সেরা ল্যাপারোস্কোপিক সার্জন - খুলনা
ডিপোর শিফটের পরের রাত
আমার বয়স বাহান্ন, খুলনার এক প্রসেসিং ডিপোতে চিংড়ি বাছাইয়ের কাজ করি। কাজ মানে ঠান্ডা ঘরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকা, বরফপানিতে হাত, একের পর এক ঝুড়ি। শিফট শেষ হতে হতে তলপেটে একটা ব্যথা বসে যায়। কোনো রাতে শুলেই ধীরে ধীরে কমে। কোনো রাতে এপাশ-ওপাশ করেই ভোর হয়ে যায়।
আমি স্বীকার করার আগেই মেয়ে টের পেয়ে গেছে। এক সপ্তাহে দুই রাত আমি খাবার বাদ দিয়েছি, লুকিয়ে পেট চেপে ধরেছি, ও সবই দেখেছে। প্রথম যে ডাক্তারকে দেখালাম, তিনি পরীক্ষা করে বললেন অপারেশন লাগতে পারে। আমি সময় চেয়ে এসেছিলাম। এখন একজন ল্যাপারোস্কোপিক সার্জনের কাছে বসার দিন ঠিক করেছি। তিনি নিজে আমাকে পরীক্ষা করবেন, রিপোর্টগুলো পড়বেন। তারপর বলতে পারবেন, সাধারণভাবে নয়, আমার ক্ষেত্রে ছোট ছিদ্রের পদ্ধতিটা চলবে কি না।
তাঁর নামটা পেতে মেয়ের ফোনে এক সন্ধ্যাই লেগেছে। DoctorBD24-তে খুলনার ল্যাপারোস্কোপিক সার্জনদের নাম বড় ডাক্তার-তালিকার ভেতরেই থাকে। মা-মেয়ে মিলে খুলনার ডাক্তার ও চেম্বারের তালিকা ধরে এমন একটা বসা বেছেছি, যেটা আমার ছুটির দিনে পড়ে। ডিপোর রোস্টারে শিফট ফাঁকি চলে না, সেটাও হিসাব করতে হয়েছে।
0 available specialists found
No Specialists Found
We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.
ডিপোর শিফটের পরের রাত
ছুটির দিন শান্ত, শিফটের দিন নয়
ছুটির দিনটা আমার কাছে একটা মাপকাঠি। বাড়িতে কাটানো দিনে পেটটা প্রায় শান্তই থাকে। ঠান্ডা ঘরে পুরো শিফট বসে থাকার পর সন্ধ্যায় ব্যথাটা এসে রাতের জন্য গুছিয়ে বসে। এই তফাতটা মাসের পর মাস চলেছে, আমি দেখেও দেখিনি। যাই হোক এটা, লম্বা বসে থাকার ঘণ্টাগুলোর সঙ্গে ওটার সম্পর্ক স্পষ্ট। আর স্পষ্ট জিনিস নিয়ে আন্দাজে বসে থাকা ঠিক নয়।
তিনি যা যা জানতে চাইবেন
তিনি অপারেশনের কথা দিয়ে শুরু করবেন না। শুরু করবেন আমার ঘটনা দিয়ে। ব্যথা কবে থেকে, কোন শিফটে বাড়ে, খারাপ রাতগুলো আসলে কেমন যায়। প্রথম ডাক্তারের লেখায় ভরসা না করে তিনি নিজে আমার পেট পরীক্ষা করবেন। রিপোর্টগুলো যাবে আমার সঙ্গে, প্লাস্টিকের ফোল্ডারে প্রতিটা পাতা। পরীক্ষা আর পড়া শেষ হলেই তিনি বলবেন, ছোট ছিদ্রের পথ আমার ক্ষেত্রে খাটে কি না, নাকি খোলা অপারেশনই তিনি সৎভাবে পরামর্শ দেন।
ওষুধের ঘড়ি ধরে চলি আমি
