সেরা প্যাথলজিস্ট - চট্টগ্রাম

একই পরীক্ষা, দুই ল্যাবরেটরিতে দুই রকম ফল, কারটা মানব বুঝতে পারছি না

আমার বয়স তেত্রিশ। গত মাসে একই রক্ত পরীক্ষা দুই জায়গায় করিয়েছি, কয়েকদিনের ব্যবধানে। দুই রিপোর্টের সংখ্যা মিলল না। একটায় সংখ্যাটা ছাপানো সীমার ভিতরে, আরেকটায় বাইরে। সেই থেকে দুটো রিপোর্ট ব্যাগে নিয়ে ঘুরছি। রাতে বের করে পাশাপাশি রাখি, যেসব লাইন অর্ধেক বুঝি, সেগুলোই বারবার মিলাই। মনে মনে একটাকে ঠিক ধরে অন্যটাকে ভুল বলেও ফেলেছি কয়েকবার।

আমার চিকিৎসক এই সপ্তাহে এলাকায় নেই। একা একা দুশ্চিন্তা নিয়ে বসে থাকতে চাইনি। আমি চাই, একজন প্যাথলজিস্ট আমাকে বুঝিয়ে বলুন কেন এমন হয়। যাঁর প্রতিদিনের কাজই নমুনা আর তার সংখ্যা নিয়ে। দুটো ঠিকঠাক ল্যাবরেটরি একই পরীক্ষায় আলাদা সংখ্যা ছাপাতে পারে কীভাবে, সেটাই আমার প্রশ্ন। কোন সংখ্যাটা আমার পছন্দ, তা শোনার জন্য নয়। কারণ সংখ্যা দুটো আমার, সিদ্ধান্তটাও শেষ পর্যন্ত আমার শরীর নিয়েই হবে।

জেলার ডাক্তারদের তথ্য এক জায়গায় পাওয়া যায় চট্টগ্রামের ডাক্তারদের তালিকায়, আর নিচের তালিকাটাও সেই একই সরল ঢঙে সাজানো। প্রতিটা ঘরে নাম, বিষয় আর কাজের জায়গা থাকে, যেখানে সেই তথ্য দেওয়া থাকে। আমি এখন এমন তালিকা ধীরে পড়তে শিখেছি, নাম পেরিয়ে পাশের লাইনগুলোও পড়ি। দরকারি লাইনটা সাধারণত চোখে পড়া প্রথম লাইনটা হয় না।

0 available specialists found

🏜️

No Specialists Found

We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.

একই পরীক্ষা, দুই ল্যাবরেটরিতে দুই রকম ফল, কারটা মানব বুঝতে পারছি না

একই পরীক্ষায় দুই রকম সংখ্যা আসে কীভাবে

রক্তের সংখ্যা ছবির মতো স্থির কিছু নয়। এটা একটা মাপ, এক মুহূর্তের নমুনা থেকে, একটা যন্ত্রে, কারও হাতে নেওয়া। প্রথম দিনের নমুনা আর দ্বিতীয় দিনের নমুনা এক নয়। কী খেয়েছিলাম, দিনের কোন সময়ে নমুনা দিয়েছিলাম, নমুনাটা কতক্ষণ পড়ে ছিল, কীভাবে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, এসবই সংখ্যাটাকে একটু এদিক ওদিক করতে পারে। যন্ত্র আর পাশে ছাপানো সীমাটাও ল্যাবরেটরি অনুযায়ী আলাদা হয়।

ছাপানো সীমাটাও রিপোর্টেরই অংশ

প্রতিটা রিপোর্টে ফলের পাশে একটা সীমা ছাপানো থাকে, আর সেই সীমা ওই ল্যাবরেটরির নিজের। এক জায়গায় সীমার বাইরে থাকা সংখ্যা আরেক জায়গায় ভিতরে পড়তে পারে, কোনো ল্যাবরেটরির ভুল ছাড়াই। তাই শুধু বড় দুটো সংখ্যা মেলানো, যেমনটা আমি রান্নাঘরের টেবিলে বসে করেছি, মানুষকে ভুল পথে নেয়। প্যাথলজিস্ট সংখ্যাটা পড়েন তার সীমা, একক আর পদ্ধতির লেখা মিলিয়ে।

