সেরা কিডনি বিশেষজ্ঞ - বগুড়া
মাসের পর মাস চুপ করে থাকা
জীবনের বেশির ভাগ সময় প্রাইমারি স্কুলে পড়িয়েছি। শিক্ষকের চোখ ছোট বদলও ধরে ফেলে, এটা পেশার অভ্যাস। আমিও তাই খেয়াল করেছিলাম। কয়েক মাস ধরে প্রস্রাব করার সময় ফেনা ফেনা ভাবটা চোখে পড়ছে। একবার দুবার নয়, বারবার। দেখেছি, মনে মনে হিসাব রেখেছি, কাউকে কিছু বলিনি। ষাট বছর বয়সে কিছু কথা নিজের মধ্যে রাখাই ভালো, বগুড়ায় বসে এমনটাই ভাবতাম।
গত সপ্তাহে শেষ পর্যন্ত ছেলেকে বললাম। কথাটা যত কঠিন ভেবেছিলাম, তত কঠিন হয়নি। ও আতঙ্কিতও হয়নি, হেসে উড়িয়েও দেয়নি। শান্তভাবে কয়েকটা প্রশ্ন করল। তারপর সেই সপ্তাহের মধ্যেই একজন কিডনি বিশেষজ্ঞের কাছে আমার জন্য সময় নিয়ে নিল। স্বস্তিটা আমাকে অবাক করেছে। লুকিয়ে রাখাটাই আসলে ভারী ছিল। এখন প্রশ্নটা এমন একজনের কাছে যাচ্ছে, যিনি শোনার জন্যই বসেন।
নিচের অংশে বগুড়ার কিডনি বিশেষজ্ঞদের নাম আসবে, প্রোফাইল যোগ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে। এখন সেখানে কোনো নাম নেই। এর মধ্যে জেলার অন্য ডাক্তারদের দেখতে বগুড়ার ডাক্তারদের তালিকা ঘুরে দেখতে পারেন। সময়ের বিবরণটা ছেলে যত্নে রেখে দিয়েছে। আমার কাজ শুধু যাওয়া আর সত্যি করে বলা।
0 available specialists found
No Specialists Found
We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.
মাসের পর মাস চুপ করে থাকা
চুপচাপ দেখেই যাওয়া এক বদল
শুরুতে ব্যাপারটা হঠাৎ চোখে পড়ার মতো ছিল। প্রস্রাব করার সময় ফেনা, যেখানে ফেনা আশা করিনি। ভাবলাম, নিজে নিজেই ঠিক হয়ে যাবে। হলো না। সপ্তাহ গড়িয়ে মাস হলো, দৃশ্যটা বারবার ফিরল। এখানে আমার পুরোনো শ্রেণিকক্ষের অভ্যাসটাই উল্টো কাজ করেছে। মন দিয়ে দেখেছি, কিছু লিখে রাখিনি, কাউকে জানাইওনি। চুপচাপ দেখে যাওয়া আর ব্যবস্থা নেওয়া এক কথা নয়। এটা এখন মানি।
অবশেষে ছেলেকে বলা
বলতে সময় লাগল এক মিনিটেরও কম। ছেলে সেভাবেই শুনল, যেভাবে আমি একসময় অভিভাবকদের কথা শুনতাম। কোনো হইচই নেই, অযথা ভয়ও নেই। ও জানতে চাইল, কতদিন ধরে এটা খেয়াল করছি। আর কিছু বদলেছে কিনা, সেটাও জিজ্ঞেস করল। সপ্তাহ শেষ হওয়ার আগেই দেখানোর সময় নেওয়া হয়ে গেল। একটা সহজ কথা বারবার মনে আসে। দুশ্চিন্তাটা চুপ থাকায় বেড়েছিল। আরেকজন জানামাত্রই সেটা হালকা হয়ে গেল।
ষাট বছর বয়সে প্রথম দেখা
