সেরা পুষ্টিবিদ - খুলনা

একজনের রান্না, বেশিরভাগ দিন হয়ই না

বয়স ষাট, স্বামী মারা যাওয়ার পর খুলনার এই বাড়িতে আমি একা। রান্নাঘরে এখনো পুরো পরিবারের জিনিসপত্র। বড় হাঁড়ি, বড় কড়াই। অথচ খাওয়ার মানুষ একজন। সত্যি বলতে, একজনের জন্য ঠিকঠাক রান্না করাটা অর্থহীন পরিশ্রম মনে হয়। বেশিরভাগ দিন চা আর বিস্কুটেই চলে যায়। কোনো দিন দুইবারও।

আমি মানতে চাইনি, ব্যাপারটা আগে ধরল আমার মেয়ে। বেড়াতে এলে সে দেখে তাকে কী কী ফুরিয়ে গেছে। সেই বলল, মা, তোমার খাওয়ার জন্য একজন মানুষ দরকার, আমার বকা নয়। তাই পুষ্টিবিদ খুঁজছি। ডাক্তারও বললেন, আমার খাওয়া অনেকটা এলোমেলো হয়ে গেছে, বাকি চিকিৎসার পাশাপাশি এটা গোছানো দরকার। আমার দরকার এমন কেউ, যিনি ফাঁকা বাড়ির অবস্থাটা বোঝেন। তিনি জানতে চাইবেন বাজার করে কে, আসলে ক্ষুধা পায় কখন, কোনো কোনো সপ্তাহে রান্না হয়ই কি না। বাড়িতে ফাইলে রাখা পুরোনো রিপোর্টগুলোও তিনি দেখবেন। তারপর ধীরে ধীরে এমন একটা খাওয়ার ধরন দাঁড়াবে, যেটা একা একজন বয়স্ক মানুষের পক্ষে চালানো সম্ভব।

খুলনার পুষ্টিবিদদের তালিকা এই পাতার নিচেই দেওয়া আছে। জেলায় অন্য কোনো ডাক্তার লাগলে খুলনার ডাক্তারদের সাধারণ তালিকা থেকে খুঁজে নিতে পারবেন।

2 available specialists found

মো. শাহারিয়া করিম জোসি

Qualifications বিএসসি (অনার্স), এমএস (পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি), পিজিটি (পুষ্টি ও ডায়েট থেরাপি)।
অবস্থান খুলনা সিটি, খুলনা

জান্নাতুল নাঈম নাইমা

Qualifications বিএসসি খাদ্য ও পুষ্টি (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়), এমপিএইচ (ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়)
অবস্থান খুলনা সিটি, খুলনা

একজনের রান্না, বেশিরভাগ দিন হয়ই না

একা থাকি বলেই দেরি করা চলবে না

একা থাকলে পাশের ঘরে কেউ থাকে না যে বলবে, আজ আপনাকে ভালো দেখাচ্ছে না। তাই নিয়মটা নিজের জন্য সহজ করে রেখেছি। বুকে চাপ ধরা ব্যথা, সহজে শ্বাস না আসা, মাথা ঘুরে যাওয়া, হঠাৎ দুর্বল লাগা কিংবা মাথা ঘোলাটে, জ্বর বেশি উঠে থাকলে। এসবের একটা হলেও মেয়ের আসা বা পরের দেখার দিন পর্যন্ত বসে থাকব না। প্রয়োজনে প্রতিবেশীর সাহায্য নিয়ে সেদিনই হাসপাতাল বা নিজের নিয়মিত ডাক্তারের কাছে যাব। খাওয়া নিয়ে কথা বলার জায়গাটা জরুরি অবস্থার জন্য নয়।

খাওয়া বদলাবে, ওষুধের নিয়ম বদলাবে না

আমার ওষুধের সময় দিনের মধ্যে ঠিক করা আছে, সেই সময় ঠিকই থাকবে। এক সপ্তাহ ঠিকমতো খেলাম বলে কোনো ওষুধ থেকে ছুটি পাওয়া যায় না। মন দিয়ে খাওয়া ডাক্তারের ঠিক করা চিকিৎসার পাশে থাকে, তার কোনো অংশের জায়গা নেয় না।

