সেরা নবজাতক বিশেষজ্ঞ - নাটোর

বোতলের গায়ে লেখা সময়গুলো

আমার ছেলে নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই পৃথিবীতে এসেছে, আর এতটাই ছোট ছিল যে দেখে বুক কেঁপে উঠত। ওকে খাওয়ানো ছিল পুরো পরিবারের ধৈর্যের কাজ। নার্সরা আমাকে দেখিয়ে দিলেন, দুধ বের করে ছোট ছোট বোতলে রাখলে অন্যরাও ওকে খাওয়াতে পারবে। বাড়িতেও আমরা সেই নিয়মই চালিয়ে গেলাম। প্রতিটা বোতলের গায়ে টেপ লাগাই, টেপের ওপর সময়টা লিখে রাখি।

বোতলগুলো থেকে বেশিরভাগ খাওয়া ওর বাবাই দেন। সময় হলে তিনি সবচেয়ে আগের সময় লেখা বোতলটা নিয়ে ছেলেকে কোলে তুলে বসেন। তখন আমি হয় বিশ্রাম নিই, নয়তো পরের বোতলগুলো তৈরি করতে বসি। মাঝে মাঝে তিনি খাওয়াতে খাওয়াতে ঘুমিয়ে পড়া ছেলের দিকে তাকিয়ে হাসেন। টেপটাই সব বিতর্ক শেষ করে দেয়। কোন বোতলটা আগে, কাউকে জিজ্ঞেস করতে হয় না। রাত তিনটায় কাউকে কিছু মনেও রাখতে হয় না।

ওর ফলো-আপ হয় নাটোরেরই একজন নবজাতক বিশেষজ্ঞের কাছে। তিনি ধীরে ধীরে ওকে পরীক্ষা করেন, প্রতিটা বোতলে কতটুকু খেয়েছে জিজ্ঞেস করেন। শ্বাস আর খাওয়ার ধরন দেখে তারপর সিদ্ধান্ত দেন। এই পেজের নিচের অংশে নাটোরের নবজাতক বিশেষজ্ঞদের তালিকা আছে। পরিবারের বাকিদের জন্য নাটোরের ডাক্তারদের সাধারণ তালিকাও সেখানেই পাবেন।

0 available specialists found

🏜️

No Specialists Found

We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.

বোতলের গায়ে লেখা সময়গুলো

সারি ধরে রাখা বোতলগুলো

আমাদের রান্নাঘরের তাকে দিনের বোতলগুলো সারি ধরে থাকে, আগেরটা আগে। প্রতিটার টেপে লেখা থাকে কোন সময়ে ভরেছি। ধোয়া, ভরা, টেপ লাগানো, আবার ধোয়া। এখন আমার বিকেলগুলো এভাবেই ঘোরে। মা এলে খালি বোতলগুলো গুনে জিজ্ঞেস করেন, সবগুলো খেয়েছে তো। কোনো দিন সারিটা তাড়াতাড়ি ফুরায়, কারণ ও ভালো খেয়েছে। কোনো দিন একটা বোতল আধা খাওয়া ফেরত আসে, সেটাও লিখে রাখি, যাতে বিশেষজ্ঞ ওর পুরো সপ্তাহের ছবিটা পান।

সময়ও বদলাই না, পরিমাণও না

বাড়ি পাঠানোর সময় ডাক্তাররা ওর খাওয়ার সময় আর পরিমাণ ঠিক করে দিয়েছিলেন, একটা ওষুধও শুরু করেছিলেন যেটা এখনো চলছে। বোতল চলে সেই সময়ে, ওষুধ চলে তাঁদের কথায়। ঘর ব্যস্ত বলে আমরা সময় পিছিয়ে দিই না। ক্ষুধা বেশি লাগছে মনে হলেও একটু বাড়িয়ে দিই না। এসবের বদল আসবে ওর চিকিৎসকদের কাছ থেকেই। তাঁরা ওকে দেখবেন, পরীক্ষা করবেন, তারপর ঠিক করবেন।

