সেরা নবজাতক বিশেষজ্ঞ - নারায়ণগঞ্জ

ছুটির দিনটা দুইবার পিছিয়ে গেল

মেয়ে জন্ম নিল সময়ের আগেই। আর মা হয়েও ওকে ঠিকমতো প্রথম দেখাটা আমার হয়েছে বেশ দেরিতে। প্রসবটা ছিল লম্বা আর কঠিন, প্রথম কয়েক দিন বিছানায় উঠে বসতেই আমার খুব কষ্ট হতো। নার্স আমাকে ধরে ওর পাশের চেয়ারটায় বসিয়ে দিতেন, কিন্তু একবারে বেশিক্ষণ বসে থাকা যেত না। শরীরের ব্যথা আর দুর্বলতা আমাকে আবার বিছানায় ফিরিয়ে নিত, আর আমি শুয়ে শুয়ে শুধু খবরের অপেক্ষা করতাম।

আমি যেখানে থাকতে পারিনি, সেখানে ছিলেন আমার মা। সারা দিন তিনি হাসপাতালে থাকতেন, নার্সদের কাছ থেকে মেয়ের নিয়মকানুন শিখে নিতেন, সন্ধ্যায় ফিরে আমাকে সব বলতেন। ডাক্তাররা দুইবার বাড়ি যাওয়ার দিন ঠিক করেছিলেন। দুইবারই সেই দিন এল, আর দুইবারই একই কথা শুনলাম, আরও দুই দিন। তাঁরা তখনো দেখছিলেন, ও ঠিকঠাক খেতে পারছে কিনা, ওজনটা ধরে রাখতে পারছে কিনা, গায়ের রংটা স্থির হচ্ছে কিনা। পাশের ওয়ার্ডে শুয়ে ধীরে ধীরে সেরে উঠতে উঠতে ওই কথাটা আমার মুখস্থ হয়ে গিয়েছিল।

এখন ও বাড়িতেই আছে, আর ওর ফলো-আপ দেখাগুলো এখানেই চলছে একজন নবজাতক বিশেষজ্ঞের কাছে। আমি নিজে চলাফেরা করতে পারার আগেই ওই বিশেষজ্ঞকে খুঁজে বের করেছিলেন আমার মা। নিচে নামতে থাকলেই নারায়ণগঞ্জের নবজাতক বিশেষজ্ঞদের প্রোফাইলগুলো চোখে পড়বে। আরও বিস্তারিত খুঁজতে চাইলে নারায়ণগঞ্জের ডাক্তারদের সাধারণ তালিকাটাও ব্যবহার করতে পারবেন।

0 available specialists found

🏜️

No Specialists Found

We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.

ছুটির দিনটা দুইবার পিছিয়ে গেল

বাড়ি ফেরার তারিখটা সরে যেতেই থাকল

ওর ব্যাগটা আমরা দুইবার গুছিয়েছিলাম। প্রথমবার আত্মীয়দের বলাও হয়ে গিয়েছিল, ও বাড়ি আসছে। তারপর সকালের রাউন্ড হলো, আর তারিখটা সরে গেল। দ্বিতীয়বার ডাক্তারদের দেখা শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমি কাউকে ব্যাগ গোছাতে দিইনি। কাগজে ছোট ব্যাপার হলেও ওয়ার্ডের বিছানায় শুয়ে অন্যের মুখে নিজের বাচ্চার খবর শোনার কাছে তা ছোট নয়।

ডাক্তাররা কীসের অপেক্ষা করছেন, তা লুকোনো ছিল না। সারা দিন ঠিকমতো খাওয়া, ওজনটা এক লাইনে ধরে রাখা, গায়ের রং শান্ত হওয়া। এখন ফলো-আপে বিশেষজ্ঞও সেই জিনিসগুলোই দেখেন, আগে পরীক্ষা করে।

যে লক্ষণ দেখলে এক ঘণ্টাও বসে থাকা যাবে না

বাড়ি আসার আগে মাকেও শেখানো হয়েছিল, কোন লক্ষণে সব অপেক্ষা বাতিল। শ্বাস টানতে গিয়ে ও হাঁসফাঁস করলে, কিংবা শ্বাসের মাঝে লম্বা থামা এলে আমরা বেরিয়ে পড়ব। মুখের রং ফিকে হয়ে নীলচে কিংবা ধূসর দিকে গেলেও তাই।

পর পর খাওয়া ফেরত দেওয়াটাও সেই তালিকায় আছে। জ্বর এলেও তাই, বয়স তখন মাস ছোঁয়ার আগে থাকলে। শরীরে কাঁপুনি ধরলেও তাই। গা নেতিয়ে গেলে, জাগানো কঠিন হলেও তাই। গায়ের হলদে ভাব চারদিকে বাড়তে থাকা অবস্থায় ও খাওয়ার জোর না পাওয়ার মতো ঘুমিয়ে থাকলেও একই কথা। দিন হোক রাত হোক, এক ঘণ্টায় রওনা হব।

