সেরা নবজাতক বিশেষজ্ঞ - খুলনা
খাওয়ার হিসাবের খাতাটা
আমি ওর বাবা। আমাদের মেয়ে খুলনায় জন্মাল নির্ধারিত সময়ের কয়েক সপ্তাহ আগেই, আর প্রথম দিনগুলোয় ও ঠিকমতো খেতেই পারছিল না। চুষতে গিয়ে একটু পরেই ক্লান্ত হয়ে পড়ত, খিদে পেটেই ঘুমিয়ে যেত। হাসপাতালের নবজাতক ওয়ার্ডে নার্সরা ধৈর্য ধরে অল্প অল্প করে খাইয়ে দিতেন।
নিজে সবগুলো খাওয়া শেষ করতে না পারা পর্যন্ত ওকে ছুটি দেওয়া হয়নি। দিনে দিনে ওর চোষার জোর বাড়ল, নার্সরা চার্টে প্রতিটা ধাপ লিখে রাখলেন। শেষমেশ যেদিন ওকে কোলে নিয়ে বেরোলাম, রিকশায় বসে আমার স্ত্রী কেঁদে ফেলল। সেবারের কান্নাটা খুশির।
বাড়িতে এখন খাতাটা থাকে ওর দোলনার পাশেই। প্রতিটা খাওয়ার সময় আর পরিমাণ আমার স্ত্রী তাতে তুলে রাখে। এই ফলো-আপের সপ্তাহগুলোয় খুলনায় একজন নবজাতক বিশেষজ্ঞকে ওর পাশে চাই, যাঁর কাজ জন্মের প্রথম ঘণ্টা থেকেই এমন বাচ্চাদের নিয়ে। DoctorBD24-এর খুলনার ডাক্তারদের তালিকায় জেলার ডাক্তারদের চেম্বারের ঠিকানা আর রোগী দেখার সময় মিলবে। এই পাতার নিচেই নবজাতক বিশেষজ্ঞদের তালিকা দেওয়া আছে, তাই ওর খাওয়ার ফাঁকের সঙ্গে মিলিয়ে সময় বেছে নেওয়া যায়। খাতাটার পাতা ভরছে দিনে দিনে।
0 available specialists found
No Specialists Found
We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.
খাওয়ার হিসাবের খাতাটা
প্রতিটা খাওয়ার হিসাব এই এক খাতায়
খাতাটা সাধারণ একটা স্কুলের অনুশীলনী খাতা। আমার স্ত্রী তাতে সময়ের ঘর টানে, পরিমাণের ঘর টানে, আর পাশে দু-চার শব্দে লিখে রাখে খাওয়াটা কেমন গেল। মন দিয়ে। ধীরে। দুবার ঘুমিয়ে পড়েছিল। সপ্তাহ শেষে পাতাটা এমন একটা ধরন দেখিয়ে দেয়, যা কারো স্মৃতিতে ধরা থাকে না।
প্রতিটা ফলো-আপে বিশেষজ্ঞ ওকে কোলে তোলার আগেই সেই পাতাটা পড়েন। তারপর শ্বাসের ধরন দেখেন, গায়ের রং মেলান, খাতায় লেখা সপ্তাহটার সঙ্গে মিলিয়ে ওজন নেন। বাড়িতে যেটা নিয়ে আমরা দ্বিধায় থাকি, উত্তরটা বেশির ভাগ সময় ওই লাইনগুলোর মধ্যেই পাওয়া যায়।
যেসব লক্ষণে ভোর পর্যন্ত থাকা যাবে না
ওর ডাক্তাররা ছোট্ট একটা তালিকা ধরিয়ে দিয়েছেন, যেগুলো দেখলে ফোন করা বা রাত পোহানোর অপেক্ষা নয়, হাসপাতালই ঠিকানা। কষ্ট করে শ্বাস নেওয়া, কিংবা যেখানে শ্বাস থাকার কথা সেখানে ফাঁক পড়ে যাওয়া। মুখ আর ঠোঁটের রং ফিকে ধূসর কিংবা নীলচে হয়ে ওঠা। সামনে দেওয়া প্রতিটা খাওয়া ঘুরিয়ে দেওয়া। এক মাস বয়স পূর্ণ হওয়ার আগেই জ্বর ওঠা। শরীরে কাঁপুনি ধরা। নিস্তেজ শরীর, কিছুতেই জাগানো যাচ্ছে না। যেদিন ঘুমে খাওয়া পেরিয়ে যায়, সেদিন গায়ের হলদে ভাব আরও গাঢ় হতে থাকা। একটা লক্ষণই যথেষ্ট। আমরা বেরিয়ে পড়ি।
খাতায় লেখা নিয়মের বাইরে কিছু চলবে না
