাৎ দুর্বল হয়ে গেলে পরিকল্পনা রেখে সেদিনই হাসপাতালে যান। প্রস্রাব বা পায়খানা ধরে রাখতে না পারাটাও সেদিনেরই জরুরি বিষয়। পড়ে গিয়ে কোনো অঙ্গ নাড়ানো অসম্ভব হলেও দেরি নয়। জ্বরের সঙ্গে তীব্র ব্যথা এলেও হাসপাতালে যাওয়া সেদিনই দরকার।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.