সেরা নবজাতক বিশেষজ্ঞ - নোয়াখালী
বোনটা কি একটু বড় হলো আজ?
আমার মেয়ে সময়ের আগে আসেনি। ও এসেছে ঠিক নির্ধারিত তারিখেই, শুধু আশেপাশে জন্মানো বাচ্চাদের তুলনায় অনেক ছোট হয়ে। লোকে এখনো জিজ্ঞেস করে, কী সমস্যা হয়েছিল। সত্যি বলতে আমাদের কাছে কোনো উত্তর ছিল না। হাসপাতালের ডাক্তাররা বললেন, এত ছোট নবজাতককে যেভাবে কাছ থেকে দেখতে হয়, ওকেও সেভাবেই দেখতে হবে। সেই থেকে ওর প্রথম সপ্তাহগুলো চলছে খাওয়া, ওজন মাপা আর অনেকটা ধৈর্য নিয়ে।
প্রতিদিন সকালে আমার ছয় বছরের ছেলে ওর দোলনার পাশে দাঁড়িয়ে একই প্রশ্ন করে। বোনটা বড় হয়েছে? কোনো সকালে বলতে পারি, হ্যাঁ, একটুখানি। কোনো সকালে সৎ উত্তরটা হলো, এখনো তেমন না। দুটো উত্তরই ও বাচ্চাদের মতো মেনে নেয়, তারপর স্কুলের জন্য তৈরি হতে যায়। ওর এই প্রশ্নটাই এখন আমাদের ঘরের ঘড়ি হয়ে গেছে। পাড়ার লোকজনও ওর দেখাদেখি এখন এই প্রশ্নটাই করে।
ওর দেখা হয় নোয়াখালীরই একজন নবজাতক বিশেষজ্ঞের কাছে। তিনি ওর ওজন মাপেন, খাওয়া দেখেন, আর কেমন আছে সোজাসুজি বলে দেন। এই পেজের নিচের দিকে নোয়াখালীর নবজাতক বিশেষজ্ঞদের তালিকা আছে। আমাদের বাকিদের জন্য নোয়াখালীর ডাক্তারদের তালিকাও সেখানেই রয়েছে।
0 available specialists found
No Specialists Found
We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.
বোনটা কি একটু বড় হলো আজ?
প্রতিদিন সকালের প্রথম প্রশ্ন
প্রশ্নটা আসে নাশতার আগে, স্কুলের শার্টের বোতাম লাগানোর আগেই। দোলনার পাশে দাঁড়িয়ে ও বোনকে এমনভাবে দেখে, যেন মাঠের ফসল দেখছে কোনো চাষি। ওর গতিতে বাড়া একদিনে চোখে পড়ে না। একবারের ওজন থেকে পরের ওজন পর্যন্ত তা ধীরে ধীরে বোঝা যায়, আর বিশেষজ্ঞ সেই সংখ্যাগুলো আমাদের সঙ্গে মিলিয়ে দেখেন। ততদিন ওর সকালের প্রশ্নটা পুরো পরিবারকে মনে করিয়ে দেয়, ও এখনো কতটা ছোট।
অপেক্ষা করার সুযোগ যেখানে নেই
ছোট বলে ওকে আমরা দুর্বল ভাবি না, কিন্তু যেসব লক্ষণে সব আলোচনা থেমে যায়, সেগুলো আমরা চিনি। শ্বাস নেওয়া ভারী হয়ে গেলে পথে বেরিয়ে পড়ি, শ্বাস থেমে গেলেও তাই। মুখের রং নীলচে বা ধূসর হয়ে গেলেও তাই। পরপর খাওয়া ফিরিয়ে দেওয়া ওর বয়সে জেদ নয়। এক মাস বয়স হওয়ার আগের জ্বরকেও হালকা ভাবি না। কাঁপুনি কিংবা শরীর নেতিয়ে গিয়ে না জাগলেও কথা সেখানেই শেষ। গভীর ঘুমে থেকে খেতে না পারার মতো হলদে রং গাঢ় হলেও আমরা রাতভর দেখি না। হাসপাতালে নিয়ে যাই।