আমার প্রতিদিনের ওষুধ চলে কড়া ঘড়ি ধরে, রোজ একই সময়ে। বসার দিন ঠিক হয়েছে বলেই সেই ঘড়ি বদলায় না। ওষুধ চলবে প্রেসক্রিপশনে যেভাবে আছে ঠিক সেভাবেই, একই মাত্রায়। বদলের দরকার হলে সেই কথা আসবে যিনি ওষুধগুলো দিয়েছেন তাঁর কাছ থেকে, আমার নিজের সিদ্ধান্তে নয়। অপারেশনের আগে সার্জনকে জিজ্ঞেস করব, কোন ওষুধ কদিন থামবে। নিজের বিচারে আগেভাগে একটাও থামাব না। নাম বাছাই করতে গিয়ে ভাবনায় থাকলে এই পাতার পাশাপাশি খুলনার জেনারেল সার্জনদের তালিকাও কাজে লাগতে পারে।
খারাপ রাত কখন সতর্কবার্তা
ঘুম না আসা এক রাত এক কথা। ভয় ধরানো রাত অন্য কথা, আর সীমারেখাটা কোথায় আমাকে বলে দেওয়া হয়েছে। ব্যথা তীব্র হয়ে বাড়তেই থাকলে সেই রেখা পেরিয়ে যায়। থামতে না চাওয়া বমি, বেশি জ্বর কিংবা বেসিনের পাশে দাঁড়িয়ে মাথা ঘুরে যাওয়ার ভাবও তাই। ব্যথাওয়ালা ফোলা বড় হয়ে ভেতরে ফিরতে না চাইলেও একই পাশের হিসাবে পড়ে। এমন রাতে পরিকল্পনা একটাই, বুক করা দিনের অপেক্ষা নয়, সেদিনই হাসপাতাল বা নিজের নিয়মিত ডাক্তার।
ছুটি চাওয়ার আগের প্রশ্নগুলো
ডিপোর কাজের বিবরণ কি খুলে বলা উচিত?
হ্যাঁ, ঠান্ডা আর লম্বা বসে থাকার ঘণ্টাসহ। তাঁর প্রশ্ন আসবে আপনার আসল জীবন ধরে, কাল্পনিক জীবন ধরে নয়। সময়ের ছোট ছোট বিবরণ প্রায়ই রোগীর ধারণার চেয়ে বেশি কাজে লাগে।
তিনি যদি রিপোর্টগুলো আরও সময় নিয়ে পড়তে চান?
তাঁকে সেই সময় দিন। ঠিকমতো পড়ে ভেবেচিন্তে দেওয়া উত্তর টেবিলে বসে ঝটপট দেওয়া উত্তরের চেয়ে দামি। পরের বসায় তিনি আবার ঘটনাটা শুনতে চাইতেও পারেন, এটা স্বাভাবিক।
ছুটির দিনে ব্যথা কমে। তাহলে যাওয়ার যুক্তি কি দুর্বল হয়?
না। ছক মেনে আসা ব্যথাও পরীক্ষার যোগ্য, আর ছকটাই একটা তথ্য। কোন দিন ব্যথা হয় আর কোন দিন হয় না, হুবহু তাঁকে বলুন।
মেয়ে কি আমার সঙ্গে ভেতরে বসতে পারবে?
সাধারণত কাছের মানুষ সঙ্গে থাকতে পারেন, আমিও মেয়েকে পাশে রাখব। আমি যেসব তারিখ গুলিয়ে ফেলি, ও সেগুলো মনে রাখে। বুকিংয়ের সময় বলে রাখুন, চেম্বার যেন দুটো চেয়ারের হিসাব রাখে।
তিনি যদি বলেন ছোট ছিদ্রের পদ্ধতি আমার জন্য ঠিক নয়?
তাহলে তিনি বুঝিয়ে দেবেন বদলে তিনি কী পরামর্শ দেন, আর কেন। সৎভাবে পথ বদলে দেওয়াও একটা উত্তর। সময় নিতে পারেন, রিপোর্ট নিয়ে আরেকজন সার্জনের দ্বিতীয় মতামতও নিতে পারেন।
হঠাৎ কোন বদল হলে অপেক্ষা না করে সেদিনই যাব?
সবচেয়ে পরিষ্কার সংকেত হলো বাড়তে থাকা তীব্র ব্যথা। বমি থামতে না চাইলে, বেশি জ্বর এলে, অজ্ঞান ভাব হলে কিংবা ব্যথার ফোলা বড় হয়ে ভেতরে না ফিরলেও একই জরুরি অবস্থা। রোস্টার যাই বলুক, সেদিন মানে হাসপাতাল বা নিজের নিয়মিত ডাক্তার।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.