সেরা প্যাথলজিস্ট - চট্টগ্রাম
অপারেশনের রিপোর্টটা হাতে না পেলে পরের ধাপটা ঠিক হবে না
আমার বয়স বাষট্টি। অপারেশন হয়েছে দশ দিন হলো। সেলাই শুকিয়ে আসছে, ঘরের ভিতর হাঁটতে পারছি, খাওয়াদাওয়াও প্রায় আগের মতো। কিন্তু অপারেশনে যে অংশটা কেটে বাদ দেওয়া হয়েছে, সেটা আমার সঙ্গে বাড়ি ফেরেনি। সেটা গেছে ল্যাবরেটরিতে। এখন আমার পরের চিকিৎসা কোন পথে যাবে, সেটা নির্ভর করছে ওই নমুনা পরীক্ষা করে যে রিপোর্ট আসবে, তার উপর।
সবচেয়ে বেশি ভাবছি সেই মানুষটাকে নিয়ে, যিনি রিপোর্টটা লিখবেন। তাঁর সঙ্গে আমার কোনোদিন দেখা হয়নি। চেহারাটাও চিনি না। অথচ তাঁর লেখা কথাগুলোই আমার ডাক্তারের সামনে বসে ঠিক করে দেবে, এরপর আমার কী হবে। প্যাথলজিস্ট হলেন সেই ডাক্তার, যিনি ল্যাবরেটরিতে নমুনা পরীক্ষা করে রিপোর্ট লেখেন, আর সেই রিপোর্ট দেখেই আমার চিকিৎসক পরের সিদ্ধান্ত নেন। আমার নমুনাটা নিয়ে ঠিক কী কী করা হয়, সেটা নিজে বুঝতে চাই। রিপোর্টের প্রতিটা শব্দ আমার কাছে অচেনা হলে চলবে না।
জেলার নানা জায়গার ডাক্তারদের তথ্য এক জায়গায় সাজানো আছে চট্টগ্রামের ডাক্তারদের তালিকায়, আর এই লেখার নিচের অংশটাও একই ধরনের সাজানো তালিকা। প্রতিটি নামের পাশে বিষয় আর চেম্বারের জায়গা দেওয়া থাকে, যেখানে সেই তথ্য থাকে। তাড়াহুড়ো করে নাম পড়ে গেলে অনেক কিছু চোখ এড়িয়ে যায়। ধীরে ধীরে, লাইন ধরে পড়লেই আসল চিত্রটা পাওয়া যায়।
1 available specialists found
Dr. Md. Kamrul Hasan Ponir
অপারেশনের রিপোর্টটা হাতে না পেলে পরের ধাপটা ঠিক হবে না
ল্যাবরেটরিতে নমুনাটা যেভাবে ঘুরে আসে
অপারেশন ঘর থেকে নমুনাটা বেরোয় ঢাকনাওয়ালা পাত্রে, গায়ে আমার নাম লেখা থাকে। সঙ্গে যায় সার্জনের লেখা একটা ফর্ম। সেই ফর্মে লেখা থাকে নমুনাটা শরীরের কোন জায়গা থেকে এসেছে, আর রিপোর্টে কোন প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হচ্ছে। ল্যাবরেটরিতে নমুনাটা খাতায় তোলা হয়, তারপর এমনভাবে তৈরি করা হয় যাতে খুব পাতলা টুকরো কেটে ভালো করে দেখা যায়। সবশেষে বসে রিপোর্ট লেখার কাজ।
রিপোর্ট মানে শুধু নমুনার বিবরণ, সিদ্ধান্ত নয়
এটা মেনে নিতে আমার কয়েকদিন লেগেছে। রিপোর্টে থাকে নমুনায় যা পাওয়া গেছে, তার সতর্ক বিবরণ। শুধু এই কাগজটা দেখে পরের চিকিৎসা ঠিক হয়ে যায় না। সিদ্ধান্তটা নেন আমার চিকিৎসক, যিনি অপারেশনের পুরো চিত্রটা জানেন, আগের রিপোর্টগুলো দেখেছেন, আর আমার শরীরের অবস্থাটা নিজে পরীক্ষা করেছেন। রিপোর্ট ছবিটার একটা জরুরি অংশ, পুরো ছবি নয়।
আমার ডাক্তার রিপোর্ট না পড়া পর্যন্ত ওষুধ আগের মতোই
রিপোর্টে যাই থাকুক, আমার ওষুধ চলবে ঠিক যেভাবে চিকিৎসক বলে দিয়েছেন। শুধু ল্যাবরেটরির রিপোর্ট দেখে কোনো ওষুধ শুরু করা যায় না, বন্ধও করা যায় না, মাত্রাও বদলানো যায় না। বদলাতে হলে বদলাবেন চিকিৎসক নিজে, রিপোর্টটা হাতে নিয়ে আমার পুরো অবস্থা মিলিয়ে দেখে।
আবার সার্জনের কাছে যাওয়ার কথা উঠলে
হতে পারে রিপোর্ট পড়ে ডাক্তার বলবেন, আরেকটা অপারেশন লাগবে। সেই কথা উঠলে আমি তাড়াহুড়ো না করে পরিবারের সবাইকে পাশে বসিয়ে চট্টগ্রামের জেনারেল সার্জনদের তালিকা ধীরে ধীরে পড়ব। আতঙ্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কিছু নেই। আগে রিপোর্ট, তারপর প্রশ্ন, সিদ্ধান্ত সবার শেষে।
রিপোর্টটা আমাকে ঠিকমতো বুঝিয়ে দেবেন কে?
