সেরা নবজাতক বিশেষজ্ঞ - বাগেরহাট

সময়ের আগেই এল আমার ছোট্ট মেয়ে

আমার মেয়েটা আসার কথা ছিল আরও কয়েক সপ্তাহ পরে। বাগেরহাটেই সে জন্ম নিল সময়ের আগেই, এতটাই ছোট যে ওকে কোলে নিতে গিয়ে আমার হাত দুটোই বড় মনে হচ্ছিল। ডাক্তাররা প্রথম ঘণ্টা থেকেই ওর দিক থেকে চোখ সরাননি। পাশে দাঁড়িয়ে আমি শুধু শিখছিলাম, দুশ্চিন্তা বুকে চেপে কীভাবে ধীর থাকতে হয়।

সবচেয়ে কঠিন ছিল খাওয়ানো। একটুখানি খেয়েই ঘুমিয়ে পড়ত মেয়েটা। একবার খাওয়াতেই কোনো কোনো দিন প্রায় এক ঘণ্টা লেগে যেত। প্রথম দিকে প্রায় সারাদিনই ঘুমিয়ে থাকত ও, আর ওর সামান্য শব্দেই পুরো বাড়ি চুপ হয়ে যেত। ডাক্তাররা যেদিন বললেন, ওর খাওয়া এখন মোটামুটি ধরেছে, সেদিনই আমরা বাড়ি এলাম।

বাড়িতে এখন আমাদের দিন চলে ওর খাওয়ার আর ওজনের হিসাব মেনে। বিছানার পাশে রাখা একটা কাগজে প্রতিবার খাওয়ার পর আমি দাগ দিই। ফলো-আপে যাওয়ার সময় আমি চাই একজন নবজাতক বিশেষজ্ঞ ওকে দেখুন, যিনি জন্মের প্রথম ঘণ্টা থেকে নবজাতকদের দেখে অভ্যস্ত। ছোট আর সময়ের আগে জন্ম নেওয়া বাচ্চাদের ধরন তিনি ভালো জানেন। আপনিও যদি এমন কাউকে খোঁজেন, DoctorBD24-এর বাগেরহাটের ডাক্তারদের তালিকা থেকে শুরু করতে পারেন। এখানে নবজাতক বিশেষজ্ঞদের প্রোফাইলে চেম্বারের ঠিকানা আর বসার সময় দেওয়া আছে। খাওয়ার ফাঁকে ফাঁকে বেরোনো আমাদের জন্য এই জানাটা খুব দরকার।

0 available specialists found

🏜️

No Specialists Found

We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.

সময়ের আগেই এল আমার ছোট্ট মেয়ে

বাড়িতে আমাদের দিন যেমন কাটে

বাড়ি ফিরে আমাদের অসাবধানতা বাড়েনি, বরং গুছিয়ে চলা বেড়েছে। আগে ওর খাওয়ানো, তারপর ওর ঘুম, তারপর সংসারের বাকি কাজ। আমি বিশ্রাম নিলে মা খাওয়ার হিসাবের কাগজটা ধরে রাখেন। ওর কাপড় আলাদা করে ধুয়ে রোদে শুকোই আমরা। কোলে নেওয়ার আগে সবাই হাত ধুয়ে নেয়। ছোট ছোট নিয়ম, কিন্তু এতে দুশ্চিন্তাটা কাজের পথ পায়।

ডাক্তাররা না বদলালে কিছুই বদলায় না

হাসপাতাল ছাড়ার সময় ডাক্তাররা আমাদের হাতে একটা পরিষ্কার পরিকল্পনা দিয়েছিলেন: কীভাবে খাওয়াতে হবে, কী কী দিতে হবে, সব লিখে দেওয়া। সেই পরিকল্পনাতেই আমাদের বাড়ি চলে। এক সকালে ওকে একটু চাঙা মনে হলেই আমরা কিছু বাদ দিই না। পাশের বাড়ির বাচ্চা ওটা ছাড়াই বড় হয়েছে শুনেও কিছু বন্ধ করি না। ওর ওষুধ বা খাওয়ার নিয়ম বদলাতে হলে বদলাবেন ওর চিকিৎসা করা ডাক্তাররাই। আমাদের কাজ শুধু নির্দেশ মেনে চলা।

