সেরা বন্ধ্যাত্ব বিশেষজ্ঞ - বাগেরহাট
চার বছরের অপেক্ষা
বিয়ের চার বছর পেরিয়ে গেছে, প্রতিটা মাস এখনো একই নীরবতায় শেষ হয়। আমার বয়স উনত্রিশ, স্বামী বাগেরহাটে আমাদের বাড়ির কাছেই চিংড়ির ঘেরে কাজ করেন। আমাদের এখনো কোনো সন্তান হয়নি। পরিবারের কেউ খারাপ কিছু বলে না। শাশুড়ি শুধু মৃদুভাবে জিজ্ঞেস করেন, আর আমি নতুন কোনো উত্তর খুঁজে পাই না।
এই কয় বছরে এখানে-সেখানে ডাক্তার দেখিয়েছি আমরা। কোথাও কয়েকবার গেছি, কারো কাছেই লম্বা সময় ধরে যাইনি। সব কাগজ আমি একটা প্লাস্টিকের ফোল্ডারেই রাখি। পুরনো রিপোর্ট, প্রেসক্রিপশনের কাগজ, আর নিজের হাতে তারিখ লিখে রাখা একটা পৃষ্ঠা। কিছু কাগজের লেখা এখন মসে গেছে। কেউ কখনো আমাদের দুজনকে বসিয়ে পুরো ফোল্ডারটা শুরু থেকে পড়ে দেখেননি।
এবার সিদ্ধান্তটা আমরা দুজনে মিলেই নিয়েছি। নতুন কিছু বলার আগে একজন বিশেষজ্ঞ যেন আমাদের দুজনের কথাই শোনেন। আর আমাদের কাছে যা আছে, সেগুলো যেন আগে দেখে নেন। বাগেরহাটের ডাক্তারদের তালিকা দেখে এমন একজনকে বেছেছি, যাঁর চেম্বারের সময় স্বামীর ঘেরের কাজের সঙ্গে মেলে। ফোল্ডারটা আমি হাতে করে নিয়ে যাব। তিনি বাইরে অপেক্ষা করবেন না, আমার পাশেই বসবেন।
0 available specialists found
No Specialists Found
We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.
চার বছরের অপেক্ষা
প্রথম দেখায় সঙ্গে যাবে পুরনো কাগজের ফোল্ডার
ফোল্ডারটা গোছানো নয়, এ নিয়ে তাঁর একটু লজ্জাও আছে। আলাদা আলাদা বছরের রিপোর্ট কোনো ঠিকঠাক ক্রমে সাজানো নেই। এক ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ভাঁজ হয়ে ঢুকে আছে আরেক বছরের রিপোর্টের ভেতরে। একদম পেছনে তাঁর নিজের হাতে লেখা তারিখের পৃষ্ঠাটা।
সবচেয়ে পুরনো কাগজগুলো ফেলে দেওয়ার কথা তিনি ভেবেছিলেন। তারপর মত বদলেছেন। ওই ফোল্ডারে যা আছে, সেটাই তাঁদের পথচলার একমাত্র পূর্ণ হিসাব। কোনো বিশেষজ্ঞ যদি তাঁদের চার বছরটা বুঝতে চান, কম কাগজের চেয়ে বেশি কাগজ তুলে দেওয়াই ভালো। ফোল্ডারটা যেমন আছে, তেমনই সঙ্গে যাবে।
দুজনের মুখ থেকে শোনা হয় প্রথম দেখায়
এই প্রথম দেখায় শুধু তাঁকেই প্রশ্ন করা হবে না। স্বামীকেও ঘরে থাকতে চান বিশেষজ্ঞ। কতদিন ধরে তাঁরা চেষ্টা করছেন, সেটা তিনি দুজনকে একসঙ্গেই জিজ্ঞেস করবেন। এই বছরগুলোর দুজনের বর্ণনাই তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আগের ডাক্তাররা বেশিরভাগ সময় যেকোনো একজনের সঙ্গেই কথা বলেছেন। ইনি দুজনেরটাই শুনতে চান।
নিজে কিছু বলার আগে তিনি ফোল্ডারটাও পড়ে নেন। আগের দেখাগুলোতে কী কী বেরিয়েছিল, কাগজ ধরে ধরে দেখেন তিনি। তখন প্রত্যেক ডাক্তার তাঁদের কী বলেছিলেন, সেটাও জিজ্ঞেস করেন। পড়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওই ঘরে কোনো সিদ্ধান্ত হয় না। এই ধৈর্যের জন্যই তাঁকে বেছে নেওয়া।
তাঁর প্রতিদিনের ওষুধে কোনো বদল নয়
