সেরা পুষ্টিবিদ - ময়মনসিংহ
অনুষ্ঠানের দিনে ভোজ, বাকি দিনে অনিয়ম
আমার বয়স তিরিশ। ময়মনসিংহের আশপাশে বিয়ে আর নানা অনুষ্ঠানের ছবি তুলি। বুকিংয়ের দিন বাড়ি থেকে বের হই কর্তাদের ঘুম ভাঙার আগেই। কখনো একই সপ্তাহে তিনটে অনুষ্ঠানও পড়ে যায়। ফিরি অনুষ্ঠানের শেষ থালা ওঠার পর। ভোজ আমার কাজের জায়গারই অংশ। রাত বারোটার দিকে সামনে এসে পড়ে ভারী খাবার, না করা মানে খারাপ দেখানো। তাই খেয়ে নিই অতিথির মতোই, শুধু হাতে ক্যামেরাটা থাকে।
তারপর আসে ফাঁকা দিনগুলো। বুকিং নেই, কোনো কিছুর ঠিক সময় নেই। সকালের খাওয়া গড়িয়ে যায় দুপুরের দিকে। কোনো কোনো বিকেল টুকটাক খেতে খেতেই কাটে, সেটাকেই দুপুরের খাওয়া বলে চালিয়ে দিই। ডাক্তার আমার রিপোর্ট দেখে বললেন, চলমান চিকিৎসার পাশাপাশি এই ধরনটা বদলানো দরকার। নিজে থেকে ঠিক করার চেষ্টা করে দেখেছি, টেকেনি। তাই ময়মনসিংহে একজন পুষ্টিবিদ চাই, যিনি এমন ক্যালেন্ডার নিয়ে কাজ করতে পারবেন, যেখানে দুই সপ্তাহ একরকম নয়।
ময়মনসিংহের পুষ্টিবিদদের তালিকা এই পাতার নিচের দিকেই দেওয়া আছে। জেলার ভেতরে আর কোনো বিষয়ের ডাক্তার খুঁজতে হলে ময়মনসিংহের ডাক্তারদের বড় তালিকা থেকে সব বিশেষজ্ঞকে পাশাপাশি দেখে নিতে পারবেন।
0 available specialists found
No Specialists Found
We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.
অনুষ্ঠানের দিনে ভোজ, বাকি দিনে অনিয়ম
ভোজের আসর অপেক্ষা করুক, বুকের সতর্কতা নয়
অনুষ্ঠানের ছবি তুলতে গিয়ে নিজের শরীরকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা উপেক্ষা করতে শিখেছি। খিদে, মাথাব্যথা, পায়ের ক্লান্তি, সব আপাতত অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার অপেক্ষা করে। কিছু লক্ষণ সেই অপেক্ষায় থাকতে পারে না। বুক চেপে ধরা ব্যথা তার একটা।
শ্বাস নেওয়া কষ্টের কাজ হয়ে ওঠাও তাই। অজ্ঞান হয়ে যাওয়াও। শরীরের একপাশ হঠাৎ দুর্বল হয়ে যাওয়া, ভাবনা এলোমেলো হয়ে যাওয়া, কিংবা জ্বর বেড়ে থেমে থাকাও। এসবের একটা দেখলেই সেদিনই চিকিৎসা নিতে ছুটতে হয়, হাসপাতালে কিংবা নিজের নিয়মিত ডাক্তারের কাছে। শেষ ছবিটা তোলার পর নয়। পুষ্টিবিদের কাছে বসা সাধারণ দিনের জন্য। জরুরি অবস্থার ভেতরে তার জায়গা নেই।
কিছু সমস্যার জায়গা অপারেশন টেবিলে, মেনুতে নয়
ক্যামেরা সমস্যা ধরে রাখতে পারে। সারাতে পারে না। ডাক্তার যদি কখনো এমন কিছু পান, যেখানে অপারেশন লাগবে, খাওয়া বদলে সেটা মিটবে না। সেটা ভান করে লুকিয়ে রাখলে শুধু সময় নষ্ট। এই ধরনের খোঁজের জন্য এই সাইটে ময়মনসিংহের জেনারেল সার্জনদের তালিকা খাবারের পাতাগুলো থেকে আলাদা করে রাখা হয়েছে।
আমি ফারাকটা সহজ রাখি। খাওয়ার ধরন এক আলোচনা। অপারেশন আরেক ঘরের, আরেক বিশেষজ্ঞের বিষয়। আমার কাজ শুধু বোঝা, আমার সমস্যা কোন ঘরের।
