সেরা নবজাতক বিশেষজ্ঞ - লক্ষ্মীপুর

সারারাত বাজে ঘড়ির অ্যালার্ম

আমার মেয়ে সময়ের আগেই জন্মেছে, আর ঘুমায় যেন রাতটা একটানা একটা লম্বা ঘুম। জন্মের সময় ওর শরীরটা ছিল পাখির ছানার মতো হালকা। হাসপাতালে নার্সরা প্রতিটা খাওয়ার জন্য ওকে জাগাতেন, বাড়িতেও সেভাবেই চালাতে বলেছিলেন। এত ছোট বাচ্চা নিজে থেকে খাবার চাইতে পারে না, তাঁরা বলেছিলেন। তাই এখন আমার ফোনের অ্যালার্ম প্রতি দুই ঘণ্টা পরপর বাজে, সারারাত, প্রতিরাত।

অ্যালার্ম বাজলেই আমি উঠে স্ত্রীকে সাহায্য করি। ও মেয়েকে খাওয়ায়, আমি আলো কমিয়ে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে থাকি। মাঝে মাঝে মেয়ে অল্প খেয়েই আবার চোখ বুজে ফেলে। তখন ওকে শুইয়ে দিয়ে পরের অ্যালার্ম পর্যন্ত আমি জেগে থাকি। দিনের বেলা স্ত্রী সামলান, তাই মাঝের সময়টুকুতে তিনি বিশ্রাম নেন। রাতের পালাটা আমার।

ওর ফলো-আপগুলো লক্ষ্মীপুরেই হয়, তাই এমন নবজাতক বিশেষজ্ঞ খুঁজছিলাম যাঁর চেম্বার সহজে পৌঁছানো যায়। আমি নিজে রাত জাগি বলে দূরের চেম্বার আমাদের চলে না। এই জেলার নবজাতক বিশেষজ্ঞদের প্রোফাইল এই পেজে দেওয়া আছে। পাশাপাশি লক্ষ্মীপুরের ডাক্তারদের সাধারণ ডিরেক্টরিতে প্রতিবেশীরা যেসব ডাক্তারের কাছে বাচ্চাদের নিয়ে যায়, তাঁরাও আছেন।

0 available specialists found

🏜️

No Specialists Found

We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.

সারারাত বাজে ঘড়ির অ্যালার্ম

দুই ঘণ্টা পরপর ফোনের ডাক

রুটিন শুরু হয় রাত দশটায়। খাওয়ানো, শুইয়ে দেওয়া, অ্যালার্ম লাগানো, তারপর বাকি সময়টুকুতে যতটুকু ঘুম হয়। মাঝরাতে আবার বাজে, তারপর দুইটায়, তারপর চারটায় যখন আকাশের রং বদলাতে শুরু করে। স্ত্রী বলেন, অ্যালার্ম বাজার আগেই এখন আমি ফোনের দিকে হাত বাড়াই।

আমাদের মেয়ে নিজে থেকে প্রায় জাগেই না। একা ছেড়ে দিলে ওর সবচেয়ে দরকারি খাওয়াগুলোই ঘুমিয়ে পার হয়ে যেত। তাই নিজে চাইতে শেখা পর্যন্ত অ্যালার্মটাই ওর ক্ষুধার কাজটা করে যাচ্ছে।

অ্যালার্ম বদলায় ঘুম, নিয়ম নয়

অ্যালার্ম আমাদের ঘুম বদলেছে, ওর যত্নের নিয়ম বদলায়নি। ছুটির কাগজে হাসপাতালের ডাক্তাররা যে সময়ে খাওয়াতে লিখে দিয়েছেন, খাওয়া চলছে সেই সময়েই, সেই পরিমাণেই। তাঁদের শুরু করা ওষুধও চলছে হুবহু সেভাবে, অ্যালার্ম থাক বা না থাক। ক্লান্ত বলে আমরা ফাঁক বাড়াই না, আগেভাগে ক্ষুধা পেয়েছে মনে হলেও বাড়তি খাওয়া দিই না। এই পরিকল্পনা তাঁদের দেওয়া, বদলাতে হলেও তাঁরাই বদলাবেন।

