সেরা স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ - পাবনা
বোনের বাসায় রাখা ব্যাগটা
বিয়েবাড়ির সেই রাতটা তিনি ভুলতে পারেন না। বয়স আটত্রিশ, থাকেন পাবনায়। গত শীতে খালাতো বোনের বিয়ের খাওয়া চলছিল। মাঝখানে হঠাৎ তাঁর পিরিয়ড এসে গেল এমন জোরে যে শাড়ি ভিজে যাওয়ার আগেই কিছু বুঝে উঠতে পারেননি। এক খালা তাঁকে ঝুলন্ত সাজসজ্জার আড়ালে কাঁদতে দেখে ফেলেন। উৎসব শেষ হওয়ার আগেই ধার করা ওড়না জড়িয়ে তিনি বাসায় ফিরে আসেন।
সেই রাতের পর থেকে বড় বোনের বাসায় একটা ছোট ব্যাগ রাখা আছে, যেই ঘরে তিনি গেলে ঘুমান ঠিক সেই ঘরে। ব্যাগে এক প্রস্থ পুরো পোশাক, ভাঁজ করে রাখা, সঙ্গে বাড়তি অন্তর্বাস। শরীর আবার কোনোদিন লজ্জায় ফেললে যেন তৈরি থাকে। ঘোরাঘুরি আর আত্মীয়ের বাসায় যাওয়া এখন তিনি তারিখ হিসাব করে সাজান। বোনের গলির কাছাকাছি গেলেই কোনো না কোনো কাজে সেই দরজার সামনে দিয়ে তাঁর যাওয়া হয়। আপনার মাসটাও যদি এমন আতঙ্কের হিসাবেই চলে, শুরু করতে পারেন DoctorBD24-তে দেওয়া পাবনায় বসেন এমন ডাক্তারদের তালিকা থেকে।
এক বছর এভাবে চালিয়েও মনের ভয়টা কমেনি। রক্তপাত শুরুর আগেই ভয়টা এসে হাজির হয়। তিনি চান একজন গাইনোকোলজিস্ট পুরো গল্পটা শুনুন, বিয়েবাড়ির রাতটাসহ, ঠিকমতো পরীক্ষা করে দেখুন। এই ভারী দিনগুলো আসলে কী আর কমানো যায় কিনা, সেটা তিনি জানতে চান। ব্যাগটা বোনের বাসাতেই থাক। প্রশ্নটা এবার অন্য কোথাও যাক।
25 available specialists found
Dr. Shamima Khatun Poly
Dr. Tahmina Sultana Nila
Dr. Sabera Sultana Biswas Asmani
Dr. Jannat-ul Ferdous Baishakhi
Dr. Sheuly Rani Saha
Dr. Sanjida Akhter (Sumi)
বোনের বাসায় রাখা ব্যাগটা
বিয়েবাড়িতে ঘটে যাওয়া সেই দিনটা
বিয়ের আগেও তাঁর পিরিয়ড ভারী ছিল, কিন্তু বাসায় নিজের গোসলখানার কাছে থাকলে সামলানো যেত। সেদিন ছিল অন্য রকম। ভরা অতিথির মাঝখানে রক্তপাত এল হঠাৎ স্রোতের মতো, লুকানোর জায়গাটুকুও ছিল না। মনে মনে গল্পটা গুছিয়ে বলতে গেলে তিনি এই ক্রমেই বলেন।
প্রথম ভিজিটে গাইনোকোলজিস্টও সেই ক্রমেই শুনতে চাইবেন। ভারী দিনগুলো শুরু কবে থেকে? সবচেয়ে খারাপ দিনে ঘণ্টায় ঘণ্টায় প্রবাহটা কেমন থাকে? বাসায় নিজে নিজে কী কী করে দেখেছেন? তারপর তিনি পরীক্ষা করবেন, সঙ্গে আনা পুরনো রিপোর্ট থাকলে সেগুলো দেখে নেবেন। শুধু গল্প শুনেই কোনো সিদ্ধান্তে যাওয়া হবে না। পরীক্ষা আর রিপোর্টের কথাই আগে আসে।
বোনের বাসায় রাখা ব্যাগটা
ব্যাগটা রাখার বুদ্ধি বড় বোনের। সেদিন রাতে দাগ লাগা শাড়িটা তিনি কোনো কথা না বলে নিজে ধুয়ে দিয়েছিলেন, আর সপ্তাহখানেক পর ব্যাগটা গোছানো অবস্থায় হাজির। পরিবারের আর কেউ জানে না ব্যাগটা আছে। দুই বোনের মধ্যে এটা এক নীরব বোঝাপড়া। আবার এটাই বোঝায়, এই একটা ভয় এখন তাঁর জীবনের কতটা জুড়ে বসে আছে।
ব্যাগটার কথা তিনি গাইনোকোলজিস্টকে বলবেন। ডাক্তারের বাড়তি পোশাক কোথায় আছে তা জানার দরকার নেই, কিন্তু এতে বোঝা যাবে আতঙ্কটা কতদিন ধরে তাঁর দিন-তারিখ চালাচ্ছে। লুকিয়ে রাখা ব্যাগটাও এই ইতিহাসেরই অংশ।
