সেরা ল্যাপারোস্কোপিক সার্জন - সাভার

শিফটের শেষে

বয়স আমার তেত্রিশ, সাভারের এক পোশাক কারখানায় কোয়ালিটি ইন্সপেক্টর হিসেবে কাজ করি। আমার কাজ মানেই দাঁড়িয়ে থাকা। লাইন ধরে হাঁটি, সেলাই পরীক্ষা করি, পোশাক আলোর দিকে তুলে ধরি, ঘণ্টার পর ঘণ্টা। শিফটের শেষ ঘণ্টায় এসে তলপেটে একটা ফোলা ঠেলে বেরিয়ে আসে। সকালে কিছুই থাকে না। বাসে বাড়ি ফেরার পথে একটু চিনচিন করে, ঘুম থেকে উঠলে আবার মিলিয়ে যায়।

কারখানার কাছের এক ক্লিনিকের ডাক্তার জায়গাটা পরীক্ষা করে একটা রিপোর্ট দেখিয়েছিলেন। তিনি বললেন, রিপোর্টে যা এসেছে, তার জন্য অপারেশন লাগতে পারে। হ্যাঁ বলার আগে আমি চাই, একজন ল্যাপারোস্কোপিক সার্জন নিজে ফোলাটা পরীক্ষা করুন, রিপোর্টটা ঠিকমতো পড়ুন। তারপর তিনি বলুন, ছোট ছিদ্রের পদ্ধতি আমার ক্ষেত্রে চলবে কি না। নাকি তাঁর পরামর্শ হবে খোলা অপারেশন।

DoctorBD24-এ সাভারের ল্যাপারোস্কোপিক সার্জনদের নাম এলাকার অন্য ডাক্তারদের সঙ্গেই দেওয়া আছে। আমি শুরু করেছিলাম সাভারের ডাক্তারদের সাধারণ তালিকা থেকে, রাতে খাওয়ার পর ফোনে প্রোফাইলগুলো পড়েছি। প্রতিটি প্রোফাইলে চেম্বারের ঠিকানা আর বসার সময় পাবেন। ছুটির দিন শুক্রবারের একটা সময় ঠিক করেছি।

1 available specialists found

ডা. এ বি শাহরিয়ার আহমেদ (ফুয়াদ)

Qualifications এমবিবিএস, এমআরসিএসইড, এফসিপিএস (সার্জারি), এমএস (ইউরোলজি)
অবস্থান সাভার, ঢাকা

শিফটের শেষে

শেষ ঘণ্টাটাই জানান দেয়

ফোলাটা কারখানার সময় মেনে চলে। সকালের প্রথম পরীক্ষার পালায় পেট সমান, মনেই থাকে না। দুপুর গড়ালে বান্ডিলের ওপর ঝুঁকলে হালকা ভরা ভরা লাগে। শেষ ঘণ্টায় এসে ফোলাটা পুরোপুরি বেরিয়ে আসে, গেট পর্যন্ত হাঁটাটা লম্বা মনে হয়। বাসে বসলে একটু কমে আসে। এক রাত ঘুমালে পরিষ্কার হয়ে যায়। শুক্রবারে, ছুটির দিনে, ওটা একদমই আসে না। সারাদিন দাঁড়িয়ে থাকাটাই যে গল্পের বড় অংশ, সেটা বোঝা যায়।

কাজের দিনের অবস্থাটাই দেখুন তিনি

সকালের সমান পেট দেখলে তিনি গল্পের অর্ধেকটা পাবেন। তাই কাজের দিন শেষ করেই যাওয়ার পরিকল্পনা আমার। ফোলাটা উঠে থাকা অবস্থায় তিনি দাঁড়ানোতে পরীক্ষা করবেন, আবার শুয়ে বসে যাওয়ার পরও দেখবেন। কবে থেকে শুরু, আমার কাজে শরীরের ওপর কী চাপ পড়ে, তিনি জানতে চাইবেন। ক্লিনিকের রিপোর্টটা সঙ্গে নেব, একটা পাতাও বাদ নয়। এই পরীক্ষা আর রিপোর্ট পড়া, দুটো শেষ হওয়ার আগে তিনি যেন কোনো সিদ্ধান্তে না যান। ছোট ছিদ্রের পথ তাঁর পাওয়া অবস্থায় খাটলে তিনি বলবেন। খোলা অপারেশনই সৎ পরামর্শ হলে, সেটাও তাঁর মুখ থেকে শুনতে চাই, পরে আন্দাজ করতে চাই না।

