সেরা বন্ধ্যাত্ব বিশেষজ্ঞ - ঢাকা

আট বছর, এক ড্রয়ার রিপোর্ট

আমাদের বিয়ের আট বছর পূর্ণ হলো। এই আট বছরে ডাক্তারের চেম্বারে কম বসিনি আমরা। কেউ দেখেছেন সর্দি-কাশি, কেউ কোমরের ব্যথা, কেউ আবার এমনিতেই স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেছেন। কিন্তু যে প্রশ্নটা বুকে নিয়ে ঘুরছি এতদিন, সেটা নিয়ে আলাদা করে কেউ কখনো বসেননি আমাদের সঙ্গে। প্রতিবারই অন্য প্রসঙ্গ এসে গেছে সামনে। এবার প্রথমবার আমরা যাচ্ছি একজন বন্ধ্যাত্ব বিশেষজ্ঞের কাছে। আর যাচ্ছি দুজনে মিলে, সেটাই এই দেখার বড় পার্থক্য।

বছরের পর বছর জমা কাগজপত্র আমাদের রান্নাঘরের ড্রয়ারে থাকে। প্লাস্টিকে মোড়া রিপোর্ট, ভাঁজ করা প্রেসক্রিপশন, কোনা ছেঁড়া একটা খাম, সব এক জায়গায়। এবার কাপড়ের ব্যাগে ভরে পুরো ড্রয়ারটাই নিয়ে যাচ্ছি। যতটুকু বুঝেছি, বন্ধ্যাত্ব বিশেষজ্ঞ আগে রিপোর্টগুলো খুঁটিয়ে পড়েন, তারপর নিজে কথা বলেন। কতদিন ধরে চেষ্টা করছি আমরা, সেটাও তিনি দুজনের মুখেই শুনতে চাইবেন। আমার স্ত্রীর পাশাপাশি আমার উত্তরও তাঁর কাছে সমান জরুরি।

নিচে ঢাকায় বসেন এমন বন্ধ্যাত্ব বিশেষজ্ঞদের নাম দেওয়া আছে, সঙ্গে চেম্বারের ঠিকানা আর অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার তথ্য। আরও বিস্তারিত দেখতে চাইলে ঢাকার সব ধরনের ডাক্তারের পূর্ণ তালিকা ঘাঁটতে পারেন। আমরা বেছে নিয়েছি আমার অফিস ছুটির পরের সন্ধ্যার সময়টা। স্ত্রী ওই সময়টাতেই এককথায় রাজি হয়েছেন।

1 available specialists found

ডাঃ মাহমুদা বেগম

Qualifications এমবিবিএস, এমসিপিএস, এমপিএইচ, ডিএমইউ।
অবস্থান উত্তরা, ঢাকা

আট বছর, এক ড্রয়ার রিপোর্ট

এত বছরে এই প্রশ্নটার আলাদা অ্যাপয়েন্টমেন্টই হয়নি

আট বছরে যেসব ডাক্তার দেখিয়েছি, তাঁরা কেউ ভুল কিছু করেননি। আমরা যা বলেছি, তাঁরা সেটাই দেখেছেন। আসল প্রশ্নটা চাপা পড়ে গেছে প্রতিবার, কারণ ওই নামে আমরা কখনো আলাদা অ্যাপয়েন্টমেন্টই নিইনি। ভেবেছি, সামনের মাসে হয়তো এমনিতেই মিটে যাবে।

দেরির একটা অংশ আমার নিজের, সেটা স্বীকার করি। এই ধরনের বিশেষজ্ঞের দরজায় যাওয়া মানেই বছরগুলোর হিসাব মুখে স্বীকার করা। সেটা এড়িয়ে গেছি অনেকদিন। স্ত্রী কখনো জোর করেননি। এবারের বুকিংটা আসলে তাঁর ধৈর্যের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা আমার।

ড্রয়ারের সব কাগজ যাবে সঙ্গে

কাগজ যেমন আছে, তেমনই যাবে, নতুন করে সাজানো হবে না। বুকিং দেওয়ার সময় চেম্বার থেকে বলা হয়েছে, বন্ধ্যাত্ব বিশেষজ্ঞ মত দেওয়ার আগে রিপোর্ট পড়েন। আমরা কতদিন ধরে চেষ্টা করছি, সহজ ভাষায় সেই প্রশ্ন দুজনকেই করা হবে।

পুরনো রিপোর্ট থাকলে একই জায়গায় বারবার ঘুরতে হয় না। আগের ডাক্তাররা কী কী দেখে গেছেন, সেটা কাগজেই ধরা থাকে। না দেখা কাগজের ওপর ভর করে তিনি কিছু ঠিক করে ফেলবেন না, এই আশ্বাসটুকু আমার ভালো লেগেছে।

