সেরা ল্যাপারোস্কোপিক সার্জন - রাজশাহী

বাগানের কাজের পর সন্ধ্যা

আমার বয়স চুয়াল্লিশ। আমের মৌসুমে রাজশাহীর বাইরের একটা প্যাকিং শেডে ফল প্যাক করি। কাজটা দ্রুত হাতের আর লম্বা দাঁড়িয়ে থাকার। বাগান থেকে ঝুড়ি আসে, আমি বাছাই করে মুড়িয়ে সাজাই সন্ধ্যা পর্যন্ত। শেডে দুপুরের খাবারটা ভারী, বোঝা তোলার ফাঁকে তাড়াতাড়ি খাওয়া ভাত-তরকারি। সেই খাবারের পরপরই পেটের ওপরের দিকে ব্যথা শুরু হয়। পাঁজরের নিচে চেপে ধরে, ঘণ্টার পর ঘণ্টা থেকে যায়। রাতে হালকা খেলে ব্যথাটা আসে না। শেডের বড় দুপুরের খাবারটাই তাকে ডেকে আনে, প্রায় প্রতিটা কাজের দিন।

শহরের এক ডাক্তার পুরো ছকটা শুনে আমাকে একটা রিপোর্ট দেখালেন। তিনি বললেন, তিনি যা পেয়েছেন, তার জন্য অপারেশন লাগতে পারে। রিপোর্টটা ব্যাগে ভরে কয়েকদিন ভেবেছি। এখন চাই, একজন ল্যাপারোস্কোপিক সার্জন নিজে আমাকে পরীক্ষা করুন, রিপোর্টটা মন দিয়ে পড়ুন। তারপর তিনি পরিষ্কার করে বলুন, ছোট ছিদ্রের অপারেশন আমার ক্ষেত্রে খাটবে কি না। খোলা অপারেশনই সৎ উত্তর হলে সেটাও যেন তিনি সেভাবেই বলেন।

রাজশাহী থেকে খুঁজলে DoctorBD24-এ শহরের সব ধরনের ডাক্তারের মাঝেই ল্যাপারোস্কোপিক সার্জনদের নাম দেওয়া আছে। রাজশাহীর ডাক্তারদের সাধারণ তালিকা থেকে শুরু করে প্রোফাইলগুলো একটা একটা খুলুন। প্রতিটিতে চেম্বারের ঠিকানা আর বসার সময় পাবেন। আমি বেছেছি সকালের একটা সময়, শেডের কাজ শুরু হওয়ার আগেই।

0 available specialists found

🏜️

No Specialists Found

We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.

বাগানের কাজের পর সন্ধ্যা

খামারের দুপুরের খাবার আর তার পরের ঘণ্টাগুলো

বাড়ির সকালের নাশতা আমাকে কখনো ভোগায় না। ভোগায় শেডের দুপুরের খাবারটা। আমরা ঝুড়ির ওপর বসে প্লেট ভরে খাই, তারপর সোজা সাজানোর কাজে ফিরি। ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই চাপটা হাজির, ওপরের দিকে, পাঁজরের নিচে ঠেসে ধরা। ভরা ঝুড়ি ওজনের মেশিন পর্যন্ত টানলে আরও বাড়ে। সন্ধ্যায় হেঁটে বাড়ি ফেরার সময় পর্যন্ত সেটা ধীরে ধীরে ছেড়ে আসে। মৌসুম শেষে বাড়িতে হালকা রান্না খেয়ে পুরো সপ্তাহ শান্তিতে যায়। মৌসুমের সময়সূচি আর আমার ব্যথা একই ঘণ্টা মেনে চলে।

ফোল্ডার বন্ধ রেখে কোনো সিদ্ধান্ত নয়

রিপোর্টটা আমি নিজে তাঁর টেবিলে রাখব, ভাঁজ খুলে, গোটানো নয়। প্রথম ডাক্তার যা পেয়েছিলেন, নিজের মত গড়ার আগে তিনি সেটা পড়ুন। তারপর আমি নিজের ভাষায় ছকটা বলব। ব্যথা কখন আসে। তার আগে কী খেয়েছিলাম। কতক্ষণ থাকে। এরপর তিনি নিজের হাতে আমার পেট পরীক্ষা করবেন। এই তিনটা ধাপের আগেই নেওয়া সিদ্ধান্তে আমার ভরসা হবে না। ছোট ছিদ্রের পথটা তাঁর পাওয়া অবস্থার সঙ্গে মিললে তিনি কারণসহ বলবেন। না মিললে সেটাও একই রকম পরিষ্কার করে শুনতে চাই।

