সেরা লিভার বিশেষজ্ঞ - লক্ষ্মীপুর
সকাল থেকেই মুখ তিতা
আমার বয়স তেত্রিশ। সপ্তাহে ছয় দিন বাজারের একটা ছোট দোকানে বসে মোবাইল ফোন খুলে আবার জোড়া লাগাই। মাস দুয়েক হলো, সকালটা শুরু হচ্ছে পেট গুলিয়ে ওঠা দিয়ে, তাও খালি পেটে, কিছু খাওয়ার আগেই। ঘুম থেকে উঠলেই মুখে একটা তিতা ভাব লেগে থাকে, চা খাই, পানি খাই, তবু যেন কোনোভাবেই তা পুরোপুরি যায় না।
যে ব্যাপারটা কাউকে বোঝাতে পারি না, সেটা হলো এই অবসাদ। রাতে ঘুম হয় ঠিকঠাক, স্ত্রীর রান্না করা খাবারও খাই। তবু দুপুর গড়াতে না গড়াতেই কাজের ওপর কাঁধ ভারী হয়ে আসে, চোখের সামনে ছোট ছোট স্ক্রু ঝাপসা দেখায়। কোনো কোনো দিন বিকেলের দিকেও পেট গুলিয়ে ওঠে আবার কিছুক্ষণের জন্য। আমার স্ত্রী সপ্তাহের পর সপ্তাহ এসব দেখেছে, তারপর নিজেই এক লিভার বিশেষজ্ঞের কাছে আমার বসার ব্যবস্থা করে দিয়েছে।
এই মুহূর্তে এই সাইটে লক্ষ্মীপুরের কোনো লিভার বিশেষজ্ঞের প্রোফাইল নেই, তাই এখানে কারো সঙ্গে কারো মিলিয়ে দেখার কিছু পাচ্ছি না আমরা। তবে সুবিধা হলো, শহরের সব ডাক্তারের তালিকা এক জায়গায় গোছানো আছে। আমার স্ত্রী লক্ষ্মীপুরের সব ডাক্তারের তালিকা ঘেঁটে দেখেছে, কে কোন চেম্বারে বসেন, কার কখন সময়। কোনো লিভার বিশেষজ্ঞের প্রোফাইল এখানে এলে তাঁর চেম্বারের ঠিকানা আর বসার সময় ওই প্রোফাইলেই পরিষ্কার লেখা থাকবে।
0 available specialists found
No Specialists Found
We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.
সকাল থেকেই মুখ তিতা
কাজের স্লিপের উল্টোপিঠে লিখে রাখা দিনগুলো
আমার কাউন্টারে যে কাজই আসে, একটা করে স্লিপ কাটা হয়। পুরোনো সেগুলোর উল্টোপিঠ এখন আমার খাতা। একটায় লিখে রেখেছি সকালের বমি বমি ভাবটা প্রথম কবে শুরু হলো। আরেকটায় কোন সপ্তাহ থেকে তিতা ভাবটা খাবারের ফাঁকেও যাওয়া বন্ধ করল, আর সেসব দিন যেদিন মাথা ভারী থাকায় দোকান আগেভাগে বন্ধ করেছিলাম। আমার স্ত্রী পুরোনো রিপোর্টগুলো একটা প্লাস্টিকের ফোল্ডারে রেখেছে, যেভাবে পেয়েছিলাম সেই ক্রমে। লিখে রাখা তারিখ স্মৃতির চেয়ে বেশি ভরসার। তাঁর সামনে বসে কোনটার পর কোনটা হয়েছে, গোছানোভাবে বলতে চাই।
বিশেষজ্ঞের সামনে প্রথমবার বসে
তিনি গল্পটা গোড়া থেকে শুনতে চাইবেন, ক্রেতাদের যেমন সংক্ষেপে বলি সেভাবে নয়। বমি বমি ভাবটা কতদিনের। ক্লান্তিটা কোনো নিয়ম মেনে আসে কিনা। আমি কী খাই, দিনগুলো কেমন যায়, আগে থেকে কোন কোন ওষুধ খাচ্ছি। তারপর রিপোর্ট পড়া, আমাকে পরীক্ষা করা তার পরেই। প্রথম দিনেই তিনি কিছু একটার নাম বলে দেবেন, এমন আশা আমি করি না। পড়ে যদি কখনো মনে হয় ব্যাপারটা অপারেশনের টেবিলের দিকে, সেটা আবার আলাদা ডাক্তারের ঘর। তখনকার জন্য লক্ষ্মীপুরের জেনারেল সার্জনদের প্রোফাইল এই তালিকাতেই আছে।