পরিকল্পনা বদলায় থালা, বদলায় না আমার মাত্রা
আমি প্রেসক্রিপশনের ওষুধ খাই, আর সেগুলো এই সাজানোর মধ্যে পড়ে না। প্রতিটা মাত্রা থাকে ডাক্তার যেভাবে লিখেছেন ঠিক সেভাবে, ভোজের দিনেও, ফাঁকা দিনেও। খাওয়ার নতুন ধরনটা চলে সেই চিকিৎসার পাশাপাশি। তাকে সাহায্য করে। একটা ট্যাবলেটেরও বদলি হয় না।
কোনো ওষুধ বদলাতে পারবেন শুধু যিনি সেটা লিখেছেন, তিনিই। পুষ্টিবিদ আমার মাত্রা ছোঁবেন না। কয়েক সপ্তাহ নিয়মিত খাওয়া ভালো লাগছে বলে আমিও নিজে থেকে কিছু কমাই-বাড়াই না। তিনি সাজান আমার থালায় কী থাকে, আর কখন থাকে। প্রেসক্রিপশন তাঁরও নয়, আমারও নয়।
অনুষ্ঠানের তারিখে বাঁধা একজনের প্রশ্ন
আমার অর্ধেক খাওয়া হয় অন্যের অনুষ্ঠানে। এর মধ্যে কোনো পরিকল্পনা টিকবে?
প্রথম বসাটাই সেজন্য। তিনি জানতে চাইবেন বুকিংয়ের দিনটা ঘণ্টা ধরে আসলে কেমন যায়। তারপর গড়বেন যেটুকু আমার হাতে থাকে, তা নিয়ে। কতটা নিই, আর বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগে কী খাই।
ফাঁকা দিনে মাঝে মাঝে সন্ধ্যা পর্যন্ত কিছুই খাই না। শুরুটা হবে কোথা থেকে?
সম্ভবত ফাঁকা দিনগুলো থেকেই, কারণ সেগুলো পুরোপুরি আমার হাতে। বুকিংয়ের দিনে কর্তা আর ঘড়ি দুটোই অন্যের। ফাঁকা দিনে ভেসে যাওয়ার অজুহাত নেই। সেখানে কয়েকটা ঠিক সময় পুরো সপ্তাহটা ধরে রাখতে পারে।
কর্তারা খেতে জোর করেন, না করা অভদ্রতা লাগে। থালার সামনে আমি কী করব?
কাজটা পছন্দ আর পরিমাণে, মুখের ওপর না করে দেওয়ায় নয়। তিনি সত্যিকারের সামাজিক চাপ নিয়ে কাজ করেন, কাল্পনিক ইচ্ছাশক্তি নিয়ে নয়। চুপচাপ সামলে নেওয়া থালা কাউকে অপমান করে না।
আমার কাজের দিন শেষ হয় মাঝরাত নাগাদ। খাওয়ার সময় ঠিক করতে এটা কি ধরা হয়?
হয়, কারণ খাওয়ার সময় চলে আমি যে দিন যাপন করি, সেই দিন ধরে। কিছু বলার আগে তিনি আমার সময়সূচি জেনে নেন। অফিসের সময় ধরে বানানো পরিকল্পনা বিয়ের প্রথম সপ্তাহেই ভেঙে পড়ত।
ব্যস্ত মৌসুম শেষ হলে আমার পুরো রুটিন উল্টে যায়। পরিকল্পনা কি আবার গোড়া থেকে?
পরের বসাগুলোতে সেটা মিলিয়ে নেওয়া হয়, গোড়া থেকে নয়। বছরজুড়ে আমার ক্যালেন্ডারের আকার বদলায়। খাওয়ার ধরনটাও তার সঙ্গে একটু একটু করে বদলে নেওয়া হয়।
রাত একটায় অনুষ্ঠানে আছি, হঠাৎ বুকে ব্যথা শুরু হলো। ছবি তোলা শেষ করে যাব?
না। বুকের ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, অজ্ঞান ভাব, একপাশে হঠাৎ দুর্বলতা, গুলিয়ে যাওয়া মাথা, নামতে না চাওয়া জ্বর। হাসপাতালেই যেতে হয় সেদিন, নয়তো নিজের নিয়মিত ডাক্তারের কাছে। আয়োজকরা বুঝবেন। ক্যামেরা আবার তোলা যায়। সেই রাতটা যায় না।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.