সেরা নবজাতক বিশেষজ্ঞ - ঢাকা

সাত দিন পর ছেলেকে বাড়ি আনলাম

আমাদের ছেলে জন্মেছে তারিখের আগেই, বাড়ির কাছের এক ঢাকার হাসপাতালে। প্রথম রাতেই ওর শ্বাস নিতে বেশ কষ্ট হচ্ছিল। ওর খাটের পাশে দাঁড়িয়ে ছোট্ট বুকের ওঠানামা গুনেছি কতবার, হিসাব নেই। পাশের ওয়ার্ডে ওর মা বিশ্রামে ছিল, ঘণ্টায় ঘণ্টায় জানতে চাইত ওর শ্বাসের শব্দ কেমন। ভোরটা এল অনেক দেরিতে। শ্বাস কিছুটা সহজ হয়েছিল, কিন্তু বাড়ি নেওয়ার কথা কেউ তোলেনি।

পুরো এক সপ্তাহ ও থাকল হাসপাতালের নবজাতক ইউনিটে। আমরা পালা করে পাশে বসতাম, দেখতাম নার্সরা কীভাবে ওর গায়ের রং আর খাওয়া লক্ষ করেন। প্রতিদিন কেউ না কেউ বুঝিয়ে দিতেন, কী বদলেছে আর কীসে এখনো নজর রাখতে হবে। শেষ দিকে ওর খাওয়া নিয়মিত হলো, ঘুমটাও দেখতে সহজ লাগল। বাড়ি ফিরলাম একটা নির্দেশনার কাগজ আর মাথাভর্তি প্রশ্ন নিয়ে।

বন্ধুরা বারবার জানতে চাইছিল, এখন থেকে ওকে কোন ডাক্তার দেখবেন। ঢাকার নবজাতক বিশেষজ্ঞদের প্রোফাইল নিচে দেওয়া আছে, চেম্বারের ঠিকানা আর রোগী দেখার সময়সহ, তাই ফলো-আপের ডাক্তার ঠিক করতে এক সন্ধ্যাই লাগল। পরিবারের চেনা অন্য বিশেষজ্ঞদের নোট করে রাখতে সাহায্য করেছে ঢাকার সব ডাক্তারের তালিকা। ছুটির তাড়াহুড়োর আগেই নম্বরগুলো আমরা তুলে রাখলাম।

4 available specialists found

ডা. ফারজানা কবির কথা

Qualifications এমবিবিএস (ঢাবি), ডিসিএইচ (বিএসএমএমইউ), ডিএমইউ (ভার্জিনিয়া, যুক্তরাষ্ট্র)
অবস্থান Malibagh, ঢাকা

ডা. ভিকারুন নেসা

Qualifications এমবিবিএস, বিসিএস, এফসিপিএস (শিশু)
অবস্থান Malibagh, ঢাকা

অধ্যাপক ডা. আশরাফ উদ্দিন আহমেদ

Qualifications এমবিবিএস (ডিএমসি), এফআরএসএইচ (যুক্তরাজ্য), ডিসিএইচ (ঢাবি), এমপিএইচ (নিউট্রিশন)
অবস্থান Malibagh, ঢাকা

অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান

Qualifications এমবিবিএস, এফসিপিএস (পেড), এমডি (পেড), বিসিএস (স্বাস্থ্য)
অবস্থান Dhaka, ঢাকা

সাত দিন পর ছেলেকে বাড়ি আনলাম

ফিরে গেলে চেম্বারে যা যা হয়

ফলো-আপে গেলে প্রথমে ওর ওজন মাপা হয়, হাসপাতালের শুরু করা চার্টেই লেখা হয়। বিশেষজ্ঞ ওর শ্বাস দেখেন, গায়ের রং মেলান, গত দেখার পর থেকে খাওয়া কেমন গেছে জানতে চান। পকেট থেকে বের হয় আমাদের রাতের পালার নোট। নির্দিষ্ট কিছু বলার আগে তিনি সেগুলো পড়েন। তারপর বুঝিয়ে দেন, পরের তারিখ পর্যন্ত কীসে নজর রাখবেন আর কেন। বাড়ি ফিরি সামনের সপ্তাহের পরিকল্পনা জেনে, অনুমানে নয়।

যে রাতে সকাল পর্যন্ত থাকা যায় না

রাত ভাগ করে জাগতে জাগতেই বুঝেছি, ডাক্তাররা জরুরি বলতে কী বুঝিয়েছেন। শ্বাস কঠিন হয়ে যাওয়া, কিংবা মাঝে মাঝে থেমে যাওয়া। খাটের আলোয় ঠোঁট বা মুখ নীলচে কিংবা ধূসর দেখানো। সারা রাত প্রতিটা খাওয়া ফিরিয়ে দেওয়া। বয়স এক মাস হওয়ার আগেই জ্বর। থামে না এমন কাঁপুনি, শরীর নিস্তেজ আর জাগানো কঠিন। খাওয়া ছেড়ে ঘুমিয়ে থাকা আর গায়ে হলদে ভাব ছড়িয়ে পড়া। এর যেকোনো একটা দেখলেই পাহারা শেষ। সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালের পথে বের হতে হবে।