প্রথমে আপনার চিকিৎসকই বুঝিয়ে দেবেন, কারণ রিপোর্টটা লেখাই হয়েছে তাঁর জন্য, আর বাকি সব কাগজপত্রও তাঁর কাছেই আছে। তারপরও কোনো লাইন অস্পষ্ট থাকলে চিকিৎসকের মাধ্যমে রিপোর্টে সই করা প্যাথলজিস্টের কাছে জানতে চাওয়া যায়।
এমন রিপোর্ট আসতে কয়েকদিন সময় লাগে কেন?
কারণ নমুনাটা ল্যাবরেটরিতে পৌঁছালেই পরীক্ষা শুরু হয়ে যায় না। খাতায় তোলা, তৈরি করা, পাতলা টুকরো কাটা, তারপর মনোযোগ দিয়ে দেখা, প্রতিটা ধাপে সময় লাগে। দেরি মানেই কিছু গড়বড় হয়েছে, এমন নয়।
ডাক্তারের কাছে যাওয়ার আগেই রিপোর্টটা নিজে পড়ে ফেলা কি ঠিক হবে?
পড়তে পারেন, অনেকেই পড়েন। শুধু পড়ার সময় একটা কথা মনে রাখবেন, রিপোর্টে থাকে নমুনার বিবরণ, আপনার ভবিষ্যতের ঘোষণা নয়। যেসব লাইন বুঝবেন না, সেগুলো লিখে রাখুন। প্রশ্নগুলো ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান।
রিপোর্ট নিয়ে আলোচনায় বসার সময় কী কী সঙ্গে নেব?
রিপোর্টটা তো নেবেনই, সঙ্গে অপারেশনের সব কাগজ আর যত পুরনো রিপোর্ট ঘরে আছে, সব এক ফাইলে তারিখ অনুযায়ী সাজিয়ে নিন। পুরো চিকিৎসার ধারাটা চোখের সামনে থাকলে ডাক্তার অনেক পরিষ্কার করে বোঝাতে পারেন।
নমুনাটা আরেকবার পরীক্ষা করিয়ে দেখা যায় কি?
প্রশ্নটা চিকিৎসকের কাছে তুলতে পারেন, এতে অস্বস্তির কিছু নেই। রিপোর্ট হয়ে যাওয়ার পরও নমুনা আর কাটা টুকরোগুলো ল্যাবরেটরিতে কিছুদিন রাখা থাকে, তাই দ্বিতীয়বার দেখা অনেক সময় সম্ভব হয়।
রিপোর্ট আসতে দেরি আছে, কিন্তু আজ রাতেই শরীর খারাপ লাগছে। অপেক্ষা করব কি?
না। রিপোর্ট নিয়ে প্রশ্ন অ্যাপয়েন্টমেন্ট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারে, শরীরের লক্ষণ পারে না। ক্ষত থেকে রক্তপাত শুরু হলে কিংবা জ্বর এসে না নামলে সেদিনই হাসপাতালে যান। শ্বাস নিতে কষ্ট হলে, তীব্র ব্যথা হলে, মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়ার মতো হলেও একই কথা। রাত হলে রাতেই যান।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.