সেরা প্যাথলজিস্ট - হবিগঞ্জ

মুখের ভেতরের ঘা-এর রিপোর্টটা অবশেষে হাতে এল

গালের ভেতরের ঘাটা কিছুতেই শুকাচ্ছিল না। ডাক্তার ভালো করে দেখে সেখান থেকে ছোট্ট এক টুকরো মাংস নিয়ে পরীক্ষার জন্য পাঠিয়ে দিলেন। সোজা বললেন, পরের পদক্ষেপ রিপোর্টের ওপর নির্ভর করবে। তারপর শুরু হলো অপেক্ষা। সেই অপেক্ষার দিনগুলোই ছিল সবচেয়ে কঠিন।

আমার বয়স সাতচল্লিশ। এই কয়েক দিনে মনে মনে কত কিছু যে ভেবেছি, তার ঠিক নেই। এখন রিপোর্টটা এসেছে, টেবিলের ওপর খামের ভেতর ভাঁজ করে রাখা। কিন্তু তাতে লেখা শব্দগুলো বাড়ির কারও মুখের শব্দ না। কী লেখা আছে বুঝতে পারছি না, আবার কী লেখা নেই, সেটাও ধরতে পারছি না। ডাক্তারের কাছে আবার বসার আগে জানতে চাই, এমন একটা রিপোর্ট আসলে কতটা বলতে পারে, আর কোথায় গিয়ে থেমে যায়। ডাক্তার কী বলেন, তা শোনার আগে এই কাগজটা সম্পর্কে একটা পরিষ্কার ধারণা চাই।

নিচের তালিকাটা হবিগঞ্জের ডাক্তার ডিরেক্টরির অংশ। প্রোফাইল খুলে প্রত্যেক ডাক্তারের নিজের বিষয়টা দেখে নিন। আমার এই রিপোর্টের পেছনে আছেন প্যাথলজিস্ট। ল্যাবরেটরিতে তিনিই নমুনা পরীক্ষা করে যা পেয়েছেন, তা লিখে দিয়েছেন।

0 available specialists found

🏜️

No Specialists Found

We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.

মুখের ভেতরের ঘা-এর রিপোর্টটা অবশেষে হাতে এল

সেই ছোট্ট টুকরোটা ল্যাবরেটরিতে গিয়ে কী হলো

ঘা থেকে নেওয়া টুকরোটা গেল ল্যাবরেটরিতে। সেখানে সেটাকে এমনভাবে তৈরি করা হলো, যাতে খুব কাছ থেকে খুঁটিয়ে দেখা যায়। প্যাথলজিস্ট নিজে পরীক্ষা করে নমুনায় যা দেখলেন, নিজের বিষয়ের নিখুঁত ভাষায় লিখে দিলেন। সেই লেখাটাই আপনার খামের ভেতরের রিপোর্ট। এই পথে কেউ আন্দাজে কিছু লেখেননি। প্রতিটি ধাপের উদ্দেশ্য একটাই, যা দেখা গেছে ঠিক তা-ই যেন কাগজে ওঠে।

এই রিপোর্ট যা বলে, আর যা বলে না

রিপোর্টটা কথা বলে শুধু ওই নমুনাটা নিয়ে। টুকরোটা কাছ থেকে দেখতে কেমন ছিল, তা আপনার ডাক্তারকে জানিয়ে দেয়, আর তাতে সামনের পথ অনেকটা পরিষ্কার হয়ে যায়। কিন্তু শুধু এই কাগজ দিয়ে সব ঠিক হয়ে যায় না। এটা আপনার বাকি শরীর পরীক্ষা করে না। ঘাটা কত দিনের, শরীরে আর কী চলছে, সেসব এতে নেই। আর চিকিৎসা কী হবে, সেটাও এই রিপোর্ট ঠিক করে না। আপনার চিকিৎসক রিপোর্টটা নিজের পরীক্ষা আর আপনার ইতিহাসের পাশে রাখেন, তখনই পুরো ছবিটা দাঁড়ায়।

রিপোর্ট হাতে ডাক্তারের সামনে বসে

রিপোর্টটা সঙ্গে নিন, আগের রিপোর্ট থাকলে সেগুলোও নিন, যত পুরনোই হোক। ডাক্তারকে বলুন লাইনগুলো ধীরে ধীরে, সহজ কথায় বুঝিয়ে দিতে। দুবার জিজ্ঞেস করতে লজ্জা পাবেন না। কোনো শব্দ বুঝতে না পারলে সেখানেই বলে ফেলুন। বাসায় বসে নিজে মানে খোঁজা, কিংবা গভীর রাতে একা একা ফোনে খুঁজে বেড়ানো, বেশিরভাগ সময় উত্তর দেয় না, ভয়টাই বাড়ায়।

