সেরা বন্ধ্যাত্ব বিশেষজ্ঞ - খুলনা
তাকে রাখা টিনের বাক্সটা
দিনের বেশির ভাগ সময় আমার কাটে চিংড়ি বাছাইয়ের কারখানায় হাত চালিয়ে। স্বামী ভোরে ভ্যান নিয়ে বের হন, ফেরেন সন্ধ্যা গড়িয়ে। বিয়ের সাত বছরে হিসাব করে চলা আমাদের অভ্যাস হয়ে গেছে, কেউ শেখায়নি। মাস শেষে হাতে যা বাঁচত, রান্নাঘরের তাকের ওপর রাখা বাক্সটায় জমত। কোনো মাসে শুধু একটা ভাঁজ করা নোট। বাক্সটার নাম মুখে কখনো আসেনি।
ওই জমানো টাকার গন্তব্য মনে মনে ঠিক ছিল অনেক আগে থেকেই। দুজনে মিলে এক বন্ধ্যাত্ব বিশেষজ্ঞের সামনে বসে মনের কথা খুলে বলতে চাই। তিনি আমার কথা শুনবেন, তারপর স্বামীরটাও, তাড়া না দিয়ে। কতদিন ধরে অপেক্ষা, সেটাই হবে তাঁর প্রথম জানতে চাওয়া। ড্রয়ারে রাখা পুরনো কাগজগুলো সঙ্গে যাবে, আগে তাঁর চোখে পড়ার জন্য।
খুলনায় বসেন এমন বন্ধ্যাত্ব বিশেষজ্ঞদের নাম নিচে দেওয়া আছে, প্রত্যেকের চেম্বারের বিবরণ আর বুকিংয়ের তথ্যসহ। পাশাপাশি অন্য দরকারে খুলনার সব ধরনের ডাক্তারের পুরো তালিকা দেখে নিতে পারেন। টিনের বাক্স এখন প্রায় খালি। এভাবে খরচ হওয়াটাই আমাদের কাছে ঠিক মনে হচ্ছে।
1 available specialists found
ডাঃ মোস্তফা আল তারিক (রনি)
তাকে রাখা টিনের বাক্সটা
তাকের ওপর টিনের বাক্সটা
আমার তাকে চালের জার, একটা চিড় ধরা চায়ের কাপ, আর পেছনে ঠেলে রাখা একটা টিনের বাক্স। বিয়ের দুই বছর পার হওয়ার পর ওই বাক্সটাই হয়ে উঠল আমাদের চুপচাপ প্রতিশ্রুতি। বাজারের খরচ আর ভ্যানের মেরামতের পর যা বাঁচত, অল্প অল্প করে ঢুকত ভেতরে।
গোনা হতো বছরে মাত্র দুবার, রাতের খাওয়ার পর মেঝেতে বসে। ধীরে জমানো আমাদের এক ধরনের বাস্তব ধৈর্য শিখিয়েছে। প্রতিটা ভাঁজ করা নোট যেন বলত, ঠিকমতো জানতে চাওয়া আমরা ছাড়িনি।
সঞ্চয়টা কেন করা হয়েছিল
এত মাসের অপেক্ষা দিয়ে কেনা জিনিসটা এই বসাটাই। প্রথম দিনেই উত্তর মিলবে, এমন আশা করি না। চাই শুধু মুখোমুখি ঠিকমতো শোনা, এমন একজনের কাছে যিনি এমন অপেক্ষা রোজ দেখেন। তিনি হয়তো আগে আমার কথা শুনবেন, নয়তো স্বামীরটা। দুজনের কথাই তাঁর খাতায় ওঠা দরকার।
তিনি জানতে চাইবেন চেষ্টা শুরু কবে থেকে, আগের দেখাগুলোয় কী কাগজ জমেছে। ড্রয়ারের ছড়ানো পুরনো কাগজ তাঁর সামনে যাবে মত দেওয়ার আগেই। আধা দেখে তিনি কিছু ঠিক করে ফেলেন না। এই সংযমের জন্যই টিন খালি হতে আফসোস লাগে না।
তার লিখে দেওয়া ট্যাবলেটের জায়গা বদলায় না
একটা অভ্যাস এই নতুন দেখায় একদম ছোঁয়া পড়বে না। অনেক আগে আমার নিজের ডাক্তারের লিখে দেওয়া ট্যাবলেট প্রতিদিন সকালে ঠিক নিয়মেই চলছে। বন্ধ্যাত্ব বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়া শুরু হলেই সেই নিয়ম নড়ানোর অধিকার কারো হয় না। বদলের কথা উঠলে সিদ্ধান্ত শুধু যিনি লিখে দিয়েছিলেন তাঁরই।