বাড়িতে ওর নিয়মে কেউ হাত দেয় না

ও বাড়ি এসেছে নির্দিষ্ট একটা খাওয়ার নিয়ম আর একটা ওষুধ নিয়ে, দুটোই শুরু করেছিলেন জন্ম থেকে ওকে দেখে আসা ডাক্তাররা। দুটোই চলছে হাতে পাওয়ার দিনে যেমন ছিল, হুবহু তেমন। নিয়মটা কার হাত ফাঁকা তার ওপর বদলায় না, যদিও হাসপাতালে বেশিরভাগ খাওয়া আমার হাতে হয়নি।

আমার মা মনে হওয়া বাড়তি খাওয়া যোগ করেন না। ও শান্তিতে ঘুমাচ্ছে বলে আমিও কোনোটা বাদ দিই না। বদল এলে আনবেন ওর ডাক্তাররাই, ওকে পরীক্ষা করে। কাজটা তাঁদেরই।

নবজাতকের দেখা শেষ হলে শিশু ডাক্তারের পালা

নবজাতক হিসেবে এই ঘন ঘন দেখাগুলো একসময় শেষ হবে। এই ধাপ পেরিয়ে ও যত বড় হবে, ওর নিয়মিত যত্নের দায়িত্ব তত যাবে শিশুদের একজন ডাক্তারের হাতে। সেই বদলির জন্য পরিবার আগেভাগেই নারায়ণগঞ্জের শিশু বিশেষজ্ঞদের তালিকাটা তৈরি রেখেছে, মা আমার সুস্থ হওয়ার দিনগুলোতে বাকি সব যেভাবে তৈরি রেখেছিলেন।

সেরে ওঠার পথে থাকা এক মায়ের জিজ্ঞাসা

আমার মা ওর নিয়মটা আমার চেয়ে ভালো শিখে ফেলেছেন। এতে কি এখন কোনো সমস্যা হবে?

তখন ওটা দরকার ছিল, এখনো কাজে লাগছে। বাড়িতে তিনি আমাকে খাওয়া ধরে ধরে শিখিয়ে দিয়েছেন, নার্সরা তাঁকে যেভাবে শিখিয়েছিলেন।

তারিখটা দুইবার পিছল। তার মানে কি বড় কোনো সমস্যা হয়েছিল?

মানে, ডাক্তাররা নির্দিষ্ট কিছুর অপেক্ষায় ছিলেন, প্রতিবার বলেও দিয়েছিলেন। ফলো-আপে আমি বিশেষজ্ঞকে বলেছিলাম, প্রথম সপ্তাহগুলোর কথা আরেকবার বুঝিয়ে দিতে। খাওয়া ধরা বাচ্চাকে ধরে ধীরে শুনতে শুনতে কথাগুলো মনে গেঁথেছিল সহজে।

আমি এখনো যেতে না পারলে আমার স্বামী কি বিশেষজ্ঞকে আমার প্রশ্নগুলো করতে পারবেন?

পারবেন। তিনি আমার প্রশ্নগুলো লিখে নিয়ে যেতেন, সন্ধ্যাতেই উত্তর এনে দিতেন। বাচ্চা নিয়ে আপনি যা খেয়াল করেছেন, তা তাঁর হাতে পাঠানোর মতোই।

কবে থেকে আমি নিজে ওকে কোলে নিয়ে দেখাতে যেতে পারব?

সেটা আপনার সেরে ওঠার ওপর; আমার বেলায় এসেছে ধাপে ধাপে। দেখার দিনে নিজের শরীরের কথাটাও বলবেন, বিশেষজ্ঞ মায়ের খোঁজও নেন, শুধু বাচ্চার নয়।

প্রথম তারিখেই ওকে বাড়ি আনার জন্য আমরা কি ডাক্তারদের চাপ দিলে ভালো হতো?

তারিখের দায়িত্ব ছিল তাঁদেরই; দিনের পর দিন ওকে দেখছিলেন তাঁরাই। তাড়ার চাপে ওর দেখানো বাকি জিনিসগুলো বদলাত না।

আজ রাতে ওকে খাওয়ার সময় ডেকেও তোলা যাচ্ছে না, মুখটাও ফিকে ধূসর। পরের খাওয়াটা আগে চেষ্টা করব?

না। জাগানো যাচ্ছে না, মুখ ফিকে ধূসর, এমন বাচ্চাকে তখনই হাসপাতালে নিন। পরের খাওয়াটা বাড়িতে চেষ্টা করে সময় নষ্ট করবেন না।

Ad

Sponsor Space Available

Place your banner here to reach thousands of patients daily.

Sponsored

Grow Your Practice

Premium placement for hospitals & doctors.