পরিমাণটা হাসপাতালের দেওয়া, আমাদের নয়
হাসপাতাল থেকে ওর খাওয়ার পরিমাণ আর মাঝের সময় ঠিক করে দেওয়া হয়েছে, আমাদের ঘর চলে সেই হিসাবেই। অতিথিরা বাড়তি খাওয়াতে বললে আমরা হেসে ঘড়ির দিকে তাকাই। একটু বাড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত আমাদের নেওয়ার নয়। ডাক্তারদের শুরু করা ওষুধ বন্ধ করাও আমাদের কাজ নয়। ওর পরিকল্পনায় বদল এলে আসবে দেখার দিনে, বিশেষজ্ঞ ওকে পরীক্ষা করার পরেই।
বড় মেয়ের ডাক্তার, আরও সামনে
একদিন এই নবজাতকের দেখাগুলো ও পেরিয়ে যাবে, ওর নিজের গতিতেই, যেমন সবকিছুই হচ্ছে। তখন ওর দেখভাল যাবে শিশু ডাক্তারের কাছে, আর আমার ছেলে প্রশ্নগুলো সেখানে গিয়ে করবে। আমরা আগেভাগেই নোয়াখালীর শিশু বিশেষজ্ঞদের তালিকা দেখে রেখেছি, যাতে পরের ধাপে ছোটাছুটি না লাগে।
উঠোনে দাঁড়িয়ে লোকে যা জিজ্ঞেস করে
ও তো তারিখ মেনেই এসেছে, আগেভাগে না। তবু নবজাতক বিশেষজ্ঞ কেন?
ছোট মানে ছোট, যখনই জন্ম হোক। জন্মের সময়ের ওজনই ওকে আগেভাগে জন্মানো বাচ্চাদের মতো কাছ থেকে দেখার মধ্যে ফেলেছে। হাসপাতালের পরামর্শ ছিল এটাই, আমরা সেটাই মেনেছি।
ওর এই ধীর গতি ঠিক আছে কিনা, বিশেষজ্ঞ বুঝবেন কীভাবে?
একবারের ওজন দিয়ে নয়। তিনি কয়েকটা দেখা পাশাপাশি রেখে বিচার করেন, ওর খাওয়া দেখেন, রং আর গায়ের জোর দেখেন। একটা সংখ্যায় কিছু ঠিক হয় না।
দেখায় দেখায় ওজন কম বাড়লে কি বুঝতে হবে খাওয়ায় ভুল হচ্ছে?
শুধু তাতে নয়, আমাদের এমনটাই বলা হয়েছে। কোনো কোনো ছোট বাচ্চা ধীরে ধীরে কিন্তু নিয়মিত বাড়ে। আসল হলো দেখাগুলো জুড়ে ধরনটা, আর সেটাই তাঁর নজরে থাকে।
যেদিন ও প্রায় বাড়েইনি, সেদিন ছেলেকে কী বলেন?
সত্যিটাই, ওর ভাষায়। বাড়তে সময় লাগে, যেমন ওর পড়া শিখতে লাগছে। ও গম্ভীরভাবে মাথা নেড়ে দাদীকে খবরটা পৌঁছে দেয়।
ওর নানী পাড়ার অন্য বাচ্চাদের সঙ্গে তুলনা করেন। আপনি কী করেন?
আলতোভাবে সামলাই। পাড়ার প্রতিটা বাচ্চা আলাদা ওজন নিয়ে শুরু করেছে। আমাদের মেয়ের নিজের হিসাবটাই যে আসল, সেটা তাঁকে মনে করিয়ে দিই।
আজ রাতে ওর শ্বাস ভারী লাগছে, শরীরটাও অস্বাভাবিক স্থির। পরের দেখা চার দিন পরে। এটা কি অপেক্ষা করা যাবে?
না। ভারী শ্বাস এই ঘরে দেখার দিনের অপেক্ষা করে না। সেই রাতেই হাসপাতালে নিয়ে যাই, ফলো-আপের ব্যাপারটা পরে ঠিক হবে।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.