শুরুতেই ট্যাবলেটের কথা তাঁকে জানিয়ে দেব, যাতে তাঁর নোট পূর্ণ থাকে। তিনি লিখে রেখে ওই প্রসঙ্গ ওখানেই রাখবেন। পরে সংসারে অন্য কোনো অস্ত্রোপচার-ঘটিত দুশ্চিন্তা এলে এই তালিকাতেই পাবেন খুলনায় বসেন এমন জেনারেল সার্জনদের, সরাসরি যোগাযোগের জন্য। আলাদা দুশ্চিন্তার দরজা আলাদাই ভালো।
সঞ্চয়ের জন্য অপেক্ষা করা যায় না এমন কষ্ট
জমাতে শিখলে অপেক্ষা সহজ হয়, কিন্তু কিছু ব্যথায় অপেক্ষা একেবারেই চলে না। তলপেটে কিংবা কোমরের গভীরে তীব্র ব্যথা উঠলে সব পরিকল্পনা পেছনে পড়ে। স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি রক্ত গেলেও একই কথা। হঠাৎ চোখে অন্ধকার নেমে পড়ে যাওয়ার মতো হলেও তাই।
সেদিনই হাসপাতালে যান, কিংবা চেনা নিয়মিত ডাক্তারের কাছে, যেটা কাছে পড়ে। এসব লক্ষণের সামনে টিনের টাকা আর বুক করা সময় কোনো মানেই রাখে না। আগে দেখান। টাকা আর সময়ের হিসাব পরে মেলানো যাবে।
সাধারণ প্রশ্নোত্তর
স্বামী ভেতরে বসবেন, নাকি বাইরে অপেক্ষা করবেন?
ভেতরেই বসতে বলুন তাঁকে। তাঁদের প্রশ্ন দুজনের যৌথ বছরগুলো নিয়ে, আর স্বামীর মনে থাকা অংশ আপনার ফাঁক ভরবে। বাইরে বসে থাকলে গল্পের অর্ধেক বাইরেই থেকে যায়।
ফোল্ডারে কোন কাগজগুলো রাখা দরকার?
হাতে থাকা আগের সব কাগজই নিন, যত এলোমেলোই হোক। তারিখ লেখা কাগজ দেখে তিনি আগের ধারাটা অনুমান ছাড়াই বুঝতে পারেন। একটা পুরনো পাতাও কাজে লাগে।
প্রথম বসাতেই কি আমাদের বিষয়ে কিছু ঠিক হয়ে যাবে?
প্রায় কিছুই ঠিক হয় না সেদিন। তাঁর ঘরে আগে শোনা আর পড়া চলে। দুটোই শেষ না হলে পাকা মত তিনি দেন না।
টাকার কথা লজ্জা না পেয়ে কীভাবে তুলব?
পরের দেখা ঠিক করার আগে চেম্বারের কর্মীদের সরাসরি জিজ্ঞেস করুন। ঘরে বসে চুপচাপ দুশ্চিন্তার চেয়ে খোলাখুলি জিজ্ঞেস করা ভালো। আগাম কোনো অঙ্ক এখানে বলা যায় না, ডেস্ক থেকেই শুনে নিন।
স্বামীর ভ্যানের কাজের ফাঁকে সময় মেলানো যাবে?
প্রতিটি নামের পাশে চেম্বারের সময় দেওয়া আছে নিচে। তাঁর গাড়ি চালানোর দিনে যে সময়টা মেলে, সেটাই বেছে নিন। ফোনে নিজেদের সীমাবদ্ধতা পরিষ্কার বলুন।
কোন লক্ষণ দেখলে বুক করা তারিখ রেখে আজই জরুরি জায়গায় ছুটতে হবে?
তলপেটে চাপা তীব্র ব্যথা উঠলেই ছুটুন। দ্রুত ভিজিয়ে দেওয়া বেশি রক্ত গেলেও তাই, আর জ্ঞান হারানো বা হারানোর মতো হলেও। বুক করা তারিখ বাঁচানোর চেয়ে আজ হাসপাতালে দেখানো জরুরি।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.