দুই রিপোর্ট মিলছে না বলে ওষুধে হাত দেব না

আমার ওষুধ আমি ছোঁব না। চিকিৎসক যেভাবে বলে দিয়েছেন, সেভাবেই চলবে। শুধু ল্যাবরেটরির রিপোর্ট দেখে ওষুধ শুরু, বন্ধ বা মাত্রা বদল হয় না। বদলাতে হলে চিকিৎসকই বদলাবেন, দুটো রিপোর্ট আর আমার পুরো ইতিহাস একসঙ্গে দেখে। দুটো বিভ্রান্তিকর কাগজ ঘরে বসে মাত্রা নিয়ে নিজের মতো করার কারণ হতে পারে না।

শেষে যদি সার্জনের কাছেই যেতে হয়

হতে পারে, আমার সমস্যার সমাধান আরও পরীক্ষায় নয়, সার্জনের হাতে। ডাক্তার সেদিকে পাঠালে আমি শুরু করব চট্টগ্রামের জেনারেল সার্জনদের তালিকা দিয়ে, একই ধীর ভঙ্গিতে পড়ে। এক ধাপ করে এগোব। আগে সংখ্যা দুটোর মানে পরিষ্কার হোক, তারপর যা আসে আসুক।

সংখ্যা আলাদা মানেই কি কোনো একটা ল্যাবরেটরি ভুল করেছে?

জরুরি নয়। আলাদা দিনে, আলাদা সময়ে, আলাদা যন্ত্রে নেওয়া নমুনায় সৎভাবেই আলাদা সংখ্যা আসতে পারে। ভুল একটা সম্ভাব্য কারণ ঠিকই, কিন্তু প্যাথলজিস্ট সাধারণত সেটাকে প্রথম কারণ ধরে নেন না।

দুটো সংখ্যার মধ্যে কোনটা বিশ্বাস করব?

একটাকেও আলাদা করে নয়, দুটোকে একসঙ্গে। দুটোকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ার মতো প্রশ্ন হিসেবে দেখুন, একে অপরের সঙ্গে লড়াই করা দুটো উত্তর হিসেবে নয়। কোন সংখ্যাটা শেষ পর্যন্ত মানা হবে, ঠিক করবেন ডাক্তার, আপনার পুরো অবস্থা দেখে।

তৃতীয়বার পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া কি ভালো হবে?

অনেক সময় নতুন নমুনায় বিষয়টা মিটে যায়, ডাক্তার নিজেই সেটা চাইতে পারেন। কিন্তু পছন্দের সংখ্যা পাওয়ার আশায় বারবার পরীক্ষা করালে কিছুই মিটে না। তৃতীয় পরীক্ষায় সত্যিই কিছু বদলাবে কি না, সেই সিদ্ধান্তটা ডাক্তারের হাতেই ছাড়ুন।

আলোচনায় বসার সময় দুটো রিপোর্টের সঙ্গে আর কী নেব?

দুটো রিপোর্ট পাশাপাশি, আর আগের সব রিপোর্ট তারিখ অনুযায়ী সাজিয়ে নিন। পরীক্ষার দিনগুলোর কথাও মনে করে লিখে রাখুন, খেয়েছিলেন কি না, কখন নমুনা দিয়েছিলেন। এমন ছোট ছোট তথ্যই প্যাথলজিস্টকে দুটো সংখ্যার ফারাকটা পড়তে সাহায্য করে।

প্যাথলজিস্ট কি দুটো রিপোর্ট দেখে ফারাকটা বুঝিয়ে দিতে পারেন?

পারেন, এটা তাঁদের কাজের একেবারে ভিতরের কথা। দুটো পাতায় ছাপানো সীমা, একক আর পদ্ধতি মিলিয়ে তিনি সহজ ভাষায় বলতে পারেন, আপনার মতো ফারাক সাধারণত কোথা থেকে আসে। শুধু যেটা বিশ্বাস করেন সেটা নয়, দুটো রিপোর্টই নিয়ে যান।

ডাক্তার নেই, আজ রাতেই শরীর খারাপ লাগছে। তাঁর ফেরা পর্যন্ত অপেক্ষা করব?

না। দুটো রিপোর্ট মেলানোর কাজ অ্যাপয়েন্টমেন্ট পর্যন্ত রাখা যায়, শরীর খারাপ রাখা যায় না। বেশি রক্তপাত হলে, জ্বর এসে না নামলে, শ্বাসকষ্ট হলে, তীব্র ব্যথা হলে বা মাথা ঘুরে পড়ে গেলে সেদিনই হাসপাতালে যান। নিয়মিত ডাক্তার যিনিই হোন না কেন।

Ad

Sponsor Space Available

Place your banner here to reach thousands of patients daily.

Sponsored

Grow Your Practice

Premium placement for hospitals & doctors.