সেরা পুষ্টিবিদ - কুষ্টিয়া

সারাদিন ডেস্কে, আসল খাওয়া সেই রাতে

আমার বয়স পঁচিশ, কুষ্টিয়ায় একটা ব্যাংকের কাউন্টারে চাকরি করি। সকাল নয়টা থেকে শেষ কাস্টমার যাওয়া পর্যন্ত চেয়ারটাই আমার জায়গা। ফাইল, টাকা, ফরম, আর লাইন যেন শেষই হয় না। বসে থাকাটাই আমার কাজ। দুপুর গড়ালে পেট জানান দেয়, কিন্তু লাঞ্চের বিরতি মানে লাইনের ফাঁক। কোনো কোনো দিন সেই ফাঁকটাই জোটে না।

তাই দুপুরের খাওয়া বলতে বেশিরভাগ দিন অফিসের পিয়নের বাইরের দোকান থেকে আনা জিনিস। সিঙ্গারা, বিস্কুট, এক প্যাকেট চানাচুর, দুই দফা মিষ্টি চা। এগুলোকে খাওয়া বলা যায় না। তারপর বাড়ি ফিরে রাতে সবার সঙ্গে একটাই ঠিকমতো খাওয়া, আর সারাদিনের খিদে নিয়ে সেটা খাইও বেশি করে। গত মাসে রিপোর্ট দেখে ডাক্তার বললেন, চিকিৎসার পাশাপাশি এই চলনটা আর এভাবে চলতে দেওয়া যায় না। তিনি চান, পুষ্টিবিদ আগে আমার পুরো দিনটা বুঝুক। খাওয়ার সময়, বসে থাকা, বাড়িতে কে রান্না করে। আমাদের বাড়িতে রান্না করেন মা। সবাই একসঙ্গে বসে বলে রাতের খাওয়া দেরিতে হয়। বদল যেটাই আসুক, তার ভেতরেই মানাতে হবে।

কুষ্টিয়ার পুষ্টিবিদদের তালিকা এই পাতার নিচেই দেওয়া আছে। আরও ব্যাপকভাবে খুঁজতে চাইলে কুষ্টিয়ার ডাক্তারদের সাধারণ তালিকা থেকে জেলার অন্যান্য বিশেষজ্ঞদেরও দেখতে পারবেন।

1 available specialists found

ডাঃ মো. ওয়াহিদুল হাসান (মিল্টন)

Qualifications এমবিবিএস (রাজ), এমফিল, পিএইচডি (পুষ্টি)।
অবস্থান Coart Para, কুষ্টিয়া

সারাদিন ডেস্কে, আসল খাওয়া সেই রাতে

যে সমস্যার ঠিকানা সার্জনের চেম্বার

আমার অসুবিধার বড় অংশটা খাওয়ার অনিয়মে, সেটা আমি নিজেও বুঝি। কিন্তু সব ব্যথা বা রিপোর্টের সব বিষয় খাবার দিয়ে মেটে না। কোনো কোনো জিনিস ঠিকমতো পরীক্ষা করে দেখতে হয়, কখনো অপারেশনও লাগে। সেই খোঁজের জন্য এই সাইটে আছে কুষ্টিয়ার জেনারেল সার্জনদের তালিকা, আমার মতো পাতা থেকে আলাদা করে রাখা। লিংকটা সেভ করে রেখেছি হেড অফিসের হেল্পলাইনের পাশাপাশি। খোলা হয় কমই। দরকারে হাতের কাছে থাকে।

কাজের দিন যেসব লক্ষণে থেমে যায়

ব্যাংকের কর্মীরা প্রায় সব পরিস্থিতিতেই হাসিমুখে কাজ করতে শেখে। চল্লিশ জনের লাইন দেখে আমি ভয় পাই না। কিন্তু বুকে চাপ দেওয়া ব্যথা উঠলে আমার শিফট সেখানেই শেষ। শ্বাস টানতে কষ্ট হলেও কাজ থামাতেই হবে। কাউন্টারে অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, শরীরের একপাশ হঠাৎ দুর্বল লাগা, মাথা ঘোলাটে হয়ে যাওয়া, কমতে না চাওয়া জ্বর। এগুলো দেখা দিলে সেদিনই হাসপাতাল, নয়তো নিজের নিয়মিত ডাক্তার। এমন লক্ষণ নিয়ে কেউ খাবারের অ্যাপয়েন্টমেন্টের অপেক্ষা করে না।

