সেরা নবজাতক বিশেষজ্ঞ - বরিশাল

শ্বাস ছিল জোরে, রং ছিল হলদে

লম্বা একটা রাতের শেষে বরিশালে জন্ম নিল আমাদের ছেলে। কান্নাটা ঠিকমতোই ছিল, আর ঘণ্টাখানেকের জন্য ভেবেছিলাম সব সহজ হয়ে গেছে। তারপর ওর শ্বাস দ্রুত হয়ে গেল, নবজাতকের যেমন হওয়ার কথা তার চেয়ে অনেক বেশি। আমাকে ঠিকমতো কোলে নেওয়ার আগেই নার্সরা ওকে হাসপাতালের নবজাতকদের ঘরে নিয়ে গেলেন। ওর ছোট্ট টুপিটা মুঠোয় ধরে আমি করিডোর ধরে হেঁটে গেলাম পেছন পেছন।

শ্বাসটা ধীর হওয়া পর্যন্ত ও সেখানেই রইল আরও কয়েকটা দিন। তৃতীয় দিনে ওর গায়ের রং আর চোখের সাদা অংশ হলদে হয়ে উঠল, নজরদারি আরও কাছের হলো। কেউ বড় বড় কথা বলে বোঝাননি আমাদের। ঘণ্টায় ঘণ্টায় কী দেখছেন, সেটাই বলতেন। আমি এমন জায়গায় দাঁড়াতাম, যেখান থেকে ওর শ্বাস নেওয়া দেখা যায়।

এখন ও ভালো খাচ্ছে, আমরা বাড়িতে। কিন্তু যার শুরুটা এমন, তার ফলো-আপ হালকাভাবে নেওয়া যায় না। আমি চাই একজন নবজাতক বিশেষজ্ঞ ফলো-আপে ওকে দেখুন, যাঁর পুরো কাজটাই নবজাতকদের নিয়ে। আপনার পরিবারও যদি এমন কাউকে খোঁজে, DoctorBD24-এর বরিশালের ডাক্তারদের তালিকা থেকে কে কোথায় বসেন জেনে নিতে পারেন। এখানে নবজাতক বিশেষজ্ঞদের প্রোফাইলে চেম্বারের ঠিকানা আর বসার সময় দেওয়া আছে, ফলে ছোট বাচ্চার খাওয়ার ফাঁকে সময় মেলানো সহজ হয়।

0 available specialists found

🏜️

No Specialists Found

We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.

শ্বাস ছিল জোরে, রং ছিল হলদে

হাসপাতালের দেওয়া পরিকল্পনাতেই চলছে বাড়ি

বাড়ি আসার আগে ডাক্তাররা লিখে দিয়েছিলেন, ছেলেকে কীভাবে খাওয়াতে হবে, কী কী দিতে হবে, কতক্ষণ পরপর। সেই কাগজটাকে আমরা আইনের মতো মেনে চলি। একটা ভালো দিন কাটলেই কোনো ধাপ বাদ দেওয়ার অধিকার জন্মায় না। ওর ওষুধ বা খাওয়ায় হেরফের দরকার হলে করবেন ওর দেখভাল করা ডাক্তাররাই। আমরা শুধু পরিকল্পনাটা ধরে রাখি।

ঘুমানোর সময় আমি যা যা দেখি

ছোট ছোট জিনিস দেখার মানুষ হয়ে গেছি আমি। ঘুমালে ওর বুকটা কীভাবে ওঠানামা করে। খেতে গেলে হাঁপিয়ে ওঠে, নাকি শান্ত হয়। সকালে আর সন্ধ্যায় গায়ের রং। এসব ডাক্তারি নয়, তা আমি জানি। এটা একজন বাবার নিজের ছেলের স্বাভাবিকটা শেখা, যাতে বদলটা চোখে পড়ে। প্রতিটা ফলো-আপে নবজাতক বিশেষজ্ঞ ওকে ঠিকমতো দেখেন: শ্বাস, খাওয়া, ওজন, রং। তারপর সহজ ভাষায় বলেন, কী দেখছেন।

যখন ও আর নবজাতক থাকবে না

নবজাতকের যত্নের একটা শেষ আছে, আর তাতে আমি খুশিই। বড় আর শক্ত হলে ওর নিত্যদিনের দেখভাল যাবে শিশু বিশেষজ্ঞের কাছে। ফলো-আপের ডাক্তার খুঁজতে গিয়ে এই সাইটেই দেখলাম, বরিশালের শিশু বিশেষজ্ঞদের তালিকাও এখানে গোছানো আছে। তবে এই সময়টা নবজাতকদের প্রথম সপ্তাহ চেনা ডাক্তারেরই থাক।

