সেরা পুষ্টিবিদ - নোয়াখালী

নৌকায় দিন কাটে, খাওয়া অনিয়মে

আমি নোয়াখালীর উপকূলে নৌকা থেকে মাছ ধরি, বয়স একত্রিশ। নৌকা একবার বের হলে থেকেই যায়। চার দিন, কখনো পাঁচ দিন, পালা করে ঘুম আর পানি সুযোগ দিলেই জাল তোলা। নৌকার খাবার বলতে রওনা হওয়ার আগে যা তোলা হয়েছে তাই। এক হাঁড়িতে রান্না করা ভাত। শুঁটকি। টানটান করে চালাতে হয় এমন ডাল। প্রথম দিনের পর টাটকা বলে কিছু থাকে না। খাওয়ার সময় বলে কিছু থাকে না, জাল তোলার ফাঁকই সময়।

তীরে ফিরলে খাই উল্টোভাবে। মা রাঁধেন, প্রতিবেশীরা পদ এনে দেন, আর আমি এমন খাবারে বসি যেন নৌকার দিনগুলোর শোধ উঠছে। তারপর নৌকা আবার বের হয়, দোলাটা আবার শুরু হয়। আমার ডাক্তার এই চক্রটা শুনে বললেন, চলমান চিকিৎসার পাশাপাশি আমার খাওয়ার দিকটা দেখা দরকার। তিনি পুষ্টিবিদের কাছে পাঠালেন, যিনি অফিসের সময় নয়, জোয়ার আর যাত্রা ধরে পরিকল্পনা করবেন।

নোয়াখালীর পুষ্টিবিদদের তালিকা এই পাতার নিচেই আছে, দেখে নিতে পারবেন। অন্য ধরনের ডাক্তারের কাছে যাওয়া লাগলে নোয়াখালীর ডাক্তারদের তালিকা পুরো জেলাটা ধরে রেখেছে।

1 available specialists found

মাহমুদা আফরিন

Qualifications বিএসসি, এমএসসি (খাদ্য ও পুষ্টি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ইন্টার্নশিপ (বারডেম), সিএনডি (বারডেম), উন্নত ক্লিনিক্যাল পুষ্টিতে প্রশিক্ষণ (ভারত)।
অবস্থান নোয়াখালী সদর, নোয়াখালী

নৌকায় দিন কাটে, খাওয়া অনিয়মে

সমুদ্রে থাকতেই যেসব লক্ষণে ফিরতেই হবে

সমুদ্র ধৈর্য শেখায়, আবার সম্মান করতেও শেখায়। কিছু লক্ষণে ধৈর্য চলে না, তীরের অপেক্ষাও না। বুকে চাপা ভারী ব্যথা। শ্বাস নেওয়া লড়াই হয়ে ওঠা। জালের মাঝে কারো মাথা ঘুরে পড়া। শরীরের একপাশে হঠাৎ শক্তি হারিয়ে যাওয়া। মাথার ভাবনা অর্থহীন হয়ে যাওয়া। জ্বর বেড়েই চলেছে, নামতে চায় না। ভূমি থেকে ঘণ্টার পথ দূরে থাকলেও উত্তর একই। তীরের দিকে ফিরুন, সেদিনই হাসপাতালে যান, নয়তো নিজের নিয়মিত ডাক্তারের কাছে। দুই পা শুকনো মাটিতে পড়লে তারপর খাবার নিয়ে কথা হবে।

সব সমস্যা খাবারের থালায় মেটে না

খাবারের রুটিন আমার থালায় কী ওঠে আর কখন ওঠে, তা নিয়ে। শরীরে যা যা খারাপ হতে পারে, সবটা এর আওতায় পড়ে না। কোনো সমস্যার জন্য খাবারের পরিকল্পনার বদলে সার্জন দরকার হলে, সেই নামগুলো এই সাইটে নিজের জায়গায় আলাদা আছে: নোয়াখালীর জেনারেল সার্জনদের তালিকা। খারাপ দিনে খোঁজা শুরুর চেয়ে এখনই জেনে রাখা ভালো।