কাগজে যাই থাক, ওষুধ চলবে আগের নিয়মেই

অপেক্ষার দিনগুলোতেও, রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরেও, প্রতিটি ওষুধ চলবে ঠিক যেভাবে আপনার চিকিৎসক বলে দিয়েছেন। শুধু একটা রিপোর্ট দেখে ওষুধ শুরু করা, ছেড়ে দেওয়া, কিংবা কম-বেশি করা চলে না। এমন বদল আসবে একমাত্র আপনার চিকিৎসকের কাছ থেকে, যখন তিনি রিপোর্টটা আপনার বাকি সব অবস্থার সঙ্গে মিলিয়ে পড়ে নেবেন।

ডাক্তার যদি অন্য বিশেষজ্ঞের কাছে যেতে বলেন

রিপোর্ট পড়ে আপনার ডাক্তার হয়তো বলবেন, আরেকজনকেও দেখিয়ে নেওয়া ভালো। এই জেলায় সার্জন খুঁজছেন যাঁরা, তাঁরা হবিগঞ্জের জেনারেল সার্জনের পৃষ্ঠায় তালিকা পাবেন। যেখানেই যান, রিপোর্টটা সঙ্গে রাখুন। নতুন ডাক্তার সবার আগে এই কাগজটাই পড়তে চাইবেন।

ডাক্তার মাংসের টুকরো নিলেন কেন?

কিছু ঘা শুধু ওপর থেকে দেখে বোঝা যায় না। ছোট্ট একটা নমুনা পেলে ল্যাবরেটরিতে সেটা কাছ থেকে পরীক্ষা করা যায়। তাতে পরের সিদ্ধান্তটা আন্দাজের বদলে প্রমাণের ওপর দাঁড়ায়।

রিপোর্টে এমন সব শব্দ, যা জীবনে শুনিনি। এটা কি খারাপ লক্ষণ?

শুধু এটুকু দিয়ে না। ল্যাবরেটরির রিপোর্ট লেখা হয় ডাক্তারদের পড়ার মতো বিষয়ভিত্তিক ভাষায়। কঠিন শব্দ মানেই খারাপ খবর না। আসল কথা হলো, আপনার ডাক্তার সেগুলো দিয়ে কী বোঝাচ্ছেন।

এই রিপোর্ট কি আমার শরীরের সব কথা বলে দেবে?

না। এটা বলে শুধু যে নমুনাটা পাঠানো হয়েছিল, তার কথা। আপনার চিকিৎসক এর সঙ্গে নিজের পরীক্ষা আর আপনার ইতিহাস মিলিয়ে তবেই কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছান।

অপেক্ষার দিনগুলোতে মনটা খুব অস্থির ছিল। দেখা করার আগের দিনগুলো কীভাবে পার করব?

রিপোর্টটা নিরাপদ জায়গায় রেখে দিন, বারবার খুলে পড়বেন না। যা যা জিজ্ঞেস করতে চান, লিখে রাখুন। শব্দ ধরে ধরে দিনের পর দিন ভাবনার চেয়ে ডাক্তারের সঙ্গে একবার খোলামেলা কথা বলা অনেক বেশি কাজের।

আরেকজন ডাক্তারকে রিপোর্টটা দেখিয়ে আরেকটা মত নেব?

নেওয়া যায়, রিপোর্ট সঙ্গে থাকলে সেটা সহজও। তবে আগে আপনার চিকিৎসককেই বুঝিয়ে বলতে দিন। ঘাটা তিনি দেখেছেন, ইতিহাস তিনি জানেন, নমুনাটা কেন পাঠানো হয়েছিল তাও তাঁর জানা।

আজ রাতে ঘা থেকে প্রচুর রক্ত পড়ছে। অ্যাপয়েন্টমেন্ট পর্যন্ত অপেক্ষা করব?

না। রিপোর্ট নিয়ে প্রশ্ন কয়েক দিন অপেক্ষা করতে পারে, শরীর পারে না। প্রচণ্ড রক্তপাত, জ্বর না নামা, শ্বাসকষ্ট, তীব্র ব্যথা কিংবা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো হলে অ্যাপয়েন্টমেন্টের দিনের অপেক্ষা না করে সেদিনই হাসপাতালে যান।

Ad

Sponsor Space Available

Place your banner here to reach thousands of patients daily.

Sponsored

Grow Your Practice

Premium placement for hospitals & doctors.