সেরা পুষ্টিবিদ - রংপুর

দুপুরের খাওয়া অন্যের বাড়ির আপ্যায়নে

কাজের সূত্রে রংপুরের এক গ্রাম থেকে আরেক গ্রামে ঘুরতে হয় সারাদিন। বয়স আমার তেত্রিশ। একটা এনজিওতে আছি। ব্যাগে থাকে খাতা, কিছু ফরম আর পানির বোতল। খাবার থাকে না। সকালে ছোট্ট করে কিছু খেয়ে বেরিয়ে যাই। তারপর একের পর এক বাড়ির উঠানে বসে কথা বলা আর লেখালেখি।

দুপুরের খাওয়া আমার হাতে নেই একদমই। যে বাড়িতে তখন থাকি, আপ্যায়নের নিয়মে সেখান থেকেই খাবার আসে। কোনো দিন পেট ভরা ভাত। কোনো দিন শুধু চা আর একটা বিস্কুট। এত আন্তরিকভাবে দেওয়া হয় যে না বলাটা অভদ্রতা মনে হয়। সপ্তাহে দুই দিন, কখনো বেশি, সন্ধ্যা পর্যন্ত চা ছাড়া পেটে কিছু পড়ে না। বাড়ি ফিরে তখন এমন খিদে থাকে যে রাতের খাবারটা দুই বেলার মতো হয়ে যায়।

আমার ডাক্তার বলেছেন, বাকি যত্নের পাশাপাশি এই খাওয়ার ধরনটাও দেখা দরকার। কথাটা ঠিক। আমি এমন একজন পুষ্টিবিদ চাই, যিনি আমার একটা আসল মাঠের দিন দেখবেন। কাল্পনিক অফিসের দিন নয়। যিনি বুঝবেন, আমার দুপুরের টেবিলটা বাড়ি বদলে বদলে যায়। রংপুরের পুষ্টিবিদদের তালিকা এই পাতার নিচের দিকেই দেওয়া আছে। জেলার অন্য সব ধরনের ডাক্তারের জন্য রংপুরের সাধারণ ডাক্তার তালিকা পুরো জেলাটা ধরে রেখেছে।

0 available specialists found

🏜️

No Specialists Found

We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.

দুপুরের খাওয়া অন্যের বাড়ির আপ্যায়নে

গ্রামের পথে লক্ষণ এলে শহর পর্যন্ত অপেক্ষা নয়

মাঠের দিনে সাহায্য অনেকটা দূরে থাকে। কোনো উঠান থেকে কাছের হাসপাতাল এক ঘণ্টার পথও হতে পারে। এই কারণেই সতর্ক লক্ষণগুলো মাথায় পরিষ্কার করে রেখেছি। বুকে চেপে থাকা ব্যথা। শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া। হঠাৎ জ্ঞান হারানোর মতো অবস্থা। হঠাৎ দুর্বলতা। মাথা পরিষ্কারভাবে না চলা। কমতে না চাওয়া জ্বর।

এসবের একটা মাঝপথে এলে সেদিনের কাজ সেখানেই শেষ। ফরম পুরো করে বাড়ি ফিরে তারপর যাব, এমন করি না। ওই বাড়ির মানুষের সাহায্য নিয়ে সেদিনই হাসপাতাল বা নিজের নিয়মিত ডাক্তারের কাছে পৌঁছাই। দুপুরের খাওয়া নিয়ে কথা যেকোনো সপ্তাহেই হতে পারে। জরুরি অবস্থা অপেক্ষা করতে পারে না।

ব্যাগে থাকা ওষুধ চলবে লেখা সময়েই

আমার নির্ধারিত ওষুধ ব্যাগে করে সঙ্গে যায়। রাস্তা তার সময় বদলাতে পারে না। খাবার নিয়ে যাই ঠিক করি, ওষুধের মাত্রা থাকবে ডাক্তার যেভাবে লিখে দিয়েছেন ঠিক সেভাবেই। নতুন ধরনে খাওয়া আমার চিকিৎসার পাশে থাকার কথা। কোনো অংশের বদলি হওয়ার কথা নয়।

খাওয়ার কোনো বদল যদি কখনো ওষুধের পাশে অসুবিধা তৈরি করে, চুপ করে মাত্রা বাদ দিয়ে চালিয়ে যাব না। প্রশ্নটা নিয়ে যাব যিনি ওষুধটা লিখেছেন, তাঁর কাছেই। মাত্রা বাড়ানো, কমানো বা বন্ধ করা তাঁরই সিদ্ধান্ত। আমার কাজ লেখা মতো মেনে চলা। অসুবিধা বোধ হলে মুখ খুলে বলা।

