সেরা হোমিওপ্যাথি ডাক্তার - রংপুর
লম্বা বাসযাত্রা মানেই আতঙ্ক
অফিস খোলার আগেই তাঁর দিন শুরু হয় বাসস্ট্যান্ড থেকে। তিনি ৩৭ বছর বয়সী, রংপুরে একটা এনজিওতে কাজ করেন। কোনো সপ্তাহে টানা চারদিন তাঁকে গ্রামে যেতে হয়। কাজটা তাঁর ভালোই লাগে। ভয়টা শুধু বাসে কাটানো ওই লম্বা সময়টা নিয়ে।
বাস ছাড়ার বিশ মিনিটের মাথায় পেটটা কেমন যেন গুলিয়ে ওঠে, মাথাটা হালকা লাগে। সামনের সিট আঁকড়ে ধরে তিনি জানালা দিয়ে রাস্তার দিকে তাকিয়ে থাকেন। গন্তব্যে নেমে প্রথম কয়েক পা পা-জোড়া যেন নিজের মনে হয় না। মাঝেমধ্যে মনে হয়, নেমে পড়ি।
এক সহকর্মী, যিনি একসময় হোমিওপ্যাথি ডাক্তারের কাছে বসেছিলেন, আগেই বলে রেখেছেন, প্রথম বসাটা তাড়াতাড়ি শেষ হবে না। তিনি নাকি যাত্রার খুঁটিনাটি শুনেছেন, পাশাপাশি ঘুম, যাত্রার দিনের খাওয়া, এমনকি ছোট যাত্রায়ও একই অবস্থা হয় কি না, তাও জিজ্ঞেস করেছেন। এই মন দিয়ে শোনাটাই তিনি চান। DoctorBD24-এ রংপুরে চিকিৎসা করা ডাক্তারদের পূর্ণ তালিকা থেকে তিনি নিজের ডাক্তার বেছে নিয়েছেন। কিছু বলার আগে তিনি চান, শেষ তিনটা যাত্রার গল্প ধাপে ধাপে ডাক্তারকে শোনাতে।
0 available specialists found
No Specialists Found
We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.
লম্বা বাসযাত্রা মানেই আতঙ্ক
শেষ কয়েকটা যাত্রার খুঁটিনাটি
মাঠের ডায়েরির পেছনের পাতায় তিনি এখন যাত্রার হিসাব লিখছেন। তারিখ, কোন পথে গেলেন, কতক্ষণ লাগল, আর গা গুলানোটা শুরু হলো কখন। কোনো যাত্রায় বাস ছাড়ার আগেই শুরু হয়ে যায়। কোনো যাত্রায় আবার গ্রামে পৌঁছান প্রায় স্বাভাবিকভাবে, ফেরার পথেই সব গোলমাল।
ধীরে ধীরে একটা ছক চোখে পড়ছে। খালি পেটে প্রথম ঘণ্টাটা বেশি খারাপ যায়। জানালার পাশের সিটে একটু সুবিধা, পেছনের সারিতে একদমই নয়। ছোট ছোট এই পর্যবেক্ষণগুলোসহ সবই তিনি প্রথম বসায় তুলতে চান।
বসাটা ধাপে ধাপে
বসায় ডাক্তার শুরু করেন ডায়েরির শুরুতেই। যাত্রার কোন অংশটা সবচেয়ে বেশি কষ্ট দেয়। বাসে ওঠার আগে কী খেয়েছিলেন, আগের রাতে ঘুম কেমন হয়েছিল, পড়তে বা ফোনে তাকালে অবস্থা বদলায় কি না। প্রতিটা উত্তর তিনি খাতায় তোলেন।
সেই লম্বা শোনার মধ্যে তিনি মাঝখানে কিছুই বলেন না। আগে পুরো বিবরণ, তাঁর নিজের ভাষায়। শেষে তিনি বোঝান যা বুঝেছেন, আর বলেন পরের বসা পর্যন্ত কোন কোন বিষয় লিখে রাখতে হবে।
রাস্তায় খারাপ লাগলে কখন থামতে হয়
বাসে গা গুলানো এক জিনিস। রাস্তায় কিছু লক্ষণ একদম অন্যরকম। জ্ঞান হারানো, থামতে না চাওয়া বমি, বুকে ব্যথা কিংবা হঠাৎ বিভ্রান্ত লাগলে নেমে সেদিনই হাসপাতালে যেতে হয়। সামনের সপ্তাহের বসা আছে বলে এসব লক্ষণ নিয়ে বসে থাকা যায় না।
তিনি যেসব ওষুধ এমনিতেই খান
তাঁর নিয়মিত ওষুধগুলো তাঁর সঙ্গেই থাকে, আর সেগুলো চলবে ঠিক যেমনটা বলা আছে। হোমিওপ্যাথি পরামর্শ সেগুলো থামাতে, বদলাতে বা কমাতে পারে না। বদলের ক্ষমতা শুধু সেই ডাক্তারের যিনি ওষুধগুলো দিয়েছেন, ব্যস। আর যাত্রার সমস্যা যদি কোনোদিন এমন দিকে যায় যেখানে সার্জনের দেখা দরকার, একই তালিকায় রংপুরের জেনারেল সার্জনরাও আছেন বাকি সবার পাশাপাশি।
মাঠের ডায়েরিটা কি প্রথম বসায় নিয়ে যাওয়া উচিত?
নিয়ে যান। তারিখ, পথ আর গা গুলানো শুরুর সময় লেখা থাকলে মুখে বলা গল্পের চেয়ে অনেক পরিষ্কার চিত্র পাওয়া যায়।
যাত্রার দিনে আমার ঘুম আর খাওয়ার কথা তিনি কেন জিজ্ঞেস করেন?
কারণ কিছু বলার আগে পুরো চিত্রটা তিনি গড়ে তোলেন। ঘুম, খাবার, অভ্যাস আর কিসে যাত্রা সহজ বা কঠিন হয়, সবই তাঁর খাতার অংশ।
শহরের ভেতরের ছোট যাত্রায় আমার প্রায় কিছুই হয় না। এটা কি বলা দরকার?
দরকার। ছোট আর লম্বা যাত্রার এই তফাতটাই কাজের তথ্য, তিনি এটা খাতায় রাখতে চাইবেন।
আমি মাঠের কাজ ছাড়তে পারব না। তিনি কি আমাকে যাত্রা বন্ধ করতে বলবেন?
বসাটা সেভাবে চলে না। আপনার কর্মজীবন যেমন আছে, যাত্রাসহ, তিনি সেটাই লিখে রাখেন, সেখান থেকেই এগোন।
প্রথম বসার জন্য কত আগে পৌঁছানো ভালো?
তাড়া ছাড়া পৌঁছান, ডায়েরি আর হাতে কিছুটা সময় নিয়ে। সময় নেওয়ার সময় ক্লিনিকে জিজ্ঞেস করে নিন কতক্ষণ লাগতে পারে, কারণ প্রথম বসা লম্বা হয়।
গ্রামের পথে অর্ধেক গিয়ে আমার জ্ঞান হারানোর মতো হলো, বমি থামছিল না। বসা পাঁচ দিন পর। অপেক্ষা করলেই হবে?
হবে না। নেমে পড়ুন, সেদিনই হাসপাতাল বা নিয়মিত ডাক্তারের কাছে যান। পরীক্ষা হয়ে নিরাপদ হলে বসার সময় আবার ঠিক করা যাবে।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.