সেরা পুষ্টিবিদ - সিলেট

ডিউটির রোস্টারই ঠিক করে কখন খাব

আমার বয়স বত্রিশ। পেশায় নার্স। আমার সপ্তাহটা আমি লিখি না, লেখে ডিউটির রোস্টার। এই সপ্তাহে সকালের ডিউটি। পরের সপ্তাহে বিকেলের। তারপর রাতের। খাওয়া চলে রোস্টারের পেছন পেছন ছায়ার মতো। সকালের শিফটে কখনো সকালের খাবারটা জোটে। রাতের ডিউটিতে ওয়ার্ড ঘুমিয়ে থাকলে রাত তিনটায় ক্যান্টিনের খাবার খাই।

দিনের ডিউটির সমস্যা আলাদা। ওয়ার্ডের রাউন্ড লম্বা হয়। কোনো রোগীকে সামলাতে গিয়ে দুপুরের খাবারটা নীরবে হারিয়ে যায়। সারাদিন রোগীদের বলি ঠিকমতো বিশ্রাম নিন, সময়মতো খান। তারপর নিজের খাবারটাই বাদ দিয়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে চা খাই। আমার ডাক্তার আমার পরামর্শ আর আমার থালার ফারাকটা লক্ষ্য করলেন। বললেন, বাকি যত্নের পাশাপাশি আমার খাওয়াটাও ঠিকমতো দেখা হোক।

নির্দিষ্ট সময়ে চলা মানুষের জন্য বানানো পরিকল্পনা আমার লাগবে না। এমন একজন পুষ্টিবিদ চাই, যিনি আমার রোস্টার আর খাওয়া পাশাপাশি রেখে দেখবেন কোথায় খাওয়া সত্যি বসতে পারে। যিনি জিজ্ঞেস করবেন রাতের ক্যান্টিনে কী পাওয়া যায়। বাড়িতে মা কী রাঁধেন। সিলেটের পুষ্টিবিদদের তালিকা এই পাতার নিচের দিকে আছে। অন্য বিষয়ের ডাক্তার দরকার হলে সিলেটের সাধারণ ডাক্তার তালিকায় পাবেন।

0 available specialists found

🏜️

No Specialists Found

We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.

ডিউটির রোস্টারই ঠিক করে কখন খাব

রোস্টার প্রতি সপ্তাহে বদলায়, প্রেসক্রিপশন বদলায় না

আমার কাজের জীবনে সবই ঘোরে, একটা জিনিস বাদে। নির্ধারিত ওষুধ চলবে ডাক্তারের ঠিক করা সময়েই। যে ডিউটিই হোক, একই নিয়ম। রোস্টার ধরে বানানো পরিকল্পনা আমার খাবারের সময় বদলাতে পারে। কিন্তু একটা মাত্রা সে সরাতে পারে না। কোনো মাত্রার জায়গাও সে নিতে পারে না।

মাত্রার সময় আর ডিউটির খাবার মুখোমুখি হলে চুপ করে ওষুধ সরাব না। যিনি লিখেছেন, তাঁকে জানাব। সিদ্ধান্ত তাঁরই। মাত্রা বদলানো প্রেসক্রিপশন লেখকের নিজের সিদ্ধান্ত। আমার কাজ হলো যেকোনো শিফটেই লেখা মতো খাওয়া।

অন্যের জরুরি অবস্থা দেখি, নিজেরটাও জরুরি

পুরো শিফট কাটে অন্যের সতর্ক লক্ষণ খেয়াল করে। এই অভ্যাসের একটা অন্ধ জায়গা আছে। নিজেরগুলোকে হালকা করে দেখি। বুকে ব্যথাকে বলি ক্লান্তি। শ্বাসের কষ্টের দোষ দিই সিঁড়িকে। তাই নিয়মটা লিখেই রেখেছি। বুক চেপে আসা ব্যথা। শ্বাস নেওয়া কঠিন হয়ে যাওয়া। হঠাৎ জ্ঞান হারানো। হঠাৎ দুর্বলতা। মাথা ঘোলাটে হয়ে আসা। বেশি জ্বর উঠে না নামতে চাওয়া।

এসবের একটা হলেই আমি আর কর্মী নই। রোগী হয়ে যাই, সেদিনই। শিফট শেষ না করেই হাসপাতাল কিংবা নিজের নিয়মিত ডাক্তারের কাছে যাওয়া। কোনো রোগীকে এমন লক্ষণ নিয়ে সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে দিতাম না। নিজের শরীরের বেলায়ও একই সততা থাকবে।