ওষুধের নিয়ম খাবারের রুটিনে বদলায় না

ডাক্তার যে ওষুধ লিখে দিয়েছেন, আমি খাই তাঁর লিখে দেওয়া সময় মেনে। নতুন খাওয়ার রুটিন গোছানো হচ্ছে ওষুধের চারপাশে, ওষুধের ওপরে নয়। ঠিকমতো খাওয়া আমার চলতি চিকিৎসার পাশে থাকে। কোনো ট্যাবলেটের জায়গা নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।

কোনো ওষুধ বাড়ানো, কমানো বা বন্ধ করা, সিদ্ধান্তটা শুধু যিনি ওষুধটা দিয়েছেন তাঁরই। পুষ্টিবিদ আমার ডোজে হাত দেবেন না, আমিও দেব না। এক মাস নিয়ম করে খেয়ে নিজেকে হালকা লাগলেও নয়। তাঁর কাজ আমার পাত আর খাওয়ার সময় নিয়ে। ওষুধ থাকবে ঠিক যেখানে ডাক্তার রেখেছেন।

কাউন্টারে বসা মেয়েটার প্রশ্নগুলো

নয়টা থেকে পাঁচটা প্রায় উঠিই না। এত কম নড়াচড়ায় খাওয়ার বদলে কাজ হবে?

হবে, কারণ বসে থাকাটা আমার গল্পের অর্ধেক মাত্র। বাকি অর্ধেক হলো লম্বা খালি সময়টা, নাশতার প্যাকেট, আর রাতের অতিরিক্ত খাওয়া। যেগুলো সত্যিই বদলানো যায়, তিনি সেখান থেকেই শুরু করেন।

পিয়ন দোকান থেকে যা পায় তা-ই আনে। রান্নাঘর ছাড়া দুপুরে ভালো খাব কীভাবে?

প্রশ্নটা যৌক্তিক, তিনি সেভাবেই নেন। দোকান বদলানো যাবে না, কিন্তু অর্ডারটা বদলানো যায়। কী আনা হবে, কতটা আনা হবে, ড্রয়ারে কী রাখা থাকবে, এগুলো নিয়ে কাজ করা যায়।

মা সবার জন্য এক রান্নাই করেন। তাঁকে কি আমার জন্য আলাদা রাঁধতে বলা হবে?

না। এই বাড়িতে এক হাঁড়িতেই সবার খাওয়া হয়, পরিকল্পনা সেই সত্যের ভেতরেই লেখা। বদলটা থাকবে আমার পরিমাণে, আমার সময়ে, আর দিনের আগের অংশটায় যা ঘটে তাতে।

খালি দিনের পর রাতের বড় খাওয়াটাই কি তিনি আগে ধরবেন?

খুব সম্ভবত হ্যাঁ। দশ ঘণ্টা খালি থাকা পেট রাতে বাড়াবাড়ি করবেই। দিনের মাঝখানটা ঠিকমতো ভরলে রাতের খাওয়া সাধারণত নিজে থেকেই শান্ত হয়ে আসে।

ব্যাংকের সময়ে সপ্তাহের দিনে ছুটি মেলে না। পরের দেখাগুলো হবে কীভাবে?

প্রথম বসাতেই এটা পরিষ্কার করে বলুন। কাজের দিনের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা করার ফাঁক রাখা যায়। যে পরিকল্পনা আপনার হাতে নেই এমন সময় চায়, সেটা দ্বিতীয় সপ্তাহেই ভেঙে পড়বে।

কোনো বিকেলে ডেস্কে বসে মাথা ঘুরলে পরের নির্ধারিত তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করব?

না, লাইন শেষ করার চেষ্টাও করবেন না। মাথা ঘোরা, বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, হঠাৎ দুর্বলতা, মাথা এলোমেলো লাগা, কমতে না চাওয়া জ্বর। সেদিনই হাসপাতাল বা নিজের নিয়মিত ডাক্তারের কাছে যান। অ্যাপয়েন্টমেন্ট আবার নেওয়া যাবে।

Ad

Sponsor Space Available

Place your banner here to reach thousands of patients daily.

Sponsored

Grow Your Practice

Premium placement for hospitals & doctors.