দেখা হলে কিডনি বিশেষজ্ঞ আগে আমার পুরো ইতিহাসটা শুনবেন। ঠিক কতদিন ধরে এই বদলটা দেখছি, তিনি জানতে চাইবেন। আগের রিপোর্ট আর পুরোনো প্রেসক্রিপশনগুলো দেখার পরই তিনি কোনো সিদ্ধান্তে যাবেন। সেই দেখা শেষ হওয়ার আগে কিছুই চূড়ান্ত হবে না। অন্য কোনো সমস্যায় সার্জন লাগলে বগুড়ার জেনারেল সার্জনদের নিজস্ব তালিকা আলাদা জায়গায় আছে। তিনি অন্যভাবে না বলা পর্যন্ত আমার ওষুধের নিয়ম আগেরটাই থাকবে। ডাক্তারের দেওয়া নিয়মিত ওষুধ আমি যেভাবে খাচ্ছি, সেভাবেই খাব। বদল দরকার হলে সেই সিদ্ধান্ত নেবেন ওষুধ যিনি দিয়েছেন, তিনি।
যেদিন হলে সেদিনই ছুটব
কিছু লক্ষণ নেওয়া সময়ের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করে না। প্রস্রাব প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়া বা একেবারেই না হওয়া তার একটি। ফোলার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট দেখা দেওয়াও তাই। থামতে না চাওয়া বমিও সেই তালিকায় পড়ে। এত গভীর দুর্বলতা যে চিন্তা ঝাপসা হয়ে আসে, সেটাও। এমন দিন এলে আমি সোজা হাসপাতাল বা পরিচিত ডাক্তারের কাছে যাব। আর খবরটা এবার নিজের মধ্যে আটকে রাখব না।
এক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের জিজ্ঞাসা
এমন বদল নিয়ে কি বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়া উচিত?
মাসের পর মাস থাকলে একবার যাওয়া উচিত। আপনার কথা শুনে তিনিই বুঝবেন বিষয়টা কী। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলি, চুপ থাকায় কিছুই ঠিক হয় না।
যাওয়ার আগে কোন কাগজপত্র গুছিয়ে নেব?
পুরোনো রিপোর্ট আর আগের প্রেসক্রিপশনগুলো নিন। প্রথম কবে বদলটা চোখে পড়েছিল, তার একটা নোটও রাখুন। গোছানো কাগজে কথা বলা অনেক সহজ হয়।
বিশেষজ্ঞ কি আমার অভ্যাস আর ওষুধের কথা জিজ্ঞেস করবেন?
তেমন প্রশ্ন আশা করুন। কী খান, দিন কেমন কাটে, নিয়মিত কী ওষুধ চলে, সবই ইতিহাসের অংশ। সহজভাবে, পুরোটা বলুন।
ষাট বছর বয়সে এসে জিজ্ঞেস করা কি দেরি হয়ে গেল?
মোটেই না। প্রশ্নের কোনো মেয়াদ থাকে না। ষাট শুধু সেই বয়স, যখন আমি নিজের প্রশ্নটা করলাম। সময়টা যিনি নেন, তাঁর জন্যই।
প্রথম দেখাতেই কি পরিষ্কার উত্তর মিলবে?
মিলতেও পারে, আবার রিপোর্ট দেখার পরও সময় লাগতে পারে। না দেখে তিনি সিদ্ধান্ত দেবেন না। তাড়াহুড়োর নামের চেয়ে যত্নের অপেক্ষা ভালো।
কোন লক্ষণ দেখলে নেওয়া সময়ের জন্য অপেক্ষা করব না?
প্রস্রাব প্রায় না হলে অপেক্ষা নয়। ফোলার পাশাপাশি শ্বাসকষ্ট হলেও নয়। বারবার ফেরা বমি আর ঝাপসা মাথার দুর্বলতাও তাই। সেদিনই যান।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.