সেরা নবজাতক বিশেষজ্ঞ - পাবনা

একটা ব্যাগ, দুজনের দেখা

আমার ছেলে তারিখের অনেক আগেই জন্মেছে, আর আমি বাড়ি ফিরে এলেও সে হাসপাতালেই থেকে গেল। ডাক্তাররা চাইছিলেন, ওর শ্বাস আর খাওয়া দিনরাত নজরে রাখা যায় এমন জায়গায় সে থাকুক। আমি প্রতিদিন সকালে গিয়ে নবজাতকদের ওয়ার্ডের পাশে দাঁড়িয়ে ওর ছোট ছোট খাওয়াগুলো গুনতাম। বাড়িতে ফাঁকা দোলনাটা চোখে পড়লেই বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠত।

ছুটির কাগজ হাতে পেয়ে দেখি, একই পাতায় দুটো তারিখ লেখা। ওর প্রথম ফলো-আপ আর আমার নিজের প্রসব-পরবর্তী চেকআপ একই সকালে, একই হাসপাতালে। মা হেসে বললেন, ছেলেটা নিজেই সব গুছিয়ে এনেছে। সেদিন থেকে আমাদের পুরো বাড়ির পরিকল্পনা ঘোরে ওই একটা দিনকে ঘিরে। ব্যাগ গোছানো থেকে সেদিনের রান্না পর্যন্ত সব ঠিক হয়ে থাকে আগের রাতেই। সেই তারিখটাই এখন আমাদের কাছে মাসের সবচেয়ে বড় দিন।

ওর ফলো-আপগুলো পাবনাতেই হয়, আর সবকিছু থাকে দরজার পাশে রাখা একটা ব্যাগে। পাবনার নবজাতক বিশেষজ্ঞদের তালিকা এই পেজের নিচে দেওয়া আছে, আর পরিবারের বাকি সবার বেলায় পাবনার সব ডাক্তারের তালিকা তো আছেই।

0 available specialists found

🏜️

No Specialists Found

We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.

একটা ব্যাগ, দুজনের দেখা

একই সকালে দুটো দেখা

আগের রাতেই আমি দুজনের জিনিস এক ব্যাগে গুছিয়ে রাখি। সবার নিচে থাকে ওর ছুটির কাগজ আর খাওয়ার নোট। তার ওপরে বাড়তি মোড়ক আর বদলি পোশাক। পাশের পকেটে আমার নিজের রিপোর্ট, যাতে হাত বাড়ালেই পেয়ে যাই। ভোরবেলা খোঁজাখুঁজি নেই।

সেদিন সকালে স্বামী কাজে ছুটি নেন, আর শাশুড়ি বাড়ি সামলান। বিশেষজ্ঞ আগে ওকে দেখেন: ওজন মাপেন, খাওয়া দেখেন, রাতগুলো কেমন যাচ্ছে জিজ্ঞেস করেন। তারপর স্বামী ওকে নিয়ে বাইরে বসে থাকেন, আমি করিডোর ধরে নিজের চেকআপে যাই।

লিখে দেওয়া নিয়মেই চলছে আমাদের ঘর

হাসপাতালের ডাক্তাররা ওর জন্য যে খাওয়ার পরিকল্পনা লিখে দিয়েছেন, এই বাড়িতে তা চলছে হুবহু লেখা মতো, তাঁদের ঠিক করা সময়ে আর পরিমাণে। তাঁরা ওর জন্য যে ওষুধ শুরু করেছেন, সেটাও তেমনই চলছে। ও শান্ত হয়ে ঘুমাচ্ছে দেখে এখানে কেউ খাওয়া বাদ দেয় না, আগেভাগে কাঁদল বলেও কেউ বাড়তি খাওয়া দেয় না।

ওই কাগজে বদল লাগলে বদলাবেন ওর চিকিৎসায় থাকা ডাক্তাররাই, ওকে দেখার পর। সেই সিদ্ধান্ত আমাদের রান্নাঘরের টেবিলে হয় না।