একটা বিষয় এই দেখায় আলোচনার বাইরে। তাঁর একটা ওষুধ রোজকার নিয়মে চলে, অনেক আগে নিজের ডাক্তারের লিখে দেওয়া। সেটা চলবে হুবহু আগের মতো। বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়া শুরু হলেই ওটা থামবে না। নতুন অ্যাপয়েন্টমেন্টের সঙ্গে মিলিয়েও ওটা বদলানো হবে না। বদল কখনো দরকার হলে সিদ্ধান্ত নেবেন যিনি ওষুধটা দিয়েছেন, এই চেম্বার নয়।
ওষুধটার কথা বিশেষজ্ঞ আগেভাগেই জিজ্ঞেস করবেন। হাত না দিয়ে তিনি সেটা নিজের নোটে লিখে রাখবেন। জায়গাটা সেখানেই। একই তালিকায় অন্য ধরনের ডাক্তারদের নামও সরাসরি আছে, যেমন বাগেরহাটের জেনারেল সার্জনরা। অন্য কোনো সমস্যায় কখনো ভিন্ন হাত লাগলে তাঁদের কথা ভাবা যাবে। আপাতত একটা দেখার জন্য তাঁদের ফোল্ডার আর প্রশ্নগুলোই যথেষ্ট।
অপেক্ষা করা যায় না যেসব লক্ষণে
এই পথের বেশিরভাগটাই ধীর, অপেক্ষা তার অংশ। তবে কিছু লক্ষণ সে তালিকায় পড়ে না। তলপেটে তীব্র ব্যথা, স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি রক্ত যাওয়া, দাঁড়িয়ে থাকতে না পেরে জ্ঞান হারানো, মানেই সেদিনই হাসপাতাল। ঘণ্টায় ঘণ্টায় বাড়তে থাকা ব্যথাও একই তালিকায় থাকে। এসব আগামী সপ্তাহের অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য ধরে রাখা যায় না।
আমার স্বামী ঘরে বসতে লজ্জা পান। তিনি কি সরাসরি তাঁকেও কথা বলবেন?
বলবেন। দুই সঙ্গীর কাছেই তিনি প্রশ্ন করেন, কারণ গল্পের দুই অর্ধেকই তাঁর নোটে থাকা দরকার। স্বামী কোণে বসে থাকার জন্য যাবেন না।
আমাদের ফোল্ডারের কিছু কাগজ তিন বছরের পুরনো। সেগুলোও কি নিয়ে যাব?
নিয়ে যান। পুরনো রিপোর্টে বোঝা যায় আপনারা কোথা থেকে শুরু করেছেন, কী কী আগেই দেখা হয়েছে। অনুমান করার চেয়ে মসে যাওয়া কাগজ পড়াই ভালো।
ফোল্ডারে শুধু পুরনো কাগজই আছে, নতুন কিছু নেই। তবু কি দেখা করাটা কাজের হবে?
হবে। ফোল্ডারটা তাঁর শুরুর জায়গা, পুরো দেখা নয়। যা যা নেই, তিনি সেগুলো নোট করে আলোচনা করবেন।
সবার আগে তিনি কি জিজ্ঞেস করবেন, কতদিন ধরে আমরা চেষ্টা করছি?
আগেভাগেই জিজ্ঞেস করবেন, কারণ ফোল্ডারের বাকি সবকিছুর প্রসঙ্গ ওটাই ঠিক করে দেয়। সাদামাটা একটা প্রশ্ন হিসেবেই ধরুন, দুজনকে একসঙ্গেই করা হবে।
অ্যাপয়েন্টমেন্টে শুধু আমার নাম আছে। তবু কি আমরা একসঙ্গে ঢুকতে পারব?
পারবেন। প্রথম দেখা দুই সঙ্গীর জন্যই হয়। পৌঁছে চেম্বারে জানিয়ে দিন, আপনারা দম্পতি হিসেবে এসেছেন।
আজ রাতে রক্ত যাচ্ছে অনেক বেশি, তলপেটের ব্যথাটাও বাড়ছে। আমাদের দেখা আগামী সপ্তাহে। সেই দেখা পর্যন্ত ধরে রাখা যাবে?
ধরে রাখা যাবে না। বাড়তে থাকা ব্যথার সঙ্গে বেশি রক্ত যাওয়া মানেই আজই হাসপাতাল। এখনই যান, নিরাপদ হলে অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময় নতুন করে ঠিক করা যাবে।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.