সেরা স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ - যশোর

রান্নাঘরের দরজার পেছনের ক্যালেন্ডারটা

ক্যালেন্ডারটা ঝুলছে রান্নাঘরের দরজার পেছনে, যেখানে অতিথির চোখ পড়ে না। তাঁর বয়স তেতাল্লিশ, যশোরে গৃহিণী। বছরখানেক ধরে তাঁর পিরিয়ড অদ্ভুত এক খেলা খেলছে। তিন মাস কেটে যায়, কিচ্ছু হয় না। একবার চার মাসও গেল। তারপর হঠাৎ একদিন রক্তপাত ফিরে আসে, এত বেশি যে দুই দিন তাঁকে ঘরের কাছাকাছিই থাকতে হয়।

তারিখে গোল দাগ দেওয়া শুরু হয়েছিল নিজের মনেই সন্দেহ থেকে। আসলেই তিন মাস গেল, নাকি দুই মাস? গোল দাগগুলো সেই তর্কের শেষ টেনে দিল। ফিরে আসার দিনটার চারপাশে লাল গোল, তার আগের পাতাজুড়ে ফাঁকা ঘর। আপনিও যদি এভাবে হিসাব রেখে থাকেন, জানেন এই ধারাটা ঠিকমতো কাউকে শোনানো দরকার। কাকে জিজ্ঞেস করবেন খুঁজতে চাইলে DoctorBD24-তে দেওয়া যশোরে বসেন এমন ডাক্তারদের তালিকা থেকে শুরু করতে পারেন।

গোল দাগগুলো আর এড়িয়ে যেতে চান না তিনি। এত লম্বা ফাঁকের পর এত ভারী দিন, এ নিয়ে ঘরে বসে অনুমান করার কিছু নেই। তিনি চান গাইনোকোলজিস্টের সামনে বসে ক্যালেন্ডারটা খুলে ধরে সোজাসুজি জিজ্ঞেস করতে, শরীরটা আসলে কী করছে। উত্তর যাই হোক, আরেক বছর লাল গোল আর দুশ্চিন্তা নিয়ে কাটানোর চেয়ে তা ভালো।

0 available specialists found

🏜️

No Specialists Found

We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.

রান্নাঘরের দরজার পেছনের ক্যালেন্ডারটা

চার মাসের নীরবতা, তারপর ভারী স্রোত

ধারাটা পরপর বললে এমন দাঁড়ায়। রক্তপাত বন্ধ হয়ে থাকে মাসের পর মাস, তিনি প্রায় খেয়াল রাখাই ছেড়ে দেন। তারপর একদিন হঠাৎ এসে পড়ে। প্রথম দিন ভারী, দ্বিতীয় দিন আরও ভারী। সেই দুই দিন তাঁর কাজকর্ম বাথরুম আর উঠোনের তার ঘিরেই ঘোরে।

প্রথম ভিজিটে গাইনোকোলজিস্ট গোল দাগগুলো দিয়েই শুরু করবেন। ফাঁক শুরু কবে থেকে, কতদিন চলে, ফিরলে কতটা ভারী হয়। আগের বছরগুলোর রিপোর্ট থাকলে সেগুলোর কথাও জিজ্ঞেস করবেন। তারপর তিনি পরীক্ষা করবেন। এসব চেক শেষ হওয়ার আগে কোনো সিদ্ধান্ত হয় না, কোনো প্রতিশ্রুতিও না।

ক্যালেন্ডারের গোল দাগগুলো

গোল দাগ দেওয়ার শুরুটা ছিল নিজের সঙ্গে তর্ক থেকে। বোনকে বলতেন তিন মাস গেছে, সন্ধ্যায় নিজেই সন্দেহ করতেন। কালির দাগ সেই সন্দেহ শেষ করে দিল। এখন প্রতিটা ফিরে আসার দিনে লাল গোল, মাঝখানের ফাঁকা ঘরগুলোই বাকিটা বলে দেয়।

আপনিও যদি মাসের হিসাব এভাবে রাখেন, রেকর্ডটা সঙ্গে নিয়ে যান। মুখে বলা তারিখগুলো গুলিয়ে যায়। কাগজের তারিখ স্থির থাকে, ডাক্তার এক বছরের হিসাব এক মিনিটে পড়ে নিতে পারেন।

ব্যাগে যা যা গুছিয়ে নেন

ক্যালেন্ডারটা পেরেক থেকে নামিয়ে ভাঁজ করে ব্যাগে ঢোকে। সঙ্গে যায় খুঁজে পাওয়া পুরনো রিপোর্ট, আর প্রতিদিন খাওয়া ট্যাবলেটের লেখা তালিকা। তালিকাটা আগের রাতে বসে লেখেন, যাতে কিছু বাদ না পড়ে।