খাতায় লিখে রাখা আমার ওষুধের নাম

আমার প্রতিদিনের ওষুধ কমই, আর প্রেসক্রিপশনে যেভাবে লেখা ঠিক সেভাবেই খাই, মৌসুম থাকুক বা না থাকুক। ওষুধের নামগুলো ব্যাগের ভেতর একটা ছোট খাতায় লিখে রেখেছি, কারণ মনে সবসময় ঠিক থাকে না। ওই প্রেসক্রিপশনটা লিখেছেন এমন ডাক্তার, যিনি আমাকে পরীক্ষা করেছেন। কখনো বদল দরকার হলে সেই বদল আসবে তাঁর হাত দিয়েই, আমার বিচারে নয়, প্রতিবেশীর পরামর্শেও নয়। অপারেশনের আগে সার্জনকে জিজ্ঞেস করব, কোন ওষুধগুলো ওই সময়টায় থামিয়ে রাখতে হবে। নাম মিলিয়ে দেখার সময় রাজশাহীর জেনারেল সার্জনদের তালিকাটাও একবার দেখে নিতে পারেন।

রাত যেদিন বাড়িতে নয়, হাসপাতালে শেষ হওয়া উচিত

আমার ব্যথার একটা নিয়ম আছে, আমি সেই নিয়মের মধ্যেই থাকতে শিখেছি। তবে কয়েকটা বদল এলে সেই নিয়ম পুরোপুরি ভেঙে যাবে। ব্যথা তীব্র হয়ে সন্ধ্যা পেরিয়েও কমার বদলে বাড়তেই থাকলে সেটা একটা। থামতে না চাওয়া বমি, বারবার ফিরে এলেও তাই। ব্যথার সঙ্গে বেশি জ্বর হলেও সতর্ক হতে হবে। বিছানা থেকে উঠে দাঁড়ালে মাথা ঘুরে যাওয়ার ভাবও বাদ নেই। ব্যথাওয়ালা ফোলা বড় হয়ে থেকে গেল, ভেতরে ফিরতেই চাইল না, সেটাও একই তালিকার। এমন রাতে আমি বুক করা সকালের অপেক্ষা করব না। আগের হাসপাতাল, নইলে নিজের নিয়মিত ডাক্তার, সেদিনই।

কোলে ফোল্ডার নিয়ে করা প্রশ্ন

শুধু ব্যথার কথাই বলব, নাকি খাবারের কথাও?

দুটোই বলুন। শেডের বড় দুপুরের খাবারের ঘণ্টাখানেকের মধ্যে আসা ব্যথা তাঁকে এমন একটা গল্প বলে, যা শুধু ব্যথা বলতে পারে না।

সেদিন ব্যাগে কী কী রাখব?

আগের ডাক্তারের রিপোর্টটা নিন, আর ওষুধের নাম লেখা ছোট খাতাটাও। শুধু মাথায় ভর করে যাওয়া ঠিক নয়।

প্রথম বসাতেই কি তিনি ছোট ছিদ্রের ব্যাপারে উত্তর দিতে পারবেন?

পারতে পারেন, রিপোর্ট পড়া আর পরীক্ষা শেষ হলে। কিছু আবার দেখতে চাইলে তাঁকে সেই সময়টা দিন।

শেষে যদি তিনি খোলা পথটাই বেছে নিতে বলেন?

তাঁর পুরো যুক্তিটা মন দিয়ে শুনুন। কোনো কোনো সমস্যায় খোলা পথটাই মজবুত হয়, ভালো সার্জন বুঝিয়ে দেন আপনারটা কেন তেমন হতে পারে।

অপেক্ষার সময়টায় মৌসুমের প্যাকিং চালিয়ে যেতে পারব?

তাঁকে জিজ্ঞেস করুন, আর ঝুড়ি তোলার কাজটা সততার সঙ্গে বলুন। কতটা ভার আপনি তুলতে পারবেন, তা নির্ভর করবে তিনি কী পান তার ওপর, মৌসুমের চাপের ওপর নয়।

কোনো রাতে ব্যথাটা হঠাৎ খারাপ দিকে গেলে, বুক করা সকাল পর্যন্ত থাকব?

না। তীব্র হয়ে বাড়তে থাকা ব্যথা, থামতে না চাওয়া বমি, বেশি জ্বর কিংবা অজ্ঞান ভাব মানেই সেই রাতেই বেরিয়ে পড়া। হাসপাতালে যান, অথবা নিজের নিয়মিত ডাক্তারের কাছে, সেদিনই।

Ad

Sponsor Space Available

Place your banner here to reach thousands of patients daily.

Sponsored

Grow Your Practice

Premium placement for hospitals & doctors.