যে লক্ষণে অ্যালার্ম থামিয়ে হাসপাতালে ছুটব

কোনো কোনো রাতে ঘরের সব অ্যালার্ম বাতিল হয়ে যায়। শ্বাস নিতে কষ্ট হলে বা শ্বাস থেমে গেলে সঙ্গে সঙ্গে রওনা হব। মুখের চারপাশে ধূসর ছোপ দেখলেই রওনা হব। পরপর খাওয়া ফিরিয়ে দেওয়া, এক মাস বয়স হওয়ার আগেই জ্বর, গায়ে কাঁপুনি, শরীর নিস্তেজ হয়ে কিছুতেই না জাগা, সবগুলোর মানেই হাসপাতাল। আরেকটা অ্যালার্মের অপেক্ষা সেখানে চলে না। সারা গায়ে হলদে রং ছড়িয়ে ও গভীর ঘুমে থাকলেও একই কথা। আমরা শুয়ে থেকে ভোরের অপেক্ষা করব না।

অ্যালার্ম থেমে যাওয়ার পরের দিনগুলো

একদিন ও নিজে ক্ষুধায় জেগে উঠবে, এই পুরো রুটিনটাই থেমে যাবে। নবজাতকের সময় পেরিয়ে বড় হতে থাকলে ওর নিয়মিত যত্ন যাবে বাড়ির কাছের শিশু ডাক্তারের কাছে। সেই বদলির জন্য আমরা আগেভাগেই লক্ষ্মীপুরের শিশু বিশেষজ্ঞদের তালিকা গুছিয়ে রেখেছি, যাতে দরকারের সময় নতুন করে খুঁজতে না হয়।

অন্য বাবারা আমাকে যা জিজ্ঞেস করেন

অ্যালার্মে পুরো ঘর জেগে যায়। খাওয়ার সময় ঠিক রাখার আর শান্ত উপায় আছে?

আমি ফোনটা বালিশের নিচে ভাইব্রেশনে রেখে দরজার কাছের দিকে ঘুমাই। উপায় যেটাই হোক, সময় ঠিক রাখাটাই আসল। যেভাবে হোক নির্ভুলে জাগলেই হল।

কোনো কোনো রাতে ও অ্যালার্মের আগেই জেগে যায়। তখন খাওয়াব, নাকি অপেক্ষা করব?

ক্ষুধায় জাগলে আমরা তখনই খাওয়াই, সময়টা লিখে রাখি, পরের খাওয়া সেখান থেকে গুনি। ধরনটা ফলো-আপে বলবেন, যাতে বিশেষজ্ঞ জানতে পারেন।

শিগগিরই আমি কাজে ফিরব। রাতের এই নিয়ম তখন কে ধরে রাখবে?

আমার ভাই সপ্তাহে দুই রাত এসে থাকেন, দুইটার খাওয়ার পাহারাটা স্ত্রীর সঙ্গে তিনিই দেন। আগে থেকে পালা ঠিক করে রাখলে নিয়মটা টিকে থাকে।

ওর ঘুম নিয়ে আমি নিজে বিশেষজ্ঞকে জিজ্ঞেস করতে পারব, নাকি মায়েরই বলা উচিত?

নিজেই জিজ্ঞেস করুন। রাতগুলো আমিই জাগি বলে বিশেষজ্ঞ আমাকে খুঁটিয়ে জিজ্ঞেস করেছিলেন। নিজের চোখে দেখা কথাগুলো বলার মতোই।

বুঝব কীভাবে যে ওর আর দুই ঘণ্টার অ্যালার্ম লাগবে না?

ফলো-আপে ওর ওজন আর খাওয়ার জোর দেখে সিদ্ধান্ত হবে। সেই কথা না শোনা পর্যন্ত অ্যালার্ম বন্ধ করবেন না।

আজ রাতে ও নিস্তেজ হয়ে আছে, কোলে তুলে কথা বললেও জাগছে না। কী করব?

এখনই হাসপাতালে যান। যে বাচ্চাকে জাগানো যায় না, সেটা বাড়িতে সামলানোর খাওয়ার সমস্যা না। পরের অ্যালার্মের অপেক্ষা করবেন না।

Ad

Sponsor Space Available

Place your banner here to reach thousands of patients daily.

Sponsored

Grow Your Practice

Premium placement for hospitals & doctors.