সেরা নবজাতক বিশেষজ্ঞ - কুষ্টিয়া
বুকে জড়িয়ে সারাদিন
আমার ছেলে সময়ের অনেক আগেই এসেছে, এত ছোট যে সে আমার হাতের ওপর শুয়ে থাকতে পারত। হাসপাতালে নার্সরা তাকে আমার খালি বুকের ওপর শুইয়ে দেখিয়ে দিলেন কীভাবে আটকে রাখতে হয়। তাঁরা বললেন, প্রথম দিনগুলোতে সে বেশিরভাগ সময় গায়ে গায়ে লেগে থাকবে, উষ্ণ আর কাছাকাছি। সেইভাবেই সে আমাদের সঙ্গে বাড়ি এল, শাড়ির নিচে আমার বুকে গুঁজে রাখা।
এখন সে প্রায় কোলে কোলেই থাকে। দুপুরের খাওয়ার পর মা ওকে নেন, যাতে আমি খেয়ে একটু চোখ বুজতে পারি। সন্ধ্যায় রান্না শেষ করা পর্যন্ত স্বামী ওকে কোলে রাখেন। যে-ই কোলে নিক, মাথার নিচে হাত রেখে ওর মুখের দিকে তাকিয়ে থাকা চাই। খাওয়া আসে ধীরে ধীরে, অল্প অল্প করে, আর মাঝখানে ও ঘুমিয়ে পড়ে। রাতে ও আমার পাশেই ঘুমায়, বুকের ওপর মাথা রেখে। আমাদের বাড়িতে ওকে কোলে রাখা মানে আদর দেওয়া নয়। এটা হাসপাতালের দেওয়া কাজ।
ওর প্রথম ফলো-আপের তারিখ কাছে এলে আমি কুষ্টিয়ায় নবজাতক বিশেষজ্ঞ খুঁজতে থাকলাম। জেলার নবজাতক বিশেষজ্ঞদের প্রোফাইল এই পেজে দেওয়া আছে। পাশাপাশি কুষ্টিয়ার ডাক্তারদের সাধারণ ডিরেক্টরি ঘেঁটে আশেপাশের পরিবারগুলো যেসব ডাক্তারের কাছে যায়, তাঁদেরও দেখে নিতে পারবেন।
0 available specialists found
No Specialists Found
We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.
বুকে জড়িয়ে সারাদিন
ওর দিন কাটে আমাদের কোলে কোলে
হাসপাতাল ছাড়ার আগে নার্সরা আমাকে ধরনটা দুবার দেখিয়ে দিয়েছিলেন। ওর গাল আমার বুকে, শরীরটা আমার গা ঘেঁষে, পিঠের ওপর হালকা কাপড়। এভাবেই সে সবচেয়ে তাড়াতাড়ি শান্ত হয়। মায়ের কাছে দিলেও মা একই চেয়ারে বসে একইভাবে কোলে নেন।
আমাদের দিনগুলো এখন এর চারদিকেই ঘোরে। গোসল হয় তাড়াতাড়ি, সকালের দিকে ঘরটা যখন সবচেয়ে উষ্ণ থাকে। অতিথিরা বেশিরভাগ সময় দরজা থেকেই ওকে দেখেন, কোলে নেন কম। আমার মেয়ে চেয়ারের পাশে দাঁড়িয়ে ওকে গান শোনায়, এটাই ওর সাহায্য করার ধরন।
কোল বদলায়, নিয়ম বদলায় না
অনেক হাতে ও কোলে ঘোরে, কিন্তু হাত বদলালেও ওর নিয়ম বদলায় না। হাসপাতালের ডাক্তাররা যে খাওয়ার পরিকল্পনা লিখে দিয়েছেন, তা চলছে তাঁদের ঠিক করা সময়ে আর পরিমাণে। তাঁদের শুরু করা ওষুধও চলছে ঠিক সেভাবেই। ও শান্তিতে ঘুমাচ্ছে দেখে আমরা কোনো খাওয়া বাদ দিই না, বাড়তিও দিই না। ওই পরিকল্পনায় বদল এলে তাঁরাই আনবেন, আমরা নই।
