সেরা লিভার বিশেষজ্ঞ - বরিশাল

বেল্টটা যখন আর মেলে না

আমার বয়স বাহান্ন। কর্মজীবনের বেশির ভাগ সময় কেটেছে বরিশালের লঞ্চের ডেকে দাঁড়িয়ে। এখন ঘাটের এক অফিসে কাজ করি, সকাল থেকে গোধূলি পর্যন্ত পায়ের ওপরেই থাকতে হয়। সন্ধ্যা নামলে স্যান্ডেলের ভেতর পা ফুলে ওঠে, গোড়ালি ফিতে বেয়ে উপচে পড়ে। পেটটা শার্টের নিচে টানটান লাগে। যে বেল্টটা বছরের পর বছর তৃতীয় ছিদ্রে আটকাত, এখন লাগে পঞ্চম ছিদ্র। খাবারের রুচিও আগের মতো নেই। আধা প্লেট খেলেই থালা সরিয়ে দিই।

বাড়ির কাছের এক ডাক্তার ফোলা পা দেখলেন, পেটে হাত দিয়ে পরীক্ষা করলেন, তারপর কিছু রিপোর্ট করালেন। কাগজগুলো তিনি দুইবার করে পড়লেন। শেষে বললেন, কোনো সিদ্ধান্তের আগে একজন লিভার বিশেষজ্ঞের এই রিপোর্টগুলো দেখা দরকার। ছেলে আমার জন্য বসার সময় ঠিক করে দিয়েছে। চাই, তিনি আগে আমার মুখে পুরো কথাটা শুনুন, ফোলাটা কত দিন ধরে আসছে, বেল্টের ছিদ্র কবে থেকে সরে যাচ্ছে। তারপর রিপোর্ট পড়ে আমাকে নিজে পরীক্ষা করুন। এই দুটো না হওয়া পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নয়।

নামগুলো ছেলে DoctorBD24 থেকে খুঁজে বের করেছে। সেখানে বরিশালের লিভার বিশেষজ্ঞদের তালিকা শহরের বাকি ডাক্তারদের সঙ্গেই আছে। সে প্রথমে বরিশালের ডাক্তারদের সাধারণ তালিকা খুলে রাতের খাবারের পর প্রোফাইলগুলো দেখেছে। প্রতিটি প্রোফাইলে চেম্বার কোথায় আর কোন সময়ে বসেন, তা লেখা থাকে। ঘাটের অফিসে ভিড় জমার আগের এক সকালের সময় বেছে নিয়েছি আমরা।

1 available specialists found

ডাঃ ভবানন্দ বড়ই (শুভ)

Qualifications এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য), এফসিপিএস (মেডিসিন), এফসিপিএস (গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি), এমএসিপি (আমেরিকা)
অবস্থান Kotwali Sadar, বরিশাল

বেল্টটা যখন আর মেলে না

সন্ধ্যায় ফোলা, সকালে স্বাভাবিক

ফোলাটা যেন অফিসের সময় মেনে চলে। সকালে পা স্যান্ডেলে ঢোকে কোনো জট ছাড়াই। শেষ লঞ্চ গোনা হতে হতে ফিতা কেটে বসে। টুলের ওপর পা তুলে বসলে কিছুটা নামে, পুরো একদিন ছুটি পেলে আরও নামে। পেটের টানটান ভাবটা সেই হিসাব মানে না। সেটা সারা রাত থেকে যায়, আর প্রতি সকালে বেল্টটা তার সাক্ষ্য দেয়। খাবারের পরিমাণও সেই সঙ্গে কমেছে। একসময় ভাবনা ছাড়াই শেষ করা খাবার এখন আধা খেয়ে ফিরে আসে।

প্রথম বসায় আমি যা চাই

তাড়াহুড়োর উত্তর আমি চাই না। চাই, তিনি আমাকে প্রশ্ন করুন। ফোলাটা কবে থেকে শুরু। শুধু দাঁড়িয়ে কাজের দিনেই আসে কি না। খাওয়ার ধরন কীভাবে বদলেছে। তারপর রিপোর্টগুলো তাঁর টেবিলে যাবে, প্রতিটি পাতা ক্রম অনুযায়ী পড়া হবে। শেষে তিনি নিজে পরীক্ষা করবেন, পা, গোড়ালি, পেট। আমার কথা, কাগজ আর তাঁর নিজের হাতের পরীক্ষা, তিনটা মিলে না গেলে তিনি অনুমান না করে সেই কথাটা পরিষ্কার বলুন, এটাই চাই।