অপেক্ষা করা যাবে না যেদিন

খারাপ লক্ষণের ব্যাপারে সিদ্ধান্তটা আমরা হাসপাতাল ছাড়ার আগেই নিয়ে রেখেছি, যাতে ভয়ের মুহূর্তে ভাবতে বসতে না হয়। শ্বাস যদি লড়াইয়ের মতো হয়ে ওঠে, কিংবা থেমে থেমে আসে, আমরা রওনা দিই। ঠোঁট বা মুখ নীলচে কিংবা ধূসর হলেও তাই। পরপর খেতে না চাইলে, কিংবা এক মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই জ্বর এলে বাড়িতে আলোচনা করি না। খিঁচুনির মতো কাঁপুনি, নেতিয়ে পড়া শরীর, কিংবা জাগানো যায় না এমন ঘুম মানেই সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতাল। ফলো-আপের তারিখ সরানো যায়। সতর্ক সংকেত সরানো যায় না।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

হাসপাতাল থেকে ছুটি পাওয়ার পরও নবজাতক বিশেষজ্ঞ কেন?

কারণ বাড়িতে নজরদারিটা চলতেই থাকে, শেষ হয়ে যায় না। ওর শুরুটা ছিল জোরে শ্বাস আর কয়েক দিনের গভীর যত্ন দিয়ে। ওর মতো বাচ্চারা সপ্তাহে সপ্তাহে কীভাবে সামলে ওঠে, নবজাতক বিশেষজ্ঞ তা জানেন। নিজে ধরে নেওয়ার চেয়ে তাঁর মুখে ভালো আছে শোনাটা ভরসার।

ফলো-আপে হাসপাতালের কাগজগুলো নেব?

প্রতিবারই নিই। কাগজে লেখা আছে ওর প্রথম দিনগুলো কেমন ছিল, কোন পরিকল্পনা নিয়ে আমরা বাড়ি এসেছি। দরজার পাশে একটা ফাইলে রেখেছি ওগুলো। ছেলেকে দেখার আগে ডাক্তার কাগজগুলো পড়ে নেন।

কোনো কোনো সকালে গায়ের রং এখনো একটু হলদে লাগে। কী করব?

চুপচাপ বাড়তে দিয়ে না দেখে আমরা সঙ্গে সঙ্গে জানিয়ে দিই। প্রতিটা দেখায় ডাক্তার যেসব বিষয় খেয়াল করেন, রং তার একটা। হলদে ভাব বাড়লে, কিংবা খেতে না চাওয়ার মতো ঘুমঘোর হলে তারিখের অপেক্ষা করি না।

বাবা বলেন, জোরে শ্বাসটা ছিল জন্মের ধাক্কা সামলানো। তিনি কি ঠিক?

হতেও পারেন। দাদা-দাদিরা অনেক বাচ্চা দেখেছেন, তাঁদের ধীর ভাব বাড়িতে স্থিরতা আনে। কিন্তু আমার ছেলে ওই শ্বাসের জন্যই বাড়তি কয়েক দিন নজরে ছিল, তাই আমি এটাকে গুরুত্ব দিই। পরিবারের অভিজ্ঞতা আর বিশেষজ্ঞের দেখা পাশাপাশি থাকতে পারে।

যে কিছু বলতে পারে না, এমন বাচ্চাকে বিশেষজ্ঞ বিচার করেন কীভাবে?

দেখে, শুনে আর মেপে, প্রতিটা দেখায়। ওর শ্বাস, খাওয়ার জোর, ওজন, রং, কীভাবে জাগে আর ঘুমায়। বাচ্চারা কথা বলে আচরণ দিয়ে, শব্দ দিয়ে নয়। জীবনের প্রথম সপ্তাহগুলোর সেই আচরণ পড়াটাই নবজাতক বিশেষজ্ঞের পুরো প্রশিক্ষণ।

ফলো-আপের আগের রাতেই কোনো সতর্ক লক্ষণ দেখা দিলে?

তখন ফলো-আপের গুরুত্বই থাকে না। শ্বাসের লড়াই বা থেমে যাওয়া মানেই সেই রাতেই হাসপাতাল। মুখের রং নীলচে কিংবা ধূসর হয়ে গেলেও একই কথা। পরপর খেতে না চাওয়া, এই প্রথম সপ্তাহগুলোয় জ্বর, খিঁচুনি, নেতিয়ে পড়া শরীর, কিংবা ভাঙানো যায় না এমন ঘুম, সবই একই কথা বলে। নবজাতকের ব্যাপারে সিদ্ধান্তের জন্য সকাল বড় দেরি।

Ad

Sponsor Space Available

Place your banner here to reach thousands of patients daily.

Sponsored

Grow Your Practice

Premium placement for hospitals & doctors.