সেরা নবজাতক বিশেষজ্ঞ - ময়মনসিংহ
একটা দোলনা খালি পড়ে ছিল
আমাদের জমজ সন্তান সময়ের আগেই এসেছে, এক মেয়ে আর এক ছেলে। দুজনেই এত ছোট যে জন্মের পর আমার হাতের তালুতেই যেন আঁটত। জন্মের পর ওদের মায়ের শরীরটা বেশ দুর্বল ছিল, প্রথম সপ্তাহটা তাই ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ছুটতে হয়েছে আমাকেই। মেয়ে তাড়াতাড়ি খাওয়া ধরতে শিখল। কয়েক দিন পর ডাক্তাররা ওকে আমাদের সঙ্গে বাড়ি পাঠিয়ে দিলেন। ছেলে থেকে গেল হাসপাতালের নবজাতক ওয়ার্ডে, তখনো সে নিজে সামলানোর মতো বড় হয়নি।
বাড়িতে আমাদের ঘরে পাশাপাশি দুটো দোলনা সাজানো ছিল। প্রথম রাত থেকেই মেয়ে ঘুমাচ্ছে একটায়। আরেকটা গোছানোই পড়ে আছে, পায়ের দিকে ভাঁজ করা ওর ছোট্ট কাঁথাটা রাখা। রোজ সন্ধ্যায় কাজ শেষে আমি হাসপাতালে যাই, ওর পাশে বসি ঘণ্টাখানেক। নার্সরা বলেন, সারা দিনে ও কতটা খেল, কেমন ঘুমাল, ওজন কতটা এগোল। বাড়ি ফিরে মেয়েকে খাওয়াতে খাওয়াতে ওর মা আমার মুখে সেই খবরগুলোই শোনেন, একটা কথাও বাদ না দিয়ে।
মেয়ের ফলো-আপ দেখাগুলো এই শহরেই চলছে, ছেলে বাড়ি এলে ওরগুলোও এখানেই হবে। ময়মনসিংহের নবজাতক বিশেষজ্ঞদের নামগুলো সাজানো আছে এই পেজেরই নিচের অংশে। পরিবারের বাকি দরকারে ময়মনসিংহের ডাক্তারদের বড় তালিকাটাও দেখে রাখতে পারেন।
0 available specialists found
No Specialists Found
We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.
একটা দোলনা খালি পড়ে ছিল
সন্ধ্যা ছেলের কাছে, রাত মেয়ের পাশে
আমার দিনগুলো এখন একটা ছকে বাঁধা। সকালে কাজ, সন্ধ্যায় হাসপাতালে এক ঘণ্টা, তারপর বাড়িতে যে জমজটা আছে তার কাছে ফেরা। ওই এক ঘণ্টা ওকে বুকে তুলে দেখি, খাওয়াটা কীভাবে নিচ্ছে। ও তাড়াতাড়ি ক্লান্ত হয়ে যায়। কোনো সন্ধ্যায় পুরো খাওয়াটা শেষ করে, কোনো সন্ধ্যায় মাঝপথেই ঘুমিয়ে পড়ে।
সপ্তাহের বাকি অংশটা জুড়ে থাকে মেয়ের দেখাগুলো। প্রতিবার বিশেষজ্ঞ ওকে পরীক্ষা করেন, খাওয়া, ওজন আর গায়ের রংটা মিলিয়ে দেখেন। বুঝিয়ে বলেন, তিনি কী খেয়াল রাখছেন আর কেন তা জরুরি। ছেলে বাড়ি এলে ওকেও এই বিশেষজ্ঞই দেখবেন। তার আগে পর্যন্ত, আমাদের অপেক্ষার হিসাব ক্যালেন্ডারের চেয়ে ভালো রাখে ওই খালি দোলনাটা।
দুটো বাচ্চা, দুটো নিয়ম, বদলাবেন শুধু চিকিৎসকরা
দুজনের নিয়ম আলাদা আলাদা। মেয়ে বাড়ি এসেছে নির্দিষ্ট খাওয়ার নিয়ম আর ডাক্তারদের শুরু করা একটা ওষুধ নিয়ে। দুটোই চলছে হুবহু যেভাবে ঠিক করে দেওয়া হয়েছিল। ও শান্ত আছে বলে খাওয়ার ঘণ্টা আমরা পিছিয়ে দিই না, সময়ের আগে কাঁদলেও বেশি করে খাওয়াই না।