সকালের ওষুধ যেমন ছিল তেমনই

প্রতিদিন সকালে আমার নিয়মিত ওষুধ প্রেসক্রিপশনে লেখা সময় মেনেই খাই, আর এই নিয়মে হাত দেওয়ার অধিকার আমার নেই। কাগজটা যিনি লিখেছেন, তিনি আমাকে পরীক্ষা করেই লিখেছেন। সন্ধ্যায় পা ফুলেছে বলে একদিনের ওষুধ বাদ যাবে না, সকালে আরাম লাগলেও নয়। তালিকায় কখনো বদল এলে সেটা করবেন প্রেসক্রিপশন লেখা ডাক্তারই, আমার অনুমানে নয়। বিশেষজ্ঞের সামনে তালিকাটা যেমন আছে ঠিক তেমনই রাখব। পাশাপাশি বরিশালের জেনারেল সার্জনদের তালিকাটাও দেখে নিতে পারেন।

সেই সন্ধ্যায় অপেক্ষা চলবে না

আমার চেনা ফোলাটা ধীরে আসে, ধীরে যায়। কয়েকটা বদল সেই ধীর গতি মানে না। বমির সঙ্গে রক্ত উঠে আসা। পায়খানা কালো হয়ে যাওয়া। হঠাৎ মাথার ভেতর গুলিয়ে যাওয়া, কিংবা কাটতে না চাওয়া ভারী ঘুমঘুম ভাব। পেটের ব্যথা তীব্র হয়ে বাড়তে থাকা। শ্বাসকষ্টের সঙ্গে আসা ফোলা। এর যেকোনো একটা ঘটলে বুক করা বসার দিনটা আর হিসেবে থাকে না। সেদিন হাসপাতাল, নইলে সোজা নিজের নিয়মিত ডাক্তারের কাছে।

ছেলেকে লিখে রাখতে বলা প্রশ্ন

ফোলাটা যে আমার দাঁড়িয়ে কাজের সময় মেনে আসে, সেটা কি তাঁকে বলব?

অবশ্যই বলুন। কাজের দিনের সঙ্গে বাঁধা এই ধরনটাই একটা কথা বলে, তিনি সময়গুলোও জানতে চাইবেন, শুধু জায়গা নয়।

বসার দিন সঙ্গে কী নিয়ে যাব?

আগের ডাক্তারের করানো রিপোর্টগুলো আর প্রতিদিনের ওষুধের একটা লিখিত তালিকা। ছেলে দুটোই একটা ফাইলে গুছিয়ে রেখেছে।

ছেলে কি আমার সঙ্গে ভেতরে বসতে পারবে?

সাধারণত পারে, আর তাতে লাভই হয়। তারিখগুলো ওর মনে থাকে, নির্দেশ যেটা আমি শুনতে ভুল করি সেটা ও ধরে রাখে। বুকিং দেওয়ার সময় কথাটা জিজ্ঞেস করে নিলেই হবে।

প্রথম দিনেই কি তিনি রিপোর্টগুলোর মানে বুঝিয়ে দেবেন?

দিতেও পারেন, রিপোর্ট পড়া আর পরীক্ষা শেষ হলে। কাগজগুলো তিনি আরও কিছুদিন রেখে দেখতে চাইলে সেটা যত্নেরই চিহ্ন, দেরি নয়।

অপেক্ষার এই দিনগুলোতে ঘাটের অফিসের কাজ ছেড়ে দেব?

তাঁকেই জিজ্ঞেস করুন, আর দাঁড়িয়ে থাকার কথাটা সততার সঙ্গে বলুন। উত্তরটা আসবে আপনার পরীক্ষা থেকে, কাজ নিয়ে অনুমান থেকে নয়।

কোনো সন্ধ্যায় ফোলার সঙ্গে শ্বাস টানতে কষ্ট হলে বুক করা দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করব?

না, সেটা সেদিনেরই ব্যাপার। রক্তবমি, কালো পায়খানা, হঠাৎ মাথা গুলিয়ে যাওয়া কিংবা তীব্র পেটব্যথাও একই কথা বলে। সেদিনই হাসপাতাল, নইলে আপনার নিয়মিত ডাক্তার।

Ad

Sponsor Space Available

Place your banner here to reach thousands of patients daily.

Sponsored

Grow Your Practice

Premium placement for hospitals & doctors.