সার্জারির মতামত লাগতে পারে যখন
স্রোতের মতো রক্তপাতের গল্প মানেই সরাসরি অপারেশন ঘরের দিকে যাওয়া নয়। শুরুর ধাপ হলো শোনা, পরীক্ষা করা আর থাকলে রিপোর্ট পড়া। এই খোঁজখবরে কখনো এমন প্রশ্ন উঠলেই কেবল আরেকজনের মতামত নেওয়া হয়, সাধারণত একজন জেনারেল সার্জনের। তেমন দিন কখনো এলে DoctorBD24-তে পাবনার জেনারেল সার্জনদের তালিকা দেওয়া আছে।
ব্যাগে যা থাকে, আর রোজ যা খান
ভাঁজ করা পোশাকের পাশাপাশি ব্যাগটা তাঁর চুপচাপ চালিয়ে যাওয়া অনেক কিছুরই প্রতীক। বাসায় তেমনই একটা অংশ হলো ডাক্তারের প্রেসক্রিপশনে রোজ খাওয়া একটা ট্যাবলেট। এই ভিজিটের অপেক্ষায় সেটার কোনো বদল হয় না। ভারী দিন হোক আর সাধারণ দিন, তিনি প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী হুবহু খেয়ে যান। ওই ট্যাবলেটে কখনো হাত দেওয়ার দরকার হলে দেবেন যিনি সেটা লিখে দিয়েছেন, অন্য কেউ নয়। ভিজিটে তিনি ট্যাবলেটটার কথা জানিয়ে দেবেন, যাতে গাইনোকোলজিস্ট পুরো ছবিটা পান।
এসব লক্ষণসহ ভিজে গেলে আজই
চেনা ভারী দিন, যার জন্য ব্যাগটা গোছানো, তা বুক করা অ্যাপয়েন্টমেন্টে তোলা যায়। কিন্তু সঙ্গীসহ এলে হিসাব আলাদা। একটার পর একটা প্যাড অল্প সময়ে ভিজে যেতে থাকলে সেটা সেদিনই দেখানোর বিষয়। দাঁড়ালেই মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান ভাব এলেও তাই। তলপেটে প্রচণ্ড ব্যথা থাকলে, কিংবা রক্তপাতের সঙ্গে জ্বর উঠলেও সেই তালিকায় পড়ে। এমন দিনে ভিজিট এগিয়ে আসে। বুক করা তারিখের অপেক্ষা চলে না।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
বিয়েবাড়িতে একবার স্রোতের মতো ভিজে গিয়েছিল, তারপর থেকে প্রতি মাসেই ভারী। এতেই কি ডাক্তার দেখানো উচিত?
উচিত। একটা ভয়ংকর দিন আর তারপর এক বছর ধরে প্রতি মাসে আতঙ্ক, এটাই যথেষ্ট কারণ। তিনি শুধু সবচেয়ে খারাপ দিনটা নয়, পুরো ধরনটাই শুনতে চাইবেন।
বোনের বাসায় বাড়তি পোশাক রেখে দিয়েছি। এটা কি অদ্ভুত কোনো কাজ?
অদ্ভুত নয়, বুদ্ধিমানের কাজ। তবে বাড়তি পোশাক লজ্জাটা সামলায়, রক্তপাতের কারণটা নয়।
বিয়েবাড়ির রাতের কথাটা কি সত্যিই তাঁকে বলব?
বলুন। ঘটনাটা কবে ঘটেছিল আর কত দ্রুত ভিজে গিয়েছিল, এসব তিনি জিজ্ঞেস করবেনই।
প্রথম ভিজিটেই কি অপারেশনের তারিখ ঠিক হয়ে যাবে?
না। প্রথম ভিজিট শোনা, পরীক্ষা আর রিপোর্ট দেখার জন্য। বাকি সব আসে এসব শেষ হওয়ার পর।
প্রেসক্রিপশনে রোজ একটা ট্যাবলেট খাই। ভিজিটের আগে কি বন্ধ রাখব?
না। অপেক্ষার দিনগুলোতে প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী হুবহু খেয়ে যান। বদলের কাজটা যিনি ট্যাবলেটটা লিখে দিয়েছেন তাঁরই।
আবার ভিজে যাওয়া শুরু হয়েছে, দাঁড়ালেই মাথা ঘুরছে। আমার অ্যাপয়েন্টমেন্ট আগামীকাল। অপেক্ষা করব?
করবেন না। স্রোতের মতো রক্তপাতের সঙ্গে মাথা ঘোরা থাকলে আজই দেখাতে হবে, আগামীকাল নয়।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.