ছেলের নিয়ম ওর সঙ্গেই বাড়ি আসবে, লিখে দেবেন যাঁরা এখন ওকে দেখছেন। এই বাড়িতে কথাটা আগেই ঠিক করা আছে। নিজে থেকে আমরা নিয়মে কোনো হেরফের করি না। কোনো নিয়মে বদল এলে আনবেন ওদের চিকিৎসকরাই, সামনে বসে বাচ্চাকে পরীক্ষা করার পর।
যে লক্ষণে ঘণ্টা দেখে বসে থাকা যাবে না
দুটো বাচ্চার জন্য আমরা একটাই তালিকা মানি। শ্বাস টানা কষ্টের হয়ে উঠলে কিংবা শ্বাসে লম্বা ফাঁক পড়লে সঙ্গে সঙ্গে বেরিয়ে পড়ি। মুখের রং পালটে নীলচে বা ধূসর দিকে গেলেও একই কাজ। পর পর খাওয়া ফিরিয়ে দিলেও তাই।
জন্মের পর প্রথম মাসটা না পেরোতেই দুজনের যেকোনো একজনের গায়ে জ্বর উঠলেই হাসপাতাল। থামানো যায় না এমন কাঁপুনি, কিংবা শরীর ঢিলে হয়ে গিয়ে জাগানো মুশকিল হলেও তাই। হলদে রংটা শরীরজুড়ে বাড়তে থাকলে আর সেই বাচ্চা ঘুমের ভারে খেতে না চাইলেও আমরা বসে থাকি না। দিন হোক রাত হোক, সেই বাচ্চাকে নিয়ে সোজা হাসপাতালে যাই।
দুজনেই বড় হলে একই শিশু ডাক্তারের কাছে
নবজাতকের সময়টা মেয়ের আগে শেষ হবে, ছেলের একটু পরে। তারপর দুজনকে নিয়মিত দেখবেন বড় শিশুদের একজন ডাক্তার। সেই বদলির সময়টা এলে যাতে খোঁজাখুঁজিতে দেরি না হয়, আমরা আগেভাগেই ময়মনসিংহের শিশু বিশেষজ্ঞদের তালিকাটা গুছিয়ে রেখেছি।
জমজ বাচ্চার বাবাকে লোকে যা জিজ্ঞেস করে
একজন বিশেষজ্ঞই কি দুই জমজকে দেখতে পারবেন?
আমাদের ক্ষেত্রে পারবেন। মেয়েকে যিনি দেখছেন, ছেলে বাড়ি এলেও তিনিই নেবেন। আপনার বেলায় হবে কিনা, দেখার দিনে জিজ্ঞেস করে নিন।
সন্ধ্যায় হাসপাতালে যাওয়ার সময় মেয়েকেও সঙ্গে নিয়ে যান?
না। ও দাদির কাছে বাড়িতেই থাকে, নিজের নিয়মে। ছেলের ওই এক ঘণ্টা শুধু ওরই, মেয়ের সন্ধ্যাগুলোও নির্বিঘ্নে থাকে।
লোকে বলে, জমজ ছেলে সময়ে বোনের সমান হয়ে যায়। আমরা কি শুধু অপেক্ষা করব?
লোকে অনেক ভালো কথা বলে। বাড়ছে কিনা, সেটা মাপা হয় ফলো-আপের দিনে; আঙিনার কথায় ঠিক হয় না। ছেলের দেখাগুলো শুরু হবে ও বাড়ি আসার সপ্তাহেই।
ছেলে বাড়ি এলে ওকে একটু বাড়তি খাওয়াব, যাতে বোনের সঙ্গে পার্থক্যটা কমে?
না। ওর পরিমাণ ঠিক হবে ওর নিজের আকারে, বোনেরটা দেখে নয়। বাড়তি দিলে ডাক্তারদের তুলে দেওয়া নিয়মটাই এলোমেলো হয়ে যেতে পারে।
ওই সন্ধ্যার এক ঘণ্টা থেকে ওর মায়ের জন্য কী খবর আনেন?
নার্সরা যা বলেন, সবই। কতটা খেল, কতক্ষণ ঘুমাল, নতুন কী খেয়াল করলেন। ওর মা শোনেন মন দিয়ে, আর মেয়ের দেখার দিনে খবরটা বিশেষজ্ঞের কানেও যায়।
রাত তিনটায় একজনের মুখ ধূসর দেখাচ্ছে আর শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। সবার আগে কী করব?
সবার আগে হাসপাতাল। সেই বাচ্চাকে তখনই নিয়ে বেরিয়ে পড়ি; বাকি সব পড়ে থাকে। শ্বাসের কষ্ট আর ধূসর মুখ ভোর পর্যন্ত অপেক্ষা করে না।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.