সেরা লিভার বিশেষজ্ঞ - ময়মনসিংহ

হোস্টেলের আয়নায়

আমাদের হোস্টেলের বাথরুমের আয়নাটা এক কোণে ফাটা। প্রতিদিন সকালে ব্রাশ হাতে ওই আয়নার সামনেই দাঁড়াই। তিন সপ্তাহ আগে রুমমেট সাদিয়া পাশে এসে হঠাৎ বলল, আপু, তোমার চোখ দুটো তো হলদে হয়ে গেছে। বললাম, টিউবলাইটের আলোতে অমন লাগে। সে মাথা নাড়ল। জানালার পাশে দিনের আলোতেও চোখের সাদা অংশে হলদে রঙটা ঠিকই রইল। ওর কথাই ঠিক ছিল। অথচ প্রতিদিন এই আয়নায় মুখ ধুই, নিজে কিছুই খেয়াল করিনি।

শুধু রঙটাই নয়। খাওয়ার রুচিও কমে গেছে। হলের ক্যান্টিনে আধা প্লেট খেলেই মনে হয় পেট ভরে গেল। রাতে বই খুলে বসলে লাইনগুলো চোখে ধরা দেয় না। আগে বিশ মিনিটে পড়ে ফেলা পৃষ্ঠা এখন সারা সন্ধ্যা নেয়। দশটা বাজতেই মাথা ভারী, নোটের ওপর চোখ বন্ধ হয়ে আসে। ঘুমাই ঠিকই, কিন্তু সকালে সেই তরতাজা ভাবটা আর পাই না।

তাই ময়মনসিংহে একজন লিভার বিশেষজ্ঞের কাছে বসার ব্যবস্থা করছি। DoctorBD24-এ এই শহরের লিভার বিশেষজ্ঞের তালিকাটা আপাতত খালি। পড়ে দেখার মতো কোনো প্রোফাইল সেখানে এখনো ওঠেনি। তার বদলে ঘেঁটে দেখেছি ময়মনসিংহের সব ডাক্তারের একত্র তালিকা, যেখানে শহরের প্রতিটি ডাক্তারের প্রোফাইল এক জায়গায় সাজানো। সেখানে চেম্বারের ঠিকানা আর বসার সময় দেওয়া থাকে। সাদিয়া সেদিন আমার সঙ্গে বসাতেই থাকবে।

1 available specialists found

সহকারী অধ্যাপক ডাঃ মোহাম্মদ রুহুল হায়দার

Qualifications এমবিবিএস (এমএমসি), বিসিএস (স্বাস্থ্য), এমডি (হেপাটোলজি), এমএসিপি (আমেরিকা)।
অবস্থান ময়মনসিংহ সিটি, ময়মনসিংহ

হোস্টেলের আয়নায়

প্রথম বসা নিয়ে আমার ধারণা

তিনি শুরুতেই চোখের দিকে তাকাবেন না, অন্তত আমি তেমনটাই ভাবি। আগে তিনি আমার মুখে পুরো কথাটা শুনবেন। চোখের রঙের বদলটা প্রথম কবে কার চোখে পড়ল। ক্লান্তিটা তার পাশাপাশি কীভাবে বাড়ল। এখন খাওয়াদাওয়া কেমন চলছে। তারপর এখানে আগেই করানো রিপোর্টগুলো তাঁর হাতে যাবে। তিনি নিজে সেগুলো পড়ে তারপর পরীক্ষা করবেন। কাগজপত্রে ভর করে পাকা কথা বলার মতো অবস্থা না এলে তিনি অনুমানে কিছু বলবেন না। ছাত্রজীবনে ধৈর্য ধরে পাওয়া ঠিকঠাক উত্তর মানা যায়। ভুল তাড়াহুড়ো উত্তর কারও কাজে আসে না।

আরেকটা সমস্যার ওষুধ যেভাবে চলছে

অন্য একটা পুরোনো সমস্যার জন্য প্রতি রাতে একটা করে ওষুধ খাই। ছোট্ট ব্যাপার, অনেক দিনের অভ্যাস। নতুন এই দুশ্চিন্তা এলেও সেই নিয়ম থামবে না। মন খারাপের দিনে বাদ যাবে না, বসার আগের রাতেও বন্ধ হবে না। ওই প্রেসক্রিপশন যিনি লিখেছিলেন, তিনি পরীক্ষা করে দেখেই লিখেছিলেন। সেখানে বদল আনার অধিকার সেই হাতেরই। আমার নিজের অনুমান সেখানে চলবে না। ওষুধের পাতাটা সঙ্গে নেব, যাতে বিশেষজ্ঞ আমার পুরো ওষুধের তালিকাটা দেখতে পান।