যে লক্ষণে ক্যালেন্ডারের হিসাব থাকে না

একদিনে দুটো দেখা সুবিধার বটে, কিন্তু সত্যিকারের বিপদে অপেক্ষা করার কারণ হতে পারে না। শ্বাস নিতে কষ্ট হলে, কিংবা শ্বাস মাঝে মাঝে থেমে গেলে, আমরা সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যাই। মুখ বা ঠোঁটের রং ফিকে হয়ে ধূসর দেখালেও একইভাবে যাই।

একের পর এক খাওয়া ফিরিয়ে দেওয়াও তাই। বয়স এক মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই জ্বর, থামানো যায় না এমন কাঁপুনি, আর শরীর নিস্তেজ হয়ে জাগাতে কষ্ট হওয়াও তাই। গায়ে হলদে রং আরও ছড়িয়ে গিয়ে ও যদি খাওয়ার মতো করে জাগতে না পারে, আমরা বাড়িতে বসে দেখি না। রওনা হয়ে যাই।

সময় এলে যাব শিশু বিশেষজ্ঞের কাছে

এই নবজাতকের দেখাগুলো চিরদিন চলবে না। এই প্রথম সময়টা পেরিয়ে বড় হতে থাকলে ওর নিয়মিত যত্ন যাবে শিশুদের ডাক্তারের কাছে। সেই বদলের কথা ভেবে আগে থেকে পরিকল্পনা করা পরিবারগুলো পাবনার শিশু বিশেষজ্ঞদের তালিকা দেখে রাখে। আপাতত ওর নবজাতকের ফলো-আপই চলছে।

আত্মীয়স্বজন যা জানতে চান

সত্যিই কি একই সকালে দুজনকেই দেখানো হয়ে যায়?

এখন পর্যন্ত হ্যাঁ। ওর ফলো-আপ আর আমার চেকআপ একই হাসপাতালে, কাছাকাছি দুটো জায়গায়। আগে ওরটা বুক করি, তারপর ঠিক পরেরটায় আমারটা।

ওর তারিখ বদলে গেলে কিন্তু আপনারটা না বদলালে?

তাহলে দুবার যেতে হবে, একই ব্যাগ দুবার গুছিয়ে। দেখার মাঝের দিনগুলোতে বাড়িতে ওর যত্নের কিছুই বদলায় না।

আপনি নিজের চেকআপে ভেতরে থাকলে ওকে কে ধরে রাখেন?

আমার স্বামী। ব্যাগ আর খাওয়ার নোট নিয়ে তিনি বাইরে বসে থাকেন। আমি বেরিয়ে এলেই আমরা জায়গা বদল করি।

ওর বিশেষজ্ঞ কি আপনার শরীরের খোঁজও নেন?

তিনি জিজ্ঞেস করেন আমি কেমন খাচ্ছি আর ঘুমাচ্ছি, কারণ ওর খাওয়া আমার ভালো থাকার ওপর নির্ভর করে। এর বাইরে কিছু থাকলে তা আমার নিজের ডাক্তারের কাছে যাবে।

আমাদের তারিখ কখনো এমন মেলে না। কী কী সঙ্গে নেব?

একই জিনিস: ওর কাগজপত্র, খাওয়ার নোট আর বাড়তি মোড়ক। তারিখ মিললে একটা যাওয়া বাঁচে, বাকি কিছু বদলায় না।

দেখার আগের রাতে ওর শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করব?

না। শ্বাসের কষ্ট দেখার তারিখের জন্য অপেক্ষা করে না। সেদিন রাতেই আমরা ওকে হাসপাতালে নিই, ফলো-আপ পরে হলেও চলবে।

Ad

Sponsor Space Available

Place your banner here to reach thousands of patients daily.

Sponsored

Grow Your Practice

Premium placement for hospitals & doctors.