ওই প্রতিদিনের ট্যাবলেট প্রেসক্রিপশনে যেভাবে লেখা আছে হুবহু সেভাবেই চলবে, ভিজিটের আগে-পরেও। অ্যাপয়েন্টমেন্ট আছে বলে চুপচাপ কোনোটা বন্ধ করা যাবে না। বদল দরকার হলে বদলাবেন যিনি ট্যাবলেটটা লিখে দিয়েছেন তিনিই। তাঁর কাজ শুধু গাইনোকোলজিস্টকে পুরো তালিকাটা দেখানো।

অপারেশনের কথা কখনো উঠলে

ফাঁক আর ভারী দিনের গল্প শুনলেই সরাসরি অপারেশনের দিকে যাওয়া যায় না। প্রথম ভিজিট মানে শোনা, পরীক্ষা করা, আর চেকে যা ওঠে তা বোঝা। ফলাফলে কখনো সার্জারির প্রশ্ন উঠলে সাধারণত একজন জেনারেল সার্জনের মতামতও নেওয়া হয়। সেই জায়গায় পৌঁছালে DoctorBD24-তে যশোরের জেনারেল সার্জনদের তালিকা দেওয়া আছে।

ভারী ফেরায় এসব লক্ষণ মানে আজই

চুপচাপ মাসের পর ভারী ফেরা বুক করা অ্যাপয়েন্টমেন্টে তোলা যায়। কিন্তু ভারী হওয়ার কিছু রূপ অপেক্ষা করতে পারে না। একটার পর একটা প্যাড ভিজে যাচ্ছে, বদলানোর ফুরসত মিলছে না, এমন হলে সেদিনই দেখাতে হবে। মাথা ঝিমঝিম করা বা সত্যিই অজ্ঞান হয়ে যাওয়াও তাই। তলপেটে অসহ্য ব্যথা থাকলেও সেদিনই। সেদিন ক্যালেন্ডার ঘরে থাকে, তিনি বেরিয়ে পড়েন।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

আমার পিরিয়ড মাসের পর মাস বন্ধ থাকে, তারপর ভারী হয়ে ফেরে। এটা কি ডাক্তারকে দেখানোর মতো ধারা?

হ্যাঁ। লম্বা ফাঁকের পর ভারী দিন, ঠিক এই ধারাটাই গাইনোকোলজিস্টের পুরোটা শোনা উচিত।

ক্যালেন্ডারটা নিয়ে যাব, নাকি শুধু তারিখগুলো মুখে বললেই হবে?

ক্যালেন্ডারটাই নিয়ে যান। ওয়েটিং রুমে মনে করে বলা তারিখের চেয়ে কাগজে গোল দেওয়া তারিখ অনেক পরিষ্কার।

চুপচাপ মাসগুলোতে আমি বরং নিশ্চিন্ত থাকি। এতে কি কিছু বদলায়?

সেটাও তাঁকে বলুন। ফাঁকের দিনগুলোতে আপনি কেমন থাকেন, তাও তিনি যে ধারাটা পড়ছেন তার অংশ।

প্রথম ভিজিটেই কি তিনি সব ঠিক করে দেবেন?

না। তিনি আগে শুনবেন, পরীক্ষা করবেন, আপনার রিপোর্ট দেখবেন। সিদ্ধান্ত আসে চেকগুলো শেষ হওয়ার পর।

আমি প্রতিদিন একটা ট্যাবলেট খাই। অপেক্ষার দিনগুলোতেও খেয়ে যাব?

খেয়ে যান, প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী হুবহু। এই ভিজিট ওটা বন্ধ করা বা সরানোর কোনো কারণ নয়। কোনো বদল লাগলে সেই সিদ্ধান্ত নেবেন প্রেসক্রিপশন লেখা ডাক্তার নিজে।

আজ সকালে রক্তপাত ফিরেছে, বদলানোর চেয়ে দ্রুত ভিজে যাচ্ছে। অ্যাপয়েন্টমেন্ট পর্যন্ত অপেক্ষা করা যাবে?

না। এত দ্রুত ভিজে যাওয়া সেদিনই দেখানোর বিষয়। আজই যান, পারলে কাউকে সঙ্গে নিন।

Ad

Sponsor Space Available

Place your banner here to reach thousands of patients daily.

Sponsored

Grow Your Practice

Premium placement for hospitals & doctors.