যে লক্ষণ দেখলে আমরা সোজা ছুটে যাই

কিছু ব্যাপার পরের ফলো-আপ পর্যন্ত ফেলে রাখা যায় না। বাড়িতে আমরা তা উচ্চারণ করে রেখেছি, যাতে কেউ দ্বিধা না করে। শ্বাস নিতে কষ্ট হলে, কিংবা শ্বাস থেমে থেমে এলে আমরা বেরিয়ে পড়ি। ঠোঁট বা মুখ নীলচে কিংবা ধূসর হয়ে গেলে দেরি নয়। এক মাসের কম বয়সী বাচ্চার জ্বর মানেই সেদিনই হাসপাতাল। থামানো যায় না এমন কাঁপুনি মানেও তাই। নেতিয়ে পড়া শরীর, খাওয়ানোর জন্য জাগানো যায় না এমন ঘুম, এসবেও সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতাল। গায়ের হলদে ভাব বেড়ে বাচ্চা খেতে না চাইলেও তাই।

নবজাতকের বয়স পার হলে যাঁদের দরকার হবে

একদিন, টের পাওয়ার আগেই, ও আর নবজাতক থাকবে না। তখন ওর দেখভালের ধরন বদলাবে। বড় হতে থাকা শিশুদের দেখেন শিশু বিশেষজ্ঞরা। এই ডিরেক্টরিতে ওর নবজাতক ডাক্তার খুঁজতে গিয়েই দেখলাম, বাগেরহাটের শিশু বিশেষজ্ঞদের তালিকা এখানেই আছে। বেশিদিন লাগবে না, তখন সেটাই কাজে আসবে। এখনকার প্রথম সপ্তাহগুলো নবজাতক বিশেষজ্ঞের কাছেই থাকুক।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

নবজাতক বিশেষজ্ঞ কতদিন পরপর দেখতে চাইবেন?

সেটা ওর ওজন আর খাওয়ার গতির ওপর নির্ভর করে। ডাক্তার ওকে দেখে নিজে ঠিক করেন। সময়ের আগে জন্ম নেওয়া বাচ্চাদের প্রথম সপ্তাহগুলোয় কাছ থেকে দেখা হয়। দেওয়া প্রতিটা তারিখ আমরা ধরে রাখি।

ঘুমিয়ে থাকলে জাগিয়ে খাওয়াব, নাকি ঘুমাতে দেব?

হাসপাতালের ডাক্তারদের দেওয়া খাওয়ার পরিকল্পনাই মানি আমরা, কতক্ষণ পরপর জাগাতে হবে তাসহ। ঘুমঘোর বাচ্চা টের না পেয়েই খাওয়া বাদ দিয়ে ফেলতে পারে। প্রতিবার দেখাতে গিয়ে পরিকল্পনাটা এখনো চলবে কিনা জিজ্ঞেস করি।

প্রতিটা ফলো-আপে সঙ্গে কী কী নেব?

হাসপাতালের কাগজ, ছুটির সময় লেখা পরিকল্পনা আর খাওয়ার নোট নিই আমরা। আগের দেখার পর থেকে ও কীভাবে খেয়েছে আর ঘুমিয়েছে, ডাক্তার তা পড়ে দেখেন। অর্ধেক প্রশ্নের উত্তর ওই কাগজেই মেলে।

ওর দাদি বলেন, ছোট বাচ্চারা নিজে নিজেই ধরে ওঠে। তিনি কি ভুল?

তিনি ঠিক হতেও পারেন, আমিও তাই চাই। কিন্তু আশা করা আর যত্নে নজর রাখা এক কথা নয়। প্রথম সপ্তাহগুলোয় ওজন আর খাওয়ার দিকে নজর চাই নবজাতক চেনা চোখের। পরিবারের অভিজ্ঞতা মনে বল দেয়।

কোনো সপ্তাহে ওজন ধীরে বাড়লে কি তারিখের আগে যাব?

হ্যাঁ, ঠিক এমন বদলের জন্যই বসে থাকা যায় না। যার শুরুটাই ছোট, তার একটা ধীর সপ্তাহের মানে বেশি। আমরা আগে জানিয়ে, ওজনের কথাটা বলে, চলে যাই।

রাতে হঠাৎ ভয়ের কোনো লক্ষণ দেখলে পরের দেখা পর্যন্ত অপেক্ষা করব?

সকাল পর্যন্তও না, তারিখ পর্যন্তও না। শ্বাসে কষ্ট বা থেমে যাওয়া মানেই সোজা হাসপাতাল। নীলচে বা ধূসর মুখ হলেও তাই। বারবার খেতে না চাওয়া, এই বয়সে জ্বর, কাঁপুনি, নেতিয়ে পড়া শরীর, কিংবা জাগানো যায় না এমন ঘুম, সবই একই কথা বলে। হলদে ভাব বেড়ে বাচ্চা ঘুমঘোরে থাকলেও তাই।

Ad

Sponsor Space Available

Place your banner here to reach thousands of patients daily.

Sponsored

Grow Your Practice

Premium placement for hospitals & doctors.