কিছু সমস্যায় হাত লাগে, খাবারের কথা নয়

পুষ্টিবিদের কাজ আমার খাওয়া নিয়ে। তার সময়, তার ভারসাম্য, আমার দিনের সঙ্গে তার মিল। কিছু সমস্যা খাবারের একদম বাইরে বসে থাকে। ডাক্তার যদি কখনো এমন কিছু পান যেখানে আলাদা প্রক্রিয়া দরকার, তিনি সরাসরি বলে পথ দেখিয়ে দেবেন। সেই দিকের যত্নের জন্য এই সাইটে রংপুরের জেনারেল সার্জনদের আলাদা তালিকা রাখা আছে। দুই ধরনের সাহায্য আলাদা থাকাটাই ভালো।

গ্রাম ঘুরে জমা প্রশ্নগুলো শেষে জিজ্ঞেস করলাম

সোমবারে বলতে পারি না শুক্রবারের দুপুর কোথায় হবে। পরিকল্পনা কি এভাবে টিকবে?

টিকতেই হবে, তিনি বললেন। পরিকল্পনা জায়গা ধরে বানানো হয়নি। বানানো হয়েছে যেগুলো আমার হাতে আছে সেগুলো ধরে। বেরোনোর আগে কী খাব। কী সানন্দে নেব। কোথায় কোমলভাবে কমাব।

খাবার ফিরিয়ে দিলে বাড়ির লোকে কষ্ট পান। আসলে কী বলব?

ছোট ছোট বাক্য আমরা একসঙ্গে অনুশীলন করলাম। চা সবসময় নেওয়া যায়। যা দেওয়া হয় তার থেকে একটু নেওয়া, প্রশংসা করা। সহজে বলা যে ডাক্তার খাওয়ার দিকে খেয়াল রাখতে বলেছেন। ভদ্রতাও রইল। পরিকল্পনাও টিকে গেল।

কোনো দিন পাঁচ-ছয় কাপ মিষ্টি চা খেয়ে ফেলি। চা-ই কি পুরো সমস্যা?

পুরো সমস্যা নয়, তিনি বললেন, তবে বড় একটা অংশ। এক সপ্তাহ সত্যি করে কাপ গুনে দেখলাম আমরা। লিখে রাখা সংখ্যাটা বকাঝকার চেয়ে বেশি কাজ করল। কমানোটা তখন তাঁর নির্দেশ রইল না। আমার নিজের ভাবনা হয়ে গেল।

খালি বিকেলের পর রাতে একবারে অনেকটা খাই। দিনটা কি ওই খাওয়ার চারপাশে গড়া হবে?

আমার আসল দিনের চারপাশেই গড়া হবে, হ্যাঁ। রাতের খাবারটা উদারই রইল। কিন্তু তার আগের লম্বা খালি সময়টা ছোট করতেই হলো। যা দিয়ে তা ভরবে, তাকে গরম আর ধুলো সহ্য করে টিকে থাকতে হবে।

কয়েক সপ্তাহ পরপর আমার এলাকা বদলে যায়। পরিকল্পনা কি প্রতিবার নতুন করে শুরু হবে?

না। এলাকা বদলায়, অভ্যাস আমার সঙ্গে যায়। পরের দেখাগুলোতে নির্দিষ্ট বিষয়গুলোই দেখা হয়। মানচিত্র নয়। নতুন এলাকায় খাবার নিয়ে অন্য রীতি থাকলে ছোট্ট এক-দুটো বদল আসে। পুরো কাঠামো বদলায় না।

দূরের কোনো বাড়িতে হঠাৎ দুর্বল লাগলে আগে বাড়ি ফিরে তারপর সাহায্য নেব?

না। হঠাৎ দুর্বলতা, বুকে ব্যথা, শ্বাসের কষ্ট, জ্ঞান হারানো, এলোমেলো ভাব কিংবা না নামতে চাওয়া জ্বর মানেই সেদিনই যত্ন। যে পরিবারের সঙ্গে আছেন, তাঁদের বলুন হাসপাতাল বা নিজের নিয়মিত ডাক্তারের কাছে পৌঁছে দিতে। একা যাত্রা করে বাড়ি ফেরার আশায় বসে থাকবেন না।

Ad

Sponsor Space Available

Place your banner here to reach thousands of patients daily.

Sponsored

Grow Your Practice

Premium placement for hospitals & doctors.