একদিন ও কোল ছাড়িয়ে বড় হবে
চিরদিন ওকে এভাবে কাছ থেকে নবজাতক বিশেষজ্ঞের দেখতে হবে না। সাধারণ মজবুত শিশু হয়ে বড় হতে থাকলে ওর নিয়মিত যত্ন যাবে শিশু ডাক্তারের কাছে। সেই সময়ের জন্য এখানকার পরিবারগুলো কুষ্টিয়ার শিশু বিশেষজ্ঞদের তালিকা গুছিয়ে রাখে, যেমন আমরা রেখেছিলাম ওর প্রথম সপ্তাহগুলোর জন্য।
যেদিন কোলে রাখাটা যথেষ্ট হবে না
উষ্ণতা আর কোল আমাদের বাড়িতে অনেক কিছু সামলায়, সবকিছু না। শ্বাস নিতে কষ্ট হলে বা শ্বাস থেমে থেমে এলে আমরা রওনা হব। মুখের রং ফ্যাকাশে হয়ে ধূসর দেখালে রওনা হব। বারবার খাওয়া ফিরিয়ে দেওয়া আর বয়স এক মাস না হতেই জ্বর, দুটোই একই কথা বলে। থামাতে না পারা কাঁপুনি আর শরীর নিস্তেজ হয়ে জাগানো কঠিন হয়ে যাওয়াও তাই। সারা গায়ে হলদে রং ছড়িয়ে গিয়ে ও অতিরিক্ত ঘুমিয়ে থাকলেও একই কথা। এসব আমরা বাড়িতে বসে পার করি না। সোজা হাসপাতালে নিয়ে যাই।
বাড়ি ফেরার পরের সপ্তাহগুলোর প্রশ্ন
সন্ধ্যা হলেই আমার হাত ব্যথা হয়ে যায়। সারাদিনই কি কোলে রাখতে হবে?
নার্সরা বলেছিলেন দিনের বেশিরভাগ সময়, পরিবারের সবাই পালা করে ধরবে। ফলো-আপে বিশেষজ্ঞকে জিজ্ঞেস করুন, আপনার বাচ্চার কত ঘণ্টা দরকার।
আমার মা কি একইভাবে বুকে জড়িয়ে ধরতে পারবেন?
পারেন, আমাদের বাড়িতে তিনি ধরেনই, হেলান দিয়ে বসে ওর মাথা একদিকে ফিরিয়ে। পরিবারের যেকোনো সদস্যকে বিশেষজ্ঞ ধরনটা দেখিয়ে দিতে পারেন।
অতিথিরা সবাই কোলে নিতে চায়। সবাইকে দেব?
আমরা আপাতত পরিবারের মধ্যেই রেখেছি, বাকিরা পাশ থেকে দেখেন। বাইরের লোক কবে থেকে কোলে নিতে পারবে, বিশেষজ্ঞকে জিজ্ঞেস করে নিন।
আমার মেয়ে নিজে কোলে নিতে চায়। ওর বয়স কি হয়েছে?
ও বড় চেয়ারে বসে, হাতের নিচে বালিশ দিয়ে, আর আমি পাশে থাকি। অল্প সময় ধরে, আমি চোখে চোখে রাখি। আমাদের বাড়িতে এভাবেই চলছে।
কবে থেকে ও বিছানায় ঘুমাতে পারবে, আমাদের কোলে না ঘুমিয়ে?
ও মজবুত হতে থাকলে আর খাওয়া ঠিকঠাক চললে এটা বদলায়। আমরা আন্দাজে করিনি, ফলো-আপে জিজ্ঞেস করেছিলাম। ওজন আর খাওয়া দেখে বিশেষজ্ঞ ঠিক করেছেন।
কোলে থাকা অবস্থায় ও যদি নিস্তেজ হয়ে যায় আর রং ফিকে লাগে, পরের খাওয়ার সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করব?
না। নিস্তেজ বাচ্চাকে জাগানো কঠিন হলে দিনরাত যেকোনো সময় হাসপাতালে যেতে হবে। খাওয়া শেষ করার অপেক্ষাও করবেন না।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.