ওষুধের নিয়ম বদলানোর লোক আমি না
আগের একবার দেখানোর পর থেকে প্রতিদিন দুটো ওষুধ খেয়ে যাচ্ছি। পাতাটা থাকে কাউন্টারের নিচের ড্রয়ারে। নির্দিষ্ট সময় ধরেই চলছে ওগুলো, দেখানোর দিন আসুক বা না আসুক। নতুন ডাক্তার দেখব বলে সেগুলো থামিয়ে রাখার মানুষ আমি নই। নিজের আন্দাজে ফার্মেসি থেকে নতুন কিছু কিনে খাওয়াও শুরু করব না। ওই ডোজগুলো যে ডাক্তার লিখে দিয়েছিলেন, সিদ্ধান্তটা তাঁরই। বদলাতে হলে আমাকে আবার দেখে তিনিই বদলাবেন।
যে লক্ষণে বুক করা দিনের হিসাব শেষ
আমার ঠিক করা দিনটা আসতে এখনো কয়েক দিন বাকি, আর আমার মতো ধীরে বাড়া কষ্ট সাধারণত ততদিন অপেক্ষা করতে পারে। কিন্তু সব পারে না। বমির সঙ্গে রক্ত উঠলে, কিংবা মল কালো হয়ে গেলে, অপেক্ষা সেখানেই শেষ। হঠাৎ মাথা এলোমেলো লাগলেও তাই, অথবা ঘুমিয়েও না কাটে এমন তন্দ্রা নামলেও। পেটে তীব্র ব্যথা উঠলেও। শ্বাস নিতে কষ্টের সঙ্গে শরীর ফুলে উঠলেও। এর যেকোনো একটা হলেই সেদিনই হাসপাতালে যাব, অথবা পরিবারের পরিচিত ডাক্তারের কাছে। দিন গুনে বসে থাকব না।
কাউন্টারের পেছন থেকে মনে আসা প্রশ্ন
মুখের তিতা ভাবের মতো ছোট বিষয় কি বিশেষজ্ঞকে বলা যায়?
বলুন, কবে থেকে শুরু আর সারাদিন থাকে কিনা সেটুকুসহ। ছোট লক্ষণ তারিখসহ গোছানো হলেই পুরো ছবিটা দাঁড়ায়।
আগের দুবার যাওয়ার রিপোর্টই আছে। দুটো সেটই কি নিয়ে যাব?
দুটোই নিন। তিনি আগের কাগজ আগে পড়েন, আর পুরোনো পাতা অনেক সময় নতুনটাকে বুঝতে সাহায্য করে।
স্ত্রী কি সঙ্গে গিয়ে কথাগুলো শুনতে পারবে?
পারলে যাক। বদলগুলো সে বাইরে থেকে দেখেছে, খারাপ দিনের কথা তার ভালো মনে থাকতে পারে।
যাওয়ার তারিখ পর্যন্ত দোকান খুলে রাখব?
আমি খুলে রাখছি, শরীর ভারী লাগলে সময় কমিয়ে নিই। কাজ সত্যিই কাবু করলে সেটাও তাঁকে বলার বিষয়।
বমি বমি ভাবটা নাশতার আগেই বেশি। সময়ের কথাটা কি বলব?
বলুন। লক্ষণ কখন আসে, সেটাও অনেক সময় লক্ষণটার মতোই জরুরি।
এমন কী হলে অপেক্ষা বাদ দিয়ে সেদিনই ছুটতে হবে?
বমিতে রক্ত বা কালো মল। হঠাৎ মাথা গুলিয়ে যাওয়া, না-কাটা তন্দ্রা। পেটে তীব্র ব্যথা। নিশ্বাসের কষ্টের সঙ্গে ফোলা। হাসপাতাল, নইলে পরিচিত ডাক্তার, সেদিনই।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.