ওষুধ আমার সঙ্গে নৌকায় ওঠে, বদলায় না

আমার ডাক্তারের দেওয়া ওষুধ শুকনো বাক্সে আমার সঙ্গে নৌকায় ওঠে, জোয়ার দেখে তার সময় বদলায় না। পানিতে থাকি বা তীরে, ঠিক লেখা মতোই খাই। ভালো খাওয়া কোনো দিন এক মাত্রার বদলি নয়। মাত্রা কখনো বদলাতে হলে সিদ্ধান্ত যিনি প্রেসক্রিপশন লিখেছেন তাঁরই, আর কারো নয়। পুষ্টিবিদ আমার খাবার সাজান। প্রেসক্রিপশন থাকে ঠিক যেখানে আমার ডাক্তার রেখেছেন।

জলের কাজ করা মানুষটার প্রশ্ন

একটানা চার পাঁচ দিন পানিতে থাকি, খাওয়া কি সেভাবে সাজানো যায়?

শুরুটা সেখান থেকেই হলো। নৌকায় কী তোলা হয়, কে রাঁধে, চতুর্থ দিনে রান্না কেমন দাঁড়ায়, তিনি জানতে চাইলেন। পরিকল্পনা গড়া হলো মজুতের ঘর থেকে, তীরের রান্নাঘর থেকে নয়।

নৌকায় মজুত জিনিস দিয়েই রান্না হয়, শুরুটা কি সেখান থেকেই হবে?

হ্যাঁ। মাসের বেশিরভাগ দিন আমার আসল খাবার মজুতের খাবারই, তাই একে ব্যতিক্রম ধরা যায়নি। কিছু বদলানোর আগে নৌকার খাবার এখন কীভাবে সাজানো হয়, তা নিয়ে কথা হলো।

তীরে ফিরে দুই দিন পেট ভরে খাই, এই ওঠানামাটাই কি সমস্যা?

তিনি তাই মনে করলেন। ঘরের রান্না নয়, ওটা কেউ নষ্ট করতে চায়নি। টাটকা প্রায় না পাওয়া আর তারপর একসঙ্গে সব খাওয়ার মাঝের দোলাটা। যাত্রার দুই মাথাই নরম করা নিয়ে আমরা কাজ করলাম।

মাছ আর আবহাওয়া দেখে যাওয়া ঠিক হয়, পরের দেখাগুলো হবে কীভাবে?

নৌকার সম্ভাব্য ফেরার সময় ধরে পরের বসা ঠিক হলো, আবহাওয়া বদলালে সরানোর জায়গা রেখে। সমুদ্র বারবার ভেঙে দেয় এমন সূচির চেয়ে দেরিতে দেখা হওয়া তাঁর কাছে ভালো।

বাড়ি থাকলে মা রাঁধেন, তাঁর রান্না কি সব বদলাতে হবে?

না। তাঁর রান্না এখানে শত্রু ছিল না কখনো। তাঁর টেবিলে আমার পরিমাণ আর সময় নিয়ে কথা হলো, বছরের পর বছর রাঁধা পদ বদলে দেওয়া নিয়ে নয়।

তীর থেকে ঘণ্টার পথ দূরে বুকে ব্যথা উঠলে তখন কী হবে?

নৌকা ফিরে চলবে। বুকে চাপ, শ্বাসের লড়াই, অজ্ঞান ভাব কিংবা একপাশের হঠাৎ দুর্বলতা দেখা দিলে থামতে হবে। ভাবনা গুলিয়ে গেলে বা জ্বর নামতে না চাইলেও সিদ্ধান্ত একই। গন্তব্য সেদিনই হাসপাতাল, নয়তো নিজের নিয়মিত ডাক্তার, জাল ভরা থাকলেও।

Ad

Sponsor Space Available

Place your banner here to reach thousands of patients daily.

Sponsored

Grow Your Practice

Premium placement for hospitals & doctors.