কোনো ওষুধ বদলাবে কি না, সেটা ঠিক করবেন যিনি সেটা লিখেছেন, তিনিই। খাওয়ার সময়ের সঙ্গে ওষুধের কখনো অসুবিধা মনে হলে দেখা করার দিনে তুলব, সিদ্ধান্ত তাঁর। প্লেট আগের চেয়ে ভালো দেখাচ্ছে বলে নিজে থেকে ওষুধ বাদ দেব না কখনো।

সব সমস্যার সমাধান রান্নাঘরে থাকে না

পুষ্টিবিদের কাজ আমার খাওয়া আর তার সময় নিয়ে। কিছু সমস্যা সেই কাজের একদম বাইরে। ডাক্তার কখনো এমন কিছু পেলে যেখানে ভালো করে পরীক্ষা বা অপারেশন লাগবে, তিনি সার্জনের দিকে পাঠাবেন। এই সাইটে তারও তালিকা আছে, খুলনার জেনারেল সার্জনদের তালিকা। কাজ আলাদা, হাতও আলাদা। দুটো গুলিয়ে না যাওয়াটাই ভালো।

মেয়ের কথায় এসে যা জানতে চাইলাম

একজনের রান্না অর্থহীন লাগে। শুরুটা হবে কোথা থেকে?

তিনি বললেন, দিনগুলো থেকেই। কোন দিন রান্না করি, কোন দিন করি না, আর চুলার সামনে দাঁড়াতে বাধা দেয় কোনটা। রান্নার পরিমাণ ছোট করে আনা দিয়ে শুরু হলো, একজন মানুষ শেষ করতে পারে এমন পরিমাণ, বড় আয়োজন নয়।

কোনো দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত ক্ষুধাই পায় না। জোর করে খেতে হবে?

জোরের কথা তিনি বলেননি। ক্ষুধা কখন আসে সেটা জিজ্ঞেস করলেন, তার চারপাশে হালকা কয়েকটা নির্দিষ্ট সময় বসানো হলো। ক্ষুধা কম থাকলেও দিনটার একটা আকার থাকে। সবার আগে তিনি চাইলেন, খাওয়া বাদ যাওয়া দিনগুলো বন্ধ হোক।

মেয়ে সপ্তাহে একদিন ভারী বাজারটা করে দেয়। এটা কি জানা দরকার?

হ্যাঁ, শুনে তিনি খুশিই হলেন। আমার রান্নাঘরে যা ঢোকে, তা আসে মেয়ের ব্যাগে করে। তাই পরিকল্পনাটা সেই সাপ্তাহিক বাজারের সঙ্গে মিলিয়েই করতে হয়েছে। তিনি এমনও বললেন, মেয়ে একবার সঙ্গে বসলে বাজার আর পরিকল্পনার ঝগড়াটা থামবে।

বাড়িতে ফাইলে পুরোনো রিপোর্ট আছে। নিয়ে যাব?

নিয়ে যাবেন। কিছু বলার আগে তিনি আমারগুলো পড়ে দেখলেন, কারণ আমার খাওয়া বাকি শরীরের থেকে আলাদা নয়। ডাক্তার যা যা আগে থেকে জানেন, তা-ই ঠিক করে তিনি কী পরামর্শ দেবেন আর কী দেবেন না।

এক মাসের মধ্যে আবার চা-বিস্কুটে ফিরে গেলে কী হবে?

পরের দেখায় সেটা সোজাসুজি দেখা হবে, তিনি বললেন। ফিরে যাওয়াটা ব্যর্থতা নয়, একটা তথ্য। পরিকল্পনা তখন বদলে যাবে আমার একা থাকার আসল জীবনের সঙ্গে মিলিয়ে, চেম্বারে দেওয়া প্রতিশ্রুতির সঙ্গে নয়।

রাতে একা থাকা অবস্থায় শ্বাসকষ্ট শুরু হলে সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করব?

না। শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, মাথা ঘুরে যাওয়া, হঠাৎ দুর্বলতা, এলোমেলো ভাব। কিংবা না নামতে চাওয়া বেশি জ্বর। এসব হলে রাত হলেও সেদিনই হাসপাতাল কিংবা নিজের নিয়মিত ডাক্তার। মেয়ে বা প্রতিবেশীকে ডেকে বেরিয়ে পড়ুন। একা বসে সহ্য করবেন না।

Ad

Sponsor Space Available

Place your banner here to reach thousands of patients daily.

Sponsored

Grow Your Practice

Premium placement for hospitals & doctors.