হাতব্যাগে রাখা ওষুধের পাতা

আমার নিয়মিত ওষুধের পাতা হাতব্যাগেই থাকে, প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী হুবহু খাই, শিফট থাকুক বা না থাকুক। অপারেশনের কথা উঠেছে বলে এই নিয়মে আমি হাত দিই না। প্রেসক্রিপশনটা লিখেছেন একজন ডাক্তার, বদলানোর সিদ্ধান্তও একমাত্র তাঁরই। অপারেশনের তারিখ ঠিক হলে আগেভাগে সার্জনকে জিজ্ঞেস করব, কোন ওষুধ ওই সময়টায় থামাতে হবে। তাঁর উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত সব চলবে যেভাবে লেখা আছে। নাম মিলিয়ে দেখার সময় সাভারের জেনারেল সার্জনদের তালিকাও পড়ে দেখতে পারেন।

যে সন্ধ্যা ঘুমিয়ে কাটানো যাবে না

বেশির ভাগ সন্ধ্যায় ফোলাটা বসে যায়, আমি আর ভাবি না। কিন্তু কয়েকটা বদল আমি চিনি। ফোলা বাইরে থেকে গিয়ে ব্যথা করে বাড়তে থাকলে সেটা প্রথম। তীব্র পেটব্যথাও তাই। বারবার ফিরে আসা বমি, বেশি জ্বর, কিংবা হঠাৎ মাথা ঘুরে যাওয়ার ভাবও একই তালিকার। এমন সন্ধ্যায় আমি সকালের শিফটের অপেক্ষা করব না। সেদিনের ঠিকানা একটাই, হাসপাতাল, না হলে নিজের নিয়মিত ডাক্তারের চেম্বার।

বাসে বাড়ি ফেরার পথে মনে আসা প্রশ্ন

শিফট শেষে, কাজের দিনেই যাওয়া ভালো?

হ্যাঁ, তাতে তাঁর সুবিধা হতে পারে। শিফটের শেষে ফোলাটা বেরিয়ে থাকে, আপনি প্রতিদিন যা সামলান তিনি তা-ই দেখতে পাবেন। বুকিংয়ের সময় কারখানার সময়টা জানিয়ে দিন।

অপেক্ষার দিনগুলোতে কারখানার কাজ চালিয়ে যেতে পারব?

সাক্ষাতেই তাঁকে জিজ্ঞেস করুন, আর দাঁড়িয়ে থাকার কাজটা সত্যি করে বর্ণনা করুন। পরীক্ষার পর তিনিই পথ দেখাবেন।

সঙ্গে কী নিয়ে যাব?

ক্লিনিকের ডাক্তারের দেখানো রিপোর্টটা, সঙ্গে প্রতিদিনের ওষুধের তালিকা। কোন কোন দিন ফোলাটা বেশি ভোগায়, লিখে রাখুন।

ছোট ছিদ্রের পদ্ধতি হবে কি না, প্রথম দিনেই জানা যাবে?

হতেও পারে, পরীক্ষা আর রিপোর্ট পড়া শেষ হলে। কোনো সংশয় থেকে গেলে তিনি সিদ্ধান্তের আগে আরেকবার দেখতে চাইতে পারেন।

তিনি খোলা অপারেশনের পক্ষে মত দিলে কী করব?

কারণগুলো সহজ কথায় বুঝিয়ে দিতে তাঁকে অনুরোধ করুন। পদ্ধতিটা মিলতে হবে তিনি যে সমস্যা পেয়েছেন তার সঙ্গে, আপনি যে পরিকল্পনা নিয়ে গিয়েছিলেন তার সঙ্গে নয়।

বাড়িতে কোনো সন্ধ্যায় ফোলাটা বেরিয়ে তীব্র ব্যথা শুরু হলে কী করব?

চাপ দিয়ে ভেতরে ঢোকাতে যাবেন না, সকাল পর্যন্ত অপেক্ষাও করবেন না। বসতে না চাওয়া ব্যথাওয়ালা ফোলা, তীব্র ব্যথা, বারবার বমি, জ্বর কিংবা অজ্ঞান ভাব, সবগুলোর মানেই এক। সবার আগে হাসপাতালে যান, নইলে নিজের নিয়মিত ডাক্তারের কাছে।

Ad

Sponsor Space Available

Place your banner here to reach thousands of patients daily.

Sponsored

Grow Your Practice

Premium placement for hospitals & doctors.