সেরা হোমিওপ্যাথি ডাক্তার - চট্টগ্রাম
প্রায় প্রতি সপ্তাহে ফিরে আসা মাথাব্যথা
বয়স ছাব্বিশ, চট্টগ্রামে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন। এক বছর ধরে প্রায় প্রতি সপ্তাহেই তাঁর মাথাব্যথা হয়। কোনো সপ্তাহে একবার, কোনো সপ্তাহে দুবার এসে পুরো সন্ধ্যাটা নিয়ে নেয়। পরীক্ষা এগিয়ে এলে ধারাটা আরও ঘন হয়। পর্দা টেনে, ফোন উল্টে রেখে পড়তে বসেন। রুমমেট এখন লক্ষণ দেখেই বুঝে ফেলে। তিনি যত চুপ করে যান, সন্ধ্যাটা তত খারাপ যায়।
বান্ধবীরা বলে, বেশি ভাবনা থেকে হয়। হোস্টেলের বড় আপা বলেন, ঘুম কম হওয়ার ফল। তিনি এখন আর কারো ব্যাখ্যায় ভরসা রাখেন না। এক বছর ধরে জমে থাকা নোটগুলোই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় প্রমাণ, সেগুলোই তিনি সামনে রাখতে চান।
আরেকটা বছর মাথার অনুমতি মেপে সপ্তাহ সাজাতে চান না তিনি। ফোনের নোটে ধরা পড়া ধারাটা ধৈর্য ধরে পড়বে এমন কারো কাছে একটা লম্বা বসাই তাঁর চাওয়া, তাঁকে কিছু বলার আগে। ফোনে তিনি দিনগুলো লিখে রাখেন। সেই নোটে এখন একটা ধারা দেখা যাচ্ছে। এক সিনিয়র বলেছেন, হোমিওপ্যাথি ডাক্তার কিছু বলার আগে অনেকক্ষণ ধরে প্রশ্ন করেন। তাঁরও নিজের প্রশ্ন তৈরি আছে। DoctorBD24-তে চট্টগ্রামে প্র্যাকটিস করা ডাক্তারদের তালিকা থেকে তিনি প্রথমে খোঁজ নিয়েছিলেন।
4 available specialists found
Dr. Hossain Mohammad Selim
Dr. A.K.M. Fazlul Haque Siddiqui
Dr. Ajoy Kumer Chowdhury
প্রায় প্রতি সপ্তাহে ফিরে আসা মাথাব্যথা
প্রশ্নে ভরা প্রথম বসা
তাঁর সঙ্গে প্রথম বসাটা চলে প্রশ্নের ওপর। মাথাব্যথা কখন আসে। একটা কীভাবে শুরু হয়, কোথায় গিয়ে বসে। ছোট রাতের পরে আসে, নাকি লম্বা রাতের পরে। উত্তর দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি লিখে নেন।
তিনি জিজ্ঞেস করবেন তাঁর পড়ার ঘণ্টা আর বাদ পড়ে যাওয়া খাবারগুলোর কথা। মাথাব্যথা শুরু হলে তিনি কী করেন, আর সেটা নিয়ে একটা সন্ধ্যা সাধারণত কীভাবে শেষ হয়। পুরো হিসেবটা লিখে না নেওয়া পর্যন্ত পরামর্শ অপেক্ষা করে।
শুধু এই মাস নয়, পেছনের বছরটার কথাও তিনি জিজ্ঞেস করেন। ধারাটা কবে শুরু হলো, তার আগে সপ্তাহগুলো কেমন ছিল। এক বছরের মাথাব্যথা শুধু সবশেষটায় চোখ বুলিয়েই শেষ হয় না।
ফোনের নোটে ধরা পড়া ধারাটা
তাঁর ফোনে আছে তারিখের একটা সাদামাটা তালিকা, প্রথমে কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই রাখা। মাস যেতে যেতে তারিখগুলো একই দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছে। পরীক্ষার সপ্তাহগুলোর আশেপাশে মাথাব্যথা জড়ো হয়। যেসব রাতে তিনি দেরি করে পড়েছেন আর কম ঘুমিয়েছেন, সেসব রাতের পরেই আসে।
নোটে ফাঁকও আছে, শান্ত পাক্ষিক যেগুলোর কথা তাঁর মনেই পড়ে না। সেগুলোও তাঁর কাছে খারাপ সপ্তাহগুলোর মতোই আকর্ষণীয়। ফাঁকওয়ালা ধারাও পড়ার মতো একটা ধারা।