আরেকজন ডাক্তারের কাছে, আরও পরে

চিরদিন ও বোতলের দুধ খাওয়া নবজাতক থাকবে না। মাসে মাসে বড় হয়ে একটা সাধারণ বাচ্চা হবে ও, তখন ওর নিয়মিত দেখভাল যাবে শিশু ডাক্তারের কাছে। সেই দিনের কথা ভেবে নাটোরের শিশু বিশেষজ্ঞদের তালিকা আমরা এখন থেকেই হাতের কাছে রেখে দিয়েছি।

যে লক্ষণে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়ি

কিছু লক্ষণ দেখলে এই ঘর মিনিটের মধ্যে খালি হয়ে যায়। শ্বাস টানতে গিয়ে কষ্ট পেলে আমরা বেরিয়ে পড়ি। শ্বাস থেমে থেমে এলেও তাই। মুখের রং বদলে নীলচে বা ধূসর হয়ে গেলেও একই কথা। একটা খাওয়া ফিরিয়ে দিলে আমরা লিখে রাখি। কিন্তু পরপর খাওয়া ফিরিয়ে দিলে হাসপাতালের পথ ধরি। জ্বর এলেও তাই করি, কারণ ওর বয়স তখনো এক মাস হয়নি।

থামানো যায় না এমন কাঁপুনি দেখলেও বেরিয়ে পড়ি। শরীর নেতিয়ে গিয়ে জাগাতে কষ্ট হলেও অপেক্ষা করি না। গায়ে হলদে রং ছড়িয়ে গভীর ঘুমে থাকলেও সকাল পর্যন্ত রাখি না।

বোতল ধোয়ার ফাঁকে মনে আসা প্রশ্ন

প্রতিটা বোতলে টেপ লাগান কেন?

টেপের সময়টাই বলে দেয় কোন বোতলটা আগে দিতে হবে। রাতে দুজন মিলে একই খাওয়া দুবার তৈরি করার ভুলও এতে হয় না।

একটা বোতল পুরো না খেয়ে রেখে দিলে কী করেন?

কতটুকু বাকি রইল লিখে রাখি। পরের দেখায় বিশেষজ্ঞ বাকি অংশের কথাই আগে জিজ্ঞেস করেন। আমরা কিছু লুকাই না।

আপনার স্বামী কি রাতের বোতলগুলো একাই সামলাতে পারেন?

পারেন, কারণ টেপই মনে রাখার কাজটা করে। তিনি পরপর বোতল দেন, কতটুকু খেল লিখে রাখেন। আমি ঘুমাই, ভোরের আগে আমি দায়িত্ব নিই।

ঘরে ঢুকেই বিশেষজ্ঞকে প্রথমে কী বলেন?

বোতলের হিসাবটা। কতটুকু খেয়েছে, খাওয়ার ফাঁকে কেমন ঘুমিয়েছে, রংটা কেমন লাগছিল। তারপর তিনি নিজে ওকে পরীক্ষা করে কথা বলেন।

টেপ খুলে গিয়ে সময়টা হারিয়ে গেলে কী হবে?

একবার হয়েছিল। আন্দাজ না করে সেই বোতলটা আমরা আলাদা করে রেখে দিয়েছিলাম। এত ছোট বাচ্চার বেলায় আন্দাজ করতে দুজনেরই মন সায় দেয়নি।

মাঝরাতে ওর মুখ ধূসর লাগছে, শরীর নেতিয়ে আছে, ঠিক তখনই একটা বোতলের সময়। আগে খাওয়াবেন, নাকি বেরোবেন?

বেরিয়ে পড়ুন। নেতিয়ে যাওয়া বাচ্চাকে আগে খাইয়ে দেখা চলে না। সোজা হাসপাতালে নিন, বাকি দায়িত্ব সেখানকার ডাক্তারদের হাতে ছাড়ুন।

Ad

Sponsor Space Available

Place your banner here to reach thousands of patients daily.

Sponsored

Grow Your Practice

Premium placement for hospitals & doctors.