নিজের পুরনো ওষুধ নিজের নিয়মেই চলবে

আমি রোজ একটা ওষুধ খাই, অনেক আগে আমার নিজের ডাক্তারের লিখে দেওয়া। এই অ্যাপয়েন্টমেন্টের বহু আগে থেকেই সেটা চলছে। বন্ধ্যাত্ব বিশেষজ্ঞের চেম্বারে ওই নিয়ম নিয়ে কোনো বদলের কথা উঠবে না। ওষুধটা প্রতিদিন সকালে হুবহু আগের মতোই চলবে। এই দেখা থেকে যাই শুরু হোক, ওই রুটিনে হাত পড়বে না। বদল কখনো লাগলে বদলাবেন তিনিই, যিনি ওষুধটা প্রথম লিখেছিলেন।

শুরুতেই ওষুধটার নাম তাঁকে জানিয়ে দেব, যাতে তাঁর নোটে সেটা উঠে থাকে। একই তালিকায় ঢাকায় বসেন এমন জেনারেল সার্জনদের নামও পাবেন, ওই ধরনের সমস্যার জন্য। আমাদের আজকের বিষয়টা তার চেয়ে সরু: ড্রয়ারভরা কাগজ, আমরা দুজন, আর তাঁর প্রশ্ন।

জরুরি অবস্থা ফলো-আপের তারিখ দেখে না

বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে করতে মানুষ প্রতিক্রিয়ায় ধীর হয়ে যায়। আমাদেরও তাই হয়েছে। কিন্তু এই ধীরগতির একটা সীমা আছে। তলপেটে প্রচণ্ড ব্যথা উঠলে ঘুমিয়ে পড়ে দেখা যাক বলা চলে না। রক্ত যদি স্বাভাবিক মাত্রা ছাড়িয়ে যায়, সেখানেও অপেক্ষা চলে না। হঠাৎ জ্ঞান হারানো মানেই অপেক্ষার ওখানেই শেষ।

এসব লক্ষণ দেখা দিলে সেদিনই হাসপাতালে যেতে হয়, অথবা নিজের চেনা ডাক্তারের কাছে। পরের বসার তারিখ পর্যন্ত নয়। আগে যাওয়া, কাগজপত্রের হিসাব পরে মিলবে।

সাধারণ প্রশ্নোত্তর

বছরখানেক আগের পুরনো রিপোর্টও কি সঙ্গে নেওয়ার দরকার আছে?

সবগুলোই নিয়ে যান। মত গড়ার আগে বন্ধ্যাত্ব বিশেষজ্ঞ যা আছে তাই পড়েন। পুরনো কাগজে বোঝা যাবে কোন জায়গাগুলো আগেই দেখা হয়ে গেছে। ফাঁক থাকলে সেটা মানিয়ে নেওয়া যায়। হারিয়ে যাওয়া বছর আবার বানানো কঠিন।

অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্ত্রীর নামে। আমিও কি ভেতরে যাব?

যাবেন। প্রথম দেখায় দুই সঙ্গীর কথাই তিনি শোনেন। তাঁর প্রশ্নের একটা অংশ আপনার জন্যই থাকবে।

প্রথম দেখাতেই কি তিনি কারণটা বলে দিতে পারবেন?

সম্ভবত পারবেন না, আর সেটাই স্বাভাবিক। রিপোর্ট পড়া আর দুজনের কথা শোনা শেষ হওয়ার আগে তিনি কিছু ঠিক করেন না। প্রথমদিকে প্রশ্নই বেশি থাকবে। সিদ্ধান্তের নিজের সময় লাগে।

ফলো-আপে গেলে সাধারণত কী হয়?

দুজনে মিলে আবার যাবেন। কাগজপত্রে তিনি যা পেয়েছেন, সেগুলো নিয়ে কথা হবে। একই ব্যাগটা সঙ্গে রাখুন, নতুন কাগজ তাতে যোগ করুন।

আট বছর ধরে চেষ্টা করছি। এতে কি প্রথম দেখাটা অন্যরকম হবে?

সময়ের দৈর্ঘ্যটা তাঁর প্রথম দিকের প্রশ্নের একটা হবে। পুরনো রিপোর্ট তিনি কীভাবে পড়বেন, তাতেও এর প্রভাব থাকবে। তবে দেখাটা এতে ভারী হয়ে যাবে না। শুধু আপনাদের ইতিহাসটা একটু লম্বা, এই যা।

আজ রাতে স্ত্রীর তলপেটে খুব ব্যথা উঠেছে। বুক করা তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করব?

না। ওই মাত্রার ব্যথা, অস্বাভাবিক বেশি রক্ত যাওয়া কিংবা জ্ঞান হারানো মানেই আজই হাসপাতাল। বুক করা তারিখ বদলানো যায়। তাঁর নিরাপত্তা পেছানো যায় না।

Ad

Sponsor Space Available

Place your banner here to reach thousands of patients daily.

Sponsored

Grow Your Practice

Premium placement for hospitals & doctors.