বসায় ফোনটা সঙ্গে আনুন। তারিখগুলো ক্রম ধরে পড়ে শোনালে, আগের রাতে তৈরি গুছানো সারসংক্ষেপের চেয়ে তিনি বেশি বুঝবেন।
জেনারেল সার্জন যদি কখনো দরকার হয়
সাপ্তাহিক মাথাব্যথা সার্জারির বিষয় নয়, তিনি সেটা ভান করেও বলবেন না। তবু লম্বা বসায় কখনো এমন অভিযোগ উঠে আসে, যার জায়গা আসলে একজন সার্জনের কাছে। সেই দিনটা কখনো এলে DoctorBD24-তে চট্টগ্রামের জেনারেল সার্জনদের তালিকা দেওয়া আছে। দরকার হলে সেটা আছে, না হলে উপেক্ষা করাও সহজ।
নিয়মিত ওষুধ লিখে দেওয়ার নিয়মেই চলবে
অন্য কিছুর জন্য তিনি যদি নিয়মিত কোনো ওষুধ খেয়ে থাকেন, এতে সেটার কিছুই বদলায় না। তাঁর কাছে গেলেও ওষুধটা চলবে হুবহু লিখে দেওয়ার নিয়মে। একই নিয়ম, কোনো দিন বাদ নয়, নিজে থেকে কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষাও নয়।
সেটা বদলাতে পারেন শুধু যিনি লিখে দিয়েছেন তিনিই। প্রথম বসাতেই খোলাখুলি বলে দিলে তিনি খুশি হবেন, পরে বেরোনোর চেয়ে। পুরো ছবিটা নিয়েই তিনি কাজ করেন।
মাথাব্যথায় এসব লক্ষণ মানেই আজই
চেনা ধরনের মাথাব্যথা বুক করা বসায় আলোচনা করা যায়। অন্য ধরনেরটা যায় না। হঠাৎ এসে পড়া মাথাব্যথা, আগের যেকোনোটার চেয়ে জোরে, মানেই আজই হাসপাতালে দেখানো।
দৃষ্টি বদলে যাওয়াও একই তালিকায় পড়ে। শরীরের একপাশে দুর্বলতাও তাই। বারবার বমি আরেকটা সতর্কবাণী। ঘাড় শক্তসহ জ্বর এলেও তাই। এসবের যেকোনো একটা থাকলে সেদিন বসা বাদ দিয়ে ভেতরে যান।
নিজের খাতায় লিখে রাখা প্রশ্ন
প্রথম বসায় তিনি আমাকে কী জিজ্ঞেস করবেন?
মাথাব্যথা কখন আসে, কীভাবে শুরু হয়, আপনি কেমন ঘুমান আর পড়েন, শুরু হলে কী করেন। তিনি আগে সব লিখে নেন।
আমার ফোনের নোট এলোমেলো। তবু নিয়ে যাব?
যেমন আছে তেমনই নিয়ে যান। ক্রমে থাকা এলোমেলো তারিখ পরে লেখা গুছানো সারসংক্ষেপের চেয়ে তাঁকে বেশি বলে।
পরীক্ষার আশেপাশে মাথাব্যথা বাড়ে। মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করব?
হবে না। পরীক্ষার সপ্তাহগুলোও ধারাটার অংশ, নোটে সেগুলো দেখা তাঁর কাজে লাগে।
অন্য কিছুর জন্য নিয়মিত একটা ওষুধ খাই। তাঁর কাছে গেলে সেটা বন্ধ করব?
না। হুবহু সেভাবেই থাকবে। বদলাতে পারেন শুধু যিনি লিখে দিয়েছেন তিনিই।
তিনি কি আগে থেকে বলতে পারবেন আমার মাথাব্যথা কেমন যাবে?
না, আর চেষ্টা করাও উচিত নয়। তিনি আগে পুরো বছরটার কথা শোনেন। যা বলার, তা আসে সেই বসা থেকে।
আজ সকালের মাথাব্যথাটা ছিল জীবনের সবচেয়ে জোরে, দৃষ্টিও অদ্ভুত হয়ে গিয়েছিল। বসা আগামীকাল। অপেক্ষা করব?
করবেন না। দৃষ্টি বদলেসহ হঠাৎ সবচেয়ে জোরে মাথাব্যথা মানেই আজই হাসপাতাল। বসা সরানো যাবে, এটা নয়।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.