বাড়ির নিয়ম চলছে হাসপাতালের লেখা অনুযায়ী

হাসপাতাল থেকে ছাড়ার সময় একটা খাওয়ার পরিকল্পনা আর একটা ওষুধ দেওয়া হয়েছিল, সময়গুলো কাগজে স্পষ্ট লেখা। বাড়ির সবকিছু চলছে সেই কাগজ অনুযায়ী। ওকে ভালো দেখাচ্ছে বলে কোনো ডোজ বাদ যায় না, খারাপ খেয়েছে বলে দ্বিগুণও হয় না। পরিবারের পরামর্শের সঙ্গে মিল না হলে, ওর ডাক্তাররা অন্যরকম না বলা পর্যন্ত কাগজটাই জেতে। বদলের সিদ্ধান্ত তাঁদেরই, যাঁরা ওর চিকিৎসা শুরু করেছেন, রাত তিনটায় ক্লান্ত বাবা-মায়ের নয়।

বড় হতে হতে যাঁর কাছে যাব

নবজাতকের যত্নের একটা মৌসুম আছে, একদিন তা শেষ হবে। তারপর ওর লাগবে সাধারণ শৈশবের বছরগুলোর একজন ডাক্তার, তখন পরিবারগুলো প্রায়ই বেছে নেয় ঢাকার শিশু বিশেষজ্ঞদের তালিকা থেকে। বিশেষজ্ঞ যখন বলবেন নবজাতকের অধ্যায় শেষ, তখনই আমরা বদলাব। ততদিন একটা চার্ট আর একজন ডাক্তারই আমাদের পথ দেখাচ্ছেন।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

ছুটির পর প্রথম ফলো-আপটা কত তাড়াতাড়ি ছিল?

হাসপাতাল ছাড়ার আগেই তারিখটা আমাদের কাগজে লেখা ছিল। ভেবেছিলাম দেরি হবে, কিন্তু বাড়ি পৌঁছানোর কয়েক দিনের মধ্যেই ছিল। বিশেষজ্ঞ ওর ওজন আর শ্বাস আগেভাগেই দেখতে চেয়েছিলেন, ফোনে অনুমান করতে নয়।

প্রতিটা ফলো-আপে সঙ্গে কী কী নেওয়া উচিত?

চার্ট, ছুটির কাগজ আর রাতের নোটগুলো নিই। খাওয়ার সময়গুলোও একই খাতায় লেখা থাকে। শ্বাস, খাওয়া বা ঘুমে বদল এলে ছোট মনে হলেও বলার মতো।

আমরা রাতে পালা করে জাগি। দেখায় কি দুজনেরই যাওয়া দরকার?

একজন গেলেও চলে, অন্যজনের লিখে দেওয়া নোট সঙ্গে থাকে। বড় কোনো সিদ্ধান্তের সময় আমরা দুজনেই যাওয়ার চেষ্টা করি। যে বাবা-মাই যান, বিশেষজ্ঞ তাড়াহুড়ো ছাড়া পুরোটা বুঝিয়ে দেন।

কোনো কোনো রাতে ঘুমের মধ্যে ওর শ্বাস দ্রুত হয়। বলব?

বলব। কোন রাতে আর মোটামুটি কখন হয়েছিল, লিখে রাখি। এক রাতের দুশ্চিন্তার চেয়ে কয়েক রাতের ধরন বেশি অর্থ বহন করে। সেই ধরনের মূল্য কতটা, ঠিক করবেন বিশেষজ্ঞ।

নবজাতক বিশেষজ্ঞকে দেখানো কবে বন্ধ হবে?

কেউ আমাদের ক্যালেন্ডারের তারিখ দেননি। ওর ওজন, খাওয়া আর শ্বাসে এত কাছ থেকে নজর যতদিন লাগবে, দেখা চলবে। ধরনটা নিয়ে বিশেষজ্ঞ সন্তুষ্ট হলে দেখার ফাঁক নিজে নিজেই বেড়ে যায়।

মাঝরাতে ওর ঠোঁট ধূসর দেখাচ্ছে আর খাওয়ার জন্য জাগছেই না। এখন কী করব?

সেই খাওয়া শেষ করা, কাউকে ফোন করা, কিংবা রাত পার হওয়ার অপেক্ষা, কোনোটাই নয়। সোজা হাসপাতালে যাব। এই লক্ষণগুলো নিয়ে ডাক্তাররা স্পষ্ট ছিলেন: আগে বাচ্চা যাবে, প্রশ্ন পরে।

Ad

Sponsor Space Available

Place your banner here to reach thousands of patients daily.

Sponsored

Grow Your Practice

Premium placement for hospitals & doctors.