নিজের সমস্যায় উত্তরটা যদি হয় অপারেশন

পুষ্টিবিদের এলাকা আমার খাওয়া নিয়ে। তার সময়, তার ভারসাম্য, রোস্টারের সঙ্গে তার মিল। কিছু সমস্যা সেই এলাকার বাইরে পড়ে থাকে। আমার নিজের ডাক্তার যদি আমার মধ্যে এমন কিছু খুঁজে পান যেখানে অপারেশন লাগবে, খাবারের পরামর্শ উত্তর হবে না। তিনি তা বলেও দেবেন। এই সাইটে সেই সাহায্যের তালিকা আলাদা আছে, সিলেটের জেনারেল সার্জনদের তালিকা। সমস্যা আলাদা। হাতও আলাদা।

নিজের থালা নিয়ে একজন নার্সের প্রশ্ন

আমার রোস্টার প্রতি সপ্তাহেই উল্টে যায়। পরিকল্পনা কি সত্যিই এমন নড়াচড়া অনুসরণ করতে পারে?

নড়াচড়ার ভেতরের ধরনটা অনুসরণ করে, তিনি বললেন। সকালের সপ্তাহ, বিকেলের সপ্তাহ, রাতের সপ্তাহ, প্রতিটাই সহজ নির্দিষ্ট বিষয় পেল। পরিকল্পনা ঝুলে আছে শিফটের ধরনের ওপর। ঘড়ির ওপর নয়।

রাত তিনটায় ক্যান্টিন ছাড়া কিছুই নেই। ওই সময়ে খাওয়াটাই কি সমস্যা?

সময়টা রাতের ডিউটিরই অংশ। ভান করে লাভ নেই। রাতে ক্যান্টিনে আসলে কী পাওয়া যায় আর বাড়ি থেকে কী নিয়ে আসতে পারি, তা নিয়ে কথা হলো। ছোট ছোট পছন্দ, শিফট শুরুর আগেই ঠিক করা। কাউন্টারে দাঁড়িয়ে নয়।

ব্যস্ত দিনের ডিউটি আমার দুপুরের খাবার পুরো গিলে ফেলে। আমার ক্ষেত্রে শুরুটা হবে কোথা থেকে?

ওই গিলে ফেলাটা থেকেই শুরু, তিনি বললেন। রাউন্ডে সত্যিকারের দশ মিনিট কোথায় লুকানো যায়, দেখলাম আমরা। আর সেই মিনিটগুলোর জন্য কী খাবার তৈরি থাকতে পারে। ছোট করে শুরু করাটাই ছিল মূল কথা। বড় পরিকল্পনা ব্যস্ত ওয়ার্ডে টেকে না।

রোগীদের বিশ্রাম আর নিয়মিত খাওয়ার কথা বলি, নিজে দুটোই বাদ দিই। এজন্য কি বকা খাব?

তিনি হেসে বললেন, নার্সদের কাছ থেকে এ কথা তিনি প্রায়ই শোনেন। কী করা উচিত তা জানা আর রোস্টার তা করতে দেওয়া, দুটো আলাদা জিনিস। তাঁর কাজ ছিল রোস্টারের সমস্যাটা নিয়ে।

মা পরিবারের টেবিলের জন্য রাঁধেন, কিন্তু আমার সময় সেখানে কমই মেলে। বাড়ির খাবার কি তবু হিসেবে ধরা যায়?

যায়, তিনি বিস্তারিত জানতে চাইলেন। মা কী রাঁধেন। কখন তৈরি হয়। ফিরে এসে খাওয়ার মতো কী ভালো থাকে। পরিকল্পনাটা তাঁর রান্নার ওপর ভর করল অনেকটাই। আমার অদ্ভুত সময়গুলোর জন্য আলাদা ব্যবস্থা লাগল।

রাতের ডিউটির মাঝখানে হঠাৎ দুর্বল লাগলে শিফট শেষ হওয়া পর্যন্ত চুপ করে বসে থাকব?

না। বুকে ব্যথা, শ্বাস নিতে কষ্ট, জ্ঞান হারানো, হঠাৎ দুর্বলতা, মাথা এলোমেলো কিংবা কমতে না চাওয়া জ্বর হলে শিফটের মাঝখানেও সেদিনই যত্ন নিন। সহকর্মীর হাতে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে দেখিয়ে নিন। যেকোনো রোগীর বেলায় নিজে এটাই বলতেন।

Ad

Sponsor Space Available

Place your banner here to reach thousands of patients daily.

Sponsored

Grow Your Practice

Premium placement for hospitals & doctors.