হাসপাতালের ডাক্তাররা ওর খাওয়া যেভাবে ঠিক করে দিয়েছিলেন, সেই পরিকল্পনা বাড়িতে এসেও একটুও বদলায়নি। পরিমাণটা। খাওয়ার ফাঁকটা। চার্টে লেখা ওষুধটা চলছে ওর নামের পাশে লেখা মাত্রাতেই। কঠিন কোনো রাতে খাতাটা হয়তো আমাদের উসকানি দেয়, নিজেরা কিছু বানিয়ে নিই। আমরা বদলে ওই খারাপ খাওয়াটাই লিখে রাখি, ডাক্তারদের জানাই। আমাদের হাতে পরিমাণ কমানো-বাড়ানো কিছুই হয় না। বদলাতে হলে বদলাবেন ওর চিকিৎসায় থাকা ডাক্তাররাই।
নবজাতকের পরের ধাপে যাঁর কাছে যাব
কাছ থেকে দেখা এই ফলো-আপ চিরদিন চলবে না। ও বড় হবে, দেখানোর ফাঁক বাড়বে, একদিন ওর দরকার হবে শিশুকালের সাধারণ অসুখের একজন ডাক্তার। তখন আমাদের পরিবার খুঁজবে খুলনার শিশু বিশেষজ্ঞদের তালিকা থেকে। আপাতত বাড়ি ফেরার প্রথম সপ্তাহ থেকে যে বিশেষজ্ঞ ওর খাতাটা পড়ে আসছেন, আস্থাটা তাঁর উপরেই।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
খাতায় লিখে রাখলে স্মৃতির চেয়ে বাড়তি কী বোঝা যায়?
ধরনটা বোঝা যায়। একটা ধীর খাওয়া পরের দিন শুতে যাওয়ার সময় তেমন কিছু মনে হয় না। সপ্তাহজুড়ে লিখে রাখলে বিশেষজ্ঞ ঠিক বুঝতে পারেন, ওর খাওয়া কোন দিকে এগোচ্ছে। পাতাটা সৎভাবে মনে রাখে। আমরা রাখি না।
প্রথম সপ্তাহে ওর চোষার জোর কেমন ছিল?
খুবই কম। কয়েক টান দিয়েই হাঁপিয়ে যেত, বাকিটা ঘুমে চলে যেত। নার্সরা প্রতিটা খাওয়ায় ওকে চেষ্টা করতে দিয়েছেন, মাঝে বিশ্রাম দিয়েছেন, তাড়া দেননি কখনো। জোরটা দিনে দিনে বেড়ে একসময় ও নিজেই খাওয়া শেষ করতে শিখল।
স্ত্রী বিশ্রাম নিলে আমি নিজে খাওয়াতে পারব?
পারবেন, আমি তো বেশির ভাগ রাতেই খাওয়াই। পরিকল্পনায় লেখা পরিমাণটাই মানি, খাওয়া শেষে খাতায় তুলে দিই। যে-ই খাওয়াক, হিসাবটা যেন সম্পূর্ণ থাকে।
দেখায় গেলে বিশেষজ্ঞ আমাদের খাতাটা কীভাবে কাজে লাগান?
আগে খাতাটাই পড়েন, ওকে পরীক্ষা করারও আগে। তারপর ওজন নেন, সপ্তাহটা আসলে কেমন গেছে তার সঙ্গে মিলিয়ে শ্বাস আর গায়ের রং দেখেন। সিদ্ধান্ত আসে দুটোর পরেই, আগে কখনো নয়।
বাড়িতে এসে আবার খাওয়া পিছিয়ে গেলে কী করব?
পরের তারিখ দূরে থাকলে সেটার অপেক্ষায় না থেকে সঙ্গে সঙ্গে জানিয়ে দেব। এক-দুই দিনের খারাপ খাওয়া খাতায় উঠবে, ডাক্তারদের কানে যাবে। পিছিয়ে যাওয়াটাও এমন তথ্য, যা তাঁরা আগেভাগেই চান।
মাঝরাতে ওর মুখের রং বদলে গেছে, শ্বাসও ভারী। ফোন করব, নাকি সোজা যাব?
সোজা যাবেন। জাগানো যায় না এমন বাচ্চা আর বদলে যাওয়া রং, এই দুটোতেই বসে থাকতে মানা করে দেওয়া হয়েছিল আমাদের। এদিক-ওদিক ফোনে সময় নষ্ট নয়, সকালের অপেক্ষাও নয়। আগে হাসপাতাল, প্রশ্ন পরে।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.