যে রাত সকাল পর্যন্ত থামে না

আয়নায় ধরা পড়া বদলগুলো এসেছে ধীরে ধীরে, সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে। কিছু বদল এত ধীরে আসে না। বমির সঙ্গে রক্ত উঠলে সেই রাত অপেক্ষার নয়। মল কালো হয়ে গেলেও নয়। হঠাৎ মাথা ঘোলাটে হয়ে যাওয়া কিংবা তোলা যায় না এমন ভারী ঘুমভাব, একই কথা। পেটে তীব্র ব্যথা। ফোলার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট জুটলে তো কথাই নেই। এর যেকোনো একটা ঘটলেই হোস্টেলের রুটিন সেদিনই শেষ। সেদিনই হাসপাতালে, অথবা আমার নিয়মিত ডাক্তারের কাছে। ক্যালেন্ডারের দিকে তাকিয়ে আলোচনার সময় তখন থাকে না।

তারিখগুলো রুমমেটের মনে থাকে

তারিখ মনে রাখায় আমি দুর্বল, দুশ্চিন্তা তা আরও খারাপ করে। সাদিয়ার মাথা এদিকে পরিষ্কার। চোখের কথা সে প্রথম যেদিন বলেছিল, সেই সকালটা সে লিখে রেখেছে। রিপোর্টগুলো তার নিজের ফাইলে আমার ক্লাস নোটের সঙ্গে গুছিয়ে রাখা। সেদিন আমি কিছু বলতে ভুলে গেলে সে মনে করিয়ে দেবে। পরিবারের অন্য কাজেও তার নজর আছে। বাবা-মায়ের কখনো সার্জন দরকার হলে সার্জন বাছাইয়ের জন্য ময়মনসিংহের জেনারেল সার্জনের তালিকা এই একই সাইটে আছে। সে পেজটাও সে সংরক্ষণ করে রেখেছে।

হোস্টেলে চায়ের টেবিলে ওঠা প্রশ্ন

রুমমেটরা আমার আগেই রঙটা দেখেছে। এটা কি তাঁকে জানাতে হবে?

হবে। কে প্রথম দেখল আর কোন দিনে, তাতে বদলগুলোর ক্রম সাজাতে তাঁর সুবিধা হয়।

অপেক্ষার দিনগুলোতে ক্লাস চালিয়ে যেতে পারব?

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পারা যায়। ক্লান্তিতে ক্লাস মিস হতে শুরু করলে সেই খবরটাও আপনার গল্পের অংশ।

তারিখগুলো লিখে নেব, নাকি সেদিন মুখস্থ বললেই হবে?

লিখে নিন। দুশ্চিন্তায় তারিখ এলোমেলো হয়। লিখিত তালিকা থাকলে গল্পটা গুছিয়ে বলা যায়।

পরীক্ষার সময় রুমমেটকে বাইরে থাকতে হবে?

চেম্বারে জিজ্ঞেস করে নিন। অনেক বসায় অন্তত কথাবার্তার অংশে সঙ্গী ভেতরে থাকতে পারেন।

তিনি কি প্রথম দিনেই সব মিটিয়ে দেবেন?

হতে পারে না-ও। রিপোর্ট আরও খুঁটিয়ে দেখে পাকা কথা বলার আগে তিনি সময় নিতে পারেন।

কোনো রাতে বমি হলে আর বমিতে রক্ত থাকলে কী হবে?

তখন বুক করা দিনের পরিকল্পনা ঘটনার চাপে বাতিল। বমিতে রক্ত, কালো মল, হঠাৎ ঘোলাটে ভাব, কাটতে না চায় এমন ঘুমভাব, তীব্র পেটব্যথা। এর যেকোনো একটা, কিংবা ফোলাসহ শ্বাসকষ্ট, মানেই সেদিনই হাসপাতাল, অথবা আপনার নিয়মিত ডাক্তার।

Ad

Sponsor Space Available

Place your banner here to reach thousands of patients daily.

Sponsored

Grow Your Practice

Premium placement for hospitals & doctors.